শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

স্কুল ফিডিংয়ে শতভাগ শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্তি চায় শিক্ষক-অভিভাবকরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫০ অপরাহ্ণ
স্কুল ফিডিংয়ে শতভাগ শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্তি চায় শিক্ষক-অভিভাবকরা

পত্রদূত ডেস্ক: সরকারের ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচিতে শতভাগ শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তাঁদের মতে, পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে, ঝরে পড়ার প্রবণতা কমেছে এবং শ্রেণিকক্ষে মনোযোগও বেড়েছে। তবে বর্তমানে ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য খাবার বরাদ্দ থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের তুলনায় খাবারের পরিমাণ কম পড়ে যাচ্ছে।

কেশবপুর, অভয়নগর ও ঝিকরগাছা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। দেখা গেছে, বিদ্যালয়গুলোতে পাঁচ সদস্যের খাদ্য মনিটরিং কমিটি রয়েছে। কমিটির সদস্যরা খাবারের মান, পরিমাণ ও সুষ্ঠু বণ্টন তদারকি করছেন। প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সুশীলন। সংস্থাটি দুর্যোগপ্রবণ এই জনপদে নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেও নিয়মিত শিশুদের কাছে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে। এতে একদিকে শিশুদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও ভর্তির আগ্রহ।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যানুযায়ী, যশোরের এই তিন উপজেলায় ৪০৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু রয়েছে। এর মধ্যে ঝিকরগাছায় ১৩১টি, অভয়নগরে ১১৭টি এবং কেশবপুরে ১৫৮টি বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ের মোট ৫৯ হাজার ৯১ শিক্ষার্থীকে সপ্তাহে পাঁচ দিন পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হচ্ছে। খাবারের তালিকায় রয়েছে সিদ্ধ ডিম, বনরুটি, বিস্কুট, কলা ও দুধ।

কেশবপুরের মজিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুদেব কুমার দেবনাথ বলেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালুর পর প্রতিটি শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে। পুষ্টির ঘাটতি থাকা শিক্ষার্থীরা খাবার পাওয়ায় তাদের শ্রেণিকক্ষে মনোযোগও বেড়েছে। অনেক শিক্ষার্থীকে এখন দুপুরে বাড়ি থেকে খাবার আনতে হয় না। তবে শতভাগ শিক্ষার্থীর জন্য খাবার বরাদ্দ না থাকায় কখনো কখনো খাবার ভাগ করে দিতে হচ্ছে।

অভয়নগরের অভিভাবক ও স্কুল খাদ্য কমিটির সদস্য নাসিমা বেগম বলেন, টিফিনের সময় বিদ্যালয়ের আশপাশের অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রবণতাও কমেছে। পুষ্টিকর খাবার পাওয়ায় দুপুরের ক্লান্তি কমে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে মনোযোগী থাকছে। ফলে প্রাথমিক শিক্ষায় এ কর্মসূচি ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

যশোর জেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. শাহীনুর রহমান বলেন, স্কুল ফিডিং চালুর পর বিদ্যালয়ে শুধু উপস্থিতিই বাড়েনি, নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির হারও বেড়েছে। অভিভাবকদের সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাবারের এ ব্যবস্থা বাড়তি সহায়তা হিসেবে কাজ করছে।

এ বিষয়ে কথা হয়, ঝিকরগাছার নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি মো. নাজমূল আলমসহ অনেকের সঙ্গে। তারা বলেন, নতুন প্রজন্মের সুস্বাস্থ্য ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সারাদেশে তা সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে উপস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাবারের বরাদ্দ নির্ধারণ এবং পর্যায়ক্রমে শতভাগ শিক্ষার্থীকে কর্মসূচির আওতায় আনতে হবে। তার এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন শিক্ষক ও অভিভাবকরাও।

শিক্ষক-অভিভাবকদের দাবির সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছেন সুশীলনের উপ-পরিচালক শাহিনা পারভীন বলেন, শিশুদের পুষ্টি সুরক্ষা ও সরকারের এই মহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়নে আমরা বদ্ধ পরিকর। সব ধরনের দুর্যোগ ও দুর্ভোগ মোকাবিলা করে প্রত্যন্ত স্কুলগুলোতে টিফিন পৌছি দিচ্ছি। পাশাপাশি শতভাগ শিক্ষার্থীর জন্য খাবার সরবরাহের দাবিটি আমরাও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানিয়েছি।

কেশবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, তিনটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। সুশীলন কলা, রুটি ও ডিম, আকিজ দুধ এবং প্রাণ বিস্কুট সরবরাহ করছে। কোনো খাবার নষ্ট বা ভেঙে গেলে তা পরদিন সমন্বয় করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি প্রতিদিন কমবেশি হয়। এ কারণে আশপাশের বিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে খাবার ব্যবস্থাপনার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি পাইলট প্রকল্প হওয়ায় বাস্তবায়নের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে কর্মসূচিটি আরও ফলপ্রসূ ও সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।

Ads small one

ফিংড়ি ও আশাশুনিতে পুলিশের অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ গ্রেপ্তার-তিন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
ফিংড়ি ও আশাশুনিতে পুলিশের অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ গ্রেপ্তার-তিন

আশাশুনি/নিজস্ব প্রতিনিধি: আশাশুনি থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাদক দ্রব্যসহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের শুক্রবার সকালে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের হিজলিয়া খেয়াঘাটের বাঁধের উপর থেকে পুলিশ ২৫ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী ফরিদ ঢালীকে আটক করেন। ফরিদ ঢালী প্রতাপনগর কর্মকার পাড়ার কেরামত ঢালীর ছেলে। এব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণির ১৯(ক) ধারায় মামলা (১৮/২৬) রুজু করা হয়েছে। পৃথক অভিযানে আশাশুনি সদরের আদালতপুর গ্রামের রেজাউল গাজীর ছেলে আরিফ বিল্লাহকে ৪ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। এব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা (১৯/১৭০) রুজু করা হয়েছে।
এদিকে, ‎‎সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী গ্রামে রায়হান হোসেন (২২) নামক এক মাদকাসক্ত যুবককে আটক হয়েছে। ‎জানা গেছে, ফিংড়ীর আইয়ুব আলীর পুত্র মোঃ রায়হান হোসেনকে ২পিস ইয়াবা ও ২পুরিয়া গাঁজাসহ ফিংড়ীর ঠাকুর পাড়া থেকে আটক করা হয়েছে।

 

পাটকেলঘাটায় থেকে ৫২০ লিটার তেল চুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় থেকে ৫২০ লিটার তেল চুরি

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: পাটকেলঘাটায় মজুমদার পেট্রোল পাম্পে রাখা দুটি ট্রাক থেকে বৃহস্পতিবার রাতে ৫২০ লিটার ডিজিল চুরি হয়েছে। জানা গেছে, পাটকেলঘাটার কালিবাড়ি মাহবুবুর রহমানের ২টি ট্রাক পাটকেলঘাটা মজুমদারের তেল পাম্পে রাতে রাখা ছিল।
যার নাম্বার যশোর টথ-১১৩৭৭৭। দ্বিতীয়টি যশোর ট ১১৩৭৬ এই নাম্বার চার দুটো প্রতিদিন বিভিন্ন রোডে চলাচল করে থাকে। ট্র্যাক ড্রাইভার শুক্রবার সন্ধ্যায় পাটকেলঘাটা প্রেসক্লাবে এসে ঘটনাটি বর্ণনা করেন। এ ঘটনায় যানবাহন চলাচলকারী মালিক ও ড্রাইভাররা চুরি আতঙ্কে রয়েছে।

ধুলিহরে পৃথক দুইটি মুদি দোকানে চুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৪ অপরাহ্ণ
ধুলিহরে পৃথক দুইটি মুদি দোকানে চুরি

‎নিজস্ব প্রতিনিধি: ‎সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর জাহানাবাজে ১৩ আগষ্ট বৃহস্পতিবার রাতে পৃথক দুইটি মুদি দোকানে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা দোকান দুটির ক্যাশ বাক্স ভেঙে নগদ টাকাসহ প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ হাজার টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, ধুলিহর এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ সরদারের মুদি দোকানের ক্যাশ বাক্সে থাকা নগদ আনুমানিক ২,০০০ টাকাসহ বিক্রয়যোগ্য ডিটারজেন্ট পাউডার, লাচ্ছার প্যাকেট, ভোজ্য তেল, ওয়াইফাই রাউটার, কোমল পানীয় ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেটসহ আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।
‎এছাড়া একই এলাকার মৃত বাবর আলী সরদারের ছেলে শাহাদাৎ হোসেনের মুদি দোকানেও একই রাতে চুরির ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা তার দোকান থেকে নগদ আনুমানিক ৩,৫০০ টাকাসহ একটি সোলার ব্যাটারিসহ আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে কেটে পড়ে।
‎একই রাতে পরপর দুটি দোকানে চুরির ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।