পাটকেলঘাটা ও সাতক্ষীরা শহরের সাম্প্রতিক অপরাধচিত্র জেলাটির সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। একের পর এক বখাটেপনা, চাঁদাবাজি, নারীদের উত্ত্যক্তকরণ, চুরি ও মাদকের বিস্তারে সাধারণ মানুষের জনজীবন আজ চরম অতিষ্ঠ ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। দেশের পূর্বাঞ্চলীয় বা দক্ষিণাঞ্চলের যেকোনো অঞ্চলে যখন অপরাধীরা এতটা বেপরোয়া হয়ে ওঠে, তখন তা সমাজব্যবস্থার সামগ্রিক শিথিলতাকেই নির্দেশ করে।
পাটকেলঘাটার কালীবাড়ী রোড, হাইস্কুল রোড কিংবা কুমিরা মহিলা কলেজের আশপাশের এলাকাগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা আজ প্রশ্নের মুখে। স্কুল-কলেজগামী ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা ও ছবি তোলার মতো অপরাধ শুধু ব্যক্তি নিরাপত্তা বিঘিœত করছে না, বরং নারীশিক্ষার পরিবেশকেও ব্যাহত করছে। তার ওপর পুকুরে গোসলরত নারীদের লাঞ্ছিত করার ঘটনা সামাজিক নৈতিকতার চরম অবক্ষয় প্রকাশ করে। অন্যদিকে, কৃষি ও মৎস্যজীবীদের ওপর নেমে এসেছে আর্থিক বিপর্যয়। খলিশখালী ইউনিয়নে গত ছয় মাসে ৬৫টি সেচ পাম্প চুরি এবং মাছের ঘের থেকে চুরি শুধু অপরাধই নয়, এর মাধ্যমে স্থানীয় গ্রামীণ অর্থনীতি ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। চুরি করা মালামাল ও মাছ কম দামে বিক্রি করে সেই অর্থ মাদকের পেছনে ব্যয় করার যে তথ্য উঠে এসেছে, তা ইঙ্গিত করে যে এই অপরাধচক্রের মূলে রয়েছে মাদকের নীল ছোবল।
একইভাবে সাতক্ষীরা শহরের প্রাণকেন্দ্র সিটি কলেজ মোড় এলাকায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে ধারাবাহিক চুরির ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির দুর্বলতা স্পষ্ট করে তোলে। পুলিশের হাতেনাতে আটক বা অভিযানের পরও যখন চুরি থামে না, তখন সাধারণ ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রার জন্য নিরাপত্তা সবচেয়ে মৌলিক শর্ত।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনি ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়া হলেও কেবল আশ্বাসেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। এখন প্রয়োজন দৃশ্যমান ও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ। পাটকেলঘাটার চিহ্নিত অপরাধপ্রবণ এলাকা এবং শহরের সিটি কলেজ মোড়ে নিয়মিত বিট পুলিশিং ও নৈশ টহল দ্বিগুণ করতে হবে। বখাটে চক্র যে মাদক স্পটগুলোতে আড্ডা দেয়, সেগুলোতে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে মাদকের সরবরাহ বন্ধ করা জরুরি। চুরি যাওয়া সেচ পাম্প বা মাছের মতো চোরাই পণ্যের ক্রেতা ও চোর চক্রের মূল হোতাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও তরুণদের সমন্বয়ে মহল্লাভিত্তিক নিরাপত্তা কমিটি গঠন করে পুলিশের সাথে যোগাযোগের পথ সুগম করতে হবে, যাতে ভুক্তভোগীরা নির্ভয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন।
জনগণের জীবনের নিরাপত্তা ও সম্পদে হাত দেওয়া অপরাধীদের প্রতি কোনো অনুকম্পা দেখানোর সুযোগ নেই। প্রশাসন অবিলম্বে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিয়ে নাগরিকদের আস্থা ফিরিয়ে আনবেÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা।