রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

দেবহাটায় ২৫৪ বোতল ফেনসিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ
দেবহাটায় ২৫৪ বোতল ফেনসিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ২৫৪ বোতল ফেনসিডিলসহ সাইদুল খান (৪২) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৬। সোমবার (৮ জুন) দুপুর পৌনে তিনটার দিকে উপজেলার সুশীলগাতী এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার সাইদুল খান দেবহাটা উপজেলার সুশীলগাতী এলাকার মৃত এরশাদ আলী খানের ছেলে।
র‌্যাব-৬, সিপিসি-১-এর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ দুপুরে দেবহাটা থানার সুশীলগাতী এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায় র‌্যাবের একটি দল। অভিযানে সাইদুল খানের কাছ থেকে ২৫৪ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে নিয়মিত অভিযানের ধারাবাহিকতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরে গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে উদ্ধারকৃত আলামতসহ তাঁকে দেবহাটা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র‌্যাব-৬, সিপিসি-১-এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জায়েন উদ্দীন মুহাম্মদ যিয়াদ জানান, এলাকায় অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও চিহ্নিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে র‌্যাবের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Ads small one

খাঁচার ভিতর অচিন পাখি : লালন শাহের জীবন ও ভাবদর্শন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১১ পূর্বাহ্ণ
খাঁচার ভিতর অচিন পাখি : লালন শাহের জীবন ও ভাবদর্শন

‎তারিক ইসলাম

‎

“সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে / লালন কয় জাতের কি রূপ দেখলাম না এ নজরে” —

‎

‎দেড় শতাধিক বছর আগে লালন শাহের কণ্ঠে গীত এই বাণী আজও আমাদের সমাজে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক ও আলোকবর্তিকা। জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রকেন্দ্রিক বিভাজনের অন্ধকার যখন মানবজাতিকে বিভক্ত করে,

‎

তখন লালন আমাদের মনে করিয়ে দেন মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়—সে ‘মানুষ’।

‎

‎বাঙালির লোকসংস্কৃতি ও ভাবসাধনার ইতিহাসে সাইঁ লালন শাহ (১৭৭৪–১৮৯০) এক অনন্য উচ্চতায় সমাসীন। তিনি শুধু একজন বাউল সাধক বা লোককবি ছিলেন না; বরং ছিলেন একজন সমাজসংস্কারক, মানবতাবাদী দার্শনিক এবং মরমী চেতনার পুরোধা পুরুষ।

‎

‎জীবন ও কর্মের আলোকচ্ছটা :

‎লালন শাহের জন্ম ও লালন-পালন নিয়ে নানা মতভেদ রয়েছে। প্রচলিত আছে, নদীয়া জেলার ভাড়ারা গ্রামে এক হিন্দু পরিবারে তাঁর জন্ম। তীর্থযাত্রায় গিয়ে গুটিবসন্তে আক্রান্ত হলে সঙ্গীরা তাঁকে মৃত ভেবে ভাসিয়ে দেয় নদীতে। সেখান থেকে সিরাজ সাঁই নামে এক দরবেশ তাঁহাকে উদ্ধার করেন এবং শুশ্রূষা দিয়ে বাঁচিয়ে তোলেন। পরবর্তীতে সিরাজ সাঁইয়ের শিষ্যত্ব গ্রহণ করে লালন সাধনমার্গে প্রবেশ করেন। কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় আখড়া স্থাপন করে তিনি তাঁর বাকী জীবন লোকশিক্ষা ও সংগীত সাধনায় অতিবাহিত করেন।

‎লালনের গানই ছিল তাঁর জীবনের মূল কর্ম। তিনি মুখে মুখে গান রচনা করতেন এবং তাঁর শিষ্যরা তা গেয়ে ও লিখে রাখতেন। ধারণা করা হয়, তিনি কয়েক হাজার গান রচনা করেছিলেন, যার মধ্যে বহু গান আজ চিরন্তন সাহিত্যের রূপ নিয়েছে। তাঁর গানে যেমন রয়েছে সুরের মূর্ছনা, তেমনই রয়েছে সুগভীর দর্শন ও ভাবমণ্ডল।

‎

‎লালনের ভাবদর্শন: মানবতাবাদ ও আত্মসন্ধান

‎

‎‎লালন দর্শনের মূল কেন্দ্রবিন্দু দুটি— ‘দেহসাধনা’ এবং ‘মানবতাবাদ’

‎

‎১. মানবতাবাদ ও জাতপাতহীন সমাজ: লালন ধর্মীয় অনুশাসন ও বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠানের চেয়ে মানুষের অন্তরের বিশ্বাস ও মানবপ্রেমকে বড় করে দেখেছেন। যে সময়ে সমাজে জাতপাত ও ছোঁয়াছুঁইয়ের তীব্র কঠোরতা ছিল, সে সময়ে লালন উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করেছেন—

‎

‎“জাত গেল জাত গেল বলে / এ এক আজব কারখানা / আসার সময় কি জাত ছিলে / যাওয়ার সময় কি জাত হবে?”

‎

‎

‎২. আত্মানুসন্ধান বা অচিন পাখির খোঁজ: লালনের দর্শনে ঈশ্বর বা পরমাত্মা কোথাও দূরে আকাশে অবস্থান করেন না; তিনি অবস্থান করেন মানুষের দেহের ভেতর, মনের মানুষ হিসেবে। লালন গেয়েছেন—

‎

‎“খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায় / ধরতে পারলে মন-বেড়ি দিতাম পাখির পায়।”

‎

‎নিজের ভেতরে পরমাত্মাকে খোঁজার এই অধ্যাত্মসাধনাই লালন শাহকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

‎

‎আধুনিক সমাজ ও লালন দর্শনের প্রাসঙ্গিকতা :

‎

আজকের বিশ্ব যখন চরম প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই আমরা দেখতে পাই মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব, ধর্মান্ধতা, উগ্রতা ও জাতিগত বিদ্বেষের ভয়াবহ রূপ। লালন শাহের বাণী এই আধুনিক সংকটের এক মহৌষধ হতে পারে।

‎

‎রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে শুরু করে কাজী নজরুল ইসলাম—বাঙালির চিন্তাজগতের মহারথীরা লালন দর্শনে গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথ লালন সাঁইয়ের গান সংগ্রহ করে তা বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছিলেন এবং তাঁর ‘মানুষের ধর্ম’ ভাবনায় লালনের প্রভাব স্বীকার করেছেন।

‎

১৮৯০ সালের ১৭ অক্টোবর কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় লালন শাহ দেহত্যাগ করেন। কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া ভাবধারা ও গান আজও কোটি বাঙালির হৃদয়ে সুর তোলে। লালন আমাদের শেখায় সহনশীলতা, প্রেম ও সর্বজনীন মানবতা।

‎

‎আজকের কলুষিত ও বিভাজিত বিশ্বে শান্তি ও সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনতে লালন শাহের জীবন ও ভাবদর্শন চর্চার কোনো বিকল্প নেই। কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার আখড়া কেবল বাউলদের মিলনমেলা নয়, তা হয়ে উঠুক ভেদাভেদহীন এক মানবসমাজ গড়ার প্রেরণা কেন্দ্র।

‎

লেখক : তারিক ইসলাম, সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

গুড়পুকুর মেলায় বাড়তি আয়ের সুযোগ, স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৮ পূর্বাহ্ণ
গুড়পুকুর মেলায় বাড়তি আয়ের সুযোগ, স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি

0-0x0-0-0#

মিলন বিশ্বাস: সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলাকে ঘিরে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের। মেলার কয়েক দিনের বেচাকেনায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে তাঁদের সংসারে। সারা বছর যেখানে সীমিত আয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে মেলাকে কেন্দ্র করে বাড়তি ক্রেতার সমাগম তাঁদের আয়ের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, মেলায় খরচ বাদ দিয়ে মোটামুটি লাভ থাকছে। অন্যদিকে, মেলা শেষ হলে আবারও কমে যাবে বেচাকেনা অপেক্ষা করতে হবে পরবর্তী মেলার জন্য।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) মেলার ১৭তম দিনে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন দোকানে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আনাগোনা রয়েছে। পোশাক, প্রসাধনী, খেলনা ও গৃহস্থালির সামগ্রীর দোকানের পাশাপাশি চা-নাশতা ও খাবারের দোকানেও চলছে বেচাকেনা। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিমা দর্শনে আসা মানুষও ঘুরে দেখছেন মেলা। এতে মেলাপ্রাঙ্গণে বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
মেলার এই বাড়তি জনসমাগমে উপকৃত হচ্ছেন স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন চা বিক্রেতা, খাবারের দোকানি ও বিভিন্ন ছোট পণ্যের বিক্রেতারা। মেলায় আসা মানুষের আনাগোনা বাড়ায় তাঁদের পণ্য ও সেবা বিক্রির সুযোগও বাড়ছে। বিশেষ করে অস্থায়ী দোকানিদের কাছে মেলার দিনগুলো বাড়তি আয়ের গুরুত্বপূর্ণ সময়।
মেলায় চায়ের দোকান চালানো লেয়াকাত বলেন, “মেলার এই কয়েক দিন বেচাকেনা একটু ভালো হচ্ছে। তা না হলে এর আগে দিনে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা আয় করতে হতো। সেই টাকা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন ছিল। মেলার এই কয়েক দিন পরিবার নিয়ে একটু ভালোভাবে সংসার চালাতে পারছি।”
লেয়াকাতের কথায় উঠে আসে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রতিদিনের জীবনসংগ্রামের চিত্র। সীমিত আয়ের মধ্যে সংসারের খরচ সামলাতে হয় তাঁদের। তাই মেলার মতো বড় আয়োজন তাঁদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করে। কয়েক দিনের ভালো বেচাকেনাও তাঁদের সংসারে কিছুটা স্বস্তি এনে দেয়।
অন্যদিকে, শিশুদের খেলনার চাহিদাকে কেন্দ্র করে ভালো বেচাকেনার আশা করছেন দূরদূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা। ঢাকা থেকে মেলায় খেলনার দোকান নিয়ে এসেছেন সোহাগ। তিনি বলেন, “মেলায় আসার জন্য ছোট বাচ্চাদের আগ্রহ বেশি থাকে। মেলার শুরু থেকেই শিশুদের খেলনার চাহিদা ভালো ছিল। এখন মেলা শেষের দিকে, চাহিদা আরও বেড়েছে। বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে। তবে মেলা শেষ হলে আবার বেচাকেনা কমে যাবে। তখন অন্য কোনো মেলার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।”
সোহাগের মতো অনেক ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীর জীবিকা নির্ভর করে বিভিন্ন মেলায় দোকান বসানোর ওপর। এক মেলা শেষ হলে অন্য মেলায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হয় তাঁদের। ফলে মেলার শেষ দিনগুলোতে ভালো বেচাকেনা তাঁদের জন্য বাড়তি আয়ের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হয়ে ওঠে।
ব্যবসায়ীরা জানান, দোকান পরিচালনা, পণ্য কেনা ও অন্যান্য খরচ মেটানোর পর মোটামুটি লাভ থাকছে। তবে বিক্রির পরিমাণ দোকান ও পণ্যের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন। মেলার শেষ সময় পর্যন্ত ক্রেতাদের আনাগোনা থাকলে বেচাকেনা আরও ভালো হবে বলে আশা তাঁদের।
এদিকে, মেলায় দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়লেও সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা ভালো রয়েছে বলে জানিয়েছেন মেলায় আসা মানুষজন। মেলাপ্রাঙ্গণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ও নজরদারি দর্শনার্থীদের স্বস্তি দিচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মেলায় ঘুরতে আসা মানুষ কেনাকাটা ও বিনোদনের পাশাপাশি নিরাপদ পরিবেশে সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন।
প্রায় ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলা শুরু হয়েছে গত ১ অক্টোবর। দুই বছর বিরতির পর এবার মেলা বসায় স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি দূরদূরান্তের ব্যবসায়ীদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে আয়োজিত এ মেলা চলবে আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত।
ঐতিহ্য, বিনোদন ও কেনাকাটার পাশাপাশি গুড়পুকুর মেলা স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মেলাকে ঘিরে কয়েক দিনের বাড়তি আয় তাঁদের সংসারে কিছুটা স্বস্তি এনে দিচ্ছে। তাই দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ও বেচাকেনার এই গতি মেলার শেষ দিন পর্যন্ত বজায় থাকবে এমন প্রত্যাশা ব্যবসায়ীদের।

অবশেষে আমিনী গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ
অবশেষে আমিনী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে পিটিয়ে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে কালিগঞ্জ থানার কৃষ্ণনগর এলাকা থেকে পুলিশ ও এসআরবির যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন বলেন, ‌‘রাত ১১টার দিকে পুলিশ ও এসআরবির যৌথ অভিযানে শামীম হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। এর আগে এই মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক এলাকাবাসী পত্রদূতকে জানায়, বার বার মব সৃষ্টি ও আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কোন ধরনের শাস্তি না পাওয়ায় আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একের পর এক নৃশংস মব তৈরি করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন ফজলুল হক আমিনী। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া এলাকায় তিনি হয়ে উঠেছেন আরও বেশি বেপরোয়া। এর আগেও বিভিন্ন ঘটনায় মব বা বিচারবহির্ভূত নির্যাতনে নেতৃত্ব দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলেও আইনের কঠোর প্রয়োগ না থাকায় তিনি বারবার পার পেয়ে গেছেন এবং আরও বেপরোয়া রূপে ফিরে এসেছেন বলে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসে ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ তুলে মব সৃষ্টি করে পারুলিয়ার শহিদুল ইসলাম নামের এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। এখানেই ক্ষান্ত হননি তিনি; একই বছরের অক্টোবর মাসে সোহাগ হোসেন নামের আরেক যুবকের বাড়িতে মব তৈরি করে চালানো হয় ভয়াবহ গণপিটুনি। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, পারুলিয়া ১ নম্বর ইউনিয়নের এক সদস্যের বিরুদ্ধেও ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে তার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও গণপিটুনির মতো জঘন্য ঘটনা ঘটানো হয়। এসব প্রতিটি লোমহর্ষক ঘটনায় মূল নেতৃত্ব বা উসকানিদাতা হিসেবে ফজলুল হক আমিনীর নামই বারবার উঠে এসেছে।
গ্রেপ্তারের দু’দিন পূর্বে দৈনিক পত্রদূত এর পক্ষ থেকে এই প্রািতবেদক ফজলুল হক আমিনীর সাথে কথা বললে তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত নন। তবে পারুলিয়ার এক যুবক আল্লাহ, রাসূল ও কোরআন-হাদিস নিয়ে কটূক্তি করেছে দাবি করে তিনি জানান, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে তিনি নিজের জায়গা থেকে সবসময় নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন। এর আগের ঘটনাগুলোতেও যে তিনি উপস্থিত ছিলেন এবং নেতৃত্ব দিয়েছেন, তা তিনি অকপটে স্বীকার করেন। ফেসবুক এবং লাইভে স্ট্যাটাস দিয়ে লোক জড়ো করে এই বিচারবহির্ভূত মব সৃষ্টির কথা তিনি স্পষ্ট স্বীকার করেন। প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে ধরলে তার কোনো আপত্তি নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর পরিণামে তার ফাঁসি বা জেল হলেও তার কোনো আফসোস নেই।
নিজের সামাজিক ও পেশাগত পরিচয়ের আড়ালে তিনি পারুলিয়া বাজারের গরু-ছাগল জবাইয়ের পাশাপাশি মোটরসাইকেল চালক সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন এবং বিভিন্ন মসজিদে ইমামের প্রক্সি দিয়ে থাকেন বলে জানান। ইসলাম ও রাসূলের অবমাননার নামে তার এই বিচারবহির্ভূত কর্মকান্ড ও ক্ষোভ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।
শামীম হত্যার ঘটনায় তাকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করার পর থেকে তাকে আর এলাকায় দেখা যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করে তার পক্ষে পাবলিক সেন্টিমেন্ট নেওয়ার চেষ্টা করছে।
এই ঘটনায় মানবাধিকার কর্মী মাধব চন্দ্র দত্ত তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, কোনো ব্যক্তি কখনোই রাষ্ট্রের আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। ফজলুল হক আমিনী যে হত্যাযঞ্জের নেতৃত্ব দিয়েছেন সেজন্য তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের এখনই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র যদি এখনই জোরালো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়, তবে এ ধরনের মব সন্ত্রাস বারবার ঘটতেই থাকবে, যা আমিনী এর আগেও ঘটিয়েছেন। এই ঘটনার মাধ্যমেই পরিষ্কার প্রমাণিত হয় যে তিনি আইনকে বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করেন না। তিনি যে ভাষাতেই সাফাই গান না কেন, মূলত তিনি প্রকাশ্যে মৃত্যুদন্ড বা বিচারবহির্ভূত শাস্তির ঘোষণা দিয়েছেন। যা তাকে একজন স্বঘোষিত অপরাধীতে পরিণত করেছে। তাই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উচিত তাকে কোনোভাবেই ছাড় না দেওয়া।
এরআগে মামলা দায়েরের পর পুলিশ ইতোমধ্যে আরো দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।