মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

আশাশুনির বাওচাষে শিশুর শ্লীলতাহানির লিখিত অভিযোগ ছাড়াই দপ্তরী বরখাস্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
আশাশুনির বাওচাষে শিশুর শ্লীলতাহানির লিখিত অভিযোগ ছাড়াই দপ্তরী বরখাস্ত

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বাওচাষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী বিকাশ চন্দ্র বাছাড়কে ছুটির দিনে বহিরাগত এক প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে বাড়ি থেকে তুলে এনে আটক রেখে তিন দফায় নির্যাতন চালানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ ছাড়া ওই নৈশ প্রহরীর বিরুদ্ধে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিতে রাজী না হওয়ায় প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জিম্মি করে সাময়িক বরখাস্ত করতে বাধ্য করানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ঘটনা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ঠাদের লোকজনের নিকট থেকে ভিন্ন ভিন্নরূপ বক্তব্য পাওয়া গেছে। গত পহেলা ও ২ জুন এ হামলার ঘটনার পর বিকাশ সস্ত্রীক আত্মগোপনে রয়েছে। আতঙ্কে রয়েছে তার পরিবার ও স্বজনরা।

সরেজমিনে বৃহষ্পতিবার আশাশুনি উপজেলার বাঁকড়া গ্রামে যেয়ে দেখা গেছে, বাওচাষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী বিকাশ চন্দ্র বাছাড়ের বাড়িতে তার বাবা সন্তোষ বাছাড়া, মা উর্মিলা বাছাড় ও ছোট ভাই সুভাষ বাছাড়ের চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ। বিকাশের কথা জানতেই মা উর্মিলা বাছাড় কেঁদে ফেললেন। উপস্থিত প্রতিবেশিসহ মা ও বাবা পহেলা জুন সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে বাওচাষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দাতা আলাল উদ্দিনের বাড়িতে বিকাশকে বহিরাগত এক প্রথম শ্রেণীর ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ মারপিট করার বর্ণনা দেন। পরদিন সকাল ১০টায় ও দুপুর ১২টায় দুই বার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মারতে মারতে ইয়াছিনের দোকানে আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতনের কথা তুলে ধরেন মা উর্মিলা। সাবেক ইউপি সদস্য সাহেব আলীসহ কয়েকজন না থাকলে বিকাশকে মব সৃষ্টিকারিদের হাতে জীবন দিতে হতো বলে অভিযোগ করেন তারা।

বাওচাষ গ্রামের এক দিনমুজুরের বাড়িতে গেলে তার ছেলে আব্দুল কাদের বলেন, তার দুলা ভাই আশাশুনি উপজেলার বলাডাঙা গ্রামের বাসিন্দা। এক বছর যাবৎ তিনি সৌদি আরবে অবস্থান করায় বোন ও ভাগ্নি মাঝে মাঝে তাদের বাড়িতে আসেন। ভাগ্নি রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণীতে পড়ে। পহেলা জুন তার দুই ভাগ্নি বাওচাষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে দোলনা খেলতে গেলে প্রথম শেণীতে পড়–য়া (বলাডাঙা) ওই ভাগ্নির শ্লীলতাহানি করে বিকাশ। বিষয়টি জানতে পেরে তারা বিদ্যালয়ের জমি দাতা আলালউদ্দিনকে জানান। কয়েকজন বিকাশকে মারপিট করেছেন স্বীকার করে কাদের বলেন, তারা কোথাও কোন লিখিত অভিযোগ করেননি। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।

আত্মগোপনে থাকা বিকাশ বাছাড় জানান, পহেলা জুন সোমবার বিদ্যালয় ছুটি থাকলেও প্রতিদিনের ন্যায় তিনি বিকেলে প্রতিষ্ঠানের গাছ গাছালিতে পানি দিতে যান। এ সময় বিদ্যালয়ের নিকটবর্তী এক ব্যক্তির দুই নাতনি (সাত থেকে আট বছর বয়সী) বিদ্যালয়ে বেড়াতে আসেন। বেড়াতে আসেন বিদ্যালয়ের পাশ^বর্তী আব্দুল কাদেরের ছেলে মোহিন, তুহিন, আহছানের ছেলে তবিবুর, ইউনুসের ছেলে হানজানা, মহিদুলের ছেলে শামীম ও ইয়াকুবের ছেলে বাদশাসহ কয়েকজন। সোয়া ছয়টার দিকে ওই দুই মেয়ে চলে যায়। এরপরপরই মোহিন, তুহিনসহ তাদের দুই ভাইপোসহ মাঠে উপস্থিত সকলকে নিয়ে তিনিও বিদ্যালয় থেকে চলে আসেন। সন্ধ্যায় সাতটার দিকে বাওচাষ গ্রামের আব্দুল কাদের বাওচাষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দাতা আলাউল তাকে যেতে বলেছে বলে ডাকতে আসে। তিনি আলাউলের বাড়িতে চলে আসার পর তাকে কিছুক্ষণ আগে বিদ্যালয়ে বেড়াতে যাওয়া এক শিশুকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করে গালে থাপ্পড় মারেন ওই মেয়েটির মা। এ সময় জমি দাতা আলাউল বিষয়টি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিনকে অবহিত করলে তার কাছ থেকে বিদ্যালয়ের চাবি নিয়ে নিতে বলা হয়। তিনি চাবি দিয়ে বাড়িতে চলে আসেন। রাত ১১টার দিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিনকে একটি মহল জোরপূর্বক বিদ্যালয়ে আসতে বাধ্য করেন।

বিকাশ বাছাড় অভিযোগ করে বলেন, ২ জুন মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে তিনি বাড়িতে অবস্থান করাকালে গতদিনের ভিকটিমের মামা আব্দুল কাদের, বাওচাষ গ্রামের রহমতের ছেলে হাফিজুল ইসলাম, একই গ্রামের আব্দুর রব এর ছেলে ঈদুল আযহা’র পরদিন ভারত থেকে পালিয়ে আসা হযরত আলীসহ কয়েকজন তার ঘরে ঢুকে একমাত্র শিশু সন্তানকে কোল থেকে মাটিতে আঁছড়ে ফেলে দিয়ে পরিবারের সদস্যদের সামনে মারতে মারতে বিদ্যালয়ের পাশে নিয়ে যায়। স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় তিনি বাড়ি ফিরে আসলে কাদের, হাফিজুল ও হযরতসহ বাওচাষ, বাঁকড়া ও হাজিপুর গ্রামের ৭০ থেকে ৮০ জন তাকে আবারো বাড়ি থেকে মারতে মারতে ইয়াছিনের দোকানে নিয়ে আটকে রাখে। সেখানে তাকে নির্যাতনের ফলে ডান কানের শ্রবন শক্তি হারিয়ে ফেলেন তিনি। স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য সাহেব আলী, ভুট্টো ও প্রতিবেশি হাফেজ সাহেব প্রতিবাদ করে রুখে দাঁড়িয়ে তাকে মব সৃষ্টিকারিদের হাত থেকে রক্ষা করে বাড়িতে পৌঁছে দেন। রাতে আবারো তাকে ডেকে নিয়ে শালিস করা হয়। শালিসে তাকে ওই শিশুর শ্লীলতাহানির বিষয়ে স্বীকার করতে চাপ প্রয়োগ করা হয়। সেখান থেকে বাড়ি ফিরে জীবন বাঁচাতে তিনি স্ত্রী ও একমাত্র শিশু সন্তানকে নিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। তাকে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে চাকুরি থেকে বরখাস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে মর্মে তিনি অভিযোগ করেন।

সরেজমিনে বাওচাষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হাজির হলে সহকারি শিক্ষক শাহজাহান শামীম, রামপ্রসাদ বাছাড় ও রুবনা ইয়াসমিন জানান, তাদের বিদ্যালয়ে ২৯০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। নয়জনের মধ্যে প্রধান শিক্ষক ও একজন সহকারি শিক্ষকের পদ শূন্য। একজন মাতৃত্বকালিন ছুটিতে। ছয়জন শিক্ষক বর্তমানে কর্মরত। ১৯২১ সালে ওই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। মনোরম পরিবেশ ও উন্নতমানের পড়াশুনার জন্য ২০২৪ সালে বিদ্যালয়টি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে।

দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী বিকাশের বিরুদ্ধে ছুটির দিনে এক বহিরাগত শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির বিষয়টি সিসি ক্যামরা, সেই সময়ে উপস্থিত ওই বহিরাগত শিক্ষার্থীর নিজের খালাত বোনসহ স্থানীয় আটজনের কাছে ঘটনার সত্যতা মেলেনি বলে জানান ওই বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও স্থানীয় কয়েকজন। বিষয়টি যেভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে তাতে শুধু তাদের নয়, বিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট হয়েছে। বিকাশের কারণে বিদ্যালয়ের বাগান পরিচর্যায় সৌন্দর্য বৃদ্ধি ঘটেছে বলে তারা দাবি করেন।

জানতে চাইলে বাওচাষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের বাসিন্দা মোহিন ও তুহিন জানান, বিদ্যালয় থেকে বিকাশের সঙ্গে তারা একসাথে বেরিয়ে যাওয়া ও শ্লীলতাহানি সম্পর্কে ঘটনার কোন সত্যতা না থাকার বিষয়টি তারা সকলের উপস্থিতিতে উপস্থাপন করেন। ঘটনা ঠিক নয় বলে জানায় ওই ভিকটিমের নিজের খালাত বোন। এরপরও ওই ভিকটিমের পরিবার কোন লিখিত অভিযোগ না করায় কিভাবে বিকাশকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো তা তাদের বোধগম্য নয়।

বিদ্যালয়ের জমি দাতা আলাউল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
বিদালয় পরিচালনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দাবিকৃত ঘটনার সময় ওই ভিকটিমের খালাত বোনসহ উপস্থিত আটজন ঘটনা সঠিক নয় বলে দাবি করেন। সিসি ক্যামেরায় ও ঘটনার সত্যতা মেলেনি। এরপরও স্থানীয় একটি মহলের আগ্রাসী মনোভাব তাকে ও প্রধান শিক্ষককে ভীতসন্ত্রস্ত করে তোলে। একপর্যায়ে তারা ভিকটিম পরিবারের লিখিত অভিযোগ ছাড়াই বিকাশকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তবে আশাশুনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার বর্মণের সঙ্গে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন ধরেননি।

বাউচাষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। লিখিত অভিযোগ, কোন যৌতিক কারণ ও প্রমান ছাড়া বিকাশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে না চাইলে তাকে বিভিন্ন ভাবে অপমান অপদস্ত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

 

Ads small one

শ্যামনগরে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। সোমবার দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে এসব অভিযান পরিচালিত হয়।

 

নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশানর (ভূমি) রাশেদ হোসাইনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনাকালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ জিয়াউর রহমান, শ্যামনগর থানার উপ-পরিদর্শক নবীর হোসেনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ভ্রাম্যমান আদালতের নেতৃত্বে থাকা রাশেদ হোসাইন জানান মেডিকেল প্রাকটিস এবং বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ ১৯৮২ অনুযায়ী দু’টি প্রতিষ্টানকে জরিমানা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের ডাঃ ফার্নান্দো মা ও শিশু হাসপাতাল এবং প্রযুক্তি ক্লিনিক দু’টির সরকারি অনুমোদন না থাকাসহ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং অনুমোদিত চিকিৎসক না থাকার কারনে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। পরবর্তী এক মাসের মধ্যে যাবতীয় কাগজপত্র নবায়নপুর্বক তা পরিচালনার বিষয়ে স্পষ্ট সতর্ক করা হয়েছে।

শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি অনুমোদন, আনন্দ মিছিল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:০৯ অপরাহ্ণ
শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি অনুমোদন, আনন্দ মিছিল

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি অনুমোদন করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত ৩১ সদস্যের ঐ কমিটি সোমবার বিকালে অনুমোদন হয়।
উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক আলহাজ¦ সোলায়মান কবিরকে সদ্য গঠিত কমিটির আহবায়ক ও এ্যাডভোকেট আশেক-ই এলাহী মুন্নাকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।


এছাড়া গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান মামুদুল আলম, সাবেক ডাকসু নেতা অধ্যাপক আবু সাঈদসহ কেন্দ্রীয় কৃষকদল নেতা এডভোকেট আব্দুস সালাম খান, লিয়াকত আলী বাবু, আমজাদুল ইসলাম, সাদেকুর রহমান সাদেম ও গাজী শহিদুজ্জামান আহবায়ক কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে পরবর্তীতে তিন মাসের মধ্যে পুর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এদিকে নবগঠিত আহবায়ক কমিটি অনুমোদনের খবরে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী কর্মী সমর্থকরা তাৎক্ষনিকভাবে শ্যামনগর পৌরসদরে আনন্দ মিছিল করে। উপজেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি প্রধান সড়কসমুহ প্রদক্ষিন শেষে প্রেসক্লাব চত্ত্বরে পথসভায় মিলিত হয়। এসময় পরীক্ষিত নেতাদের সমন্বয়ে কমিটি দেয়ায় পাটি চেয়ারম্যান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তারা।

 

বক্তারা বলেন সদ্য ঘোষিত আহবায়ক কমিটি বিগত দিনে রাজপথে থেকে আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নেয়া নেতাকর্মীদের মুল্যায়ন করবে। একই সাথে উপজেলার সব প্রান্তের নেতাদের কমিটিতে জায়গা নিশ্চিত করার জন্য সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক ড. মোঃ মনিরুজ্জামানের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আলহাজ¦ সোলায়মান কবির, অধ্যাপক আবু সাঈদ, লিয়াকত আলী বাবু, গাজী শহীদুজ্জামান শহিদ, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক সফিকুল ইসলাম দুলু, মোঃ নুরুজ্জামান, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ঝুনু খাঁ, সামছুজ্জোহা টুটুল, প্রভাষক মোক্তার আলী, আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।

 

তালায় ঈদগাহের প্রাচীর নির্মাণে সরকারি রাস্তা বাধাগ্রস্তের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
তালায় ঈদগাহের প্রাচীর নির্মাণে সরকারি রাস্তা বাধাগ্রস্তের অভিযোগ

তালা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের ফলেয়া চাঁদকাটি পশ্চিমপাড়া এলাকায় একটি ঈদগাহের প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে সরকারি রাস্তা দখল ও জনসাধারণের চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডা. নাজমুল হুদা ঈদগাহের জন্য ২ শতক এবং মসজিদের জন্য ৫ শতক জমি দান করেন। ঈদগাহের পশ্চিম পাশ দিয়ে একটি সরকারি রাস্তা রয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় গ্রামবাসীর চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, ঈদগাহের প্রাচীর নির্মাণের ফলে ওই রাস্তার একটি অংশ সংকুচিত হয়ে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

ফলেয়া গ্রামের ডা. নাজমুল হুদার স্ত্রী ফাতেমা বেগম এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

স্থানীয়দের দাবি, মহসিন গাজী, মতিয়ার মোড়ল, আহাদ আলী সরদার ও সাঈদ সরদারের নেতৃত্বে সরকারি রাস্তাটিকে ঈদগাহের অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ নিয়ে নায়েব অফিসে একাধিক অভিযোগও করা হয়েছে। এর আগে কয়েক দফা জমি মাপজোক হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

সর্বশেষ ২৫ জুলাই সরকারি আমিন এবং স্থানীয় আমিন আজিজ ও শওকতের উপস্থিতিতে যৌথভাবে জমি মাপজোক করা হয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি আমিন রাস্তাটি সরকারি সম্পত্তি বলে উল্লেখ করেন এবং সেখানে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না বলে মত দেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এটি জনসাধারণের চলাচলের সরকারি রাস্তা। এ ধরনের জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে খলিষখালী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা গাজী মোহাম্মদ আবু হেলাল বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করব। তিনি বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত দেবেন।”