বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

আশাশুনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকদের সমন্বয় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকদের সমন্বয় সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের অংশ গ্রহণে ক্লাস্টারভিত্তিক মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বেলা ১১টায় উপজেলার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইউআরসি ট্রেনিং সেন্টারে ৪টি ক্লাস্টারের এই পৃথক পৃথক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার বর্মনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপজেলার ১০৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরা অংশ নেন। সভায় আলোচনায় অংশ নেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান, ঝংকর ঢালী, সোহাগ আলম ও আশেকুজ্জামান।
আশাশুনি সদর, শ্রীউলা, চম্পাখালী ও বুধহাটা ক্লাস্টারের শিক্ষকদের নিয়ে আয়োজিত এই সভায় হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে শিক্ষকদের হাজিরা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষার্থীদের মৌলিক সাক্ষরতা ও শিক্ষার মান উন্নয়ন, চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের তদারকি, জুন ক্লোজিংয়ের বিবিধ ভাউচার জমা এবং বিদ্যালয়গুলোতে ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি) গঠনের সার্বিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

Ads small one

কলারোয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের নির্বাচনে সভাপতি মোস্তাক, সম্পাদক ফারুকী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৮ অপরাহ্ণ
কলারোয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের নির্বাচনে সভাপতি মোস্তাক, সম্পাদক ফারুকী

সাতক্ষীরার কলারোয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মোস্তাক আহমেদ সভাপতি (দৈনিক আমাদের সময়) ও মুহা: আসাদুজ্জামান ফারুকী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সহ-সভাপতি এস,এম জাকির হোসেন ও শামসুর রহমান লালটু, যুগ্ম সম্পাদক মোজাফফর হোসেন পলাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ মোস্তফা হোসেন বাবলু, দপ্তর সম্পাদক মোর্তাজা হাসান, প্রচার, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য সম্পাদক মিল্টন কবীর, নির্বাহী সদস্য এস,এম ফারুক, আসাদুজ্জামান আসাদ, ও আহসান উল্লাহ।

দুপুর ১২ টা থেকে ২টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলে। ক্লাবের ২২ জন সদস্যের মধ্যে ২০ জন সদস্য তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করেন ক্লাবের উপদেষ্টা তালা সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু বকর সিদ্দিক। সদস্য সচিব ছিলেন সাতক্ষীরা জজকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহিল হাবিব ও ক্লাবের সদস্য সানবিম করীম সিয়াম। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

ডিজিটাল সেবার আড়ালে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০০ অপরাহ্ণ
ডিজিটাল সেবার আড়ালে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ
মিনাক্ষী শীল

ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সেবা অনলাইনে নিয়ে আসা হয়েছে। জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন, জমির খতিয়ান, চাকরির আবেদন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি থেকে শুরু করে নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখন অনলাইনে করা সম্ভব। কিন্তু প্রশ্ন হলো, অনলাইনে সেবা চালু হলেও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কি সত্যিই কমেছে?

 

বাস্তবে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে অনলাইনে আবেদন করার পরও মানুষকে দিনের পর দিন অফিসে ঘুরতে হচ্ছে। কখনো সার্ভারের সমস্যা, কখনো তথ্যের ভুল, আবার কখনো প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের জটিলতায় আটকে যাচ্ছে সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া। অনলাইনে আবেদন করেও সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার যেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এতে সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হচ্ছে।

 

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন গ্রামের সাধারণ মানুষ, বয়স্ক ব্যক্তি, স্বল্পশিক্ষিত নাগরিক এবং প্রযুক্তি ব্যবহারে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিরা। অনেকে অনলাইনে আবেদন করতে না পেরে কম্পিউটারের দোকানে অতিরিক্ত টাকা খরচ করছেন। এরপরও আবেদন সম্পন্ন হওয়ার নিশ্চয়তা থাকছে না।

 

ডিজিটাল সেবার মূল উদ্দেশ্য ছিল মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছ সেবা পৌঁছে দেওয়া। অথচ অনলাইনে তথ্য জমা দেওয়ার পরও যদি অফলাইনে দীর্ঘ অপেক্ষা, দপ্তরে দপ্তরে ছোটাছুটি এবং অপ্রয়োজনীয় জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে সেই ডিজিটাল ব্যবস্থার সুফল সাধারণ মানুষ কতটা পাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

 

এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে প্রয়োজন সহজ আবেদনপ্রক্রিয়া, নিরবচ্ছিন্ন সার্ভার, নির্ধারিত সময়ে সেবা প্রদান, অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা এবং প্রতিটি দপ্তরে তথ্যসহায়তা কেন্দ্র। পাশাপাশি অনলাইনে আবেদন করার পর সেবার অগ্রগতি জানার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

 

প্রযুক্তি মানুষের জীবন সহজ করার জন্য, ভোগান্তি বাড়ানোর জন্য নয়। তাই শুধু সেবা অনলাইনে চালু করলেই হবে না; সেবার মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে

 

তথ্য যদি অনলাইনে থাকে,তবে সেবা ও হতে হবে সহজলভ্য-মানুষের ভোগান্তি নয়,কমানেই হোক ডিজিটাল ব্যবস্হার মূল লক্ষ্য।

শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষলগ্নে বাইনতলায় বন্ধু-স্বজনদের প্রাণের মেলবন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ
শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষলগ্নে বাইনতলায় বন্ধু-স্বজনদের প্রাণের মেলবন্ধন

পত্রদূত ডেস্ক: শারদীয় দুর্গোৎসবের বিদায়লগ্নেও উৎসবে ভাঁটা পড়ে না বাঙালির প্রাণের টানে। আনন্দ আর ভালোবাসার রঙিন আবেশে পুনরায় প্রমাণিত হলো—দুর্গোৎসব কেবল এক ধর্মীয় আচার নয়, এটি বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ও মিলনের মহাসমুদ্র।

 

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বাইনতলা গ্রামের প্রয়াত মাস্টার মনিমোহন মণ্ডলের প্রতিষ্ঠিত ‘বাইনতলা সর্বজনীন মা দুর্গা মিলন মন্দির’-এ অনুষ্ঠিত হলো এক অভূতপূর্ব বন্ধু-স্বজনদের মিলনমেলা। ইট-কাঠের যান্ত্রিক জীবনকে পেছনে ফেলে এক বাইনতলা খেয়াঘাটের কাছেই অজপাড়াগাঁয়ের মুক্ত বাতাসে দূর্গাউৎসবের শেষলগ্নে বিকেল বেলা বসেছিল এই নির্ভেজাল প্রাণের আড্ডা। বটবৃক্ষের মতো আগলে রেখে পুরো আয়োজনে মাতৃত্বের স্নেহে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমতী সবিতা রানী মণ্ডল।

 

আয়োজনের সেই আবেগঘন ক্ষণে থার্ড স্পেস জিমের প্রতিষ্ঠাতা লাভলী দাসের প্রফুল্ল ও হাস্যোজ্জ্বল মুখশ্রীর দ্যুতি পুরো মিলনমেলাকে করে তুলেছিল আরও উজ্জ্বল ও ঋদ্ধ; তাঁর সেই স্নিগ্ধ উপস্থিতি যেন উৎসবের প্রাণপ্রবাহে যোগ করেছিল এক অপরূপ নন্দন মাত্রা। মানুষে মানুষে এই অকৃত্রিম আত্মিক টান ও বন্ধুত্বের সৌন্দর্য নিয়ে রুশ সাহিত্যের কালজয়ী লেখক টলস্টয় বলেছিলেন—“জীবনের একমাত্র সত্য সুখ হলো অন্যের জন্য বাঁচার এবং আপন মানুষদের সাথে হৃদয়ের সেতু গড়ে তোলার মধ্যে।”বাইনতলার এই প্রীতি সম্মিলন যেন টলস্টয়ের সেই কথারই এক বাস্তব প্রতিফলন।

 

উৎসবের এই শেষ লগ্নে বন্ধুদের একঝাঁক প্রতিভাবান ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের উপস্থিতিতে আড্ডাটি হয়ে ওঠে আনন্দমুখর। ঢাকার পিজি হাসপাতাল মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সুশান্ত মণ্ডল বলেন, “গ্রামের শিকড়ে ফিরে বন্ধু-স্বজনদের এই হাসিমুখগুলোই জীবনের আসল শক্তি।”

 

ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক রাসেদ আহমেদ খোকা আবেগভরে বলেন, “আজকের এই আন্তরিকতা প্রমাণ করে দুর্গোৎসব সত্যিই আমাদের এক সুতোয় বাঁধে।” বিএনপি নেতা মশিউল হুদা তুহিন উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “পলিটিক্যাল বা সামাজিক পরিচয় ভুলে এমন প্রাণের মেলবন্ধন সত্যি দুর্লভ ও আশ্চর্য সুন্দর।” আশাশুনি সরকারি কলেজের জাকির হোসেন বলেন, “শহুরে কোলাহল পেরিয়ে এমন খোলামেলা আলোচনা আমাদের মনকে এক অদ্ভুত প্রশান্তিতে ভরিয়ে দেয়।”

 

ব্যবসায়ী আবিদ এ আজাদ মন্তব্য করেন, “শারদীয়ার বিদায়লগ্নে এত ভালোবাসার সমাগম সত্যি স্মৃতিতে অম্লান হয়ে থাকবে।” আশাশুনি পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তুষার কান্তি বসু বলেন, “গ্রামের মাটিতে প্রতিমা বিসর্জনের ভিড়েও বন্ধুত্বের এমন প্রীতি সম্মেলন উৎসবের আমেজকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।”

 

উৎসবের আনন্দ যে মানুষকে কাছাকাছি এনে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করে, তা উঠে এসেছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চরণেও—“মিলনের এই গভীর রসটিই আনন্দের মূল কথা; সেখানে সকল পার্থক্য ভুলে মানুষ মানুষের বুকে টেনে নেয়।”

 

একইভাবে ভেদভাব ভুলে মানুষের এই প্রীতি ও সৌহার্দ্যের জয়গান গেয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন—“মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান।/ তোমায়-আমায় ভালোবাসা নাই কোনো দিন হবে না মান।”

 

গ্রামের প্রত্যন্ত কোণে অনুষ্ঠিত এই প্রাণবন্ত আলোচনা ও নিখাদ আন্তরিকতা উপস্থিত গ্রামবাসীকে মুগ্ধ ও আপ্লুত করে তোলে। বিজয়ার সুরের মাঝেও এমন উষ্ণ আড্ডা মানুষকে কতটা কাছে টানতে পারে এবং সাধারণ এক দিনকে কতটা অসাধারণ করে তুলতে পারে, বাইনতলার এই মিলনমেলা তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।