মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

কালিগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
কালিগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

সংবাদদাতা: দেশব্যাপী নৈরাজ্য, অপরাজনীতি ও উস্কানিমূলক কর্মকা-ের প্রতিবাদে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়কে এই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল শেষে উপজেলা মোড়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আল মাহমুদ ছট্টুর সভাপতিত্বে ও উপজেলা বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক এম হাফিজুর রহমান শিমুলের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী রোকনুজ্জামান রোকন।
সমাবেশে অন্য বক্তারা দেশব্যাপী নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানান এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনকে আরও কঠোর ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান।
বিক্ষোভ মিছিলে মথুরেশপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শেখ নাজমুল ইসলাম বাবু, রতনপুর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান আকাশ, ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শেখ গোলাম মোস্তফা, নলতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ওসমান ও সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর রহমানসহ উপজেলা যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

Ads small one

বিজয়া দশমী: আমাদের চাওয়া-পাওয়া

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৩ অপরাহ্ণ
বিজয়া দশমী: আমাদের চাওয়া-পাওয়া

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

দেবী দুর্গার হাতে মহিষাসুরের পরাজয় ঘটে পুরাণের কাহিনিতে। অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির বিজয়ের সেই আখ্যান নিয়েই প্রতিবছর আসে শারদীয় দুর্গোৎসব। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, আরতির আলো আর ভক্তদের প্রার্থনায় মুখর হয়ে ওঠে পূজাম-প। কিন্তু পাঁচ দিনের আনন্দ শেষে বিজয়া দশমীতে যখন প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন চলে, তখন একটি প্রশ্ন সামনে আসে-দেবীর কাছে আমাদের চাওয়া কতটা পূরণ হলো, আর সমাজের জন্য আমাদের নিজেদেরই বা কী দেওয়ার আছে? বিজয়া দশমী একদিকে বিদায়ের বিষাদ, অন্যদিকে বিজয়ের আনন্দ।

 

প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে দেবী দুর্গা সন্তানদের নিয়ে পিতৃগৃহে আসেন। সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীর পূজা শেষে দশমীতে তাঁর কৈলাসে প্রত্যাবর্তন। তাই প্রতিমা বিসর্জনের মুহূর্তে ভক্তদের মনে বিষাদ জাগে। ‘আসছে বছর আবার হবে’-এই উচ্চারণে প্রকাশ পায় আগামী দুর্গোৎসবের অপেক্ষা। কিন্তু উৎসবের এই আবেগের পাশাপাশি বিজয়া দশমী আমাদের সামনে তুলে ধরে আত্ম সমালোচনা ও আত্মশু দ্ধির সুযোগ।

 

পুরাণের বর্ণনায়, মহিষাসুরের অত্যাচার থেকে দেবতাদের রক্ষা করতে দেবী দুর্গার আবির্ভাব। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর মহিষাসুরের পরাজয় ঘটে। এই কাহিনি শুধু একটি পৌরাণিক যুদ্ধের বিবরণ নয়; অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে ন্যায় ও শুভ শক্তির সংগ্রামের প্রতীক হিসেবেও এর ব্যাখ্যা করা হয়। রামায়ণের কাহিনিতে রাবণের বিরুদ্ধে রামের বিজয়ও একই ধরনের নৈতিক বার্তা বহন করে।

 

যুগে যুগে এসব আখ্যান মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর প্রেরণা দিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে এই বিজয়ের শিক্ষা আমাদের ব্যক্তিজীবন ও সমাজ জীবনে কতটা কার্যকর হচ্ছে? পূজাম-পে অসুরবধের দৃশ্য দেখে আমরা আনন্দিত হই, দেবীর কাছে শান্তি ও কল্যাণ কামনা করি। অথচ বাস্তব জীবনে দুর্নীতি, নারী নির্যাতন, সামাজিক বৈষম্য, ধর্মীয় বিদ্বেষ ও ক্ষমতার অপব্যবহার আমাদের সমাজকে প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত করছে। দুর্বলের অধিকার হরণ হচ্ছে, অন্যায়ের শিকার মানুষ ন্যায়বিচার পেতে হিমশিম খাচ্ছে।

 

এসব অশুভ প্রবণতার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে বিজয়ার শিক্ষা কতটা বাস্তবায়িত হবে? আমাদের চাওয়া হোক ন্যায় ও সমতা। এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে মানুষ তার ধর্মীয় পরিচয়, আর্থিক অবস্থা কিংবা সামাজিক অবস্থানের কারণে বৈষম্যের শিকার হবে না। নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত হবে, শিশুরা নিরাপদে বেড়ে উঠবে, দরিদ্র মানুষ শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ পাবে এবং শ্রমজীবী মানুষ তার কাজের ন্যায্য মূল্য পাবে। ধর্মীয় উৎসবের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষও সেই আনন্দের অংশীদার হতে পারবেন।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘু মানুষের নিরাপত্তার প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ। দুর্গাপূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলেও এর আনন্দ বহু ক্ষেত্রেই সম্প্রদায়ের সীমানা ছাড়িয়ে যায়। বিভিন্ন ধর্মের মানুষের শুভেচ্ছা বিনিময়, পারস্পরিক সহযোগিতা ও একসঙ্গে উৎসবে অংশ নেওয়া সামাজিক বন্ধনকে শক্তিশালী করে। এই সম্প্রীতি যেন কেবল উৎসবের কয়েকটি দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। প্রত্যেক মানুষের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা, জানমালের নিরাপত্তা ও সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত আমাদের সম্মিলিত প্রত্যাশা।

 

একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, সম্প্রীতি মানে শুধু পাশাপাশি বসবাস নয়; একে অন্যের অধিকার ও মর্যাদাকে স্বীকার করাও সম্প্রীতির শর্ত। প্রতিবেশীর বিপদে পাশে দাঁড়ানো, অন্যায়ের শিকার মানুষের পরিচয় না দেখে তার ন্যায্য অধিকারের পক্ষে কথা বলা এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের প্রতিবাদ করাÑএসবের মধ্য দিয়েই সম্প্রীতি বাস্তব রূপ পায়। কোনো মানুষের প্রতি অবিচার হলে নীরব থাকা মানে সেই অবিচারকে প্রশ্রয় দেওয়া।

 

দুর্গাপূজার আরেকটি বড় শিক্ষা নারীর শক্তি ও মর্যাদা। দেবী দুর্গাকে শক্তিরূপে আরাধনা করা হয়। অথচ বাস্তবে নারীরা যখন সহিংসতা, অবমাননা ও অধিকারহীনতার শিকার হন, তখন দেবী বন্দনার সঙ্গে আমাদের সামাজিক আচরণের বিরোধ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নারীকে সম্মান করা, তাঁর স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমান সুযোগ দেওয়ার মধ্য দিয়েই শক্তির আরাধনা অর্থবহ হতে পারে। বিজয়া দশমীতে আমাদের পাওয়ার হিসাবও কম নয়।

 

উৎসবের মধ্য দিয়ে মানুষ আনন্দ পায়, পরিবার ও বন্ধু বান্ধবের সঙ্গে মিলিত হয়, পুরোনো সম্পর্ক নতুন করে ঝালিয়ে নেয়। পূজাম-পে মানুষের সমাগম, শিল্পীদের সৃজনশীলতা, স্বেচ্ছাসেবীদের পরিশ্রম এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ সামাজিক জীবনে প্রাণ সঞ্চার করে। কিন্তু এই প্রাপ্তির পাশাপাশি দায়িত্বও রয়েছে। উৎসবের আনন্দ যেন অন্যের অসুবিধার কারণ না হয়, পরিবেশ যেন দূষিত না হয় এবং বিসর্জনের সময় নদী-জলাশয় যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। কিন্তু অন্যায়, হিংসা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামের সমাপ্তি ঘটে না। বরং উৎসব শেষে দৈনন্দিন জীবনে ফিরে গিয়ে আমরা কীভাবে আচরণ করছি, অন্যের অধিকার রক্ষায় কতটা সচেতন হচ্ছি, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কতটা সোচ্চার হচ্ছিÑসেখানেই বিজয়ার প্রকৃত পরীক্ষা।

 

আমাদের চাওয়া শুধু শান্তি নয়, ন্যায়ভিত্তিক শান্তি; শুধু সম্প্রীতি নয়, সমান অধিকার ভিত্তিক সম্প্রীতি; শুধু উন্নয়ন নয়, বৈষম্য কমিয়ে সবার জীবনে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়া। আমাদের পাওয়া যেন কেবল উৎসবের আনন্দে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার চর্চায় প্রসারিত হয়।দেবীর বিসর্জনের সময় প্রচলিত মন্ত্রে তাঁকে আবার ফিরে আসার প্রার্থনা জানানো হয়-
“গচ্ছ গচ্ছ পরম স্থানং স্বস্থানম পরমেশ্বরী।
যৎ পূজিতং ময়া দেবী পরিপূর্ণং তদস্তুমে।।
গচ্ছ গচ্ছ পরম স্থানং যত্র দেব মহেশ্বরঃ।
সমবৎসরব্যতিতেতু পুনরাগমনায় চ।।”

হে পরমেশ্বরী দেবী, আপনি নিজ স্থানে পরম ধামে গমন করুন। আমরা যে আপনার পূজা করলাম, তা যেন আপনার কৃপায় পূর্ণতা লাভ করে। আপনি সেই পরম স্থানে গমন করুন যেখানে মহেশ্বর (শিব) বিরাজ করেন, এবং এক বছর অতিক্রান্ত হলে আবার যেন আপনার আগমন ঘটে।দেবীর বিদায় বেলায় তাই আমাদের প্রত্যাশাÑমানুষের মন থেকে হিংসা ও বিদ্বেষ দূর হোক, সমাজ থেকে অন্যায় ও বৈষম্য কমুক, নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হোক এবং সব ধর্মের মানুষ নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকুক।

 

আমরা যেন অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করি, দুর্বলের অধিকার হরণ না করি এবং নিজের স্বার্থে মানবিক মূল্যবোধ বিসর্জন না দিই। বিজয়া দশমীর সার্থকতা শুধু দেবীর বিজয় স্মরণে নয়, সেই বিজয়ের শিক্ষা জীবনে ধারণ করার মধ্যে। প্রতিমা বিসর্জন হবে, উৎসব শেষ হবে; কিন্তু ন্যায়, মানবতা ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় যেন বিসর্জন না হয়। এটাই হোক বিজয়া দশমীতে আমাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া, আর মানুষের জন্য কাজ করাই হোক আমাদের সবচেয়ে বড় পাওয়া।

লেখক: সংবাদকর্মী

 

 

 

প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার: বাংলাদেশের অসমাপ্ত অঙ্গীকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৬ অপরাহ্ণ
প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার: বাংলাদেশের অসমাপ্ত অঙ্গীকার

নিকোলাস বিশ্বাস

 

যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার (Sexual and Reproductive Health and Rights-SRHR) মানবিক মর্যাদা, জেন্ডার সমতা ও টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। বাংলাদেশে পরিবার পরিকল্পনা ও মাতৃস্বাস্থ্যে অগ্রগতি হলেও লাখ লাখ নারী, কিশোরী ও তরুণ-তরুণী এখনো সঠিক তথ্য, সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা এবং নিজেদের প্রজননসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত। সামাজিক কুসংস্কার, বাল্যবিবাহ ও নীতিগত সীমাবদ্ধতা এ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তাই SRHR কেবল স্বাস্থ্যগত বিষয় নয়; এটি মানবাধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার ও উন্নয়নের প্রশ্ন।

 

বাংলাদেশে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার (SRHR) সেবাগুলো সরকারি প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক সংস্থা, বেসরকারি সংস্থা (NGO) এবং বেসরকারি খাতের অংশীদারদের একটি বহুমাত্রিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রদান করা হয়।

 

SRHR: অধিকার, মর্যাদা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা

SRHR বলতে যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়ে বৈষম্য, জবরদস্তি ও সহিংসতামুক্ত পরিবেশে প্রত্যেক ব্যক্তির সচেতন ও স্বেচ্ছামূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারকে বোঝায়। এর চারটি প্রধান দিক হলো—যৌনস্বাস্থ্য, প্রজননস্বাস্থ্য, যৌন অধিকার এবং প্রজনন অধিকার। এর মধ্যে রয়েছে পরিবার পরিকল্পনা, গর্ভনিরোধ, নিরাপদ সন্তান প্রসব, মাতৃস্বাস্থ্যসেবা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, শারীরিক স্বায়ত্তশাসন এবং কখন, কতটি সন্তান নেওয়া হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা।

 

বাংলাদেশে নারী ও কিশোরীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, মাতৃমৃত্যু হ্রাস, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ কমানো এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা মোকাবিলায় SRHR বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

 

মাতৃস্বাস্থ্য: প্রতিটি নারীর জন্য সেবা

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর নমুনা জীবন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রতি এক লাখ জীবিত জন্মে মাতৃমৃত্যুর অনুপাত ছিল ১৩৬, যা ২০২২ সালের ১৫৩ থেকে কম। তবু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, অল্প বয়সে গর্ভধারণ এবং দক্ষ প্রসবসেবাদাতার অভাব মাতৃস্বাস্থ্যের বড় চ্যালেঞ্জ। গ্রামীণ ও দরিদ্র নারীরা দূরবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্র, চিকিৎসার ব্যয়, প্রশিক্ষিত কর্মীর স্বল্পতা এবং জরুরি সেবা পেতে বিলম্বের কারণে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

 

মাতৃমৃত্যু কমাতে মানসম্মত গর্ভকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সেবা, জরুরি প্রসূতিসেবা, কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা এবং গর্ভপাত-পরবর্তী চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। এসব সেবা হতে হবে সাশ্রয়ী, গোপনীয় নীতিসম্মত ও বৈষম্যহীন।

 

বাল্যবিবাহ ও কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য

মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (MICS) অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০–২৪ বছর বয়সী নারীদের ৪৭.২ শতাংশের বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে; প্রায় ১৩ শতাংশের বিয়ে হয়েছে ১৫ বছরের আগেই। দারিদ্র্য, জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি, সামাজিক সুরক্ষার দুর্বলতা এবং ক্ষতিকর সামাজিক রীতিনীতি এ সমস্যাকে তীব্র করে।

 

অল্প বয়সে বিয়ে ও গর্ভধারণ কিশোরীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং নিজেদের জীবন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা সীমিত করে। অথচ বয়ঃসন্ধি, সম্মতি, গর্ভনিরোধ ও যৌনবাহিত সংক্রমণ বিষয়ে উপযুক্ত শিক্ষার সুযোগ এখনো সীমিত। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজকে বয়সোপযোগী, বিজ্ঞানসম্মত এবং সাংস্কৃতিকভাবে সংবেদনশীল তথ্য নিশ্চিত করতে হবে। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের (SDG) ৫.৩ লক্ষ্য অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে বাল্যবিবাহ বন্ধে সরকারি অঙ্গীকারের পাশাপাশি কার্যকর প্রয়োগ ও সামাজিক অংশগ্রহণ জরুরি।

 

পরিবার পরিকল্পনা: পছন্দের স্বাধীনতা

বাংলাদেশে আধুনিক গর্ভনিরোধক ব্যবহারের হার প্রায় ৬২ শতাংশ হলেও অগ্রগতি স্থবির এবং অঞ্চলভেদে বৈষম্য রয়েছে। বড়ির ব্যবহার বেশি; কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী পদ্ধতির ব্যবহার তুলনামূলক কম।

 

২০২৫–২০৩০ সালের জাতীয় পরিবার পরিকল্পনা কৌশল জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে অধিকারভিত্তিক ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। ২০২৬ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে বছরব্যাপী বাড়ি বাড়ি সেবা কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এর সাফল্য নির্ভর করবে প্রশিক্ষিত মাঠ পরিদর্শক, বিভিন্ন গর্ভনিরোধক পদ্ধতির প্রাপ্যতা এবং চাপমুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগের ওপর। পরিবার পরিকল্পনার মূল কথা হলো – কখন ও কতটি সন্তান নেওয়া হবে, তা নির্ধারণের স্বাধীনতা।

 

মাসিক নিয়মিতকরণ ও গর্ভপাত-পরবর্তী সেবা

বাংলাদেশে মাসিক নিয়মিতকরণ (MR) পরিবার পরিকল্পনা সেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ম্যানুয়াল ভ্যাকুয়াম অ্যাসপিরেশন অথবা ওষুধের মাধ্যমে এ সেবা দেওয়া হয়। তবে প্রশিক্ষিত সেবাদাতার অভাব, সামাজিক কলঙ্ক ও তথ্যের ঘাটতির কারণে অনেকে অনিরাপদ সেবার দিকে ঝুঁকছেন। ফলে রক্তক্ষরণ সহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে।

 

অনুমোদিত মাসিক নিয়মিতকরণ, মানবিক ও বিচারহীন গর্ভপাত-পরবর্তী চিকিৎসা এবং স্বেচ্ছামূলক গর্ভনিরোধক সেবা জোরদার করতে হবে। সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ও বাড়ানো প্রয়োজন।

 

যৌনবাহিত সংক্রমণ ও নীতিগত সীমাবদ্ধতা

বাংলাদেশে সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে HIV -এর প্রকোপ কম হলেও গনোরিয়া, সিফিলিসসহ অন্যান্য যৌনবাহিত সংক্রমণ জনস্বাস্থ্যের জন্য  একটি বড় উদ্বেগ। যৌনকর্মী, পুরুষের সঙ্গে যৌনসম্পর্কে লিপ্ত পুরুষ, ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তি এবং মাদক ইনজেকশনের মাধ্যমে গ্রহণকারীরা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। সংক্রমণ পরীক্ষা ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে গোপনীয়তা, সাশ্রয়ী ব্যয় এবং বৈষম্যহীনতা নিশ্চিত করা জরুরি।

 

বাংলাদেশে এখনো সমন্বিত জাতীয় SRHR নীতিকাঠামোর অভাব রয়েছে। বিদ্যমান নীতিমালার বিভিন্ন অংশে বিষয়গুলো ছড়িয়ে আছে। অবিবাহিত কিশোর-কিশোরীদের সেবাপ্রাপ্তিতে সীমাবদ্ধতা, মানসিক ও যৌনস্বাস্থ্যে অপর্যাপ্ত গুরুত্ব, পুরুষদের সীমিত অংশগ্রহণ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, যৌন ও জেন্ডার সংখ্যালঘু ও জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর উপযোগী সেবার ঘাটতি উল্লেখযোগ্য সমস্যা। স্কুলের জীবন-দক্ষতা ভিত্তিক শিক্ষাও সামাজিক বাধা এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের অভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

 

করণীয়: মর্যাদা ও উন্নয়নের অঙ্গীকার

বাংলাদেশের প্রয়োজন একটি সমন্বিত, অধিকারভিত্তিক SRHR নীতিকাঠামো, যা মাতৃস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, কিশোরস্বাস্থ্য, মাসিক নিয়মিতকরণ, যৌনবাহিত সংক্রমণ প্রতিরোধ, সহিংসতা মোকাবিলা ও স্বাস্থ্যশিক্ষাকে একসূত্রে যুক্ত করবে। এ জন্য পাঁচটি পদক্ষেপ জরুরি:

 

১. প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় মানসম্মত মাতৃ ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ।

২. বিদ্যালয়, পরিবার, কমিউনিটি ও নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল মাধ্যমে বয়সোপযোগী স্বাস্থ্যশিক্ষা নিশ্চিত করা।

৩. বাল্যবিবাহ ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে আইন প্রয়োগ এবং সামাজিক উদ্যোগ জোরদার করা।

৪. গর্ভনিরোধ, মাসিক নিয়মিতকরণ, গর্ভপাত-পরবর্তী চিকিৎসা ও যৌনবাহিত সংক্রমণের গোপনীয়তা-নীতিসম্মত সেবা বৈষম্য ছাড়াই নিশ্চিত করা।

৫. নীতি ও কর্মসূচি প্রণয়নে নারী, কিশোর-কিশোরী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

 

বর্তমান বাস্তবতায়- মাতৃস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, কিশোরস্বাস্থ্য, মাসিক নিয়মিতকরণ, গর্ভপাত-পরবর্তী সেবা, যৌনবাহিত সংক্রমণ প্রতিরোধ, সহিংসতা প্রতিরোধ ও শিক্ষাকে যুক্ত করে একটি সমন্বিত অধিকারভিত্তিক কাঠামো প্রয়োজন। এতে অবশ্যই সেবার মানদণ্ড, তথ্য সংগ্রহ এবং বৈষম্য বা নিম্নমানের সেবার বিরুদ্ধে অভিযোগের সুযোগ থাকতে হবে। সরকার, নাগরিক সমাজ, জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রতিষ্ঠান (UN Agencies), আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী (INGOs) ও বেসরকারি সংস্থাসংস্থাগুলোর (NGOs) সমন্বয় এবং টেকসই অর্থায়ন – এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

 

উপসংহার: মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য এখনই পদক্ষেপ জরুরি

বাংলাদেশের উন্নয়নকে শুধু জাতীয় পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার করলে চলবে না; দেখতে হবে, দরিদ্রতম নারী কিংবা সবচেয়ে প্রান্তিক মানুষটি প্রয়োজনের সময় সেবা পাচ্ছেন কি না। প্রতিরোধযোগ্য কারণে নারীর মৃত্যু এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বাল্যবিবাহ অব্যাহত রেখে টেকসই উন্নয়ন অর্জন সম্ভব নয়। প্রয়োজন শুধু আরও স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ নয়, বরং এমন সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে সঠিক তথ্য সহজলভ্য, সেবা সাশ্রয়ী, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সুরক্ষিত এবং প্রজননসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত স্বাধীনভাবে নেওয়া যায়। নারীর স্বাস্থ্য, কিশোরীর ভবিষ্যৎ ও প্রত্যেক মানুষের প্রজননস্বাধীনতা কোনো বিশেষ সুযোগ নয় – বরং এগুলো তাদের মৌলিক অধিকার এবং এটা নিশ্চিত করা সরকার সহ আমাদের সকলের দায়িত্ব।

 

লেখক: নিকোলাস বিশ্বাস একজন গণমাধ্যমকর্মী ও জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA) মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত। যোগাযোগের ইমেইল: gonomaddzam@gmail.com

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সমন্বিত প্রয়াস ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সমন্বিত প্রয়াস ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন

প্রকাশ ঘোষ বিধান

সড়ক দুর্ঘটনা বর্তমানে একটি জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন অসংখ্য প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে এবং পরিবারগুলোকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। এ জন্য কেবল চালকদের দায়ী না করে পুরো সড়ক ব্যবস্থাকে নিরাপদ করার ওপর জোর দিতে হবে। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য চালক, পথচারী, সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিশেষজ্ঞদের যৌথ অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে একটি সমন্বিত প্রয়াস এবং সুদূরপ্রসারী দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য প্রাণহানি এবং পঙ্গুত্ব বরণের ঘটনা শুধু ব্যক্তি বা পরিবারের বিপর্যয় নয়, বরং এটি জাতীয় অর্থনীতির জন্যও একটি বড় ধাক্কা। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য কোনো একক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়; বরং সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, পরিবহন মালিক-শ্রমিক এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে যে সকল সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। লক্কড়ঝক্কড় ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে এবং নিয়মিত যানের পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। ট্রাফিক আইন অমান্যকারী, বেপরোয়া চালক এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা। রাস্তায় চলাচলকারী প্রতিটি যানবাহনের নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা নিশ্চিত করা এবং লাইসেন্সবিহীন বা ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা। চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, আধুনিক এবং দুর্নীতিমুক্ত করা। গতিসীমা মানা, সিটবেল্ট ও হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং মদ্যপান বা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানো রোধে আইন প্রয়োগ জোরদার করতে হবে।

সড়কে পর্যাপ্ত আলো, স্পষ্ট সাইনবোর্ড, জেব্রাক্রসিং এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সড়ক ও বাঁক নির্মাণ করতে হবে। নগর পরিকল্পনা ও গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করতে হবে যাতে অতিরিক্ত ঝুঁকি কমে। মহাসড়কের বিপজ্জনক মোড় বা ব্ল্যাক স্পট চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কার করা এবং লেন বিভাজক (ডিভাইডার) স্থাপন করা। পথচারীদের নিরাপদ পারাপারের জন্য পর্যাপ্ত ফুটওভার ব্রিজ, আন্ডারপাস এবং জেব্রা ক্রসিং তৈরি ও তা ব্যবহারে বাধ্য করা। দূরপাল্লার মহাসড়কগুলোতে ধীরগতির যানবাহন রিকশা, ভ্যান, নসিমন জন্য আলাদা সার্ভিসের লেনের ব্যবস্থা করা।

মহাসড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ এবং বেপরোয়া ড্রাইভিং স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করতে আইটিএস বা ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম চালু করা দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত কার্যকর। গণপরিবহনে জিপিএস ট্র্যাকিং সিস্টেম বাধ্যতামূলক করা উচিত। চালকদের জন্য নিয়মিত পেশাদার প্রশিক্ষণ এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করা। চালকদের নিয়মিত চোখের পরীক্ষা করা জরুরি। দূরপাল্লার চালকদের একটানা অতিরিক্ত সময় গাড়ি চালানো নিষিদ্ধ করা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ দেওয়া জন্য মহাসড়কে বিশ্রামাগার তৈরি প্রয়োজন।

দুর্ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত রোগী স্থানান্তরের জন্য ডেডিকেটেড অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু রাখতে হবে। সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসা বিনা প্রশ্নে দেওয়া আইনিভাবে বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন।

বিদ্যালয় পর্যায় থেকেই শিশুদের ট্রাফিক নিয়ম ও সড়ক সচেতনতা বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া। টেলিভিশন, সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা। সাধারণ মানুষের মধ্যে ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে কেবল একটি নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নয়, বরং সরকার, চালক, যাত্রী এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত প্রয়াস প্রয়োজন।

সড়ক নিরাপত্তা কোনো একক সংস্থার দায়িত্ব নয়। পরিবহন মালিক, শ্রমিক, যাত্রী এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের সমন্বয়ে একটি টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলেই কেবল সড়ক দুর্ঘটনা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা সম্ভব। জাতিসংঘের দ্বিতীয় দশক কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২১-২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন। সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ এটি একক কোনো কর্তৃপক্ষ বা নিয়মের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব নয়।

বিশ্বব্যাপী সড়ক দুর্ঘটনা ও নিহতের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য অর্জনে একটি সুনির্দিষ্ট, কাঠামোগত এবং দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে একটি সমন্বিত উদ্যোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ কেবল বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে সড়কে স্থায়ী শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা অসম্ভব।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সমন্বিত প্রয়াস ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা একটি নিরাপদ ও আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য অপরিহার্য। সড়ক দুর্ঘটনা কেবল অসংখ্য মূল্যবান প্রাণ কেড়ে নেয় না, বরং এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতাকেও মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। তাই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সব অংশীজনদের একত্রে কাজ করা এবং একটি সুনির্দিষ্ট কৌশলগত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট