শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আমাদী ইউনিয়নের হরিনগরে গ্রামবাসির সাথে মত বিনিময় করেছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী জুবায়ের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
আমাদী ইউনিয়নের হরিনগরে গ্রামবাসির সাথে মত বিনিময় করেছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী জুবায়ের

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রার ১ নং আমাদী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড হরিনগর গ্রামবাসির সাথে এক মত বিনিময় করেছেন আমাদি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সাবেক ছাএনেতা মোঃ জুবায়ের রহমান। শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে হরিনগর গ্রামবাসীর সাথে তিনি মতবিনিময় করেন।

এসময় তিনি বলেন, এলাকায় রাস্তা-ঘাটের বেহাল দশা, সুপেয় পানির সংকট ও শিক্ষা-স্বাস্থ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

গ্রামবাসিরা বলেন, গ্রামের কাঁচা রাস্তাগুলো বর্ষায় চলাচলের অনুপযোগী। বিশুদ্ধ পানির জন্য গভীর নলকূপ বাড়ানো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।

 

Ads small one

সাতক্ষীরায় সাংবাদিকতার সংকট ও সম্ভাবনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১১:১২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় সাংবাদিকতার সংকট ও সম্ভাবনা

আব্দুর রহমান

সাংবাদিকতা আমার কাছে কোনো আকস্মিক পেশা নয়; এটি দীর্ঘ লেখালেখির চর্চা ও সমাজ-মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার একটি স্বাভাবিক পরিণতি। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে “মাসিক সাহিত্যপাতা” (sahityapata.com) নামে একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকার প্রকাশনার মধ্য দিয়ে আমার লেখালেখির পথচলা শুরু।

 

সাহিত্যচর্চার সূত্র ধরেই বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে পরিচয়, সংবাদ লেখার প্রতি আগ্রহ এবং ধীরে ধীরে সংবাদ জগতের সঙ্গে সম্পৃক্ততা তৈরি হয়। এরপর ২০০৯ সালে দৈনিক কাফেলা পত্রিকায় সাংবাদিকতা জীবনের আনুষ্ঠানিক সূচনা। দীর্ঘ এই পথচলায় কাজ করেছি দৈনিক পত্রদূত, দৈনিক কালের চিত্র, দৈনিক সাতঘরিয়া, দৈনিক সাতনদী, দৈনিক দক্ষিণের মশালসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে। বর্তমানে দৈনিক আলোর পরশ পত্রিকায় সহকারী বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।

 

পাশাপাশি জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও কাজ করার সুযোগ হয়েছে। ছোটবেলা থেকেই সাতক্ষীরা আহ্ছানিয়া মিশনের পরিবেশে বেড়ে ওঠার কারণে সমাজ, মানুষ ও জনকল্যাণের প্রতি এক ধরনের দায়বদ্ধতা তৈরি হয়েছিল। সেই দায়বদ্ধতাই আমাকে সাংবাদিকতার পথে নিয়ে এসেছে। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর এবং সাতক্ষীরা আলিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে হাদিসে কামিল সম্পন্ন করার পরও আমি অন্য কোনো পেশার দিকে ঝুঁকিনি।

 

কারণ সাংবাদিকতাকে আমি কখনো শখ হিসেবে দেখিনি; এটিই আমার একমাত্র পেশা এবং জীবনের বড় অংশজুড়ে থাকা একটি দায়িত্ব। প্রায় দুই দশকের কাছাকাছি সময় ধরে সাংবাদিকতার নানা পরিবর্তন কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। দেখেছি সংবাদপত্রের স্বর্ণালী সময়, দেখেছি অনলাইন সাংবাদিকতার উত্থান, আবার দেখেছি সাংবাদিকতার নামে নানা অপসংস্কৃতির বিস্তার। আজ যখন পেছনে তাকাই, তখন মনে হয় সাতক্ষীরায় প্রকৃত সাংবাদিকতা যেন ক্রমেই সোনার হরিণে পরিণত হচ্ছে।

 

একসময় একটি সংবাদ প্রকাশের আগে দিনের পর দিন তথ্য সংগ্রহ করা হতো। সংবাদে একটি ভুল শব্দও সম্পাদকরা সহ্য করতেন না। সংবাদকর্মীরা নিজেদের পরিচয়ের চেয়ে কাজকে বড় মনে করতেন। কিন্তু প্রযুক্তির এই যুগে সংবাদ পরিবেশনের গতি যত বেড়েছে, অনেক ক্ষেত্রে ততই কমেছে তথ্য যাচাইয়ের গভীরতা ও পেশাগত দায়বদ্ধতা। বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলায় জাতীয়, স্থানীয়, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক অসংখ্য গণমাধ্যম সক্রিয়। সাংবাদিক পরিচয়ধারীর সংখ্যাও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

 

তবে, প্রশ্ন হলো- এই বিপুল সংখ্যার মধ্যে কতজন সাংবাদিকতাকে প্রকৃত পেশা হিসেবে নিয়েছেন? কতজন নিয়মিত মাঠে গিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করেন? কতজন একটি সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই করেন? প্রশ্নগুলোর উত্তর খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। সাতক্ষীরার বাস্তবতায় সাংবাদিকতা কখনোই সহজ কাজ নয়। সুন্দরবন, সীমান্ত, উপকূলীয় দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তন, চিংড়ি শিল্প, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভূমিদস্যুতা, মাদক এবং স্থানীয় রাজনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কাজ করতে হয়।

 

অনেক সময় ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়েও সংবাদ সংগ্রহ করতে হয়। অথচ জেলার অধিকাংশ সাংবাদিকের আর্থিক নিরাপত্তা এখনও অনিশ্চিত। অনেকেই নির্দিষ্ট বেতন ছাড়াই কাজ করছেন। সংবাদ সংগ্রহের খরচ, যাতায়াত, ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যয় নিজেরাই বহন করছেন। ফলে অনেক মেধাবী তরুণ সাংবাদিকতা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এর পাশাপাশি উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে অপেশাদার ও হলুদ সাংবাদিকতার চর্চা। কিছু ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয়কে জনস্বার্থের পরিবর্তে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করছেন।

 

কোথাও প্রভাব বিস্তার, কোথাও তদবির, কোথাও আবার ব্যক্তিগত বিরোধ নিষ্পত্তির হাতিয়ার হিসেবে সাংবাদিক পরিচয়ের অপব্যবহার হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের কাছে পুরো সাংবাদিক সমাজই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক সময়ে সাতক্ষীরার গণমাধ্যম অঙ্গনে এমন দৃশ্যও দেখা যাচ্ছে, যেখানে এক সম্পাদক আরেক সম্পাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করছেন, পাল্টা জবাব প্রকাশ হচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য।

 

এসব ঘটনা সাধারণ মানুষের সামনে সাংবাদিক সমাজের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি ও দ্বন্দ্বকে উন্মোচিত করছে। ফলে সাংবাদিকতার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থাও কমছে। একজন সাধারণ পাঠক যখন প্রতিদিন সাংবাদিকদের নিজেদের মধ্যকার কাদা ছোড়াছুড়ি দেখতে পান, তখন স্বাভাবিকভাবেই তার মনে প্রশ্ন জাগে- যারা সমাজের অন্যদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা বলেন, তারা নিজেরা কতটা জবাবদিহির মধ্যে আছেন? বাস্তবতা হলো, সাংবাদিকতা প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার অস্ত্র নয়; এটি জনস্বার্থ রক্ষার একটি দায়িত্বশীল মাধ্যম।

 

কোনো অভিযোগ থাকলে তা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা যেতে পারে। কিন্তু সাংবাদিকতাকে ব্যক্তিগত বিরোধের মঞ্চে পরিণত করা হলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো পেশা। আরেকটি বড় সংকট হলো পারস্পরিক মূল্যায়নের অভাব। একজনের ভালো কাজের প্রশংসা করার পরিবর্তে তাকে ছোট করার প্রবণতা বাড়ছে। বিভাজন, গ্রুপিং এবং ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা পেশার জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠছে। অথচ সত্য ও জনস্বার্থই হওয়া উচিত সাংবাদিকদের অভিন্ন লক্ষ্য।

 

আমার নিজের জীবনেও রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রভাব দেখেছি। কোনো সময় আমাকে রাজনৈতিক পরিচয়ে চিহ্নিত করার চেষ্টা হয়েছে, মিথ্যা ও মানহানিকর সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, একজন সাংবাদিকের প্রকৃত পরিচয় তার রাজনৈতিক অবস্থান নয়; তার পরিচয় তার লেখা, তার অনুসন্ধান, তার সততা এবং জনস্বার্থে কাজ করার দায়বদ্ধতা। রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলাতে পারে, সরকার পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু সাংবাদিকতার মূল দায়িত্ব কখনো পরিবর্তন হয় না।

 

এই অবস্থার পরিবর্তনে প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ। সরকারের উচিত প্রকৃত সংবাদকর্মীদের একটি নির্ভরযোগ্য জাতীয় ডাটাবেজ তৈরি করা। তথ্য অধিদপ্তর, প্রেস ইনস্টিটিউট এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে আধুনিক অনলাইন নিবন্ধন ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে। শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মঅভিজ্ঞতা, নিয়োগপত্র ও প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়ন যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত সংবাদকর্মীদের তালিকাভুক্ত করা হলে সাংবাদিক পরিচয়ের অপব্যবহার অনেকাংশে কমবে।

 

একই সঙ্গে সাংবাদিকদের জন্য প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা, বীমা সুবিধা এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করাও জরুরি। তবে সব সংকটের মাঝেও আশার জায়গা রয়েছে। সাতক্ষীরার সাংবাদিকতার ইতিহাস গৌরবময়। এ জেলার অনেক সাংবাদিক জাতীয় পর্যায়ে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। এখনও অনেক তরুণ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সাংবাদিকতায় যুক্ত হচ্ছেন। সুন্দরবন, উপকূলীয় জীবন, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি, মৎস্যসম্পদ, সাহিত্য-সংস্কৃতি এবং সীমান্ত অঞ্চলের বাস্তবতা নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের সাংবাদিকতা করার অপার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

সাংবাদিকতার শক্তি বিভক্তিতে নয়, ঐক্যে; ব্যক্তি স্বার্থে নয়, জনস্বার্থে; পরিচয়ে নয়, পেশাদারিত্বে। নতুন প্রজন্ম যদি সাংবাদিকতাকে প্রভাবের মাধ্যম নয়, দায়িত্বের জায়গা হিসেবে গ্রহণ করে, তাহলে সাতক্ষীরার সাংবাদিকতা আবারও তার হারানো গৌরব ফিরে পেতে পারে। সংবাদমাধ্যমের সংখ্যা বাড়লেই সাংবাদিকতার উন্নয়ন হয় না। সাংবাদিক পরিচয়পত্রের সংখ্যা বাড়লেই গণমাধ্যম শক্তিশালী হয় না।

 

শক্তিশালী হয় তখনই, যখন সত্য বলার সাহসী মানুষ তৈরি হয়; যখন একজন সংবাদকর্মী নির্ভয়ে কলম ধরতে পারেন; যখন সমাজ তাকে সম্মান দেয় এবং রাষ্ট্র তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। সাতক্ষীরার বাস্তবতায় আজ সেই জায়গাটিই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। অন্যথায় সাংবাদিকের সংখ্যা হয়তো আরও বাড়বে, কিন্তু প্রকৃত সাংবাদিকতা আমাদের চোখের সামনেই সোনার হরিণ হয়েই থেকে যাবে।

লেখক: সহকারী বার্তা সম্পাদক, দৈনিক আলোর পরশ

 

সাতক্ষীরার মানুষ কি শুধু ভোট দেবে, নাকি উন্নয়নের হিসাবও চাইবে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১১:০৪ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার মানুষ কি শুধু ভোট দেবে, নাকি উন্নয়নের হিসাবও চাইবে?

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

স্বাধীনতার পর থেকে সাতক্ষীরার মানুষ বিভিন্ন সময়ে তাদের পছন্দের রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের ওপর আস্থা রেখে ভোট দিয়েছে। জনগণের সেই আস্থার প্রতিফলন হিসেবে বহুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন জেলার বিভিন্ন আসনের জনপ্রতিনিধিরা। কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আজও জনমনে ঘুরপাক খায়-সাতক্ষীরা এর বিনিময়ে কতটা কাক্সিক্ষত উন্নয়ন পেয়েছে?

একজন সংসদ সদস্যের প্রধান দায়িত্ব শুধু নির্বাচিত হওয়া নয়; বরং সংসদে নিজ এলাকার মানুষের দাবি, সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলো জোরালোভাবে তুলে ধরা। অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিল্পায়নের মতো মৌলিক বিষয়গুলোতে কার্যকর ভূমিকা রাখাই জনগণের প্রত্যাশা।

বর্তমানে সাতক্ষীরার চারটি আসনেই একই রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্য থাকা সত্ত্বেও জেলার বহু গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প, বিশেষ করে রেলপথ ও যোগাযোগ অবকাঠামোর ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দৃশ্যমান নয় বলে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত সাতক্ষীরা রেলপথ প্রকল্প এখনও বাস্তবায়নের অপেক্ষায়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটেও এ প্রকল্পে দৃশ্যমান অগ্রগতি বা গুরুত্বের প্রতিফলন না পাওয়ায় জেলার মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। একইভাবে জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবকাঠামো, শিল্প স্থাপন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে বড় ব্যবধান রয়ে গেছে।

জনগণ জানতে চায়-তাদের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদে ও সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সাতক্ষীরার দাবিগুলো কতটা গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করেছেন। কেন আজও রেলপথ বাস্তবায়ন অনিশ্চিত? কেন জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোচ্ছে না? এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া জনগণের অধিকার।
গণতন্ত্রে ভোট শুধু ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যম নয়; এটি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অন্যতম শক্তিশালী উপায়। তাই দলীয় আবেগ বা পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এখন সময় এসেছে উন্নয়নের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এবং জনপ্রতিনিধিদের কাছে বাস্তব অগ্রগতির হিসাব চাওয়ার।

সাতক্ষীরার মানুষ কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরোধিতা নয়, বরং জেলার সার্বিক উন্নয়ন দেখতে চায়। তারা চায় আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, কার্যকর রেলসংযোগ, উন্নত সড়ক, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং একটি সম্ভাবনাময় সমৃদ্ধ সাতক্ষীরা।

সাতক্ষীরার মানুষের ভোটের মূল্য আছে। সেই ভোটের যথাযথ মর্যাদা দিতে হলে উন্নয়ন ও জবাবদিহিতা—দুটিই নিশ্চিত করতে হবে। লেখক: কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ

 

শিশুশ্রম: সামাজিক ব্যাধি না-কি পারিবারিক আর্থিক সংকটের প্রতিফলন?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১১:০১ অপরাহ্ণ
শিশুশ্রম: সামাজিক ব্যাধি না-কি পারিবারিক আর্থিক সংকটের প্রতিফলন?

সাকিবুর রহমান বাবলা

১২ জুন, আন্তর্জাতিক শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস। পৃথিবীর প্রতিটি শিশুর মেধা ও শারীরিক বিকাশের জন্য হাতে বই-খাতা, রঙ-তুলি কিংবা খেলনা থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবতার কঠিন চাপে অনেক শিশুর হাতেই আজ কাজের সরঞ্জাম। প্রশ্ন হলো-শিশুশ্রম কি শুধুই একটি সামাজিক সমস্যা, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে পারিবারিক আর্থিক সংকটের নির্মম বাস্তবতা?

আর্থিক দারিদ্র্য, বিনামূল্যে মানসম্মত শিক্ষার অভাব, পারিবারিক সচেতনতার ঘাটতি এবং সামাজিক নিরাপত্তার সীমাবদ্ধতা শিশুশ্রমের প্রধান কারণ। সাতক্ষীরার মতো উপকূলীয় জেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা, ভারত সীমান্তবর্তী অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান এবং নি¤œ আয়ের কারণে অনেক পরিবার সন্তানদের শ্রমে যুক্ত করতে বাধ্য হয়। অন্যদিকে, স্বল্প খরচে শ্রম পাওয়ার সুযোগ থাকায় মালিকপক্ষও শিশুদের কাজে আগ্রহী হয়। ফলে শিশুরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়িয়ে পড়ে, যা তাদের শারীরিক গঠন ও মৌলিক শিক্ষার ভবিষ্যৎকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

শিশুশ্রম নিরোধে কেবল আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন পরিবারগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং ঝরে পড়া শিশুদের পুনরায় শিক্ষার মূলধারায় ফিরিয়ে আনা। একই সঙ্গে, দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ও আয়বর্ধক কর্মসূচি নিশ্চিত করা জরুরি।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো শিশুবান্ধব শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করা, যুগোপযোগী ও সম্প্রসারিত শ্রম আইন প্রণয়ন, সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত জীবন বিকাশের পরিবেশ গড়ে তোলা। পাশাপাশি, সুশীল সমাজের দায়িত্ব হলো শিশুশ্রমকে স্বাভাবিক হিসেবে না দেখা, শিশু অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং প্রতিটি শিশুর মেধা বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা।

শিশু কোনো শ্রমিক নয়; তারা এক একটি সম্ভাবনা, একটি স্বপ্ন, আগামীর আলোকিত ভবিষ্যৎ এবং দেশ গড়ার কারিগর। তাই শিশুশ্রমমুক্ত সাতক্ষীরা জেলা তথা শিশুবান্ধব বাংলাদেশ গড়তে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।