আশাশুনিতে চাল বিতরণ নিয়ে হট্টগোল: পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার দরগাহপুর ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে ডিলার ও এক নারী কার্ডধারীর মধ্যে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী ‘যার কার্ড তাকেই চাল’ দেওয়ার নীতি মানতে চাওয়ায় ওই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট ডিলার। তবে ভুক্তভোগী ওই নারী ডিলারের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও মারধরের পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন। রবিবার (১২ এপ্রিল) উপজেলার কালাবাগী বাজারে চাল বিতরণ কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে।
ডিলার হাবিবুর রহমান জানান, তাঁর অধীনে ৬০২ জন কার্ডধারী রয়েছেন। গতকাল চাল বিতরণ চলাকালীন ঝর্না খাতুন নামের এক নারী নিজের কার্ডসহ আরও ৫-৭টি কার্ড নিয়ে একসঙ্গে সব চাল দাবি করেন। ডিলার তখন নিজেরসহ মা ও ভাইপোর চাল দিলেও বাকিদের ক্ষেত্রে কার্ডধারীদের উপস্থিতির কথা বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ঝর্না খাতুন চিল চিৎকার ও অশালীন ভাষা ব্যবহার শুরু করেন। একপর্যায়ে বিতরণে বিঘœ ঘটলে তাঁকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়। ডিলারের দাবি, কোনো মারধর বা শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেনি; বরং চাল না পেয়ে বিষয়টি ভিন্ন খাতে নিতে অসত্য অভিযোগ করা হচ্ছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ঝর্না খাতুন দাবি করেছেন, ডিলার তাঁকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছিলেন। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাঁকে মারধর ও জখম করা হয়েছে। ইতিপূর্বেও ওই ডিলার তাঁকে উত্ত্যক্ত করেছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী সজল গাইন ও খালেক মোড়ল জানান, শত শত মানুষের সামনে ওই নারী রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে একাধিক বস্তা চাল নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। সেখানে মারধর বা রক্তারক্তির কোনো আলামত তাঁরা দেখেননি। স্থানীয় চা-দোকানি মাবিয়া খাতুনও জানান, তিনি ওই নারীকে উত্তেজিত অবস্থায় জুতা হাতে নিয়ে গালিগালাজ করতে দেখেছেন, তবে কোনো জখম বা আঘাতের চিহ্ন তাঁর চোখে পড়েনি।
দরগাহপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল মজিদ জোয়ার্দ্দার বলেন, “ঝর্না খাতুন চারজনের চাল একাই নিতে চেয়েছিলেন। ডিলার নিয়ম মানতে বলায় ঝগড়া বাধে। জনসমক্ষে কথা-কাটাকাটি ও তাঁকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু মারধর বা কুপ্রস্তাবের অভিযোগ ভিত্তিহীন।”
এ বিষয়ে দরগাহপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মিরাজ আলী বলেন, ঘটনার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না। তবে পরে শুনেছেন যে চাল দেওয়া নিয়ে ডিলারের সঙ্গে ওই নারীর কথা-কাটাকাটি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও ট্যাগ অফিসারকে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।












