সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বৈশাখ অতীত ও স্মৃতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
বৈশাখ অতীত ও স্মৃতি

তাজ ইসলাম
আজ থেকে ৩০/৩২ বছর আগে নিজের গ্রামেই কাটত পহেলা বৈশাখ। পহেলা বৈশাখে এখনকার মতো পান্তা ভাত, ইলিশ, বৈশাখী জামার স্মৃতি মনে পড়ে না। হালখাতার স্মৃতি মনে পড়ে। চার পাঁচ গ্রামে বৈশাখী মেলার কথাও মনে পড়ে না। জুগি নামে মদন গুনধরের একজন হিন্দু লোক ছিল। হাটবারে চুনের ব্যবসা করতেন। সম্ভবত আমরা চারআনা, আটআনার চুন কিনে আনতাম। গ্রামে কারও হাম, বসন্ত রোগ হলে এই জুগিকে নিয়ে আসা হত। ভাঙা সাইকেলে চড়ে তিনি বাড়িতে এসে ঝাড় ফুঁক দিয়ে যেতেন। হাম বসন্তে দু-তিন গ্রামে তার ফুঁক ছিল সবার পরিচিত। মুখে আদা চিবিয়ে নিজের মন্ত্র আওড়িয়ে রোগীর শরীরে ফুঁ দিয়ে ছড়িয়ে দিতেন। পহেলা বৈশাখে জুগি হালখাতা করতেন। ঝাড়ফুঁক দিলে যে যা দিতেম নিয়ে নিতেন। বৈশাখের আগে ঘরে ঘরে হালখাতার কার্ড পৌছে দিতেন। রোগীরা তার দাওয়াত কবুল করতেন। এমন এক বৈশাখে বাবার সাথে জুগি বাড়িতে হালখাতা খেতে গিয়েছিলাম। লাল চা আর টুস্ট বিস্কুট খেয়ে আসার স্মৃতি আছে। ঘোড়ার পিঠে শাড়ি পরা নারী মূর্তি তখনই প্রথম দেখা। তখনও বারুক বাজার ব্রীজ হয়নি। নৌকা দিয়ে পারাপার হতে হত। বৈশাখে অবশ্য বারুক বাজার খাল শুকিয়ে পায়ে হাটার রাস্তা হয়ে থাকত। দু পাড় মনে হত পাহাড়ের মত খাড়া।বর্ষাকালে শুকনো খাল নদীর রূপ ধারণ করত। পারাপারের নির্ধারিত মাঝি থাকত। সারাবছর আশপাশের গ্রামের লোকদের বিনা পয়সায় তারা খাল পার করত। আমরা শৈশবে দেখেছি রতন খলিফার পরিবার ছিল এই দায়িত্বে।
মধ্য বৈশাখে প্রত্যেক ঘর থেকে তারা ধান নিয়ে আসত খাল পারাপারের পারিশ্রমিক হিসেবে।
বৈশাখে কয়েক গ্রামে মেলার কথা মনে পড়ে না। জয়কা, কান্দাইল, খোঁজারগাও, গুনধর, উরদিঘি, মদন, খয়রত এসব গ্রামে বৈশাখে বৈশাখী মেলা হওয়ার কোন স্মৃতি মনে পড়ে না। উল্লেখিত গ্রামগুলোতে তখন প্রচুর পরিমাণে মেলা বা বান্নি হত। এই মেলা/বান্নিগুলো মাঘ,ফালগুন,চৈত্রের প্রথম সপ্তাহে শেষ হয়ে যেত। প্রায় প্রতি সপ্তাহে অল্প দূরে একটি বান্নি হত। আমরা সেসব বান্নিতে যেতাম। চৈত্র ও কার্তিক মাস ছিল কৃষি নির্ভর এলাকাগুলোতে আকালের সময়। কার্তিকের পরে অগ্রহায়ণ, চৈত্রের পরে বৈশাখে নতুন ধানে কৃষকের আকাল কমে যেত। কোন কোন সম্ভ্রান্ত কৃষকও এই সময় সংকটে পড়ে যেত। নতুন ফসলের আশায় সঞ্চিত ফসল বিক্রি করে এই সমস্যায় পড়ত। চৈত্র মাসের আকালে নাকাল হয়ে যেত অনেক পরিবার। কোন কোন কৃষক একটা জমিতে আগে কাটা যায় এমন ধান লাগাত। বগুড়া ধান নামে কালো এক জাতের ধান ছিল। এটি ফলন কম হলেও আগে আগে কাটা যেত। এক কৃষকের ধান কাটা হলে তিনি সে ধান ঘরে তুলতে পারতেন না। চাচাতো, জেঠাতো, পাড়াপড়শিরা ১০ সের,কুড়ি সের, একমণ করে হাওলাত নিয়ে যেত। সাত দিন, দশ দিনের মধ্যেই অন্যদের ধান কাটার উপযুক্ত হত। তখন ঘরে ঘরে আনন্দ বয়ে যেত। নতুন ধানের পয়লা চালের ক্ষির বৈশাখের শুক্রবারে মসজিদে মসজিদে পৌছে যেত। একদিনে কোন কোন শুক্রবারে আট দশ জনের ক্ষির পৌছত। লাল চিনির ক্ষির আমরা কলাপাতায় বাড়িতে নিয়ে আসতাম। ছোট ভাই বোনেরা শুক্রবারে ক্ষিরের অপেক্ষায় থাকত।
নতুন চালের প্রথম ভাত কলাপাতায় তিন রাস্তার মোড়ে, গোরস্থানে মা চাচীরা দিয়ে আসত। পরবর্তীতে এই সংস্কৃতি আমাদের কৈশোর পাড় হতে হতেই উদাও হয়ে গেছে।
বিষু আরবিষু নামে একটা দিন ছিল।এটা বৈশাখে না চৈত্রের শেষ দিন মনে নাই। এই দিন মা চাচীরা নানারকম লতাপাতার রসের মিশ্রণ তৈরী করতেন। ছোটদের জোর করে খাওয়াতেন। সে কী তিতা! এখনো মুখে লেগে আছে যেন।
বৈশাখে স্পেশাল কোন খাবার তৈরী না হলেও রেওয়াজ ছিল বছরের পয়লা দিন। এই দিন ভাল মন্দ খেলে সারাবছর ভাল যাবে। আমার মনে আছে বৈশাখ মাস শুরু হওয়ার আগে আমার মা আম খেতেন না। প্রথম পুতের মা পয়লা বৈশাখ না আসলে মা কাচা আম খেতেন না।আমার স্ত্রীকেও খাওয়ানো যায় না। মায়েদের আশঙ্কা পয়লা বৈশাখের আগে আম প্রথম পুতের মা আম খেলে পুত্রের অমঙ্গল হয়। এই খানে কোন যুক্তি তর্ক বুদ্ধি জ্ঞান দিয়ে আগাতে পারবেন না। এটা মাতৃত্বের দরদ। শর্তহীন মমতা।
পয়লা বৈশাখে আমার মা এক টুকরো কাঁচা আম মুখে দিতেন। মায়ের সামনে কত আম আমি আমরা খেতাম। মা মুখে নিতেন না। পয়লা বৈশাখের এই বিষয়টি আমাকে দারুণভাবে আলোড়িত করে। আমি চিচকাঁদোনে মানুষ বলেই কি না কে জানে মায়ের এমন ছোট বড় অনেক স্মৃতিতে আমি নীরবে কাঁদি। আহ মা! আর কত শত ত্যাগের বিনিময়ে বেড়ে ওঠা আমার জীবন। পয়লা বৈশাখের যাবতীয় স্মৃতি থেকে এই স্মৃতিটাই সবচেয়ে বড়, আমার কাছে। তখন টিভি, মোবাইল ছিল না। আজকের শহুরে সংস্কৃতি আস্তে আস্তে গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে। এখন মেলাও হয়তো হয়। মেলা না হলেও শহরের আরোপিত প্রায় সব বিষয়ই গ্রামে সংক্রমিত। বৈশাখী শাড়ি, বৈশাখী জামা, পান্তাভাত পালন না করলেও গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কিশোর কিশোরী জানে। তারা উদযাপন করতেও চেষ্টা করে। সাংস্কৃতিক আয়োজনও বৃদ্ধি পেয়েছে। চৈত্রের শেষ দিন বৈশাখের শুরুর দিন উৎসবমুখর ছিল ফসলের আগমনে।নতুন ফসল আরও স্পষ্ট করে বলতে নতুন ধান উঠোনে আসার আনন্দে।
এরপর পুরো বৈশাখ ধান কাটা, মাড়াই করার রোদে পোড়া, বৃষ্টিতে ভেজা, বর্ষার নতুন পানির সাথে দ্রুত গতীতে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার আনন্দ। জমি থেকে ধান উঠোনে, উঠোন থেকে গোলায় তোলার সংগ্রামমুখর আনন্দ। শহরের বৈশাখ আর গ্রামের বৈশাখে এখনও বহুত ফারাক। শহরে বৈশাখ আসে একদিন।গ্রামে বৈশাখ থাকে এক মাস। এই আনন্দ হালাল করে কৃষক, শ্রমিক, নারী, পুরুষ, শ্রমে ঘামে। তারা ধান গোলায় তুলে। শহরের মানুষ সারাবছর তা ভোগ করে। এই লেখাটা কেন লেখলাম? আমার অবস্থান থেকে আমার ফেলে আসা বৈশাখকে ২০২৬ এ হাজির করার উদ্দেশ্যে। ৩০/৩২ বছর আগে আমার মতো একজন অতিসাধারণ মানুষের অজপাড়া গাঁয়ে বৈশাখ ছিল ঠিক এমনই।
স্বাগতম বাংলা নববর্ষ।

Ads small one

তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা ও ফ্যাক্ট-চেকিং শীর্ষক সেমিনার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৩:৪৫ অপরাহ্ণ
তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা ও ফ্যাক্ট-চেকিং শীর্ষক সেমিনার

খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিস পিআইডি’র আয়োজনে ‘তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা ও ফ্যাক্ট-চেকিং’ শীর্ষক দিনব্যাপী সেমিনার আজ (সোমবার) চুয়াডাঙ্গা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।

সেমিনারে প্রধান অতিথি বলেন, আমরা তথ্য ভান্ডারের মধ্যে বসবাস করছি, যেখানে সব তথ্যের সত্যতা খালি চোখে যাচাই করা সম্ভব নয়। প্রত্যেক নাগরিক বুঝে হোক না বুঝে হোক প্রতিনিয়ত তথ্য শেয়ার করছেন। এতে অপতথ্যের অনিয়ন্ত্রিত ছড়াছড়ি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বত্র বৃদ্ধি পাচ্ছে। গুণগত শিক্ষার মতো গুণগত সংবাদ পরিবেশনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফ্যাক্ট চেকিং রাজনৈতিক নেতা, সরকারি দপ্তর ও সাংবাদিকদের কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। ফলস্বরূপ প্রত্যেক ঘটনার গ্রহণযোগ্যতা যেমন বৃদ্ধি পায় তেমনি জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত হয়। তিনি সাংবাদিকদের কোন প্রতিবেদন তৈরির পূর্বে গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে এবং সত্য প্রকাশে অবিচল থাকতে অনুরোধ করেন। আঞ্চলিক তথ্য অফিস খুলনার আয়োজনে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা ও ফ্যাক্ট চেকিং সেমিনারটি অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের সিনিয়র তথ্য অফিসার মো: মেহেদী হাসান। মূলপ্রবন্ধে অপতথ্যরোধে ফ্যাক্ট চেকিং এর গুরুত্ব তুলে ধরা এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় টুলস সম্পর্কে ধারনা দেয়া হয়।

খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার এ এস এম কবীরের সভাপতিত্বে সেমিনারে চুয়াডাঙ্গা জেলা তথ্য অফিসার শিল্পী মন্ডল, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এ্যাড. মানিক আকবার-সহ অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীরা বক্তব্য রাখেন। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন সহকারী তথ্য অফিসার মোঃ রমজান আলী।

সেমিনারে চুয়াডাঙ্গার ৩৫ জন প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার কর্মীরা অংশ নেন। তথ্যবিবরণী

ওয়েটার তত্ত্বের দেশে ক্যারিয়ারের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৩:৩৯ অপরাহ্ণ
ওয়েটার তত্ত্বের দেশে ক্যারিয়ারের মৃত্যু

মো: মামুন হাসান

বাংলাদেশে একজন শিক্ষার্থী যদি বলে সে ডাক্তার হতে চায়, আমরা তাকে বাহবা দিই। ইঞ্জিনিয়ার হতে চাইলে গর্ব করি। বিসিএসের প্রস্তুতি নিলে আত্মীয়স্বজন পর্যন্ত তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। কিন্তু একই শিক্ষার্থী যদি বলে সে ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে পড়তে চায়, তখন অনেকের মুখে একটাই প্রশ্ন শোনা যায় “হোটেলে চাকরি করবে নাকি?”

এই প্রশ্নটি শুধু একটি প্রশ্ন নয়; এটি আমাদের সমাজের দীর্ঘদিনের অজ্ঞতা, সংকীর্ণতা এবং পেশাগত বৈষম্যের প্রতিচ্ছবি। অবাক লাগে, যে সমাজ বিদেশে গিয়ে পাঁচতারকা হোটেলের সেবা দেখে মুগ্ধ হয়, সেই সমাজ নিজের দেশে হসপিটালিটি পেশাজীবীদের সম্মান দিতে কৃপণতা করে। যে অভিভাবক সন্তানকে বিদেশে পাঠিয়ে আন্তর্জাতিক হোটেলে চাকরি পেলে গর্ব করেন, তিনিই দেশে একই বিষয়ে পড়াশোনা করতে চাইলে নিরুৎসাহিত করেন।এর চেয়ে বড় আত্মবিরোধিতা আর কী হতে পারে?

বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের অন্যতম অবহেলিত অথচ সম্ভাবনাময় শিক্ষাখাত ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট। এই অবহেলার কারণ দক্ষতার অভাব নয়, সুযোগের অভাবও নয়; মূল সমস্যা আমাদের মানসিকতায়। আমরা এখনো মনে করি সাদা অ্যাপ্রোন পরলে সম্মান আছে, টাই পরে অফিসে বসলে মর্যাদা আছে, কিন্তু অতিথি ব্যবস্থাপনা, হোটেল পরিচালনা বা পর্যটন শিল্পে কাজ করলে সম্মান কমে যায়। অথচ বিশ্বের উন্নত দেশগুলো বহু আগেই এই সংকীর্ণ চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসেছে।

সুইজারল্যান্ডের মতো দেশে হোটেল ম্যানেজমেন্ট একটি এলিট শিক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রপ্রধান, ব্যবসায়ী এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও হসপিটালিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। কারণ এই শিক্ষা মানুষকে শুধু হোটেল পরিচালনা নয়, নেতৃত্ব, যোগাযোগ, সংকট মোকাবিলা এবং মানুষকে বোঝার দক্ষতা শেখায়। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো অনেক শিক্ষার্থী আত্মীয়স্বজনের কটূক্তির ভয়ে এই বিষয়ে ভর্তি হতে সাহস পায় না। আরেকটি প্রশ্ন আমাদের বিবেককে নাড়া দেওয়া উচিত। দেশের বড় বড় পাঁচতারকা হোটেলগুলোতে বিদেশি শেফ, বিদেশি কনসালট্যান্ট, বিদেশি ম্যানেজার কেন কাজ করেন? তারা কি আমাদের চেয়ে বেশি মেধাবী? অবশ্যই নয়। তাদের বড় শক্তি হলো তারা এমন সমাজ থেকে এসেছে, যেখানে দক্ষতাকে সম্মান করা হয়। আর আমরা এখনো ডিগ্রির নাম দেখে সম্মান দিই, দক্ষতার মূল্য নয়। ফলে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাচ্ছে।

 

যে পদগুলোতে বাংলাদেশের তরুণরা কাজ করতে পারত, সেগুলোতে বিদেশিরা নিয়োগ পাচ্ছে। আমরা একদিকে বেকারত্বের অভিযোগ করছি, অন্যদিকে কর্মসংস্থানের একটি বিশাল ক্ষেত্রকে অবজ্ঞা করছি। এটা কি আত্মঘাতী নয়? আরও দুঃখজনক হলো, দেশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ থাকলেও সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ খুবই সীমিত। ক্যারিয়ার গাইডেন্সে এই খাতের আলোচনা প্রায় অনুপস্থিত। যেন এটি কোনো গুরুত্বপূর্ণ পেশাই নয়, কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ উল্টো।

বিশ্ব অর্থনীতিতে পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্প এখন অন্যতম বৃহৎ নিয়োগদাতা খাত। দুবাই, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ, থাইল্যান্ড কিংবা তুরস্কের অর্থনীতির দিকে তাকালেই বোঝা যায় কীভাবে পর্যটন ও হসপিটালিটি লাখ লাখ মানুষের জীবন বদলে দিয়েছে।

বাংলাদেশের রয়েছে কক্সবাজার, সুন্দরবন, সেন্ট মার্টিন, পাহাড়ি অঞ্চল, প্রতœতাত্ত্বিক ঐতিহ্য এবং সমৃদ্ধ সংস্কৃতি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা কি সেই সম্ভাবনা কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ তৈরি করছি? উত্তর খুব সুখকর নয়। আমরা এখনো এমন এক সমাজে বাস করি, যেখানে অনেক মানুষ মনে করেন হোটেল ম্যানেজমেন্ট মানে ট্রে হাতে অতিথির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা। অথচ তারা জানেন না, সেই হোটেলের ব্যবস্থাপক শত কোটি টাকার সম্পদ পরিচালনা করেন, শত শত কর্মীর নেতৃত্ব দেন এবং একটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সুনাম রক্ষার দায়িত্ব পালন করেন। সমস্যা আসলে পেশার নয়; সমস্যা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির।

আমরা সন্তানদের শেখাই “মানুষ কী বলবে”। কিন্তু শেখাই না “তুমি কী হতে চাও”। আমরা মর্যাদা খুঁজি পেশার নামে, দক্ষতায় নয়। ফলাফল হলো, অনেক তরুণ নিজের আগ্রহের জায়গা ছেড়ে সামাজিক চাপের কাছে হার মানে। কেউ হয়তো ভালো হসপিটালিটি ম্যানেজার হতে পারত, কেউ আন্তর্জাতিক মানের শেফ, কেউ পর্যটন উদ্যোক্তা। কিন্তু সমাজের ভ্রুকুটির কারণে তারা অন্য পথে চলে যায়।

বাংলাদেশ যদি সত্যিই দক্ষতা নির্ভর অর্থনীতি গড়তে চায়, তাহলে এই মানসিকতা বদলাতেই হবে। আজ প্রয়োজন একটি সামাজিক আন্দোলনের। এমন একটি আন্দোলন, যা বলবে সব পেশার মর্যাদা সমান নয়, কিন্তু সব সম্মানজনক পেশার মর্যাদা থাকা উচিত। আর হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট নিঃসন্দেহে একটি সম্মানজনক, আধুনিক এবং আন্তর্জাতিক পেশা।

প্রশ্ন একটাই আর কতদিন আমরা অজ্ঞতার কারণে একটি সম্ভাবনাময় খাতকে অবহেলা করব? আর কতদিন আমরা বিদেশি দক্ষ জনবল আমদানি করব, অথচ নিজের দেশের তরুণদের স্বপ্নকে তুচ্ছজ্ঞান করব? আর কতদিন আমরা পেশাকে নয়, পেশার নামকে সম্মান দেব? সম্ভবত সময় এসেছে আয়নায় নিজেদের দেখার। কারণ হোটেল ম্যানেজমেন্টের সংকট আসলে এই খাতের নয়; সংকট আমাদের সামাজিক মানসিকতার। আর এই মানসিকতার পরিবর্তন না হলে আমরা শুধু একটি শিক্ষাবিষয়কে নয়, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির একটি বড় সম্ভাবনাকেও হারাতে থাকব।

লেখক: মো: মামুন হাসান, ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

 

 

শার্শা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদকে হয়রানিমূলক গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৩:২৯ অপরাহ্ণ
শার্শা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদকে হয়রানিমূলক গ্রেপ্তার

এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর): যশোরের শার্শা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বিডিনিউজ২৪ডটকম এর বেনাপোল প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান আসাদকে হয়রানিমূলক গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার আটকের প্রতিবাদে মুক্তির দাবীতে শার্শা থানার সামনে অবস্থান নিয়েছেন গণমাধ্যম কর্মীরা। নিঃস্বর্ত মুক্তি চান তারা।

বেনাপোল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বকুল মাহবুব জানান, সোমবার গভীর রাতে যশোরের শার্শা জামতলার নিজবাড়ী থেকে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ ছাড়াই যশোর ডিবি পুলিশ পরিচয়ে গ্রেপ্তার করা হয় সিনিয়র সাংবাদিক আসাদকে। সিসি ক্যামেরা খুলে নিয়ে যাওয়া হয়। বেদম মারপিট করে আহত করা হয় সাংবাদিকের ভাগ্নে কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী তরঙ্গকে। পরে পরিবারের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে।

সাংবাদিককে আটকের প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকে থানার সামনে অবস্থান নিয়েছে বিভিন্ন এলাকার সাংবাদিকেরা। নিঃস্বর্ত মুক্তি চান তারা। থানায় আটক রাখা হয়েছে তাকে।
এসব বিষয়ে জানার চেষ্টা করলে ফোন রিসিভ করেন নি শার্শা থানার ওসি।

সাংবাদিক জামাল হোসেন ও মনির হোসেন জানান, নির্বাচিত সরকারের সময় একজন সিনিয়র সাংবাদিককে এভাবে হয়রানিমূলক আটক স্বাধীন সাংবাদিকতার উপর হস্তক্ষেপ। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়। তার মুক্তির দাবী জানান তারা।

সাংবাদিকের হয়রানিমুলক গ্রেপ্তারের নিন্দা ও প্রতিবাদসহ মুক্তির দাবী জানান যশোরসহ বিভিন্ন এলাকার গণমাধ্যম কর্মীরা।