বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

বৈশাখ অতীত ও স্মৃতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
বৈশাখ অতীত ও স্মৃতি

তাজ ইসলাম
আজ থেকে ৩০/৩২ বছর আগে নিজের গ্রামেই কাটত পহেলা বৈশাখ। পহেলা বৈশাখে এখনকার মতো পান্তা ভাত, ইলিশ, বৈশাখী জামার স্মৃতি মনে পড়ে না। হালখাতার স্মৃতি মনে পড়ে। চার পাঁচ গ্রামে বৈশাখী মেলার কথাও মনে পড়ে না। জুগি নামে মদন গুনধরের একজন হিন্দু লোক ছিল। হাটবারে চুনের ব্যবসা করতেন। সম্ভবত আমরা চারআনা, আটআনার চুন কিনে আনতাম। গ্রামে কারও হাম, বসন্ত রোগ হলে এই জুগিকে নিয়ে আসা হত। ভাঙা সাইকেলে চড়ে তিনি বাড়িতে এসে ঝাড় ফুঁক দিয়ে যেতেন। হাম বসন্তে দু-তিন গ্রামে তার ফুঁক ছিল সবার পরিচিত। মুখে আদা চিবিয়ে নিজের মন্ত্র আওড়িয়ে রোগীর শরীরে ফুঁ দিয়ে ছড়িয়ে দিতেন। পহেলা বৈশাখে জুগি হালখাতা করতেন। ঝাড়ফুঁক দিলে যে যা দিতেম নিয়ে নিতেন। বৈশাখের আগে ঘরে ঘরে হালখাতার কার্ড পৌছে দিতেন। রোগীরা তার দাওয়াত কবুল করতেন। এমন এক বৈশাখে বাবার সাথে জুগি বাড়িতে হালখাতা খেতে গিয়েছিলাম। লাল চা আর টুস্ট বিস্কুট খেয়ে আসার স্মৃতি আছে। ঘোড়ার পিঠে শাড়ি পরা নারী মূর্তি তখনই প্রথম দেখা। তখনও বারুক বাজার ব্রীজ হয়নি। নৌকা দিয়ে পারাপার হতে হত। বৈশাখে অবশ্য বারুক বাজার খাল শুকিয়ে পায়ে হাটার রাস্তা হয়ে থাকত। দু পাড় মনে হত পাহাড়ের মত খাড়া।বর্ষাকালে শুকনো খাল নদীর রূপ ধারণ করত। পারাপারের নির্ধারিত মাঝি থাকত। সারাবছর আশপাশের গ্রামের লোকদের বিনা পয়সায় তারা খাল পার করত। আমরা শৈশবে দেখেছি রতন খলিফার পরিবার ছিল এই দায়িত্বে।
মধ্য বৈশাখে প্রত্যেক ঘর থেকে তারা ধান নিয়ে আসত খাল পারাপারের পারিশ্রমিক হিসেবে।
বৈশাখে কয়েক গ্রামে মেলার কথা মনে পড়ে না। জয়কা, কান্দাইল, খোঁজারগাও, গুনধর, উরদিঘি, মদন, খয়রত এসব গ্রামে বৈশাখে বৈশাখী মেলা হওয়ার কোন স্মৃতি মনে পড়ে না। উল্লেখিত গ্রামগুলোতে তখন প্রচুর পরিমাণে মেলা বা বান্নি হত। এই মেলা/বান্নিগুলো মাঘ,ফালগুন,চৈত্রের প্রথম সপ্তাহে শেষ হয়ে যেত। প্রায় প্রতি সপ্তাহে অল্প দূরে একটি বান্নি হত। আমরা সেসব বান্নিতে যেতাম। চৈত্র ও কার্তিক মাস ছিল কৃষি নির্ভর এলাকাগুলোতে আকালের সময়। কার্তিকের পরে অগ্রহায়ণ, চৈত্রের পরে বৈশাখে নতুন ধানে কৃষকের আকাল কমে যেত। কোন কোন সম্ভ্রান্ত কৃষকও এই সময় সংকটে পড়ে যেত। নতুন ফসলের আশায় সঞ্চিত ফসল বিক্রি করে এই সমস্যায় পড়ত। চৈত্র মাসের আকালে নাকাল হয়ে যেত অনেক পরিবার। কোন কোন কৃষক একটা জমিতে আগে কাটা যায় এমন ধান লাগাত। বগুড়া ধান নামে কালো এক জাতের ধান ছিল। এটি ফলন কম হলেও আগে আগে কাটা যেত। এক কৃষকের ধান কাটা হলে তিনি সে ধান ঘরে তুলতে পারতেন না। চাচাতো, জেঠাতো, পাড়াপড়শিরা ১০ সের,কুড়ি সের, একমণ করে হাওলাত নিয়ে যেত। সাত দিন, দশ দিনের মধ্যেই অন্যদের ধান কাটার উপযুক্ত হত। তখন ঘরে ঘরে আনন্দ বয়ে যেত। নতুন ধানের পয়লা চালের ক্ষির বৈশাখের শুক্রবারে মসজিদে মসজিদে পৌছে যেত। একদিনে কোন কোন শুক্রবারে আট দশ জনের ক্ষির পৌছত। লাল চিনির ক্ষির আমরা কলাপাতায় বাড়িতে নিয়ে আসতাম। ছোট ভাই বোনেরা শুক্রবারে ক্ষিরের অপেক্ষায় থাকত।
নতুন চালের প্রথম ভাত কলাপাতায় তিন রাস্তার মোড়ে, গোরস্থানে মা চাচীরা দিয়ে আসত। পরবর্তীতে এই সংস্কৃতি আমাদের কৈশোর পাড় হতে হতেই উদাও হয়ে গেছে।
বিষু আরবিষু নামে একটা দিন ছিল।এটা বৈশাখে না চৈত্রের শেষ দিন মনে নাই। এই দিন মা চাচীরা নানারকম লতাপাতার রসের মিশ্রণ তৈরী করতেন। ছোটদের জোর করে খাওয়াতেন। সে কী তিতা! এখনো মুখে লেগে আছে যেন।
বৈশাখে স্পেশাল কোন খাবার তৈরী না হলেও রেওয়াজ ছিল বছরের পয়লা দিন। এই দিন ভাল মন্দ খেলে সারাবছর ভাল যাবে। আমার মনে আছে বৈশাখ মাস শুরু হওয়ার আগে আমার মা আম খেতেন না। প্রথম পুতের মা পয়লা বৈশাখ না আসলে মা কাচা আম খেতেন না।আমার স্ত্রীকেও খাওয়ানো যায় না। মায়েদের আশঙ্কা পয়লা বৈশাখের আগে আম প্রথম পুতের মা আম খেলে পুত্রের অমঙ্গল হয়। এই খানে কোন যুক্তি তর্ক বুদ্ধি জ্ঞান দিয়ে আগাতে পারবেন না। এটা মাতৃত্বের দরদ। শর্তহীন মমতা।
পয়লা বৈশাখে আমার মা এক টুকরো কাঁচা আম মুখে দিতেন। মায়ের সামনে কত আম আমি আমরা খেতাম। মা মুখে নিতেন না। পয়লা বৈশাখের এই বিষয়টি আমাকে দারুণভাবে আলোড়িত করে। আমি চিচকাঁদোনে মানুষ বলেই কি না কে জানে মায়ের এমন ছোট বড় অনেক স্মৃতিতে আমি নীরবে কাঁদি। আহ মা! আর কত শত ত্যাগের বিনিময়ে বেড়ে ওঠা আমার জীবন। পয়লা বৈশাখের যাবতীয় স্মৃতি থেকে এই স্মৃতিটাই সবচেয়ে বড়, আমার কাছে। তখন টিভি, মোবাইল ছিল না। আজকের শহুরে সংস্কৃতি আস্তে আস্তে গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে। এখন মেলাও হয়তো হয়। মেলা না হলেও শহরের আরোপিত প্রায় সব বিষয়ই গ্রামে সংক্রমিত। বৈশাখী শাড়ি, বৈশাখী জামা, পান্তাভাত পালন না করলেও গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কিশোর কিশোরী জানে। তারা উদযাপন করতেও চেষ্টা করে। সাংস্কৃতিক আয়োজনও বৃদ্ধি পেয়েছে। চৈত্রের শেষ দিন বৈশাখের শুরুর দিন উৎসবমুখর ছিল ফসলের আগমনে।নতুন ফসল আরও স্পষ্ট করে বলতে নতুন ধান উঠোনে আসার আনন্দে।
এরপর পুরো বৈশাখ ধান কাটা, মাড়াই করার রোদে পোড়া, বৃষ্টিতে ভেজা, বর্ষার নতুন পানির সাথে দ্রুত গতীতে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার আনন্দ। জমি থেকে ধান উঠোনে, উঠোন থেকে গোলায় তোলার সংগ্রামমুখর আনন্দ। শহরের বৈশাখ আর গ্রামের বৈশাখে এখনও বহুত ফারাক। শহরে বৈশাখ আসে একদিন।গ্রামে বৈশাখ থাকে এক মাস। এই আনন্দ হালাল করে কৃষক, শ্রমিক, নারী, পুরুষ, শ্রমে ঘামে। তারা ধান গোলায় তুলে। শহরের মানুষ সারাবছর তা ভোগ করে। এই লেখাটা কেন লেখলাম? আমার অবস্থান থেকে আমার ফেলে আসা বৈশাখকে ২০২৬ এ হাজির করার উদ্দেশ্যে। ৩০/৩২ বছর আগে আমার মতো একজন অতিসাধারণ মানুষের অজপাড়া গাঁয়ে বৈশাখ ছিল ঠিক এমনই।
স্বাগতম বাংলা নববর্ষ।

Ads small one

সড়কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তালতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রচারণা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৩ অপরাহ্ণ
সড়কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তালতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রচারণা

সংবাদদাতা: সড়কে দুর্ঘটনা হ্রাসকল্পে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় সচেতনতা প্রচারণা চালাচ্ছে বিআরটিএ সাতক্ষীরা সার্কেল। “মানসম্মত হেলমেট ও নিরাপদ গতি ও কমবে জীবন ও সম্পদের ক্ষতি” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার তালতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা ও সড়ক দূর্ঘটনা হ্রাসকল্পে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের সচেতনতার অংশ বিশেষ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ‘২৬) বিকালে সাতক্ষীরা শহরের অদূরে তালতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নিয়ে গণসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক ও সড়ক নিরাপত্তামূলক এক প্রচারণা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উক্ত কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন, তালতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক লিটন, সহকারী শিক্ষক এস এম মোক্তাদুল আলম, বিআরটিএ সাতক্ষীরা সার্কেলের, মোটরযান পরিদর্শক মোঃ ওমর ফারুক ও উচ্চমান সহকারী মোঃ নাছির উদ্দিন।

কর্মশালায় বক্তরা উপস্থিত ছাত্রীদের সড়ক দুর্ঘটনার রোধকল্পে পথে চলাচলের উপর ও ট্রাফিক সাইনসহ বিভিন্ন দিক নির্দেশনা মূলক বক্তব্যে প্রদান করেন।

কর্মশালা শেষে উপস্থিত ছাত্রীদের মাঝে সড়ক দুর্ঘটনা রোধকল্পে বিভিন্ন প্রকার ট্রাফিক সাইন এর লিফলেট ও স্টিকার বিতরণ করা হয়।

 

বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে বুড়িগোয়ালিনীতে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৫:২৯ অপরাহ্ণ
বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে বুড়িগোয়ালিনীতে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন ও রয়েল বেঙ্গল টাইগার সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনীতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লির্ডাস এর উদ্যোগে বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা ও ছাত্র ছাত্রীদের সুন্দরবনের বাঘ বিষয়ে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই ২০২৬) দুপুর ১২টায় বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা ইরফান উদ্দিন।

আলোচনা সভার আগে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে বুড়িগোয়ালিনী এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় অনুষ্ঠানস্থলে এসে শেষ হয়। র‌্যালিতে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন। র‌্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা বাঘ ও সুন্দরবন রক্ষায় বিভিন্ন সচেতনতামূলক স্লোগান প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকরা বলেন, রয়েল বেঙ্গল টাইগার শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের একটি অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ। সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বাঘের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাঘ বেঁচে থাকলে সুন্দরবন বেঁচে থাকবে, আর সুন্দরবন বেঁচে থাকলে উপকূলীয় জনপদের মানুষ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি থেকে অনেকাংশে সুরক্ষিত থাকবে। তাই বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মাহমুদা খানম, সাংবাদিক আনিছুজ্জামান, উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল হালিম, কলাগাছিয়া বন টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সজল দ্বীপ, ফয়সাল আহমেদ, আব্দুর রশিদসহ লির্ডাসের প্রতিনিধিরা।

বক্তারা বলেন, বনজ সম্পদ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বনজীবীদের বিকল্প জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি, অবৈধ শিকার ও বন ধ্বংস প্রতিরোধ, এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশবান্ধব মানসিকতা গড়ে তোলার মাধ্যমে সুন্দরবন সংরক্ষণ আরও কার্যকর হবে।

সভায় উপস্থিত বক্তারা বিশ্ব বাঘ দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য “বাঘ বাঁচলে, বন বাঁচবে” বাস্তবায়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বন আইন মেনে চলা এবং পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, লির্ডাসের প্রতিনিধিবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

আইনজীবী নিজাম উদ্দিন শান্তর হত্যার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় বিক্ষোভ সমাবেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৫:২১ অপরাহ্ণ
আইনজীবী নিজাম উদ্দিন শান্তর হত্যার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় বিক্ষোভ সমাবেশ

সংবাদদাতা: বাগেরহাট জজ কোর্টের আইনজীবী ও সহকারী সরকারি কৌশলী (এপিপি) অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন শান্ত’র হত্যার প্রতিবাদ এবং হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরায় বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির শহীদ মিনার চত্বরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, সাতক্ষীরা জেলা ইউনিটের উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, সাতক্ষীরা জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. আকবর আলীর সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আলহাজ মো. নুরুল আমিনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ ইফতেখার আলী।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সর্ব অ্যাডভোকেট এবিএম সেলিম, ই. জে. সাহরিয়ার হাসিব, জি. এম. ফিরোজ আহমেদ, সিরাজুল ইসলাম, সরদার সাইফ, আলতাফ হোসেন, ইমরান হোসেন শাওন, শিহাব মাসুদ সাচ্চু, রেজওয়ান আলী, আকরাম আলী, মিজানুর রহমান বাপ্পি, সাইফুল ইসলাম সোহেল, শাহানা ইমরুজ, আয়ুব আলী, ইয়াছিন হাবিব, জামাল উদ্দীন, খোরশেদ আলম ডালিম, শাহাজান জাহাঙ্গীর, এবাদুল হক, নজরুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান বাবু, আব্দুস সামাদ, শাহাদাত হোসেন, সোহরাব হোসেন বাবলু, আলামিন আলম, শেখ হেলালুজ্জামান হেলাল, মাকফুর রহমান, বখতিয়ার, সাইফুল্লাহ, তারিক ইকবাল অপুসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং শতাধিক আইনজীবী।

সমাবেশে বক্তারা নির্মম এই হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, একজন আইনজীবীকে প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে হত্যা বিচারব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। তারা হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে জড়িত সকল হত্যাকারীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই রাতে চেম্বার থেকে বাড়ি ফেরার পথে বাগেরহাট জেলা শহরের হাঁড়িখালীর তেঁতুলতলা এলাকায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন বাগেরহাট জজ কোর্টের আইনজীবী ও সহকারী সরকারি কৌশলী (এপিপি) অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন শান্ত। এ ঘটনায় আইনজীবী মহলে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।