মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

বৈশাখ অতীত ও স্মৃতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
বৈশাখ অতীত ও স্মৃতি

তাজ ইসলাম
আজ থেকে ৩০/৩২ বছর আগে নিজের গ্রামেই কাটত পহেলা বৈশাখ। পহেলা বৈশাখে এখনকার মতো পান্তা ভাত, ইলিশ, বৈশাখী জামার স্মৃতি মনে পড়ে না। হালখাতার স্মৃতি মনে পড়ে। চার পাঁচ গ্রামে বৈশাখী মেলার কথাও মনে পড়ে না। জুগি নামে মদন গুনধরের একজন হিন্দু লোক ছিল। হাটবারে চুনের ব্যবসা করতেন। সম্ভবত আমরা চারআনা, আটআনার চুন কিনে আনতাম। গ্রামে কারও হাম, বসন্ত রোগ হলে এই জুগিকে নিয়ে আসা হত। ভাঙা সাইকেলে চড়ে তিনি বাড়িতে এসে ঝাড় ফুঁক দিয়ে যেতেন। হাম বসন্তে দু-তিন গ্রামে তার ফুঁক ছিল সবার পরিচিত। মুখে আদা চিবিয়ে নিজের মন্ত্র আওড়িয়ে রোগীর শরীরে ফুঁ দিয়ে ছড়িয়ে দিতেন। পহেলা বৈশাখে জুগি হালখাতা করতেন। ঝাড়ফুঁক দিলে যে যা দিতেম নিয়ে নিতেন। বৈশাখের আগে ঘরে ঘরে হালখাতার কার্ড পৌছে দিতেন। রোগীরা তার দাওয়াত কবুল করতেন। এমন এক বৈশাখে বাবার সাথে জুগি বাড়িতে হালখাতা খেতে গিয়েছিলাম। লাল চা আর টুস্ট বিস্কুট খেয়ে আসার স্মৃতি আছে। ঘোড়ার পিঠে শাড়ি পরা নারী মূর্তি তখনই প্রথম দেখা। তখনও বারুক বাজার ব্রীজ হয়নি। নৌকা দিয়ে পারাপার হতে হত। বৈশাখে অবশ্য বারুক বাজার খাল শুকিয়ে পায়ে হাটার রাস্তা হয়ে থাকত। দু পাড় মনে হত পাহাড়ের মত খাড়া।বর্ষাকালে শুকনো খাল নদীর রূপ ধারণ করত। পারাপারের নির্ধারিত মাঝি থাকত। সারাবছর আশপাশের গ্রামের লোকদের বিনা পয়সায় তারা খাল পার করত। আমরা শৈশবে দেখেছি রতন খলিফার পরিবার ছিল এই দায়িত্বে।
মধ্য বৈশাখে প্রত্যেক ঘর থেকে তারা ধান নিয়ে আসত খাল পারাপারের পারিশ্রমিক হিসেবে।
বৈশাখে কয়েক গ্রামে মেলার কথা মনে পড়ে না। জয়কা, কান্দাইল, খোঁজারগাও, গুনধর, উরদিঘি, মদন, খয়রত এসব গ্রামে বৈশাখে বৈশাখী মেলা হওয়ার কোন স্মৃতি মনে পড়ে না। উল্লেখিত গ্রামগুলোতে তখন প্রচুর পরিমাণে মেলা বা বান্নি হত। এই মেলা/বান্নিগুলো মাঘ,ফালগুন,চৈত্রের প্রথম সপ্তাহে শেষ হয়ে যেত। প্রায় প্রতি সপ্তাহে অল্প দূরে একটি বান্নি হত। আমরা সেসব বান্নিতে যেতাম। চৈত্র ও কার্তিক মাস ছিল কৃষি নির্ভর এলাকাগুলোতে আকালের সময়। কার্তিকের পরে অগ্রহায়ণ, চৈত্রের পরে বৈশাখে নতুন ধানে কৃষকের আকাল কমে যেত। কোন কোন সম্ভ্রান্ত কৃষকও এই সময় সংকটে পড়ে যেত। নতুন ফসলের আশায় সঞ্চিত ফসল বিক্রি করে এই সমস্যায় পড়ত। চৈত্র মাসের আকালে নাকাল হয়ে যেত অনেক পরিবার। কোন কোন কৃষক একটা জমিতে আগে কাটা যায় এমন ধান লাগাত। বগুড়া ধান নামে কালো এক জাতের ধান ছিল। এটি ফলন কম হলেও আগে আগে কাটা যেত। এক কৃষকের ধান কাটা হলে তিনি সে ধান ঘরে তুলতে পারতেন না। চাচাতো, জেঠাতো, পাড়াপড়শিরা ১০ সের,কুড়ি সের, একমণ করে হাওলাত নিয়ে যেত। সাত দিন, দশ দিনের মধ্যেই অন্যদের ধান কাটার উপযুক্ত হত। তখন ঘরে ঘরে আনন্দ বয়ে যেত। নতুন ধানের পয়লা চালের ক্ষির বৈশাখের শুক্রবারে মসজিদে মসজিদে পৌছে যেত। একদিনে কোন কোন শুক্রবারে আট দশ জনের ক্ষির পৌছত। লাল চিনির ক্ষির আমরা কলাপাতায় বাড়িতে নিয়ে আসতাম। ছোট ভাই বোনেরা শুক্রবারে ক্ষিরের অপেক্ষায় থাকত।
নতুন চালের প্রথম ভাত কলাপাতায় তিন রাস্তার মোড়ে, গোরস্থানে মা চাচীরা দিয়ে আসত। পরবর্তীতে এই সংস্কৃতি আমাদের কৈশোর পাড় হতে হতেই উদাও হয়ে গেছে।
বিষু আরবিষু নামে একটা দিন ছিল।এটা বৈশাখে না চৈত্রের শেষ দিন মনে নাই। এই দিন মা চাচীরা নানারকম লতাপাতার রসের মিশ্রণ তৈরী করতেন। ছোটদের জোর করে খাওয়াতেন। সে কী তিতা! এখনো মুখে লেগে আছে যেন।
বৈশাখে স্পেশাল কোন খাবার তৈরী না হলেও রেওয়াজ ছিল বছরের পয়লা দিন। এই দিন ভাল মন্দ খেলে সারাবছর ভাল যাবে। আমার মনে আছে বৈশাখ মাস শুরু হওয়ার আগে আমার মা আম খেতেন না। প্রথম পুতের মা পয়লা বৈশাখ না আসলে মা কাচা আম খেতেন না।আমার স্ত্রীকেও খাওয়ানো যায় না। মায়েদের আশঙ্কা পয়লা বৈশাখের আগে আম প্রথম পুতের মা আম খেলে পুত্রের অমঙ্গল হয়। এই খানে কোন যুক্তি তর্ক বুদ্ধি জ্ঞান দিয়ে আগাতে পারবেন না। এটা মাতৃত্বের দরদ। শর্তহীন মমতা।
পয়লা বৈশাখে আমার মা এক টুকরো কাঁচা আম মুখে দিতেন। মায়ের সামনে কত আম আমি আমরা খেতাম। মা মুখে নিতেন না। পয়লা বৈশাখের এই বিষয়টি আমাকে দারুণভাবে আলোড়িত করে। আমি চিচকাঁদোনে মানুষ বলেই কি না কে জানে মায়ের এমন ছোট বড় অনেক স্মৃতিতে আমি নীরবে কাঁদি। আহ মা! আর কত শত ত্যাগের বিনিময়ে বেড়ে ওঠা আমার জীবন। পয়লা বৈশাখের যাবতীয় স্মৃতি থেকে এই স্মৃতিটাই সবচেয়ে বড়, আমার কাছে। তখন টিভি, মোবাইল ছিল না। আজকের শহুরে সংস্কৃতি আস্তে আস্তে গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে। এখন মেলাও হয়তো হয়। মেলা না হলেও শহরের আরোপিত প্রায় সব বিষয়ই গ্রামে সংক্রমিত। বৈশাখী শাড়ি, বৈশাখী জামা, পান্তাভাত পালন না করলেও গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কিশোর কিশোরী জানে। তারা উদযাপন করতেও চেষ্টা করে। সাংস্কৃতিক আয়োজনও বৃদ্ধি পেয়েছে। চৈত্রের শেষ দিন বৈশাখের শুরুর দিন উৎসবমুখর ছিল ফসলের আগমনে।নতুন ফসল আরও স্পষ্ট করে বলতে নতুন ধান উঠোনে আসার আনন্দে।
এরপর পুরো বৈশাখ ধান কাটা, মাড়াই করার রোদে পোড়া, বৃষ্টিতে ভেজা, বর্ষার নতুন পানির সাথে দ্রুত গতীতে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার আনন্দ। জমি থেকে ধান উঠোনে, উঠোন থেকে গোলায় তোলার সংগ্রামমুখর আনন্দ। শহরের বৈশাখ আর গ্রামের বৈশাখে এখনও বহুত ফারাক। শহরে বৈশাখ আসে একদিন।গ্রামে বৈশাখ থাকে এক মাস। এই আনন্দ হালাল করে কৃষক, শ্রমিক, নারী, পুরুষ, শ্রমে ঘামে। তারা ধান গোলায় তুলে। শহরের মানুষ সারাবছর তা ভোগ করে। এই লেখাটা কেন লেখলাম? আমার অবস্থান থেকে আমার ফেলে আসা বৈশাখকে ২০২৬ এ হাজির করার উদ্দেশ্যে। ৩০/৩২ বছর আগে আমার মতো একজন অতিসাধারণ মানুষের অজপাড়া গাঁয়ে বৈশাখ ছিল ঠিক এমনই।
স্বাগতম বাংলা নববর্ষ।

Ads small one

জামায়াতকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই’: সংসদ সদস্য মুহা. আব্দুল খালেক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
জামায়াতকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই’: সংসদ সদস্য মুহা. আব্দুল খালেক

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেছেন, অন্যায়ের কাছে সাতক্ষীরার মানুষ কখনো মাথা নত করেনি এবং ভয় দেখিয়েও তাঁদের দমানো যাবে না।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে সাতক্ষীরা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আমতলা মোড়ে জুলাই শহীদদের স্মরণ, তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুল্লাহ মোনার সভাপতিত্বে ও ওয়ার্ড জামায়াতের আমির মো. জিয়ারুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, নায়েবে আমির শেখ নূরুল হুদা, সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবুল আলম ও পৌর জামায়াতের আমির মো. জাহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আরও বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে এলাকার কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতির কাছে তিনি মাথা নত করবেন না। সম্প্রতি সংসদে সাতক্ষীরায় রেললাইন স্থাপন, সুন্দরবন টেক্সটাইল মিল পুনরায় চালু, পৌরসভার আধুনিকায়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সড়ক কাঠামোর উন্নয়নের দাবি তুলে ধরা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি ‘জুলাই সনদ’ দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেন। অনুষ্ঠান শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও দেশের শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

ভারি বৃষ্টিতে ভাঙা রাস্তা মেরামত ও পানি নিষ্কাশনে আনসার-ভিডিপি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ
ভারি বৃষ্টিতে ভাঙা রাস্তা মেরামত ও পানি নিষ্কাশনে আনসার-ভিডিপি

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলায় ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের দত্তনগর গ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে রাস্তা ভেঙে যায়। বিষয়টি গত শুক্রবার উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা মো. মিয়াজান আলীকে জানানো হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে যশোর জেলা কমান্ড্যান্ট মাজহারুল ইসলাম ভূঁইয়াকে অবহিত করেন। জেলা কমান্ড্যান্টের পরামর্শে আনসার সদস্যদের স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে রাস্তা মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই লক্ষ্যে সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের দলনেতা তালিব হোসাইন ও ২ নম্বর সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের দলনেতা আলী হোসেন প্লাটুনভুক্ত ভিডিপি সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে রাস্তা মেরামত ও পাইপ বসিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেন।
এ সময় উপস্থিত থেকে সাধুবাদ জানান সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান গাজী গোলাম মোস্তফা। আনসার-ভিডিপির এই স্বেচ্ছাশ্রম ও সামাজিক কাজের প্রশংসা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা মিয়াজান আলী জানান, যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে তাঁর দল ও সদস্যরা সবসময় প্রস্তুত রয়েছেন।

প্রান্তিক যুব সংঘের সভায় জলাবদ্ধতা নিরসনে মানববন্ধনের সিদ্ধান্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ
প্রান্তিক যুব সংঘের সভায় জলাবদ্ধতা নিরসনে মানববন্ধনের সিদ্ধান্ত

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার সামাজিক সংগঠন ‘প্রান্তিক যুব সংঘ’-এর জুলাই মাসের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে তিনটায় সাতক্ষীরার প্রাণনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের সভাপতি হৃদয় ম-লের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির সাতক্ষীরা ইউনিটের লাইব্রেরি ইনচার্জ মো. আতিকুজ্জামান। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নূরজাহান খাতুন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিয়া আফরিন, বোর্ড সদস্য ও সাধারণ সদস্যরা।
সভার শুরুতে সংগঠনের চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা মানবিক ও দায়িত্বশীল সমাজ গঠনে তরুণদের সামাজিক ও পরিবেশবিষয়ক স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সভায় সাতক্ষীরা জেলার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা জানান, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা স্থানীয় জনজীবন, কৃষি, শিক্ষা ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এই সমস্যা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে শিগগিরই একটি মানববন্ধন কর্মসূচি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবির পাশাপাশি নারীদের দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ, তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশ এবং অনলাইন নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সভায়।