শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

খালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য নির্বাচন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ণ
খালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য নির্বাচন

 

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের ৫৭ নং খালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) সকালে বিদ্যালয় মিলনায়তনে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এক আলোচনা সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সদস্য নির্বাচন করা হয়।
নবগঠিত কমিটিতে বিদ্যোৎসাহী সদস্য (পুরুষ) হিসেবে সাংবাদিক নুরুল ইসলাম এবং বিদ্যোৎসাহী সদস্য (মহিলা) হিসেবে মোছা. সুরাইয়া খাতুন নির্বাচিত হয়েছেন। অভিভাবক সদস্য হয়েছেন মো. হাবিবুর রহমান, মো. রবিউল ইসলাম, মোছা. মনজিলা খাতুন ও রিনা পারভীন। এছাড়া পদাধিকারবলে প্রধান শিক্ষক মেহেদী হাসান সদস্য সচিব এবং সহকারী শিক্ষক মো. আয়ুব আলী শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে কমিটিতে রয়েছেন। তবে দাতা সদস্য পদে দুজন দাবিদার থাকায় পদটি আপাতত অমীমাংসিত রয়েছে। পরবর্তীতে নির্বাচিত কমিটির সদস্যরা মিলে নতুন সভাপতি নির্বাচন করবেন।

Ads small one

সড়ক যেন এক নিরব মৃত্যু ফাঁদ/ এম.এম হায়দার আলী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৪:২১ অপরাহ্ণ
সড়ক যেন এক নিরব মৃত্যু ফাঁদ/ এম.এম হায়দার আলী

এম.এম হায়দার আলী

রক্তে রঞ্জিত সড়ক, মূল্যহীন জীবন তবু নেই প্রতিকার। কিন্তু কেন ? সরকারি-বেসরকারি ভাবে এত উদ্যোগ নেয়ার পরও এখনো কেন প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরে পড়ছে তাজা প্রাণ। কেউ কর্মস্থলে যাওয়ার পথে, কেউ স্কুল-কলেজে, কেউবা পরিবারের কাছে ফেরার অপেক্ষায় থাকতেই মৃত্যুর নির্মম শিকার হচ্ছেন। সড়ক যেন আজ নিরাপদ যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং এক নীরব মৃত্যু ফাঁদ। রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে মহাসড়ক, আঞ্চলিক সড়ক ও নগরীর ব্যস্ত পথঘাট।

 

অথচ প্রাণহানির এই মিছিল থামাতে এখনো কার্যকর ও টেকসই প্রতিকার দৃশ্যমান নয়। বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা একটি দীর্ঘদিনের জাতীয় সমস্যা। বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান এবং আরও বহু মানুষ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। দুর্ঘটনার পর একটি পরিবারের শুধু একজন সদস্যের মৃত্যু হয় না; অনেক ক্ষেত্রে ভেঙে পড়ে পুরো পরিবারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভিত্তি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে বেপরোয়া গাড়ি চালানো, অতিরিক্ত গতি, অদক্ষ চালক, ফিটনেস বিহীন যানবাহন, ট্রাফিক আইন অমান্য, মহাসড়কে অবৈধ যান চলাচল এবং পথচারীদের অসচেতনতা। এছাড়া অনেক সড়কের বেহাল অবস্থা, পর্যাপ্ত সাইনবোর্ডের অভাব এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতাও দুর্ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে দেখা যায়, চালকদের মধ্যে সময় বাঁচানোর প্রতিযোগিতা চলে। নির্ধারিত গতিসীমা উপেক্ষা করে দ্রুতগতিতে যানবাহন চালানো হয়। অনেক চালক দীর্ঘ সময় বিশ্রাম ছাড়া গাড়ি চালানোর ফলে ক্লান্ত হয়ে পড়েন, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

সড়ক দুর্ঘটনার আরেকটি বড় কারণ হলো আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব। দুর্ঘটনার পর কিছুদিন আলোচনা হলেও পরে বিষয়টি আবার চাপা পড়ে যায়। দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃশ্যমান শাস্তির নজির কম থাকায় অপরাধ প্রবণতা কমছে না বলে মনে করেন সচেতন নাগরিকরা। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর দাবি, শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। চালকদের প্রশিক্ষণ, যানবাহনের নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, সড়ক দুর্ঘটনা এখন কেবল পরিবহন খাতের সমস্যা নয়; এটি একটি সামাজিক ও মানবিক সংকট।

 

প্রতিটি দুর্ঘটনার পেছনে থাকে একটি পরিবারের কান্না, সন্তানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা এবং স্বজন হারানোর অসীম বেদনা। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, চালক এবং সাধারণ জনগণ সবার-ই সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। ট্রাফিক আইন মেনে চলা, অতিরিক্ত গতি পরিহার, দক্ষ চালক নিয়োগ এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারলেই কমে আসতে পারে প্রাণহানির সংখ্যা। রক্তে রঞ্জিত সড়কে প্রতিদিন হারিয়ে যাচ্ছে অমূল্য জীবন। প্রশ্ন একটাই, আর কত প্রাণ ঝরলে সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে? প্রতিটি মৃত্যুই একটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গ, একটি জাতির ক্ষতি। তাই এখনই সময় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের, যাতে সড়ক আর মৃত্যুর মিছিল নয়, নিরাপদ যাত্রার প্রতীক হয়ে ওঠে এমনটি আশা আমার।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

 

এখনই পদক্ষেপ নিন: জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
এখনই পদক্ষেপ নিন: জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে

নিকোলাস বিশ্বাস

সোশ্যাল মিডিয়ার ফিড স্ক্রল করলেই আমাদের চোখে পড়বে ছোট ছোট কিছু ভাইরাল ভিডিও, যা দেখে মনে হয় এক অবক্ষয়ী পৃথিবী যেন নিজের ভারেই গলে যাচ্ছে। এগুলো কোনো বড় বাজেটের বা হলিউডের কোন ডিস্টোপিয়ান (দুঃস্বপ্নময় ভবিষ্যৎ) চলচ্চিত্রের অংশ নয়। এগুলো আমাদের চারিদিকে ঘটে যাওয়া চরম বাস্তবতা থেকে ব্যক্তি পর্যায়ে স্মার্টফোনে ধারণ করা কিছু সুস্পষ্ট বার্তা।

এই ভিডিওগুলোতে দ্রুত উষ্ণ হতে থাকা পৃথিবী নামক এক গ্রহের পরিণতিগুলো স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। ভিডিওগুলোতে আমরা দেখছি মানুষ সরাসরি কংক্রিটের ওপর ডিম ভেঙে দিচ্ছে এবং জ্বলন্ত সূর্যের তাপে তা মুহূর্তের মধ্যে ভাজা হয়ে যাচ্ছে। আমরা আরো দেখছি পাকা হাইওয়ের ওপর পানি বুদবুদ করে ফুটছে এবং কুচকুচে কালো পিচ নরম হয়ে আঠালো ও গলিত কাদার মতো রূপ নিচ্ছে। পথচারীরা রাস্তা পার হওয়ার সময় তাদের জুতোর তলা গলে যাওয়ার দৃশ্য ক্যামেরায় বন্দি করছেন, অন্যদিকে পথশিশু ও স্থানীয় বন্যপ্রাণীরা ছায়ার খোঁজে মরিয়া হয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছুটছে, কারণ মাটির চামড়া পুড়িয়ে দেওয়ার মত উত্তাপ তারা সহ্য করতে পারছে না।

এই ভাইরাল ক্লিপগুলো আসলে ডিজিটাল সতর্কবার্তা। এগুলো এক বিপজ্জনক ভবিষ্যতের একটি বাস্তব এবং অনস্বীকার্য পূর্বাভাস, যা এখন আর আমাদের দিকে ধীর পায়ে এগিয়ে আসছে না-বরং ইতিমধ্যেই আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে।
ডাইনোসরের সতর্কবার্তা (একটি বিলুপ্তির রূপক): অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া জলবায়ু বিষয়ক অসংখ্য কনটেন্টের মধ্যে একটি বিশেষ ভিডিও সবার নজর কেড়েছে। এতে দেখা যায়, একটি সিজিআই (কম্পিউটার-জেনারেটেড ইমেজারি) ডাইনোসর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ছে। সেই প্রাগৈতিহাসিক বিশাল জীবটি অত্যন্ত গম্ভীরভাবে করিডোর দিয়ে হেঁটে মঞ্চে ওঠে, মঞ্চের মাইক্রোফোনটি ঠিক আছে কিনা তা দেখে নেয় এবং তারপর জাতিসংঘের সমাবেশে উপস্থিত বিশ্বনেতা ও উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেয়।

ভাষণমঞ্চ থেকে ডাইনোসরটি গর্জে উঠে বলে: “গ্রহাণুর পতন থেকে আপনারা কোনো শিক্ষা নেননি, যার কারণে আমরা ধ্বংস হয়েছিলাম এবং নির্মমভাবে মারা গিয়েছিলাম। এখন আমরা এই গ্রহে আর নেই। আপনারা কি এই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমাদের মতো পরিণতি ভোগ করতে চান? সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। তাই আপনাদের প্রিয় প্রজন্মকে বাঁচাতে এখনই পদক্ষেপ নিন। ধন্যবাদ।”

ভিডিওটি আমাদের মনোযোগ কাড়তে ডিজিটাল চাতুর্যের আশ্রয় নিলেও, এর পেছনের মূল যুক্তিটি শিউরে ওঠার মতো সত্য। ডাইনোসররা তাদের বিলুপ্তি নিজে থেকে বেছে নেয়নি; একটি আকস্মিক, বিপর্যয়কর মহাজাগতিক ঘটনা তাদের শেষ নির্ধারণ করেছিল। অন্যদিকে, মানবজাতি নিজেই সক্রিয়ভাবে নিজের চুড়ান্ত অধ্যায়টি লিখছে। আমরাই সেই গ্রহাণু। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর আমাদের অবিরাম নির্ভরতা, বন উজাড় এবং টেকসইহীন শিল্পায়নের মাধ্যমে আমরা জেনেশুনে, স্বেচ্ছায় এবং রিয়েল-টাইমে একটি ষষ্ঠ গণবিলুপ্তির (Sixth Mass Extinction) সূচনা করছি। বিজ্ঞানীদের মতে, আগের পাঁচটি গণবিলুপ্তির মতো এটিও একটি বৈশ্বিক বিলুপ্তির ঘটনা হবে, তবে এর প্রধান কারণ প্রাকৃতিক নয়; বরং মানুষের কর্মকান্ড।
ডাইনোসরের এই বক্তব্য আধুনিক সভ্যতার চরম পরিহাসকে তুলে ধরে: আমাদের ভবিষ্যৎ দেখার এবং নিজেদের পতন গণনা করার এক অনন্য ক্ষমতা রয়েছে, তবুও আমরা এ বিষয়ে কিছু না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে যাচ্ছি। আমরা যদি জলবায়ু নিয়ে এই নিষ্ক্রিয়তার পথে হাঁটতেই থাকি, তবে আমরা কেবল একটি মুমূর্ষু পৃথিবীই পাব না; বরং আমরা এমন এক পৃথিবী রেখে যাব যা হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বসবাসের অযোগ্য।

বৈশ্বিক প্রজ্ঞা (একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান): জলবায়ু পরিবর্তনের সংকটকে প্রায়শই কেবল বিজ্ঞান ও অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা হয়। এই সংকট নিয়ে সাধারণত বিভিন্ন সংখ্যা এবং নীতিমালার আলোকে আলোচনা করা হয়- যেমন: বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ (পার্টস পার মিলিয়ন-পিপিএম), নবায়নযোগ্য শক্তির গিগাওয়াট এবং কার্বন ট্যাক্স। কিন্তু এই বিজ্ঞান ও অর্থনীতির গভীরে একটি বড় সত্য লুকিয়ে আছে: জলবায়ু পরিবর্তন মূলত একটি গভীর নৈতিক ও আদর্শিক ব্যর্থতা। এটি বৈশ্বিক দায়িত্ববোধের এক মারাত্মক বিপর্যয়কে নির্দেশ করে।

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে ২০২৫ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সম্মেলন কপ-৩০ (COP30)-এ জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয়ে কোন সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এর ফলে কার্বন নিঃসরণ কমানোর বৈশ্বিক প্রচেষ্টা দারুনভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যার কারণে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন অব্যাহত থাকবে এবং এর বিরূপ প্রভাব বিশ্বজুড়ে আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। এটা মানবজাতির প্রতি আমাদের দায়িত্ববোধের চরম অবহেলা; এখানে বিজ্ঞানের যৌক্তিক অবস্থানের চেয়ে অর্থনৈতিক সুবিধাকেই সমর্থন করা হয়েছে।

২০২৪ সালের তথ্য উল্লেখ করে যে, দেশভিত্তিক কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) নির্গমনের মোট হিসাব অনুযায়ী বিশ্বের শীর্ষ তিনটি নির্গমনকারী দেশের তালিকায় যারা রয়েছে সেগুলো হল; চীন: বৈশ্বিক কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) নির্গমনের প্রায় ৩৩% করে থাকে; যুক্তরাষ্ট্র: বৈশ্বিক কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) নির্গমনের প্রায় ১২% করে থাকে; এবং ভারত: বৈশ্বিক কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) নির্গমনের প্রায় ৮% করে থাকে। এই পরিসংখ্যানগুলো দেখায় যে, জলবায়ু সংকট পুরো বিশ্বকে প্রভাবিত করলেও, এর জবাবদিহিতার দায়ভার মূলতঃ কয়েকটি বড় দেশের ওপরই বর্তায়। কার্বন নির্গমনের সবচেয়ে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করছে বিশ্বের দরিদ্র জনগোষ্ঠী, যদিও এই সংকট সৃষ্টিতে তাদের অবদান খুবই সামান্য।

আমরা যদি আমাদের আধুনিক রাজনৈতিক বিভেদগুলো ভুলে মানব ইতিহাসের মৌলিক আধ্যাত্মিক গ্রন্থগুলোর দিকে তাকাই, তাহলে আমরা একটি অসাধারণ ঐক্যবদ্ধ বার্তা দেখতে পাব। বিভিন্ন যুগ, সংস্কৃতি এবং ভূগোলের সীমানা ছাড়িয়ে, বিশ্বের মহান দর্শনগুলো সবসময় আমাদের সতর্ক করেছে যে- আমাদের বর্তমান কর্মই আমাদের বেঁচে থাকা নির্ধারণ করে। কর্ম এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রচলিত কিছু মৌলিক দর্শন এখানে দেওয়া হলো:

ক্স বাইবেল-অনুপ্রাণিত (Bible-inspired): “আজ আমরা যা বপন করব, আগামীকাল তারই ফসল কাটব।”
ক্স কোরআন মতে (Qur’anic way): “আজ তোমরা যে প্রচেষ্টা করবে, আগামীকাল তারই মুখোমুখি হবে।”
ক্স গীতা-অনুপ্রাণিত (Gita-inspired): “আজ সৎকর্মে মনোনিবেশ করো; এর ওপর ভিত্তি করেই ভবিষ্যৎ উন্মোচিত হবে।”
ক্স ত্রিপিটক-শৈলী (Tripitaka-style): “আজকের কর্মই নির্ধারণ করে আগামীকালের রূপ।”

একটি শক্তিশালী অভিন্ন সূত্র এই বৈচিত্র্যময় বিশ্বাস ব্যবস্থাগুলোকে একসাথে বেঁধে রেখেছে: আজকের সিদ্ধান্তগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই আন্তঃসাংস্কৃতিক এবং আধ্যাত্মিক ঐক্য প্রমাণ করে যে, জবাবদিহিতা একটি সার্বজনীন মানবীয় নিয়ম। আমরা যদি আজ পরিবেশের ক্ষতি, বাস্তুতন্ত্রের ধ্বংস এবং বিষাক্ত গ্যাস নির্গমন করি, তবে আগামীকাল আমরা স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্য এবং সমৃদ্ধির ফসল কাটার আশা করতে পারি না। অবহেলার জন্য মহাবিশ্ব কাউকে ছাড় দেয় না। ভবিষ্যৎ কোনো লটারি নয়; এটি একটি চলমান ক্যানভাস যা পুরোপুরি আমাদের বর্তমানের তুলির টানে রূপ নেয়।

আধুনিক সমাজের স্ফুটনাঙ্ক: পর্দায় আমরা যে গলে যাওয়া জুতো এবং ফুটন্ত রাস্তা দেখছি, তা আসলে একটি গভীর পদ্ধতিগত (Systemic) ব্যর্থতার বাস্তব লক্ষণ। তীব্র তাপ্রবাহ এখন আর কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এগুলো গ্রীষ্মকালের সাধারণ নিয়মে পরিণত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, পৃথিবীর উষ্ণায়ন রোধ করতে কার্বন নির্গমন কমানো অত্যন্ত জরুরি একটি পদক্ষেপ অথচ আমরা আমাদের দায়িত্ববোধের পরিচয় দিচ্ছি না।

যখন পিচঢালা রাস্তা এবং গণপরিবহন নেটওয়ার্কের অবকাঠামো গলতে শুরু করে, তখন এটি ইঙ্গিত দেয় যে, আমাদের পৃথিবী এমন একটি জলবায়ুর জন্য তৈরি করা হয়েছিল যার অস্তিত্ব এখন আর নেই; যা আমরা নিজেরাই ধ্বংস করেছি। এর অর্থনৈতিক ক্ষতি যেমন আকাশচুম্বী, তেমনি মানবিক ক্ষতি আরও অনেক গুণ বেশি। দিনমজুর, কৃষি শ্রমিক এবং শহরের দরিদ্র মানুষ-যাঁরা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বুদবুদের মধ্যে আশ্রয় নিতে পারেন না- তাঁরাই এই তাপীয় আগ্রাসনের মূল শিকার হতে বাধ্য হন।

তাছাড়া, এই চরম উত্তাপ একটি দুষ্টচক্রের (Vicious Cycle) সূচনা করে যা হল: ১) উচ্চ তাপমাত্রার কারণে আরও বেশি এয়ার কন্ডিশনারের প্রয়োজন হয়; ২) শীতলীকরণ ব্যবস্থার বৃদ্ধি বৈদ্যুতিক গ্রিডের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং আরও বেশি জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ায়; এবং ৩) বেশি নির্গমন আরও বেশি তাপ আটকে রাখে, যা তাপমাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। এই চক্রটি ভাঙতে হলে আমরা যেভাবে জীবনযাপন করি, শহর গড়ে তুলি এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা করি, সেখানে একটি বিশাল পরিবর্তন আনতে হবে।

সচেতনতার গন্ডি পেরিয়ে এখন দরকার সঠিক পদক্ষেপ। কেবল সচেতনতা আর আমাদের বাঁচাতে পারবে না। আমরা হলাম মানব ইতিহাসের সবচেয়ে তথ্যসমৃদ্ধ প্রজন্ম; আমরা প্রতিদিন আমাদের ফোনে এই ধ্বংসলীলা প্রত্যক্ষ করছি। আমাদের তথ্যের কোন অভাব নেই, অভাব রয়েছে সম্মিলিত এবং আপসহীন বাস্তবায়নের। আমাদের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে এবং আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে, এই তিনটি স্তরে একযোগে কাজ করতে হবে:

১. পদ্ধতিগত জবাবদিহিতা ও নীতিগত রূপান্তর: ব্যক্তিগত জীবনধারার পরিবর্তন প্রশংসনীয় হলেও, শিল্পকারখানার নির্গমনের তুলনায় তা উষ্ণ হতে থাকা মহাসাগরে এক ফোঁটা পানির মতো। সরকারকে এমন আগ্রাসী নীতি কাঠামো তৈরি করতে হবে যা কার্বন উৎপাদনকে নিরুৎসাহিত করবে এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্পগুলোতে ভর্তুকি দেবে। এর অর্থ হলো জীবাশ্ম জ্বালানির ভর্তুকি বন্ধ করা, কর্পোরেশনগুলোর জন্য নেট-জিরো লক্ষ্যমাত্রা বাধ্যতামূলক করা এবং আগামী দিনের প্রতিকূল জলবায়ু সহ্য করতে পারে এমন পাবলিক অবকাঠামোতে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করা।

২. কর্পোরেট দায়িত্ব: বৈশ্বিক ব্যবসায়িক খাতকে পরিবেশগত স্থিতিশীলতার বিনিময়ে স্বল্পমেয়াদী মুনাফার পুরোনো মডেল থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রকৃত টেকসইতার জন্য প্রয়োজন সরবরাহ চেইনের সম্পূর্ণ সংস্কার, এমন এক ঘূর্ণায়মান অর্থনীতির (Circular Economy) দিকে যাত্রা যেখানে বর্জ্য পুরোপুরি দূর করা এবং শতভাগ নবায়নযোগ্য শক্তির উৎসের দিকে অবিলম্বে ধাবিত হওয়া। পাশাপাশি ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপন দরকার।

৩. নাগরিক ও সামাজিক সমাবেশ: ইতিহাস সাক্ষী দেয় যে, পরিবর্তন সবসময় তৃণমূল থেকে শুরু হয়। নাগরিক, ভোক্তা এবং ভোটার হিসেবে আমাদের হাতে বিশাল ক্ষমতা রয়েছে। আমাদের চারপাশের প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে আরও ভালো কিছু দাবি করার জন্য আমাদের কণ্ঠস্বর এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করতে হবে। আমাদের এমন নেতাদের ভোট দিতে হবে যাঁরা জলবায়ু সংকটকে জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করেন, এমন ব্যবসাকে সমর্থন করতে হবে যা পৃথিবীকে প্রাধান্য দেয় এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে টেকসই অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে: জাতিসংঘের মঞ্চে দাঁড়ানো সেই ভার্চুয়াল ডাইনোসর আমাদের কাছে একটি ভয়ানক প্রশ্ন রেখে গেছে: আপনারা কি আমাদের মতো পরিণতি মেনে নিতে চান? উত্তর যদি সমস্বরে ‘না’ হয়, তবে আমাদের আচরণে আজই সেই সিদ্ধান্তের প্রতিফলন ঘটতে হবে। সময় এমন কোনো বিলাসিতার বস্তু নয় যা আমাদের হাতে আছে। আমরা প্রতি ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধি যতটা রোধ করতে পারব, তা লক্ষ লক্ষ জীবন বাঁচাবে, অমূল্য বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করবে এবং আমাদের সন্তানদের জন্য একটি স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে। তাই এগিয়ে আসুন; আর সঠিক পদক্ষেপ নিন।

আমরা মানব ইতিহাসের এক অনন্য এবং ভয়ানক মোড়ে দাঁড়িয়ে আছি। আমরাই প্রথম প্রজন্ম যারা জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্র প্রভাব অনুভব করছি, এবং আমরাই শেষ প্রজন্ম যাদের হাতে এ বিষয়ে কিছু করার ক্ষমতা রয়েছে। আগামী কয়েক বছরে আমাদের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর প্রতিধ্বনি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বাজবে। আসুন আমরা নিশ্চিত করি যে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যখন এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের দিকে ফিরে তাকাবে, তখন তারা যেন আমাদের এমন এক প্রজাতি হিসেবে মনে না রাখে যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ঘর পুড়তে দেখেছে, বরং এমন এক প্রজাতি হিসেবে মনে রাখে যারা অবশেষে জেগে উঠেছিল, ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো বন্ধ করেছিল এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় পদক্ষেপ নিয়েছিল।

নিকোলাস বিশ্বাস একজন ডেভেলপমেন্ট প্রাক্টিশনার এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল মিডিয়া এ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত। যোগাযোগ: gonomaddyom@gmail.com

সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে পনেরো লক্ষাধিক টাকার মালামাল আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৩:৫১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে পনেরো লক্ষাধিক টাকার মালামাল আটক

পত্রদূত রিপোর্ট: শুক্রবার (০৩ জুলাই ২০২৬) সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধীনস্থ ভোমরা, কাকডাঙ্গা ও হিজলদী বিওপি এর টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করেছে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন হেডকোয়াটার জানায়, ভোমরা বিওপির বিশেষ আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার মন্দির নামক স্থান হতে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে। কাকডাঙ্গা বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার কেড়াগাছি হতে ৯ লাখ ১০ হাজার টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে।

এছাড়াও, হিজলদী বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার বড়ালি হতে ২ লাখ ১০ হাজার টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে। আটক পন্যের সর্বমোট মূল্য ১৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

বিজিবি আরো জানায়, চোরাকারবারী কর্তৃক বর্ণিত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করা হয়। এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী মাদক/চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিজিবি’র এরূপ দেশপ্রেমিক ও জনস্বার্থে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় জনগন সাধুবাদ জ্ঞাপন করে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন।