মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

স. ম. আলাউদ্দীন: এক অপূর্ণ ইতিহাসের নাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ২:১৬ অপরাহ্ণ
স. ম. আলাউদ্দীন: এক অপূর্ণ ইতিহাসের নাম

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

যে মাটিতে জন্ম নেয় কালজয়ী মানুষ, সে মাটির বুক চিরে কখনো কখনো বয়ে যায় অন্তহীন বেদনার নদী। সাতক্ষীরার বেতনা নদী, কপোতাক্ষের স্রোত আর সুন্দরবনের সবুজ কোলঘেঁষা এই জনপদ তেমনই এক বেদনার সাক্ষী। যে মানুষটি এই জনপদকে নিজের মেধা, শ্রম, স্বপ্ন ও রক্ত দিয়ে তিলোত্তমা করে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা স. ম. আলাউদ্দীন।

 

তিনি কেবল একজন রাজনীতিক ছিলেন না। তিনি ছিলেন একটি দর্শন, একটি আন্দোলন এবং সাতক্ষীরার উন্নয়নের এক চলমান স্বপ্ন। আজও তাঁর নাম উচ্চারিত হয় শ্রদ্ধা, বিস্ময় ও বেদনার মিশেলে। কারণ, যে মানুষটি সারাজীবন অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়েছেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার ছিলেন, তাঁর জীবন প্রদীপ নিভে যায় ১৯৯৬ সালের এক নির্মম রাতের অন্ধকারেÑঘাতকের বুলেটের আঘাতে।

 

আজ তিন দশক পরেও সেই শূন্যতা পূরণ হয়নি। বরং সময় যত এগিয়েছে, ততই স্পষ্ট হয়েছেÑতিনি ছিলেন কেবল একজন ব্যক্তি নন; ছিলেন এক যুগের প্রতিনিধি। ১৯৪৫ সালের ২৯ আগস্ট (১৩৫২ বঙ্গাব্দের ১৫ ভাদ্র) সাতক্ষীরার তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নের মিঠাবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন স. ম. আলাউদ্দীন। পিতা সৈয়দ আলী সরদার এবং মাতা সখিনা খাতুনের জ্যেষ্ঠ সন্তান হিসেবে তিনি বেড়ে ওঠেন এক শিক্ষানুরাগী ও নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন পরিবারে। গ্রামের মাটি, নদী আর সাধারণ মানুষের জীবনই ছিল তাঁর প্রথম পাঠশালা।

 

শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী, প্রশ্নপ্রবণ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে সাহসী। শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপে তিনি নিজের সক্ষমতার প্রমাণ রাখেন। কলারোয়া হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক, সাতক্ষীরা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক এবং খুলনার ঐতিহ্যবাহী বিএল কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এই শিক্ষাই তাঁর ভেতরে গড়ে তোলে একটি প্রগতিশীল, মানবিক এবং সমাজমুখী চিন্তার ভিত্তি।

 

ছাত্রজীবনেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশনবিরোধী আন্দোলন তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রথম বড় অভিজ্ঞতা। এরপর ছয় দফা, এগারো দফা ও ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে তিনি ছিলেন সক্রিয় রাজপথের সৈনিক। ১৯৬৭ সালে ছাত্রলীগে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা আনুষ্ঠানিক রূপ পায়। পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন।

 

তাঁর সবচেয়ে আলোচিত অর্জন আসে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে। মাত্র ২৫ বছর বয়সে তিনি তালা-কলারোয়া এলাকা থেকে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এটি শুধু একটি নির্বাচন জয় ছিল নাÑএটি ছিল জনগণের আস্থার প্রতীক। ১৯৭১ সালের মার্চে পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণের পর তিনি আর ঘরে বসে থাকেননি। মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। ৮ ও ৯ নম্বর সেক্টরের অধীনে তিনি সক্রিয়ভাবে যুদ্ধ করেন। অস্ত্র সংগ্রহ, মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করা এবং প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

 

তাঁর সাহসিকতা এতটাই ছিল যে, সামরিক আদালত তাঁকে অনুপস্থিতিতে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদ- দেয় এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে। কিন্তু এই শাস্তি তাঁকে থামাতে পারেনি। তিনি বিশ্বাস করতেনÑস্বাধীনতা কোনো আপসের বিষয় নয়, এটি সংগ্রামের ফসল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও তাঁর লড়াই থামেনি। এবার যুদ্ধ ছিল উন্নয়ন, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক মুক্তির।তিনি শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। কিন্তু খুব দ্রুতই বুঝতে পারেন, প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা বেকারত্ব বাড়াচ্ছে। তখনই তিনি কর্মমুখী শিক্ষার ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করেন।

 

১৯৯৫ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন “বঙ্গবন্ধু পেশাভিত্তিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ”। এখানে তিনি একটি নতুন শিক্ষা দর্শন প্রবর্তন করেনÑশিক্ষার সঙ্গে দক্ষতা, উৎপাদন এবং আত্মনির্ভরতা যুক্ত করা। তিনি চাইতেনÑএকজন শিক্ষার্থী শুধু ডিগ্রি নয়, একটি পেশা নিয়ে বের হবে।স. ম. আলাউদ্দীনের সবচেয়ে বড় অবদান সম্ভবত অর্থনৈতিক উন্নয়নে।

তিনি বিশ্বাস করতেন, উন্নয়ন শুধু দাবি করে হয় না, উদ্যোগ নিতে হয়। কাপাসডাঙ্গায় প্রতিষ্ঠা করেন “আলাউদ্দীন ফুডস অ্যান্ড কেমিক্যাল”। এটি স্থানীয় কর্মসংস্থানের একটি বড় কেন্দ্র হয়ে ওঠে। কিন্তু তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্বপ্ন ছিল ভোমরা স্থলবন্দর। তাঁর নেতৃত্ব ও উদ্যোগেই ভোমরা আজ বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান স্থলবন্দর হিসেবে পরিচিত। এই বন্দর শুধু অর্থনৈতিক কেন্দ্র নয়Ñএটি সাতক্ষীরার ভাগ্য পরিবর্তনের একটি মাইলফলক। তিনি সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স ও ভোমরা স্থলবন্দর ব্যবহারকারী সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।

 

সাতক্ষীরার কৃষি ও জলাবদ্ধতা সমস্যা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিত। তিনি গুচ্ছ সেচ ব্যবস্থা, পরিকল্পিত চিংড়ি চাষ, হ্যাচারি উন্নয়ন এবং বেতনা নদী খননের মতো উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি জানতেন, নদী বাঁচলে কৃষি বাঁচবে, কৃষি বাঁচলে মানুষ বাঁচবে। ১৯৯৫ সালের ২৩ জানুয়ারি তিনি প্রতিষ্ঠা করেন দৈনিক পত্রদূত। এই পত্রিকা ছিল শুধু সংবাদমাধ্যম নয়Ñছিল গণমানুষের কণ্ঠস্বর। দুর্নীতি, অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে এই পত্রিকা ছিল আপসহীন। কিন্তু এই সত্য উচ্চারণই একদিন তাঁর জীবনের জন্য হয়ে ওঠে ঝুঁকিপূর্ণ।

স. ম. আলাউদ্দীনকে নিয়ে ইতিহাস অনেক কিছু বলে, কিন্তু স্মৃতি বলে আরও গভীর সত্য।
প্রেস ক্লাবের সামনে পত্রদূত অফিসÑসেখানে আমি তখন লেখালেখি শুরু করেছি। নবীন একজন লেখক হিসেবে প্রতিদিন নতুন কিছু শিখছি। একদিন তিনি আমাকে ডেকে বললেন,
“লেখ, তোমার লেখার গতি আরও বাড়াতে হবে।” কথাটি খুব সাধারণ, কিন্তু তার প্রভাব ছিল অসাধারণ। তিনি সমালোচনা করেননি, নিরুৎসাহ করেননিÑতিনি পথ দেখিয়েছেন। সেই একটি বাক্য আজও অনুপ্রেরণা হয়ে আছে।

 

পত্রদূত কেবল একটি অফিস ছিল নাÑএটি ছিল সাংবাদিক তৈরির পাঠশালা। আজ অনেক প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিকের শুরুর গল্প এই পত্রদূতের সঙ্গে জড়িত। আরেকটি ঘটনা আজও স্পষ্ট মনে পড়ে। আলাউদ্দীন ফুডসের ডিলার ছিলেন চম্পক দেবনাথ। বুধহাটা বেতনা নদীর খেয়াঘাট দিয়ে ট্রলারে মালামাল যেত বড়দল বাজারে। তখন নদীপথই ছিল যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। এক শনিবার গভীর রাতেÑপ্রায় ভোর চারটা। আমাকে খবর দেওয়া হলো বুধহাটা খেয়াঘাটে যেতে। সেখানে গিয়ে যা দেখলাম, তা আজও ভুলিনি। হাঁটুসমান কাদার মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন স. ম. আলাউদ্দীন। কোনো গার্ড, কোনো গাড়ি, কোনো প্রটোকল নয়Ñতিনি নিজে মাঠে। তিনি আমাকে কাছে ডেকে বললেন, “চম্পক ও মানুদের ডিলারশিপটা দিয়েছি, এদের দিকে একটু খেয়াল রেখ।”

এই একটি বাক্য তাঁর পুরো চরিত্রকে ব্যাখ্যা করে দেয়। তিনি শুধু নেতা ছিলেন নাÑছিলেন অভিভাবক। ১৯৯৬ সালের ১৯ জুন রাত ১০টা ২৩ মিনিট। সাতক্ষীরা শহরের দৈনিক পত্রদূত কার্যালয়ে তিনি কাজ করছিলেন। চারপাশ ছিল নীরব।হঠাৎ অন্ধকার ভেদ করে আসে ঘাতকের বুলেট। তিনি লুটিয়ে পড়েন নিজের অফিসের মেঝেতে। রাত ১০টা ২৩ মিনিটে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। সেই মুহূর্তে থেমে যায় সাতক্ষীরার এক উজ্জ্বল অধ্যায়।সময়ের পরিবর্তনে অনেক নেতা বিস্মৃত হন, কিন্তু কিছু মানুষ সময়ের ঊর্ধ্বে উঠে যান। স. ম. আলাউদ্দীন তেমনই একজন।কারণ তিনি শুধু কথা বলেননি, কাজ করেছেন। তিনি শুধু স্বপ্ন দেখেননি, স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছেন।

ভোমরা বন্দর, কর্মমুখী শিক্ষা, শিল্পায়ন, গণমাধ্যম, কৃষি উন্নয়নÑসবখানে তাঁর পদচিহ্ন স্পষ্ট।
স. ম. আলাউদ্দীন আজ নেই, কিন্তু তাঁর স্বপ্ন বেঁচে আছে। সাতক্ষীরার বাতাসে, নদীর জলে, মানুষের কথায়, উন্নয়নের প্রতিটি ধাপে তাঁর উপস্থিতি অনুভূত হয়। তিনি শিখিয়ে গেছেনÑএকজন মানুষ চাইলে একটি অঞ্চল বদলে দিতে পারে। তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন কোনো পদ বা ক্ষমতা নয়Ñমানুষের ভালোবাসা। আজও ১৯ জুন এলে মানুষ তাঁর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানায়।

কিন্তু প্রকৃত শ্রদ্ধা হবে তাঁর অসমাপ্ত স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করা।স. ম. আলাউদ্দীনÑএকটি নাম, একটি ইতিহাস, একটি অমর প্রেরণা।

লেখক: সংবাদ কর্মী

 

Ads small one

হারিয়ে যাওয়া আভিজাত্য: অন্দরমহলের ‘গোলাপ জাম’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ
হারিয়ে যাওয়া আভিজাত্য: অন্দরমহলের ‘গোলাপ জাম’

তারিক ইসলাম

‎শহুরে ব্যস্ততা কিংবা আধুনিক ফলের ভিড়ে আমরা অনেকেই হয়তো ভুলে যেতে বসেছি এমন এক ফলের নাম, যা একসময় এদেশের বনে-বাদাড়ে কিংবা বাড়ির আঙিনায় হরহামেশাই দেখা যেত। ফলটির নাম ‘গোলাপ জাম’। শুধু নামেই নয়, এর রূপ এবং সুবাসেও জড়িয়ে আছে এক রাজকীয় আভিজাত্য। কাঁচা অবস্থায় হালকা সবুজ আর পাকলে ঈষৎ হলদেটে বা গোলাপি আভা ধারণ করা এই ফলটি মুখে দিলে সত্যিই মনে হয় কোনো গোলাপের নির্যাস আস্বাদন করা হচ্ছে। অথচ কালের বিবর্তনে আমাদের চেনা প্রকৃতির বুক থেকে এই ফলটি আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে।

‎উদ্ভিদবিজ্ঞানের ভাষায় গোলাপ জামের বৈজ্ঞানিক নাম ঝুুুমরঁস লধসনড়ং। এটি মূলত ‘মির্টাসি’ গোত্রের একটি চিরহরিৎ বৃক্ষ। বৈশ্বিক পরিমন্ডলে এটি ‘রোজ অ্যাপল’ কিংবা ‘মালাবার প্লাম’ নামে পরিচিত হলেও, আমাদের উপমহাদেশে এর পরিচয় মূলত ‘গোলাপ জাম’ বা ‘গুলাব জামুন’ হিসেবে। দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে এটিকে পরম মমতায় ‘মেওয়া ফল’ বলেও ডাকা হয়। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, ফিলিপাইন, চীন, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়ায় এই গাছটি প্রাকৃতিকভাবেই দারুণভাবে মানিয়ে নেয়।

‎ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, এই গোলাপ জামের রয়েছে এক গৌরবময় অতীত। একসময় মোগল বা সুলতানি আমলের রাজা-বাদশাহদের হেরেমখানা কিংবা অন্দরমহলের অত্যন্ত প্রিয় এবং অভিজাত ফল ছিল এটি। এর তীব্র মিষ্টি সুবাস এবং রসালো স্বাদের কারণে রাজকীয় বাগিচায় এই গাছের ঠাঁই হতো সবার আগে। গ্রীষ্মের দাবদাহ শেষে যখন বর্ষার আগমন ঘটে, ঠিক তখনই বাজারে বা গাছে উঁকি দেয় এই ফল। এটি শুধু খেতেই সুস্বাদু নয়, এর রয়েছে দারুণ কিছু ঔষধি গুণ ও পুষ্টিগুণ। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ ও ক্যালসিয়াম রয়েছে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও হাড়ের গঠনে সাহায্য করে।

‎দুর্ভাগ্যবশত, বর্তমান প্রজন্মের অনেকের কাছেই গোলাপ জাম একটি অচেনা নাম। দ্রুত নগরায়ণ, নির্বিচারে গাছ কাটা এবং বাণিজ্যিক ফলের জোয়ারে এই ঐতিহ্যবাহী দেশি ফলটি আজ কোণঠাসা। বাণিজ্যিকভাবে চাষ না হওয়ায় নতুন করে কেউ আর গোলাপ জামের চারা রোপণ করতে আগ্রহী হচ্ছেন না। ফলে পুরোনো গাছগুলো মরে যাওয়ার সাথে সাথে আমাদের প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে একটি সুমিষ্ট অধ্যায়।

‎আমাদের দেশীয় ফলের বৈচিত্র্য রক্ষা করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এই রাজকীয় ফলের স্বাদ ও ইতিহাস পৌঁছে দেওয়া এখন সময়ের দাবি। সরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন নার্সারি বা বোটানিক্যাল গার্ডেনে গোলাপ জামের বংশবৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের মাঝে এর চারা বিতরণ করা প্রয়োজন। একই সাথে, বাড়ির আঙিনায় বা ছাদবাগানে শখের বশে হলেও এই গাছটি রোপণ করে আমরা ফিরিয়ে আনতে পারি অন্দরমহলের সেই প্রাচীন সুবাস। আমাদের উদাসীনতায় হারিয়ে না যাক প্রকৃতির এই অনন্য উপহার; বেঁচে থাকুক গোলাপ জাম, টিকে থাকুক আমাদের চেনা বাংলার সবুজ ঐতিহ্য।

‎লেখক: তারিক ইসলাম, ‎সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

 

শাপলার ডাটা থেকে ঢ্যাপের ভাত : নিম্নবিত্তের স্মৃতিকাতরতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৪:০৬ অপরাহ্ণ
শাপলার ডাটা থেকে ঢ্যাপের ভাত : নিম্নবিত্তের স্মৃতিকাতরতা

আখলাকুর রহমান

আমাদের সাতক্ষীরার বিস্তীর্ণ বিল, ঘের আর গ্রামীণ খালের দিকে তাকালে আজ বুকটা এক তীব্র হাহাকারে মোচড় দিয়ে ওঠে। যে জলমহালগুলো একসময় শরতের ভোরে হাজারো সাদা শাপলার শুভ্র চাদরে ঢেকে থাকত, যেখানে চোখ মেললেই মনে হতো আকাশের নক্ষত্রগুলো বুঝি মাটির বুকে নেমে এসেছে, আজ সেখানে শুধুই বাণিজ্যিক মৎস্য ঘেরের নিস্প্রাণ কড়া পাহারা আর কৃত্রিম রাসায়নিকের গন্ধ। আমাদের শৈশবের সেই চিরচেনা শুভ্রতার প্রতীক, জাতীয় ফুল সাদা শাপলা আজ সাতক্ষীরার বুক থেকে প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে।

 

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ইছামতী’ বা ‘আরণ্যক’ উপন্যাসের সেই প্রান্তিক চরিত্রগুলোর কথা মনে পড়ে, যারা প্রকৃতির এই অকৃপণ দানকে ভালোবেসে বুক পেতে নিত। ঠিক তেমনি আমাদের গ্রামের ডানপিটে ছেলেরাও সাতক্ষীরার মেঘলা দিনে বিলের জলে ডুব দিয়ে শাপলা তুলতে গিয়ে মায়ের কড়া বকুনি খেত। কিন্তু সেই বকুনিকে এক কান দিয়ে উড়িয়ে দিয়ে, বুকসমান জল পেরিয়ে, কাঁপুনি ধরা শরীরে যখন একগুচ্ছ ভেজা শাপলা হাতে তারা মেঠোপথ ধরে বাড়ির পানে ছুটত, তখন তাদের চোখেমুখে থাকত এক স্বর্গীয় বিজয়ের আনন্দ। এই শাপলা তো কেবল ফুল ছিল না, ওটা ছিল আমাদের গ্রামীণ সাতক্ষীরার রূপের আসল অলংকার, আমাদের নিঃশ্বাসের সাথে জড়িয়ে থাকা এক অবিচ্ছেদ্য অস্তিত্ব।

আজ সেই চিরন্তন স্বপ্নিল দৃশ্যগুলো আমরা আর দেখি না, যার প্রধান কারণ হলো অপরিকল্পিত ও অতি-বাণিজ্যিক মৎস্য ঘেরের আগ্রাসন। ঘেরের মালিকরা নিজেদের ক্ষণস্থায়ী মুনাফার স্বার্থে পুকুর ও ঘেরের জলজ উদ্ভিদ সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে ফেলে, যার ফলে শাপলার কন্দ বা মূল মাটির নিচে অঙ্কুরিত হওয়ার সুযোগই পায় না। অথচ একটি পুকুর বা ঘেরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং তার চিরন্তন সৌন্দর্য ধরে রাখতে শাপলা ফুলের কোনো বিকল্প ছিল না। শুধু কি চোখের আরাম? আমাদের রসনাবিলাসেও এই ফুলটির ডাটা এক অনন্য জায়গা দখল করে ছিল। বর্ষার দিনে বিল থেকে তুলে আনা তাজা শাপলার ডাটা আঁশ ছাড়িয়ে, ছোট ছোট কুচি চিংড়ি মাছ দিয়ে যখন মা মাটির চুলোয় রান্না করতেন, তখন সেই তরকারির যে অমৃত স্বাদ হতো, তার সাথে আজকের কোনো দামি রেস্তোরাঁর খাবারের তুলনা চলে না। কত শত দিন যে ঘ্যানঘ্যান করে মায়ের কাছে এই শাপলা-চিংড়ির আবদার করেছি এবং তৃপ্তি ভরে খেয়েছি, তার কোনো ইয়ত্তা নেই।

শাপলা ফুলের এই মহাকাব্যে সবচেয়ে মধুর আর বেদনার অংশটি জুড়ে আছে তার ফল, যাকে আমাদের সাতক্ষীরার আঞ্চলিক ভাষায় আমরা ‘ঢ্যাপ’ বলে ডাকি। এই ঢ্যাপের ভেতরে থাকা ছোট ছোট কালো বীজগুলোকে রোদে শুকিয়ে, খড়খড়ে করে ভেজে যখন মুড়ির মতো ফোটানো হতো, তখন তাকে বলা হতো ‘ঢ্যাপের খৈ’। সেই খৈয়ের সুবাস আর নলেন গুড়ের মোয়া ছিল গ্রামীণ শৈশবের পরম বিলাসিতা। তবে এই ঢ্যাপের আরেকটি নির্মম পিঠও ছিল, যা আমাদের গ্রামীণ সমাজের চিরন্তন অভাব আর লড়াইয়ের অমোঘ সাক্ষী। এই সাতক্ষীরারই বহু নিম্নবিত্ত পরিবারে যখন চালের হাঁড়ি শূন্য থাকত, ঘরের কোণে এক ছটাক চালও জুটত না, তখন এই ঢ্যাপের বীজকে চালের মতো করে ফুটিয়ে ভাতের বিকল্প হিসেবে রান্না করা হতো। কত শত পরিবার যে এই ঢ্যাপের ভাত খেয়ে দিনের পর দিন, বেলার পর বেলা পার করে দিয়েছে, তার নীরব সাক্ষী হয়ে আজো দাঁড়িয়ে আছে আমাদের বিলের কালো মাটি।

দুর্ভাগ্যবশত, আজকের নতুন প্রজন্ম এই ঢ্যাপের স্বাদ তো দূরের কথা, এর নামটুকুও চেনে না। সাতক্ষীরার মানুষ আজ তাদের সেই অতি চেনা, অতি আবেগের সুদিনগুলোকে বড্ড বেশি মিস করে। একটি ফুল কীভাবে একটা গোটা প্রজন্মের শৈশব, তাদের আনন্দ, তাদের ক্ষুধা আর তাদের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের ইতিহাসকে নিজের বুকে ধারণ করে রাখতে পারে, শাপলা ফুল তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে এবং আমাদের সচেতন সমাজের কাছে আজ বিনীত অনুরোধ, কেবল বাণিজ্যের অন্ধ মোহে অন্ধ না হয়ে, আমাদের সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী জলাশয় ও পুকুরগুলোর প্রাকৃতিক রূপ ফিরিয়ে দিন। ঘেরের এক কোণে হলেও শাপলা ফুটতে দিন, যেন আমাদের আগামী প্রজন্ম আবার খনার বচনের মতো প্রকৃতির সান্নিধ্যে বড় হতে পারে। এই স্থানীয় পত্রিকার পাতার মাধ্যমে সাতক্ষীরার প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে এই সুপ্ত বিবেক জাগিয়ে তোলা আজ বড় বেশি প্রয়োজন, যাতে আমাদের ঘরের শাপলা আবার আমাদের বিলের চাদর হয়ে ফিরে আসে।

লেখা: আখলাকুর রহমান, উদ্যোক্তা ও স্বপ্নদ্রষ্টা : আসিফা

 

 

বর্ষাকাল উপকূলীয় মানুষের জন্য বিপদসংকুল সময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৪:০১ অপরাহ্ণ
বর্ষাকাল উপকূলীয় মানুষের জন্য বিপদসংকুল সময়

প্রকাশ ঘোষ বিধান

বর্ষাকাল বাংলাদেশের উপকূলীয় মানুষের জন্য অত্যন্ত বিপদসংকুল ও ঝুঁকিপূর্ণ সময়। সমুদ্র উত্তাল থাকে এবং পূর্ণিমা ও অমাবস্যার জোয়ারের প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উচ্চতার জোয়ারের পানি উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করে। সক্রিয় মৌসুমী বায়ু, ভারী বৃষ্টিপাত এবং সমুদ্রের বৈরী পরিবেশের কারণে এই সময়ে উপকূলের জনজীবনে চরম ভোগান্তি ও বিপর্যয় নেমে আসে।

বর্ষাকালে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ ও সাইক্লোন সৃষ্টি হয়, যা বিশাল জলোচ্ছ্বাস নিয়ে উপকূলে আঘাত হানে। জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধগুলো পানির তীব্র চাপে ভেঙে যায় এবং মাইলের পর মাইল এলাকা প্লাবিত হয়। ভৌগোলিক অবস্থান এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের চরম আঘাত এই সময়ে উপকূলের বাসিন্দাদের নানামুখী তীব্র সংকটের মুখোমুখি হতে হয়।

বর্ষায় বাংলাদেশের উপকূলবর্তী এলাকার মানুষের জীবন হয়ে ওঠে চরম সংকটাপন্ন ও বিপর্যস্ত। মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে নিয়মিত বৃষ্টি, পূর্ণিমার অস্বাভাবিক জোয়ার, এবং ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাসের কারণে প্রতি বছর উপকূলীয় জনপদের হাজার হাজার মানুষকে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হয়। এই সময়ে সাগরে সৃস্ট ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নড়বড়ে বেড়িবাঁধের সাথে যুদ্ধ করে তাদের টিকে থাকতে হয়। বর্ষার আগমনে উপকূলের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।

বর্ষায় আকাশের কালো মেঘ এবং উপকূলের কান্না এক আবেগঘন দৃশ্য। আকাশে কালো মেঘ জমে প্রকৃতির রূপ যেমন থমথমে ও বিষণœ হয়ে ওঠে, তেমনি উপকূলের কান্না প্রকৃতির দুর্যোগ বা মানুষের দুঃখ-দুর্দশার প্রতীক। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষত আর উপকূলের কান্না ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস বা অবিরাম বর্ষণে উপকূলবাসীর ঘরবাড়ি ও জীবনের যে ক্ষতি হয়, তাকে বোঝায়। বর্ষায় এ অভিগজ্ঞতা উপকূলবাসীর জন্য নতুন কিছু নয়।

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের কাছে বর্ষায় কালো মেঘ সবসময়ই আতঙ্কের নাম। আকাশজুড়ে যখন ভারী কালো মেঘ জমে, তখন চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসে এবং শুরু হয় অঝোর বৃষ্টি। ঝড়-বৃষ্টি, জলোচ্ছ্বাস আর বাঁধ ভাঙা নদীর রূপ তাদের জীবনে নিয়ে আসে কান্না ও হাহাকার। উত্তাল সমুদ্রের গর্জন, উপকূলের ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ আর বর্ষার দুর্যোগে তাদের ঘরবাড়ি হারানোর ভয়, সব মিলিয়ে এটি হয়ে ওঠে উপকূলের মানুষের দীর্ঘশ্বাসের প্রতিচ্ছবি।

গ্রীষ্মের দাবদাহ শেষে যখন আকাশ ভারী কালো মেঘে ঢেকে যায়, তখন চারপাশ এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতায় ছেয়ে যায়। কালো মেঘের আড়ালে বিদ্যুতের চমকানি আর গর্জনে প্রকৃতি যেন তার রুদ্র রূপ প্রকাশ করে। মেঘলা দিনের এই থমথমে রূপ মানুষের মনে লুকানো বিষাদ ও গভীর আবেগ জাগিয়ে তোলে। সাগরের উত্তাল ঢেউ আর উপকূলের ভাঙন যেন মানুষের না বলা কষ্টের কান্না। বর্ষার মেঘের মতোই উপকূলের মানুষের হাহাকার আর অশ্রু মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়।

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসরত লাখ লাখ মানুষের জীবনপ্রবাহ প্রতি মুহূর্তে জলবায়ু পরিবর্তন এবং ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে লড়াই করে টিকে থাকতে হয়। অতিবৃষ্টি ও প্রবল বাতাসে কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ে। অনেক পরিবারকে পলিথিন টাঙিয়ে বা অন্যের বাড়িতে মানবেতর জীবন কাটাতে হয়। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততার মতো স্থায়ী সমস্যাগুলো তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী।

অধিকাংশ উপকূলীয় এলাকায় বেড়িবাঁধ অত্যন্ত নাজুক বা জরাজীর্ণ। বর্ষার জোয়ারের পানি ও প্রবল বৃষ্টিতে এই বাঁধ ভেঙে বা উপচে লোকালয় ও ফসলি জমি তলিয়ে যায়, যার ফলে ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়। জোয়ারের নোনা পানি বাড়ির আঙিনা ও পুকুরে ঢুকে পড়ে। এর ফলে বর্ষার সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দেয় এবং পানিবন্দী মানুষদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়। বছরের এ সময়টাতে উপকূলীয় এলাকায় ডায়রিয়া, আমাশয় ও চর্মরোগের প্রকোপ বাড়ে। বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং স্যাঁতসেঁতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলে।

 

বর্ষায় নদী উত্তাল থাকায় জেলেরা মাছ ধরতে যেতে পারেন না। এছাড়া জলোচ্ছ্বাসের পানিতে ভেসে যায় চিংড়ি ঘের ও ফসলি জমি। এতে কর্মহীন হয়ে পড়া নিম্ন আয়ের মানুষের ঘরে ঘরে তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দেয়। ভাঙনপ্রবণ এলাকায় বর্ষা এলেই নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। অনেক পরিবার চোখের পলকে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায়।

সিডর, আইলা, আম্ফান বা রেমালের মতো প্রবল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়গুলো বারবার আঘাত হেনে উপকূলের বেড়িবাঁধ ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে। ফলে জোয়ারের নোনা পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে, ফসল ও মাছের ঘের তলিয়ে যায়। দুর্যোগের পরে সবচেয়ে বড় দুর্ভোগ দেখা দেয় বিশুদ্ধ পানির। লবণাক্ত পানির কারণে চর্মরোগ ও পানিবাহিত রোগ মহামারি আকার ধারণ করে। লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে কৃষিজমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে স্থানীয় কৃষকরা ফসল ফলাতে পারে না। ফলে পেশা হারিয়ে বাধ্য হয়ে অনেকে পরিবেশগত উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়।

জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধ এবং প্রয়োজনের তুলনায় সাইক্লোন সেন্টারের স্বল্পতার কারণে মানুষ চরম আতঙ্কে থাকে। দুর্যোগের পর ত্রাণ সহায়তা পৌঁছাতেও নানাবিধ আমলাতান্ত্রিক ও পরিবহন জটিলতা দেখা দেয়, যার ফলে ভুক্তভোগীরা দীর্ঘমেয়াদী কষ্টের মধ্যে পড়েন। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য ম্যানুয়াল পদ্ধতি ও উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয়ে টেকসই কংক্রিটের বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নিরাপদ পানির স্থায়ী ব্যবস্থা এবং কার্যকরী সাইক্লোন সেন্টার তৈরি করা সবচেয়ে জরুরি।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট