বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

স. ম. আলাউদ্দীন: এক অপূর্ণ ইতিহাসের নাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ২:১৬ অপরাহ্ণ
স. ম. আলাউদ্দীন: এক অপূর্ণ ইতিহাসের নাম

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

যে মাটিতে জন্ম নেয় কালজয়ী মানুষ, সে মাটির বুক চিরে কখনো কখনো বয়ে যায় অন্তহীন বেদনার নদী। সাতক্ষীরার বেতনা নদী, কপোতাক্ষের স্রোত আর সুন্দরবনের সবুজ কোলঘেঁষা এই জনপদ তেমনই এক বেদনার সাক্ষী। যে মানুষটি এই জনপদকে নিজের মেধা, শ্রম, স্বপ্ন ও রক্ত দিয়ে তিলোত্তমা করে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা স. ম. আলাউদ্দীন।

 

তিনি কেবল একজন রাজনীতিক ছিলেন না। তিনি ছিলেন একটি দর্শন, একটি আন্দোলন এবং সাতক্ষীরার উন্নয়নের এক চলমান স্বপ্ন। আজও তাঁর নাম উচ্চারিত হয় শ্রদ্ধা, বিস্ময় ও বেদনার মিশেলে। কারণ, যে মানুষটি সারাজীবন অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়েছেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার ছিলেন, তাঁর জীবন প্রদীপ নিভে যায় ১৯৯৬ সালের এক নির্মম রাতের অন্ধকারেÑঘাতকের বুলেটের আঘাতে।

 

আজ তিন দশক পরেও সেই শূন্যতা পূরণ হয়নি। বরং সময় যত এগিয়েছে, ততই স্পষ্ট হয়েছেÑতিনি ছিলেন কেবল একজন ব্যক্তি নন; ছিলেন এক যুগের প্রতিনিধি। ১৯৪৫ সালের ২৯ আগস্ট (১৩৫২ বঙ্গাব্দের ১৫ ভাদ্র) সাতক্ষীরার তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নের মিঠাবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন স. ম. আলাউদ্দীন। পিতা সৈয়দ আলী সরদার এবং মাতা সখিনা খাতুনের জ্যেষ্ঠ সন্তান হিসেবে তিনি বেড়ে ওঠেন এক শিক্ষানুরাগী ও নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন পরিবারে। গ্রামের মাটি, নদী আর সাধারণ মানুষের জীবনই ছিল তাঁর প্রথম পাঠশালা।

 

শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী, প্রশ্নপ্রবণ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে সাহসী। শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপে তিনি নিজের সক্ষমতার প্রমাণ রাখেন। কলারোয়া হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক, সাতক্ষীরা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক এবং খুলনার ঐতিহ্যবাহী বিএল কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এই শিক্ষাই তাঁর ভেতরে গড়ে তোলে একটি প্রগতিশীল, মানবিক এবং সমাজমুখী চিন্তার ভিত্তি।

 

ছাত্রজীবনেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশনবিরোধী আন্দোলন তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রথম বড় অভিজ্ঞতা। এরপর ছয় দফা, এগারো দফা ও ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে তিনি ছিলেন সক্রিয় রাজপথের সৈনিক। ১৯৬৭ সালে ছাত্রলীগে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা আনুষ্ঠানিক রূপ পায়। পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন।

 

তাঁর সবচেয়ে আলোচিত অর্জন আসে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে। মাত্র ২৫ বছর বয়সে তিনি তালা-কলারোয়া এলাকা থেকে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এটি শুধু একটি নির্বাচন জয় ছিল নাÑএটি ছিল জনগণের আস্থার প্রতীক। ১৯৭১ সালের মার্চে পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণের পর তিনি আর ঘরে বসে থাকেননি। মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। ৮ ও ৯ নম্বর সেক্টরের অধীনে তিনি সক্রিয়ভাবে যুদ্ধ করেন। অস্ত্র সংগ্রহ, মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করা এবং প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

 

তাঁর সাহসিকতা এতটাই ছিল যে, সামরিক আদালত তাঁকে অনুপস্থিতিতে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদ- দেয় এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে। কিন্তু এই শাস্তি তাঁকে থামাতে পারেনি। তিনি বিশ্বাস করতেনÑস্বাধীনতা কোনো আপসের বিষয় নয়, এটি সংগ্রামের ফসল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও তাঁর লড়াই থামেনি। এবার যুদ্ধ ছিল উন্নয়ন, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক মুক্তির।তিনি শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। কিন্তু খুব দ্রুতই বুঝতে পারেন, প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা বেকারত্ব বাড়াচ্ছে। তখনই তিনি কর্মমুখী শিক্ষার ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করেন।

 

১৯৯৫ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন “বঙ্গবন্ধু পেশাভিত্তিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ”। এখানে তিনি একটি নতুন শিক্ষা দর্শন প্রবর্তন করেনÑশিক্ষার সঙ্গে দক্ষতা, উৎপাদন এবং আত্মনির্ভরতা যুক্ত করা। তিনি চাইতেনÑএকজন শিক্ষার্থী শুধু ডিগ্রি নয়, একটি পেশা নিয়ে বের হবে।স. ম. আলাউদ্দীনের সবচেয়ে বড় অবদান সম্ভবত অর্থনৈতিক উন্নয়নে।

তিনি বিশ্বাস করতেন, উন্নয়ন শুধু দাবি করে হয় না, উদ্যোগ নিতে হয়। কাপাসডাঙ্গায় প্রতিষ্ঠা করেন “আলাউদ্দীন ফুডস অ্যান্ড কেমিক্যাল”। এটি স্থানীয় কর্মসংস্থানের একটি বড় কেন্দ্র হয়ে ওঠে। কিন্তু তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্বপ্ন ছিল ভোমরা স্থলবন্দর। তাঁর নেতৃত্ব ও উদ্যোগেই ভোমরা আজ বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান স্থলবন্দর হিসেবে পরিচিত। এই বন্দর শুধু অর্থনৈতিক কেন্দ্র নয়Ñএটি সাতক্ষীরার ভাগ্য পরিবর্তনের একটি মাইলফলক। তিনি সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স ও ভোমরা স্থলবন্দর ব্যবহারকারী সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।

 

সাতক্ষীরার কৃষি ও জলাবদ্ধতা সমস্যা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিত। তিনি গুচ্ছ সেচ ব্যবস্থা, পরিকল্পিত চিংড়ি চাষ, হ্যাচারি উন্নয়ন এবং বেতনা নদী খননের মতো উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি জানতেন, নদী বাঁচলে কৃষি বাঁচবে, কৃষি বাঁচলে মানুষ বাঁচবে। ১৯৯৫ সালের ২৩ জানুয়ারি তিনি প্রতিষ্ঠা করেন দৈনিক পত্রদূত। এই পত্রিকা ছিল শুধু সংবাদমাধ্যম নয়Ñছিল গণমানুষের কণ্ঠস্বর। দুর্নীতি, অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে এই পত্রিকা ছিল আপসহীন। কিন্তু এই সত্য উচ্চারণই একদিন তাঁর জীবনের জন্য হয়ে ওঠে ঝুঁকিপূর্ণ।

স. ম. আলাউদ্দীনকে নিয়ে ইতিহাস অনেক কিছু বলে, কিন্তু স্মৃতি বলে আরও গভীর সত্য।
প্রেস ক্লাবের সামনে পত্রদূত অফিসÑসেখানে আমি তখন লেখালেখি শুরু করেছি। নবীন একজন লেখক হিসেবে প্রতিদিন নতুন কিছু শিখছি। একদিন তিনি আমাকে ডেকে বললেন,
“লেখ, তোমার লেখার গতি আরও বাড়াতে হবে।” কথাটি খুব সাধারণ, কিন্তু তার প্রভাব ছিল অসাধারণ। তিনি সমালোচনা করেননি, নিরুৎসাহ করেননিÑতিনি পথ দেখিয়েছেন। সেই একটি বাক্য আজও অনুপ্রেরণা হয়ে আছে।

 

পত্রদূত কেবল একটি অফিস ছিল নাÑএটি ছিল সাংবাদিক তৈরির পাঠশালা। আজ অনেক প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিকের শুরুর গল্প এই পত্রদূতের সঙ্গে জড়িত। আরেকটি ঘটনা আজও স্পষ্ট মনে পড়ে। আলাউদ্দীন ফুডসের ডিলার ছিলেন চম্পক দেবনাথ। বুধহাটা বেতনা নদীর খেয়াঘাট দিয়ে ট্রলারে মালামাল যেত বড়দল বাজারে। তখন নদীপথই ছিল যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। এক শনিবার গভীর রাতেÑপ্রায় ভোর চারটা। আমাকে খবর দেওয়া হলো বুধহাটা খেয়াঘাটে যেতে। সেখানে গিয়ে যা দেখলাম, তা আজও ভুলিনি। হাঁটুসমান কাদার মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন স. ম. আলাউদ্দীন। কোনো গার্ড, কোনো গাড়ি, কোনো প্রটোকল নয়Ñতিনি নিজে মাঠে। তিনি আমাকে কাছে ডেকে বললেন, “চম্পক ও মানুদের ডিলারশিপটা দিয়েছি, এদের দিকে একটু খেয়াল রেখ।”

এই একটি বাক্য তাঁর পুরো চরিত্রকে ব্যাখ্যা করে দেয়। তিনি শুধু নেতা ছিলেন নাÑছিলেন অভিভাবক। ১৯৯৬ সালের ১৯ জুন রাত ১০টা ২৩ মিনিট। সাতক্ষীরা শহরের দৈনিক পত্রদূত কার্যালয়ে তিনি কাজ করছিলেন। চারপাশ ছিল নীরব।হঠাৎ অন্ধকার ভেদ করে আসে ঘাতকের বুলেট। তিনি লুটিয়ে পড়েন নিজের অফিসের মেঝেতে। রাত ১০টা ২৩ মিনিটে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। সেই মুহূর্তে থেমে যায় সাতক্ষীরার এক উজ্জ্বল অধ্যায়।সময়ের পরিবর্তনে অনেক নেতা বিস্মৃত হন, কিন্তু কিছু মানুষ সময়ের ঊর্ধ্বে উঠে যান। স. ম. আলাউদ্দীন তেমনই একজন।কারণ তিনি শুধু কথা বলেননি, কাজ করেছেন। তিনি শুধু স্বপ্ন দেখেননি, স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছেন।

ভোমরা বন্দর, কর্মমুখী শিক্ষা, শিল্পায়ন, গণমাধ্যম, কৃষি উন্নয়নÑসবখানে তাঁর পদচিহ্ন স্পষ্ট।
স. ম. আলাউদ্দীন আজ নেই, কিন্তু তাঁর স্বপ্ন বেঁচে আছে। সাতক্ষীরার বাতাসে, নদীর জলে, মানুষের কথায়, উন্নয়নের প্রতিটি ধাপে তাঁর উপস্থিতি অনুভূত হয়। তিনি শিখিয়ে গেছেনÑএকজন মানুষ চাইলে একটি অঞ্চল বদলে দিতে পারে। তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন কোনো পদ বা ক্ষমতা নয়Ñমানুষের ভালোবাসা। আজও ১৯ জুন এলে মানুষ তাঁর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানায়।

কিন্তু প্রকৃত শ্রদ্ধা হবে তাঁর অসমাপ্ত স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করা।স. ম. আলাউদ্দীনÑএকটি নাম, একটি ইতিহাস, একটি অমর প্রেরণা।

লেখক: সংবাদ কর্মী

 

Ads small one

শরতেও প্রতিদিন বৃষ্টি, তারপরও কেন কমছে না ভ্যাপসা গরম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ
শরতেও প্রতিদিন বৃষ্টি, তারপরও কেন কমছে না ভ্যাপসা গরম

শরতের আকাশে মেঘ, গত তিনদিনই দুপুরের পর রাজধানীতে বৃষ্টি হয়েছে। কোথাও টানা, কোথাও আবার অল্প সময়ের ঝুম বৃষ্টি। তবু গরমের অস্বস্তি কাটছে না। বৃষ্টির পর কিছুটা স্বস্তি মিললেও তা স্থায়ী হচ্ছে না। বৃষ্টি থামার পরই আবার ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস করতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

আজ বুধবার, ২৫ ভাদ্র। শরতের প্রায় মাঝামাঝি সময় চলছে। সাধারণত এ সময়ে বৃষ্টির প্রবণতা থাকলেও বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা খুব বেশি কমছে না। বরং বাতাসে জলীয়বাষ্প বেশি থাকায় তাপমাত্রা যতটা দেখা যাচ্ছে; মানুষের কাছে তার চেয়ে বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, শুধু বৃষ্টি হলেই গরমের অস্বস্তি কমে না। বৃষ্টির পর বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে গেলে আর্দ্রতা বেশি থাকে। এতে শরীরের ঘাম সহজে শুকাতে পারে না। ফলে শরীরের তাপ বের হতে সময় লাগে এবং গরম বেশি অনুভূত হয়। বিশেষ করে বাতাসের গতি কম থাকলে এই অস্বস্তি আরও বাড়ে।

বৃষ্টির পরও কেন গরম

রাজধানীতে বৃষ্টির পর অনেকেই ভেবেছিলেন তাপমাত্রা কমে স্বস্তি ফিরবে। কিন্তু বৃষ্টি থামার পর আর্দ্র বাতাস ও কম বাতাস চলাচলের কারণে গরমের অনুভূতি আবার বেড়ে যাচ্ছে। দিনের বেলায় বাইরে বের হওয়া মানুষকে ঘামে ভিজতে হচ্ছে। বাসাবাড়িতেও ফ্যানের বাতাসে স্বস্তি মিলছে না অনেকের।

আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। অর্থাৎ আগের তুলনায় মৌসুমি বায়ুর প্রভাব বাংলাদেশে কমে আসতে শুরু করেছে।

আবহাওয়া অধিদফতর আরও জানায়, পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে।

বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘এই সময় বাতাসে আদ্রতার পরিমাণ বেশি। অন্যদিকে একের পর এক লঘুচাপ সৃষ্টি হচ্ছে। ‍বৃষ্টি হলেও তা এত যথেষ্ট নয় যে, গরম কমে আসবে। সব মিলিয়ে এই সময় বৃষ্টির পর পর আবারও ভ্যাপসা গরম লাগতে শুরু করে। এই গরম আরও কিছুদিন থাকতে পারে।’ শীতকাল না আসা পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টিও হবে, আবার ভ্যাপসা গরমও থেকে যেতে পারে বলে তিনি জানান।

কতটা বৃষ্টি হয়েছে

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদফতর। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে রাজশাহী ও বরিশালে ২৫ মিলিমিটার। ঢাকায় হয়েছে ৯ মিলিমিটার। এছাড়া শ্রীমঙ্গলে ২৩, কুমারখালীতে ১৫, চুয়াডাঙ্গা ও খুলনায় ১৩, মোংলা ও তাড়াশে ১১, যশোর ও রামগতিতে ১০, চাদপুরে ৮, তেতুলিয়া ৭, টেকনাফে ৫, আরিচায় ৬, সিলেট, নেত্রকোনা, হাতিয়া ও মাদারিপুরে ৩,কক্সবাজার ও বগুড়ায় ২, বান্দারবান, চট্টগ্রাম, সীতাকুণ্ড, রাঙ্গামাটি, দিনাজপুর, টাঙ্গাইলে ১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকড করা হয়েছে। এর বাইরে আমবাগানে, সৈয়দপুর ও গোপালগঞ্জে সামান্য বৃষ্টি হয়েছে।

তাপমাত্রা খুব বেশি কমেনি

গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল চট্টগ্রামের রামগতিতে ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৪, রাজশাহীতে ৩৪ দশমিক ৫, রংপুরে ৩৫, ময়মনসিংহে ৩৫ দশমিক ২, সিলেটে ৩১ দশমিক ৮, চট্টগ্রামে ৩২ দশমিক ৫, খুলনায় ৩৩ দশমিক ৫ এবং বরিশালে ৩২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফলে বৃষ্টি হলেও তাপমাত্রায় বড় ধরনের পতন দেখা যায়নি।

মানুষের ভোগান্তি

বৃষ্টি হলেও গরমের অস্বস্তি থেকে মুক্তি না পাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন খেটে খাওয়া মানুষেরা। রিকশাচালক, পথের হকার ও নির্মাণশ্রমিকদের দীর্ঘ সময় বাইরে থাকতে হচ্ছে। বৃষ্টির সময় কিছুটা স্বস্তি মিললেও বৃষ্টি থামার পর ভ্যাপসা গরমে আবারও ঘামতে হচ্ছে তাদের।

রাজধানীর গুলশান এলাকায় রিকশা চালান মাসুদ বেপারী বলেন, ‘‘বৃষ্টি হলে মনে হয় গরম কমবে। কিন্তু বৃষ্টি থামার পর আবার গরম লাগে। বাতাসও কম। রাস্তায় রিকশা চালানো খুব কষ্ট হয় তখন। দুপুর গরমের মধ্যে বৃষ্টি হলে আরাম হয়। কিন্তু এরপর যে গরম পড়ে, সেটা সহ্য করা কঠিন।’’

অন্য ধরনের ভোগান্তির কথা জানালেন, রাজধানীর কাওরান বাজারের হকার ইকবাল আলী। তিনি বলেন, ‘‘বৃষ্টি হলে আরাম লাগে ঠিকই, কিন্তু কেনাবেচা বন্ধ হয়ে যায়। বৃষ্টির পর যখন কেনাবেচা শুরু করি, তখন শুরু হয় গরমের কষ্ট। কোনোদিকেই শান্তিতে নাই।’’

বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে না, সেটা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ
বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে না, সেটা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা

ন্যাশনাল ডেস্ক: বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট হবে না, তা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে একটি বিলের ওপর জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘প্রত্যেকটা সরকারের একটা চরিত্র থাকে। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট হবে না, এটা হইতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর সারের সংকট হবে না, যারা গরিব কৃষক আছেন, তারা সার লুট করবেন না; সেটাও হতে পারে না।
রুমিন ফারহানা আরও বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না, সেটাও হওয়া সম্ভব না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে, আর বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করবে না; সেটাও হতে পারে না। সুতরাং বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানে ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ হওয়া। এ সময় রুমিন ফারহানা বলেন, ‘এত অসহিষ্ণু সংসদ, মনে হয় যেন একেবারে আওয়ামী লীগের আমলে ফিরে গেছি আমরা। মজা মন্দ না। আওয়ামী লীগকে যখন বলতাম তখন তারাও হট্টগোল করতো। এখন বিএনপির একই ধরনের আচরণ করছে। আরও খারাপ আচরণ।’
এ সময় সংসদের সরকারদলীয় অংশ থেকে হইচই শুরু হলে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ‘অর্ডার অর্ডার’ বলে সবাইকে শান্ত থাকতে বলেন। এই সংসদের বেশিরভাগ সদস্য ঋণখেলাপি হিসেবে পরিচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে নামটা কাটানোর জন্য হাইকোর্টে গিয়ে রিট করা আমাদের পুরোনো সংস্কৃতি। এগুলো আমরা বহু দেখেছি। ইলেকশনের আগে তাড়াতাড়ি ঋণখেলাপির নাম থেকে বাদ দেয়।’ এরপর রুমিন ফারহানার জন্য নির্ধারিত দুই মিনিট সময় শেষ হয়ে গেলে তার মাইক বন্ধ হয়ে যায়। মাইক ছাড়াই বক্তব্য দিতে থাকেন রুমিন ফারহানা। এই পর্যায়ে আবারও সংসদে হট্টগোল শোনা যায়।
পরে আরও কয়েক দফায় ‘অর্ডার অর্ডার’ বলে সংসদের শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করেন ডেপুটি স্পিকার। এরপর সরকার দলীয় চিফ হুইপের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
এসময় চিফ হুইপকে উদ্দেশ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘একজন মাননীয় সদস্য বক্তব্য রাখছেন। শি হ্যাজ এভরি লিবার্টি টু স্পিক। বাট অন্যান্য মাননীয় সদস্যরা উনার বক্তব্য প্রদানে বাধা প্রদান—সেটা কিন্তু গণতান্ত্রিক রীতিনীতির বাইরে। আমি এজ এ চিফ হুইপ অব ট্রেজারি বেঞ্চ, আপনাকে অনুরোধ করবো, অনারেবল মেম্বারস অব দ্য পার্লামেন্ট, যারা আছেন প্রত্যেকের এখানে লিবার্টি আছে। তারা তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। আপনাদের টার্ন যখন আসে, আপনারা তখন সেটা খণ্ডন করবেন। কিন্তু বক্তব্য প্রদানে বাধা প্রদান করা কোনও অবস্থাতেই কাম্য না।’

রুনা লায়লার মৃত্যুর গুজব, মেয়ে তানি বললেন ‘মা সম্পূর্ণ সুস্থ’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ
রুনা লায়লার মৃত্যুর গুজব, মেয়ে তানি বললেন ‘মা সম্পূর্ণ সুস্থ’

‘মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন রুনা লায়লা’—এমন একটি খবর ও এআই-নির্ভর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার একমাত্র মেয়ে তানি লায়লা। তার দাবি, মা রুনা লায়লা সম্পূর্ণ সুস্থ ও জীবিত আছেন।

পরিবার নিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তানি লায়লা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রুনা লায়লার সুস্থ থাকার বিষয়টি জানান।

তানি পোস্টে লেখেন, সামান্য কিছু অর্থ উপার্জনের লোভে এ ধরনের পোস্ট, এআই (AI) দিয়ে তৈরি ইউটিউব ভিডিও এবং ভুয়া খবর ছড়ানোর বিষয়টি দেখে আমি সত্যিই বিরক্ত ও অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি।

তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে এ ধরনের কন্টেন্টগুলোর বিরুদ্ধে রিপোর্ট করা শুরু করবো—একটা একটা করে, যতক্ষণ না এই সব মাথামোটা লোক তাদের এই বাজে কাজ বন্ধ করে।’

তানির ভাষ্য, ‘আমার মা তার জীবনের ছয়টি দশক সঙ্গীতের সেবায় উৎসর্গ করেছেন। অথচ মানুষ এখনও তাকে এভাবেই অসম্মান করে চলেছে—কী চরম লজ্জার ও অপমানের বিষয় আমাদের জন্য!’

রুনা লায়লা সুস্থ ও জীবিত আছেন জানিয়ে পোস্টে তিনি লেখেন, আমার মা সম্পূর্ণ সুস্থ ও জীবিত আছেন; কেউ মারা যাননি বা মৃত্যুর মুখেও নেই—এসবই এআই-এর মাধ্যমে তৈরি ভিডিও ও ছবি।’

গণমাধ্যমের কাছে তানির অনুরোধ তথ্য যাচাই করে নিউজ করার জন্য।

সবশেষে তিনি বলেন, ‘আর সহ্য করা যাচ্ছে না… যারা রুনা লায়লাকে অনুসরণ করেন, দয়া করে এ ধরনের অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করুন।’

এদিকে সাম্প্রতিক সময়েও গানের অনুষ্ঠানে বেশ সক্রিয় ছিলেন রুনা লায়লা। গত মাসে অস্ট্রেলিয়ার দুটি অঙ্গরাজ্যে দুটি কনসার্টে সংগীত পরিবেশন করেছেন তিনি। তার আগে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে আয়োজিত একক গানের অনুষ্ঠানেও গান করেছেন এই শিল্পী।