মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

শাপলার ডাটা থেকে ঢ্যাপের ভাত : নিম্নবিত্তের স্মৃতিকাতরতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৪:০৬ অপরাহ্ণ
শাপলার ডাটা থেকে ঢ্যাপের ভাত : নিম্নবিত্তের স্মৃতিকাতরতা

আখলাকুর রহমান

আমাদের সাতক্ষীরার বিস্তীর্ণ বিল, ঘের আর গ্রামীণ খালের দিকে তাকালে আজ বুকটা এক তীব্র হাহাকারে মোচড় দিয়ে ওঠে। যে জলমহালগুলো একসময় শরতের ভোরে হাজারো সাদা শাপলার শুভ্র চাদরে ঢেকে থাকত, যেখানে চোখ মেললেই মনে হতো আকাশের নক্ষত্রগুলো বুঝি মাটির বুকে নেমে এসেছে, আজ সেখানে শুধুই বাণিজ্যিক মৎস্য ঘেরের নিস্প্রাণ কড়া পাহারা আর কৃত্রিম রাসায়নিকের গন্ধ। আমাদের শৈশবের সেই চিরচেনা শুভ্রতার প্রতীক, জাতীয় ফুল সাদা শাপলা আজ সাতক্ষীরার বুক থেকে প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে।

 

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ইছামতী’ বা ‘আরণ্যক’ উপন্যাসের সেই প্রান্তিক চরিত্রগুলোর কথা মনে পড়ে, যারা প্রকৃতির এই অকৃপণ দানকে ভালোবেসে বুক পেতে নিত। ঠিক তেমনি আমাদের গ্রামের ডানপিটে ছেলেরাও সাতক্ষীরার মেঘলা দিনে বিলের জলে ডুব দিয়ে শাপলা তুলতে গিয়ে মায়ের কড়া বকুনি খেত। কিন্তু সেই বকুনিকে এক কান দিয়ে উড়িয়ে দিয়ে, বুকসমান জল পেরিয়ে, কাঁপুনি ধরা শরীরে যখন একগুচ্ছ ভেজা শাপলা হাতে তারা মেঠোপথ ধরে বাড়ির পানে ছুটত, তখন তাদের চোখেমুখে থাকত এক স্বর্গীয় বিজয়ের আনন্দ। এই শাপলা তো কেবল ফুল ছিল না, ওটা ছিল আমাদের গ্রামীণ সাতক্ষীরার রূপের আসল অলংকার, আমাদের নিঃশ্বাসের সাথে জড়িয়ে থাকা এক অবিচ্ছেদ্য অস্তিত্ব।

আজ সেই চিরন্তন স্বপ্নিল দৃশ্যগুলো আমরা আর দেখি না, যার প্রধান কারণ হলো অপরিকল্পিত ও অতি-বাণিজ্যিক মৎস্য ঘেরের আগ্রাসন। ঘেরের মালিকরা নিজেদের ক্ষণস্থায়ী মুনাফার স্বার্থে পুকুর ও ঘেরের জলজ উদ্ভিদ সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে ফেলে, যার ফলে শাপলার কন্দ বা মূল মাটির নিচে অঙ্কুরিত হওয়ার সুযোগই পায় না। অথচ একটি পুকুর বা ঘেরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং তার চিরন্তন সৌন্দর্য ধরে রাখতে শাপলা ফুলের কোনো বিকল্প ছিল না। শুধু কি চোখের আরাম? আমাদের রসনাবিলাসেও এই ফুলটির ডাটা এক অনন্য জায়গা দখল করে ছিল। বর্ষার দিনে বিল থেকে তুলে আনা তাজা শাপলার ডাটা আঁশ ছাড়িয়ে, ছোট ছোট কুচি চিংড়ি মাছ দিয়ে যখন মা মাটির চুলোয় রান্না করতেন, তখন সেই তরকারির যে অমৃত স্বাদ হতো, তার সাথে আজকের কোনো দামি রেস্তোরাঁর খাবারের তুলনা চলে না। কত শত দিন যে ঘ্যানঘ্যান করে মায়ের কাছে এই শাপলা-চিংড়ির আবদার করেছি এবং তৃপ্তি ভরে খেয়েছি, তার কোনো ইয়ত্তা নেই।

শাপলা ফুলের এই মহাকাব্যে সবচেয়ে মধুর আর বেদনার অংশটি জুড়ে আছে তার ফল, যাকে আমাদের সাতক্ষীরার আঞ্চলিক ভাষায় আমরা ‘ঢ্যাপ’ বলে ডাকি। এই ঢ্যাপের ভেতরে থাকা ছোট ছোট কালো বীজগুলোকে রোদে শুকিয়ে, খড়খড়ে করে ভেজে যখন মুড়ির মতো ফোটানো হতো, তখন তাকে বলা হতো ‘ঢ্যাপের খৈ’। সেই খৈয়ের সুবাস আর নলেন গুড়ের মোয়া ছিল গ্রামীণ শৈশবের পরম বিলাসিতা। তবে এই ঢ্যাপের আরেকটি নির্মম পিঠও ছিল, যা আমাদের গ্রামীণ সমাজের চিরন্তন অভাব আর লড়াইয়ের অমোঘ সাক্ষী। এই সাতক্ষীরারই বহু নিম্নবিত্ত পরিবারে যখন চালের হাঁড়ি শূন্য থাকত, ঘরের কোণে এক ছটাক চালও জুটত না, তখন এই ঢ্যাপের বীজকে চালের মতো করে ফুটিয়ে ভাতের বিকল্প হিসেবে রান্না করা হতো। কত শত পরিবার যে এই ঢ্যাপের ভাত খেয়ে দিনের পর দিন, বেলার পর বেলা পার করে দিয়েছে, তার নীরব সাক্ষী হয়ে আজো দাঁড়িয়ে আছে আমাদের বিলের কালো মাটি।

দুর্ভাগ্যবশত, আজকের নতুন প্রজন্ম এই ঢ্যাপের স্বাদ তো দূরের কথা, এর নামটুকুও চেনে না। সাতক্ষীরার মানুষ আজ তাদের সেই অতি চেনা, অতি আবেগের সুদিনগুলোকে বড্ড বেশি মিস করে। একটি ফুল কীভাবে একটা গোটা প্রজন্মের শৈশব, তাদের আনন্দ, তাদের ক্ষুধা আর তাদের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের ইতিহাসকে নিজের বুকে ধারণ করে রাখতে পারে, শাপলা ফুল তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে এবং আমাদের সচেতন সমাজের কাছে আজ বিনীত অনুরোধ, কেবল বাণিজ্যের অন্ধ মোহে অন্ধ না হয়ে, আমাদের সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী জলাশয় ও পুকুরগুলোর প্রাকৃতিক রূপ ফিরিয়ে দিন। ঘেরের এক কোণে হলেও শাপলা ফুটতে দিন, যেন আমাদের আগামী প্রজন্ম আবার খনার বচনের মতো প্রকৃতির সান্নিধ্যে বড় হতে পারে। এই স্থানীয় পত্রিকার পাতার মাধ্যমে সাতক্ষীরার প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে এই সুপ্ত বিবেক জাগিয়ে তোলা আজ বড় বেশি প্রয়োজন, যাতে আমাদের ঘরের শাপলা আবার আমাদের বিলের চাদর হয়ে ফিরে আসে।

লেখা: আখলাকুর রহমান, উদ্যোক্তা ও স্বপ্নদ্রষ্টা : আসিফা

 

 

Ads small one

হারিয়ে যাওয়া আভিজাত্য: অন্দরমহলের ‘গোলাপ জাম’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ
হারিয়ে যাওয়া আভিজাত্য: অন্দরমহলের ‘গোলাপ জাম’

তারিক ইসলাম

‎শহুরে ব্যস্ততা কিংবা আধুনিক ফলের ভিড়ে আমরা অনেকেই হয়তো ভুলে যেতে বসেছি এমন এক ফলের নাম, যা একসময় এদেশের বনে-বাদাড়ে কিংবা বাড়ির আঙিনায় হরহামেশাই দেখা যেত। ফলটির নাম ‘গোলাপ জাম’। শুধু নামেই নয়, এর রূপ এবং সুবাসেও জড়িয়ে আছে এক রাজকীয় আভিজাত্য। কাঁচা অবস্থায় হালকা সবুজ আর পাকলে ঈষৎ হলদেটে বা গোলাপি আভা ধারণ করা এই ফলটি মুখে দিলে সত্যিই মনে হয় কোনো গোলাপের নির্যাস আস্বাদন করা হচ্ছে। অথচ কালের বিবর্তনে আমাদের চেনা প্রকৃতির বুক থেকে এই ফলটি আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে।

‎উদ্ভিদবিজ্ঞানের ভাষায় গোলাপ জামের বৈজ্ঞানিক নাম ঝুুুমরঁস লধসনড়ং। এটি মূলত ‘মির্টাসি’ গোত্রের একটি চিরহরিৎ বৃক্ষ। বৈশ্বিক পরিমন্ডলে এটি ‘রোজ অ্যাপল’ কিংবা ‘মালাবার প্লাম’ নামে পরিচিত হলেও, আমাদের উপমহাদেশে এর পরিচয় মূলত ‘গোলাপ জাম’ বা ‘গুলাব জামুন’ হিসেবে। দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে এটিকে পরম মমতায় ‘মেওয়া ফল’ বলেও ডাকা হয়। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, ফিলিপাইন, চীন, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়ায় এই গাছটি প্রাকৃতিকভাবেই দারুণভাবে মানিয়ে নেয়।

‎ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, এই গোলাপ জামের রয়েছে এক গৌরবময় অতীত। একসময় মোগল বা সুলতানি আমলের রাজা-বাদশাহদের হেরেমখানা কিংবা অন্দরমহলের অত্যন্ত প্রিয় এবং অভিজাত ফল ছিল এটি। এর তীব্র মিষ্টি সুবাস এবং রসালো স্বাদের কারণে রাজকীয় বাগিচায় এই গাছের ঠাঁই হতো সবার আগে। গ্রীষ্মের দাবদাহ শেষে যখন বর্ষার আগমন ঘটে, ঠিক তখনই বাজারে বা গাছে উঁকি দেয় এই ফল। এটি শুধু খেতেই সুস্বাদু নয়, এর রয়েছে দারুণ কিছু ঔষধি গুণ ও পুষ্টিগুণ। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ ও ক্যালসিয়াম রয়েছে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও হাড়ের গঠনে সাহায্য করে।

‎দুর্ভাগ্যবশত, বর্তমান প্রজন্মের অনেকের কাছেই গোলাপ জাম একটি অচেনা নাম। দ্রুত নগরায়ণ, নির্বিচারে গাছ কাটা এবং বাণিজ্যিক ফলের জোয়ারে এই ঐতিহ্যবাহী দেশি ফলটি আজ কোণঠাসা। বাণিজ্যিকভাবে চাষ না হওয়ায় নতুন করে কেউ আর গোলাপ জামের চারা রোপণ করতে আগ্রহী হচ্ছেন না। ফলে পুরোনো গাছগুলো মরে যাওয়ার সাথে সাথে আমাদের প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে একটি সুমিষ্ট অধ্যায়।

‎আমাদের দেশীয় ফলের বৈচিত্র্য রক্ষা করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এই রাজকীয় ফলের স্বাদ ও ইতিহাস পৌঁছে দেওয়া এখন সময়ের দাবি। সরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন নার্সারি বা বোটানিক্যাল গার্ডেনে গোলাপ জামের বংশবৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের মাঝে এর চারা বিতরণ করা প্রয়োজন। একই সাথে, বাড়ির আঙিনায় বা ছাদবাগানে শখের বশে হলেও এই গাছটি রোপণ করে আমরা ফিরিয়ে আনতে পারি অন্দরমহলের সেই প্রাচীন সুবাস। আমাদের উদাসীনতায় হারিয়ে না যাক প্রকৃতির এই অনন্য উপহার; বেঁচে থাকুক গোলাপ জাম, টিকে থাকুক আমাদের চেনা বাংলার সবুজ ঐতিহ্য।

‎লেখক: তারিক ইসলাম, ‎সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

 

বর্ষাকাল উপকূলীয় মানুষের জন্য বিপদসংকুল সময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৪:০১ অপরাহ্ণ
বর্ষাকাল উপকূলীয় মানুষের জন্য বিপদসংকুল সময়

প্রকাশ ঘোষ বিধান

বর্ষাকাল বাংলাদেশের উপকূলীয় মানুষের জন্য অত্যন্ত বিপদসংকুল ও ঝুঁকিপূর্ণ সময়। সমুদ্র উত্তাল থাকে এবং পূর্ণিমা ও অমাবস্যার জোয়ারের প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উচ্চতার জোয়ারের পানি উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করে। সক্রিয় মৌসুমী বায়ু, ভারী বৃষ্টিপাত এবং সমুদ্রের বৈরী পরিবেশের কারণে এই সময়ে উপকূলের জনজীবনে চরম ভোগান্তি ও বিপর্যয় নেমে আসে।

বর্ষাকালে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ ও সাইক্লোন সৃষ্টি হয়, যা বিশাল জলোচ্ছ্বাস নিয়ে উপকূলে আঘাত হানে। জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধগুলো পানির তীব্র চাপে ভেঙে যায় এবং মাইলের পর মাইল এলাকা প্লাবিত হয়। ভৌগোলিক অবস্থান এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের চরম আঘাত এই সময়ে উপকূলের বাসিন্দাদের নানামুখী তীব্র সংকটের মুখোমুখি হতে হয়।

বর্ষায় বাংলাদেশের উপকূলবর্তী এলাকার মানুষের জীবন হয়ে ওঠে চরম সংকটাপন্ন ও বিপর্যস্ত। মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে নিয়মিত বৃষ্টি, পূর্ণিমার অস্বাভাবিক জোয়ার, এবং ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাসের কারণে প্রতি বছর উপকূলীয় জনপদের হাজার হাজার মানুষকে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হয়। এই সময়ে সাগরে সৃস্ট ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নড়বড়ে বেড়িবাঁধের সাথে যুদ্ধ করে তাদের টিকে থাকতে হয়। বর্ষার আগমনে উপকূলের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।

বর্ষায় আকাশের কালো মেঘ এবং উপকূলের কান্না এক আবেগঘন দৃশ্য। আকাশে কালো মেঘ জমে প্রকৃতির রূপ যেমন থমথমে ও বিষণœ হয়ে ওঠে, তেমনি উপকূলের কান্না প্রকৃতির দুর্যোগ বা মানুষের দুঃখ-দুর্দশার প্রতীক। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষত আর উপকূলের কান্না ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস বা অবিরাম বর্ষণে উপকূলবাসীর ঘরবাড়ি ও জীবনের যে ক্ষতি হয়, তাকে বোঝায়। বর্ষায় এ অভিগজ্ঞতা উপকূলবাসীর জন্য নতুন কিছু নয়।

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের কাছে বর্ষায় কালো মেঘ সবসময়ই আতঙ্কের নাম। আকাশজুড়ে যখন ভারী কালো মেঘ জমে, তখন চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসে এবং শুরু হয় অঝোর বৃষ্টি। ঝড়-বৃষ্টি, জলোচ্ছ্বাস আর বাঁধ ভাঙা নদীর রূপ তাদের জীবনে নিয়ে আসে কান্না ও হাহাকার। উত্তাল সমুদ্রের গর্জন, উপকূলের ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ আর বর্ষার দুর্যোগে তাদের ঘরবাড়ি হারানোর ভয়, সব মিলিয়ে এটি হয়ে ওঠে উপকূলের মানুষের দীর্ঘশ্বাসের প্রতিচ্ছবি।

গ্রীষ্মের দাবদাহ শেষে যখন আকাশ ভারী কালো মেঘে ঢেকে যায়, তখন চারপাশ এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতায় ছেয়ে যায়। কালো মেঘের আড়ালে বিদ্যুতের চমকানি আর গর্জনে প্রকৃতি যেন তার রুদ্র রূপ প্রকাশ করে। মেঘলা দিনের এই থমথমে রূপ মানুষের মনে লুকানো বিষাদ ও গভীর আবেগ জাগিয়ে তোলে। সাগরের উত্তাল ঢেউ আর উপকূলের ভাঙন যেন মানুষের না বলা কষ্টের কান্না। বর্ষার মেঘের মতোই উপকূলের মানুষের হাহাকার আর অশ্রু মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়।

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসরত লাখ লাখ মানুষের জীবনপ্রবাহ প্রতি মুহূর্তে জলবায়ু পরিবর্তন এবং ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে লড়াই করে টিকে থাকতে হয়। অতিবৃষ্টি ও প্রবল বাতাসে কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ে। অনেক পরিবারকে পলিথিন টাঙিয়ে বা অন্যের বাড়িতে মানবেতর জীবন কাটাতে হয়। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততার মতো স্থায়ী সমস্যাগুলো তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী।

অধিকাংশ উপকূলীয় এলাকায় বেড়িবাঁধ অত্যন্ত নাজুক বা জরাজীর্ণ। বর্ষার জোয়ারের পানি ও প্রবল বৃষ্টিতে এই বাঁধ ভেঙে বা উপচে লোকালয় ও ফসলি জমি তলিয়ে যায়, যার ফলে ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়। জোয়ারের নোনা পানি বাড়ির আঙিনা ও পুকুরে ঢুকে পড়ে। এর ফলে বর্ষার সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দেয় এবং পানিবন্দী মানুষদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়। বছরের এ সময়টাতে উপকূলীয় এলাকায় ডায়রিয়া, আমাশয় ও চর্মরোগের প্রকোপ বাড়ে। বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং স্যাঁতসেঁতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলে।

 

বর্ষায় নদী উত্তাল থাকায় জেলেরা মাছ ধরতে যেতে পারেন না। এছাড়া জলোচ্ছ্বাসের পানিতে ভেসে যায় চিংড়ি ঘের ও ফসলি জমি। এতে কর্মহীন হয়ে পড়া নিম্ন আয়ের মানুষের ঘরে ঘরে তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দেয়। ভাঙনপ্রবণ এলাকায় বর্ষা এলেই নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। অনেক পরিবার চোখের পলকে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায়।

সিডর, আইলা, আম্ফান বা রেমালের মতো প্রবল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়গুলো বারবার আঘাত হেনে উপকূলের বেড়িবাঁধ ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে। ফলে জোয়ারের নোনা পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে, ফসল ও মাছের ঘের তলিয়ে যায়। দুর্যোগের পরে সবচেয়ে বড় দুর্ভোগ দেখা দেয় বিশুদ্ধ পানির। লবণাক্ত পানির কারণে চর্মরোগ ও পানিবাহিত রোগ মহামারি আকার ধারণ করে। লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে কৃষিজমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে স্থানীয় কৃষকরা ফসল ফলাতে পারে না। ফলে পেশা হারিয়ে বাধ্য হয়ে অনেকে পরিবেশগত উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়।

জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধ এবং প্রয়োজনের তুলনায় সাইক্লোন সেন্টারের স্বল্পতার কারণে মানুষ চরম আতঙ্কে থাকে। দুর্যোগের পর ত্রাণ সহায়তা পৌঁছাতেও নানাবিধ আমলাতান্ত্রিক ও পরিবহন জটিলতা দেখা দেয়, যার ফলে ভুক্তভোগীরা দীর্ঘমেয়াদী কষ্টের মধ্যে পড়েন। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য ম্যানুয়াল পদ্ধতি ও উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয়ে টেকসই কংক্রিটের বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নিরাপদ পানির স্থায়ী ব্যবস্থা এবং কার্যকরী সাইক্লোন সেন্টার তৈরি করা সবচেয়ে জরুরি।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

ভারতীয ভিসা: কেন্দ্র, স্লট সংকট ও অদৃশ্য প্রশ্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ণ
ভারতীয ভিসা: কেন্দ্র, স্লট সংকট ও অদৃশ্য প্রশ্ন

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক শুধু সীমান্তের ভৌগোলিক বাস্তবতা নয়; এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি, আত্মীয়তা, অর্থনীতি ও মানবিক যোগাযোগের এক দীর্ঘ পথ। চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগী, শিক্ষা বা ব্যবসার প্রয়োজনে যাতায়াতকারী মানুষ, কিংবা ধর্মীয় তীর্থযাত্রীÑসব মিলিয়ে ভারতের ভিসা বাংলাদেশের মানুষের কাছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সেবা।কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই ভিসা ব্যবস্থা ঘিরে যে চিত্র তৈরি হয়েছে, তা অনেকের কাছেই স্বস্তির নয়। আবেদন জমা দেওয়া থেকে শুরু করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট পাওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটিই যেন এক ধরনের প্রতিযোগিতামূলক যুদ্ধ।

 

প্রশ্ন উঠছেÑএই সেবা কি সত্যিই সবার জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত, নাকি এটি ধীরে ধীরে একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে? ভিসা কোনো বিলাসিতা নয়। বাংলাদেশের অনেক মানুষের জন্য এটি জীবনরক্ষাকারী একটি মাধ্যম। বিশেষ করে চিকিৎসার ক্ষেত্রে ভারতের ওপর নির্ভরশীলতা এখনো উল্লেখযোগ্য। ঢাকায় বা দেশের ভেতরে চিকিৎসা না পেয়ে অনেক রোগীই সীমান্ত পেরিয়ে চিকিৎসা নিতে যান। এই বাস্তবতায় ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা বলছে, এই প্রক্রিয়া অনেকের জন্যই এখন দীর্ঘসূত্রতা, অনিশ্চয়তা এবং অতিরিক্ত খরচের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

একজন সাধারণ মানুষ যখন দিনের পর দিন অনলাইনে চেষ্টা করেও স্লট পান না, তখন তার মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগেÑসেবা কি সত্যিই সবার জন্য উন্মুক্ত? বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রবণতা স্পষ্টÑসেবা রাজধানী কেন্দ্রিক। ভিসা আবেদন জমা কেন্দ্রগুলোর ক্ষেত্রেও সেই চিত্র ব্যতিক্রম নয়।ফলে দেশের বিভিন্ন জেলাÑবিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, উত্তরাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকার মানুষকে ভিসা আবেদন জমা দিতে বড় শহরে যেতে হয়। এতে যে ভোগান্তি তৈরি হয় তা শুধু আর্থিক নয়; এটি সময়, শ্রম এবং মানসিক চাপেরও বিষয়।

 

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সাতক্ষীরার আশাশুনির মতো এলাকার একজন আবেদনকারীকে অনেক সময় ভোরে রওনা দিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। একদিনে কাজ শেষ না হলে থাকতে হয় অতিরিক্ত দিন। এতে বাড়ে খরচ, নষ্ট হয় কর্মদিবস, ক্ষতিগ্রস্ত হয় দৈনন্দিন জীবিকা। এ প্রশ্ন তাই স্বাভাবিকভাবেই ওঠেÑরাষ্ট্রীয় সেবা কি ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করবে? সাতক্ষীরা, যশোর, কুষ্টিয়া, নড়াইল কিংবা উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘদিনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। অনেক পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

 

চিকিৎসা, আত্মীয়তা কিংবা ব্যবসায়িক কারণে এসব অঞ্চলের মানুষ নিয়মিত ভারতে যান। অথচ ভিসা আবেদন কেন্দ্রের সীমাবদ্ধতা তাদের জন্য এক ধরনের কাঠামোগত বাধা তৈরি করে। যেখানে চাহিদা বেশি, সেখানে সেবা সহজ হওয়ার কথা; কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় উল্টোÑযেখানে চাহিদা বেশি, সেখানেই সেবা পাওয়া কঠিন। বর্তমান ভিসা ব্যবস্থার সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত বিষয় হলো অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট সংকট। অনলাইনে স্লট উন্মুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা শেষ হয়ে যায়Ñএমন অভিযোগ বহুদিনের। সাধারণ আবেদনকারীরা বলেন, তারা দিনের পর দিন চেষ্টা করেও স্লট পান না। অথচ একই সময়ে কিছু নির্দিষ্ট এজেন্ট বা দালাল চক্রের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে স্লট পাওয়া যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

এখানেই প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেÑস্লট কি সত্যিই মুহূর্তে শেষ হয়ে যায়, নাকি একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার মাধ্যমে শেষ করে দেওয়া হয়? যদি প্রথমটি সত্য হয়, তবে এটি চাহিদা ও সরবরাহের সমস্যা। কিন্তু যদি দ্বিতীয়টি সত্য হয়, তবে এটি কেবল প্রশাসনিক নয়Ñএকটি নৈতিক ও কাঠামোগত সংকট। স্লট সংকটকে কেন্দ্র করে যে অভিযোগ সবচেয়ে বেশি শোনা যায়, তা হলো “স্লট বাণিজ্য”। এখানে একটি মধ্যস্বত্বভোগী চক্র সক্রিয় বলে ধারণা করা হয়, যারা সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে।

 

একদিকে সাধারণ আবেদনকারী, যারা নিয়ম মেনে চেষ্টা করেও স্লট পান নাঅন্যদিকে আর্থিকভাবে সক্ষম বা সংযোগসম্পন্ন গোষ্ঠী, যারা দ্রুত সেবা পানএই বিভাজন শুধু অর্থনৈতিক বৈষম্য নয়; এটি একটি সেবাব্যবস্থার প্রতি আস্থার সংকট তৈরি করে। যেখানে নাগরিক মনে করেন, “নিয়ম মেনে চেষ্টা করলে পাওয়া যাবে না, কিন্তু টাকা দিলে পাওয়া যাবে”Ñসেখানে রাষ্ট্রীয় সেবার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া এখন ডিজিটাল হলেও বাস্তবে সমস্যার সমাধান হয়নি। বরং অনেক ক্ষেত্রে প্রযুক্তিই নতুন জটিলতা তৈরি করেছে।

 

স্লট বুকিং সিস্টেম, সার্ভার লোড, বট ব্যবহার, অটোমেটেড স্ক্রিপ্টÑএসব মিলিয়ে একটি জটিল কাঠামো তৈরি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। প্রযুক্তি তখনই কার্যকর, যখন তা সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করে। কিন্তু যদি প্রযুক্তি ব্যবহার করে কিছু গোষ্ঠী সুবিধা পায় এবং সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হয়, তবে সেটি প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়Ñবরং প্রযুক্তিনির্ভর বৈষম্য। যেখানে সেবা সীমিত এবং জটিল, সেখানে দালালচক্র সক্রিয় হয়Ñএটি নতুন কিছু নয়। ভিসা ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। অনেকেই অভিযোগ করেন, তারা নিজেরা চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার পর দালালের শরণাপন্ন হন। কারণ দালালরা “নিশ্চিত স্লট” দেওয়ার দাবি করে, যদিও তার জন্য দিতে হয় অতিরিক্ত অর্থ।

 

এই অবস্থায় প্রশ্ন ওঠেÑএই চক্র কি কেবল স্থানীয় স্তরে সীমাবদ্ধ, নাকি এর পেছনে আরও বড় কোনো কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে? বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাধান হতে পারে সেবার বিকেন্দ্রীকরণ। যদি বিভাগীয় শহর ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরে ভিসা আবেদন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়, তাহলেÑআবেদনকারীর চাপ কমবে, যাতায়াত ব্যয় হ্রাস পাবে, দালালচক্রের সুযোগ কমবে, সেবা আরও স্বচ্ছ হবে, স্লট ব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোকে অগ্রাধিকার দিলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে সাধারণ মানুষ।

 

যেকোনো সেবা ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলো জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা। ভিসা সেবার ক্ষেত্রেও এই দুটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি স্লট বণ্টন, আবেদন গ্রহণ এবং প্রক্রিয়াকরণে স্বচ্ছতা না থাকে, তবে সেখানে আস্থার সংকট তৈরি হবেই। নিয়মিত প্রযুক্তিগত অডিট, স্বাধীন পর্যবেক্ষণ এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা ছাড়া এই সমস্যার সমাধান কঠিন। ভিসা সমস্যা শুধু প্রশাসনিক জটিলতা নয়; এটি মানবিকও। একজন অসুস্থ রোগী, একজন বৃদ্ধ পিতা-মাতা, কিংবা জরুরি পারিবারিক প্রয়োজনে যাত্রা করতে চাওয়া মানুষÑতাদের জন্য প্রতিটি দিন গুরুত্বপূর্ণ।

 

এই অবস্থায় ভিসা প্রক্রিয়ার বিলম্ব বা অনিশ্চয়তা অনেক সময় ব্যক্তিগত জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। নীতিগতভাবে বলা হয়Ñসেবা সবার জন্য সমান। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা অনেক সময় সেই ঘোষণার সঙ্গে মেলে না। যখন একজন নাগরিক নিয়ম মেনে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন, আর অন্য কেউ অর্থের বিনিময়ে সফল হন, তখন নীতির চেয়ে বাস্তবতার প্রভাব বেশি হয়ে ওঠে। এই পার্থক্যই শেষ পর্যন্ত আস্থার সংকট তৈরি করে। ভিসা সেবা এখন শুধু একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়; এটি একটি সামাজিক প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।

 

এখানে প্রশ্ন শুধু কেন্দ্র কতটি বা স্লট কতটিÑতা নয়; প্রশ্ন হলো, সেবা কি সত্যিই সবার জন্য সমান? যদি সেবা কেবল নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে সহজলভ্য হয়, তবে সেটি আর সেবা থাকে নাÑতা হয়ে ওঠে নিয়ন্ত্রিত সুযোগ। আজ প্রয়োজনÑসেবার বিকেন্দ্রীকরণ, স্লট ব্যবস্থার স্বচ্ছতা,দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, প্রযুক্তির ন্যায্য ব্যবহার। কারণ শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি খুব মৌলিকÑএকই দেশের নাগরিক হয়ে কেন কেউ সেবা পাবে সহজে, আর কেউ পাবে না?

লেখক: সংবাদকর্মী