বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

লাবসা জমিদার বাড়ির পুকুরের গাইড ওয়ালে ফাটল, হেলে পড়েছে একাংশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১০:৫৫ অপরাহ্ণ
লাবসা জমিদার বাড়ির পুকুরের গাইড ওয়ালে ফাটল, হেলে পড়েছে একাংশ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার লাবসা জমিদার বাড়ির পুকুরপাড় ভাঙন রোধে জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত গাইড ওয়ালে এক মাস যেতে না যেতেই ফাটল দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ওয়ালটির একাংশ পুকুরের দিকে হেলে পড়েছে। নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহার ও নির্মাণে অনিয়মের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও মসজিদের মুসল্লিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে লাবসা জমিদার বাড়ির পুকুরপাড়ের ভাঙন রোধে ৬ লাখ টাকা বরাদ্দে গাইড ওয়াল নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়। কার্যাদেশ পেয়ে মো. শরিফুল ইসলাম নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি শেষ করে। তবে নির্মাণের মাস খানেকের মধ্যেই ওয়ালে বড় ধরনের ফাটল ধরে এবং কিছু অংশ পুকুরের দিকে হেলে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙন ঠেকাতে এর আগে একাধিকবার জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার করা হলেও তা কোনো কাজে আসেনি। যেকোনো সময় পুরো ওয়ালটি পুকুরে ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা দাউত সরদার অভিযোগ করে বলেন, “ওয়াল নির্মাণের সময় আমরা ঠিকাদারকে বারবার সিমেন্ট ও রড কম না দিতে অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু আমাদের কথায় কান না দিয়ে তাড়াহুড়ো করে কাজ শেষ করা হয়। এক মাস না যেতেই এখন ওয়াল হেলে পড়েছে। আমরা এটি নতুন করে সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ঠিকাদার জানান, কাজ শেষ হতে না হতেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের বিল তুলে নিয়েছে, অথচ নিয়ম মেনে কাজ করেও অনেকে বছরের পর বছর বিল পাচ্ছেন না।

নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের উপসহকারী প্রকৌশলী হাসিবুর রহমান মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলুন।”

যোগাযোগ করা হলে জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মেহেদী মাসুদ মুঠোফোনে বলেন, “শিডিউল অনুযায়ী কাজ ঠিকঠাকই হয়েছে। ওয়াল হেলে পড়েছে কি না, সেটি আমার দেখার বিষয় না।” এই কথা বলেই তিনি ফোনের সংযোগ কেটে দেন।

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার মো. শরিফুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, “সাতক্ষীরার বড় বড় সাংবাদিক আমার বন্ধু। কাজ শেষ, বিলও উঠে গেছে। বিষয়টি পরে দেখব।”

 

 

Ads small one

সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:২১ পূর্বাহ্ণ
সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সরকারি ও বেসরকারি সমমনা সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে সিসিআরসি ও আরবিএ বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৪ জুন দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিসিডিবি এই কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সিসিডিবি’র উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রূপন। সিসিডিবি’র রেজিলিয়েন্স বিল্ডিং ম্যানেজার সামিউল আলিম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও শামসুজ্জামান কনক। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারিদ বিন শফিক, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ
জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গাছপালা কেটে ফেলা এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বসন্তপুর গ্রামের বৈদ্যনাথ দাস বাদী হয়ে শংকর দাস ও দিপঙ্কর দাসসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা (নং-৪০৬/২০২৬) দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বসন্তপুর মৌজার ৫৮ শতক পৈতৃক সম্পত্তির একটি রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে, যা নিয়ে আগেও একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। বাদীর অভিযোগ, চলমান মামলার তোয়াক্কা না করে প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক তাঁর জমিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন গাছগাছালি কেটে সাবাড় করেছে এবং জমি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। বিবাদীদের আর্থিক ও সামাজিক প্রভাবের কারণে তাঁর পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানবেতর জীবনযাপন করছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আলিপুর থেকে কুলিয়া বাজার পর্যন্ত অংশে সরকারি খাস জমিতে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। সড়কের ‘অপ্রয়োজনীয় অংশ’ উচ্ছেদ না করে কেবল মূল কাজের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু জমি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে গত ২৪ জুন জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা। আগামী ৮ ও ৯ জুলাই সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পক্ষ থেকে মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর হাতে আবেদনপত্রটি তুলে দেন।
এ সময় কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীম, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাবলু, কুলিয়া বাজার কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক আবু হুরাইরা এবং সমাজসেবক মোজাম্মেল হোসেনসহ (মিনু ডাক্তার) এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদ প্রশাসক ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এলাকার অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়কের উন্নয়ন কাজকে স্থানীয়রা স্বাগত জানান। তবে সওজ-এর নকশা অনুযায়ী ঢালাওভাবে উচ্ছেদ করা হলে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাঁদের দোকান, পুঁজি ও জীবিকা হারিয়ে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। গ্রামীণ অর্থনীতি, মাছের শেড ও স্থানীয় বাজার ব্যবস্থা এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বহু ভূমিহীন পরিবার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। মানবিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে সড়ক উন্নয়নে যতটুকু জমি অপরিহার্য, ঠিক ততটুকু রেখে বাকি অংশ উচ্ছেদ না করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।