বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

হারানো নস্টালজিয়া: প্রযুক্তির জোয়ারে স্মৃতির অতলে হারিয়ে যাচ্ছে রেডিও

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
হারানো নস্টালজিয়া: প্রযুক্তির জোয়ারে স্মৃতির অতলে হারিয়ে যাচ্ছে রেডিও

আশাশুনি সংবাদদাতা: এক সময় যা ছিল দেশ-বিদেশের খবর জানার প্রধান বাতায়ন, বিনোদনের একচ্ছত্র সঙ্গী—সময়ের আবর্তে সেই রেডিও আজ বিলুপ্তির পথে। সাতক্ষীরার আশাশুনিসহ উপকূলীয় অঞ্চলের গ্রামগুলোতে এখন আর আগের মতো দলবেঁধে রেডিও শোনার চিরচেনা দৃশ্য চোখে পড়ে না। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির কাছে হার মেনে বাঙালির বৈঠকখানা থেকে এই ঐতিহ্যবাহী বেতার যন্ত্রটি যেন একপ্রকার বিদায় নিয়েছে।
মাত্র তিন দশক আগেও গ্রামীণ জনপদে বিয়ের উপহার হিসেবে নামী-দামী ব্র্যান্ডের রেডিও দেওয়া ছিল আভিজাত্য ও গর্বের প্রতীক। যার ঘরে রেডিও ছিল, প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা কিংবা রাতের খবরের সময়ে সেখানে জমত পাড়ার মানুষের আসর। রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, গানের ডালি, সুখী সংসার কিংবা ছায়াছবির গানের অনুষ্ঠান শুনে কাটত তরুণদের অবসর। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে এই রেডিওই ছিল স্বাধীনতাকামী মানুষের আশার আলো। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠান ও খবর শুনে উদ্বুদ্ধ হয়ে বহু মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মুক্তিসংগ্রামে।
সময়ের বদলে রেডিওর জায়গা প্রথমে নিয়েছিল টেপ রেকর্ডার, এরপর সিডি প্লেয়ার এবং সবশেষে স্মার্টফোন। বর্তমানের ডিজিটাল ও ইন্টারনেটের যুগে আলাদা করে রেডিও কেনার চল প্রায় উঠে গেছে। মোবাইল ফোনের এফএম বা ইন্টারনেটের মাধ্যমেই এখন অনায়াসে সব শোনা যায়। তবে এই আধুনিকতার আড়ালে হারিয়ে গেছে দলবেঁধে অনুষ্ঠান শোনার সেই সামাজিক আবহ।
এই পরিবর্তনের বড় ধাক্কা লেগেছে রেডিওর কারিগর বা মিস্ত্রিদের জীবনে। জীবিকার তাগিদে অনেকেই এখন পেশা বদলে টেলিভিশন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক সামগ্রী মেরামতের কাজ করছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রেডিও শুধু একটি যন্ত্র নয়, এটি আমাদের ইতিহাসের অংশ। আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন প্রজন্মের উপযোগী ডিজিটাল অনুষ্ঠান নির্মাণ করা গেলে ঐতিহ্যবাহী এই গণমাধ্যমটিকে হয়তো আবারও নতুন রূপে টিকিয়ে রাখা সম্ভব।

Ads small one

সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:২১ পূর্বাহ্ণ
সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সরকারি ও বেসরকারি সমমনা সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে সিসিআরসি ও আরবিএ বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৪ জুন দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিসিডিবি এই কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সিসিডিবি’র উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রূপন। সিসিডিবি’র রেজিলিয়েন্স বিল্ডিং ম্যানেজার সামিউল আলিম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও শামসুজ্জামান কনক। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারিদ বিন শফিক, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ
জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গাছপালা কেটে ফেলা এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বসন্তপুর গ্রামের বৈদ্যনাথ দাস বাদী হয়ে শংকর দাস ও দিপঙ্কর দাসসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা (নং-৪০৬/২০২৬) দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বসন্তপুর মৌজার ৫৮ শতক পৈতৃক সম্পত্তির একটি রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে, যা নিয়ে আগেও একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। বাদীর অভিযোগ, চলমান মামলার তোয়াক্কা না করে প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক তাঁর জমিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন গাছগাছালি কেটে সাবাড় করেছে এবং জমি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। বিবাদীদের আর্থিক ও সামাজিক প্রভাবের কারণে তাঁর পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানবেতর জীবনযাপন করছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আলিপুর থেকে কুলিয়া বাজার পর্যন্ত অংশে সরকারি খাস জমিতে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। সড়কের ‘অপ্রয়োজনীয় অংশ’ উচ্ছেদ না করে কেবল মূল কাজের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু জমি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে গত ২৪ জুন জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা। আগামী ৮ ও ৯ জুলাই সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পক্ষ থেকে মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর হাতে আবেদনপত্রটি তুলে দেন।
এ সময় কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীম, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাবলু, কুলিয়া বাজার কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক আবু হুরাইরা এবং সমাজসেবক মোজাম্মেল হোসেনসহ (মিনু ডাক্তার) এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদ প্রশাসক ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এলাকার অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়কের উন্নয়ন কাজকে স্থানীয়রা স্বাগত জানান। তবে সওজ-এর নকশা অনুযায়ী ঢালাওভাবে উচ্ছেদ করা হলে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাঁদের দোকান, পুঁজি ও জীবিকা হারিয়ে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। গ্রামীণ অর্থনীতি, মাছের শেড ও স্থানীয় বাজার ব্যবস্থা এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বহু ভূমিহীন পরিবার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। মানবিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে সড়ক উন্নয়নে যতটুকু জমি অপরিহার্য, ঠিক ততটুকু রেখে বাকি অংশ উচ্ছেদ না করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।