পাটের সোনালি সুদিন ও সম্ভবনার নতুন দিগন্ত
এম শফিকুল ইসলাম
আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবেশবান্ধব হিসেবে পাটের চাহিদা পুনরায় সৃষ্টি হওয়ার বাংলাদেশের সোনালি আঁশে দেখা দিয়েছে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত। আন্তর্জাতিক বাজারে বর্ধিত চাহিদার পাশাপাশি বাংলাদেশের তরুণ বিঙ্গানিগন কর্তৃক পাটের ও ছাত্রকের জীবন রহস্য উন্মোচনের ঘটনা দেশে নতুন করে পাট উৎপাদনে বিপ্লবের সূচনা করতে পারে। আর এ উৎপাদন ব্যবস্থার বিপ্লব পাট শিল্পের উৎকর্ষের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে রাখতে পারে অনন্য অবদান। বর্তমানে দেশে ও বিদেশে বর্ধিত চাহিদার প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যেই বেড়েছে বাংলাদেশের পাট রপ্তানি ও রপ্তানি আয়।
বাংলাদেশের সুপিরিয়র পাট সহজলভ্য হওয়ায় বিশ্ববাজারে উচ্চ মূল্য সংযোজন মূল্য প্রতিযোগিতায় ও পাটপণ্য ভালো অবস্থায় রয়েছে। তাই পাট ও পাট পন্যের এ সম্ভাবনার নতুন দিগন্তকে পুঁজি করে দেশের পাটখাতকে আর্থসামাজিক উন্নয়নের শ্রেষ্ঠ উপায় বিবেচনায় সরকারিভাবে এক খাতের উন্নয়নে নেওয়া দরকার নানা পদক্ষেপ। বিজ্ঞানীদের দ্বারা পাটের জীবন রহস্য আবিষ্কার কেবল সম্ভবনার আর একটি দ্বারই খুলে দেয়নি, তা বাংলাদেশীদের অসাধ্য সাধনের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে।
পাট বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল এবং বাংলাদেশ বিশ্বে পাট ও পাটজাত পণ্য সামগ্রী রপ্তানিতে শীর্ষ দেশ। তথাপি এদেশের পাটের উৎপাদন ব্যবস্থা ও পাট শিল্প আজও নানার সমস্যায় জর্জরিত। এই শিল্পের রুগ্নতা একটি পুরাতন ব্যাধি। পাট খেতে বিদ্যমান প্রধান প্রধান সমস্যাগুলো হচ্ছে পাটকলের পর্যাপ্ত মূলধন সমস্যা, প্লাস্টিক পণ্যের অবাধ ব্যবহার, ভালোমানের পাট বীজের অভাব, পাট শিল্পে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শ্রমিক এর অভাব, পাট ও পাঠ পর্ণের নি¤œমূল্য, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও এর ফলে বিপর্যয়, পাট খাতে প্রযুক্তিগত সুবিধা না থাকা ইত্যাদি।
পাট শিল্প সমূহের দুর্বলতার ও সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি পাট উৎপাদন ব্যবস্থাও অনেক সমস্যার সম্কুল অবস্থায় রয়েছে। অতিরিক্ত খরা, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে সেচের সমস্যা, ধান ও অন্যান্য ফসল অধিক উৎপাদনের চাপ, সার ও কীটনাশকের মূল্য বৃদ্ধি, পাটের মূল্য হ্রাস, কৃষকের নায্য মূল্য না পাওয়া, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাব একসময়ের সোনালী আঁশ পাটকে আজ কৃষকের গলার ফাঁসে পরিণত করেছে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে তন্ত জাতীয় দ্রব্যের যোগান যেমনি বেড়েছে তেমনি দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক জটিলতা, উন্নত যোগাযোগ প্রযুক্তির অভাব প্রভৃতি কারণে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে। এসবের প্রতিকূল প্রভাব পড়েছে উৎপাদন ব্যবস্থার উপর এবং সর্বোপরি এদেশের অর্থনীতির উপর। এসব সমস্যার সাথে যুক্ত হয়েছে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মহলের অদক্ষতা, পরিচালনাগত অদূরদর্শিতা, অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম, দুর্নীতি ইত্যাদি। মোটকথা বাংলাদেশের পাট শিল্প আজ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক সব দিক থেকে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।









