শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩

বজ্রপাত নিরাপত্তা দিবস: সচেতনতা, বিজ্ঞান ও মানবিক দায়বদ্ধতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ণ
বজ্রপাত নিরাপত্তা দিবস: সচেতনতা, বিজ্ঞান ও মানবিক দায়বদ্ধতা

সাকিবুর রহমান বাবলা

প্রতি বছর ২৮ জুন পালিত হয় আন্তর্জাতিক বজ্রপাত নিরাপত্তা দিবস। প্রকৃতির অমোঘ শক্তির সামনে অসতর্কতা প্রাণঘাতী হতে পারে, তবে সচেতনতা ও বৈজ্ঞানিক প্রস্তুতি জীবন বাঁচাতে একটু হলেও সহায়ক। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশে বজ্রপাতের সংখ্যা ও তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ দিবসের গুরুত্ব অপরিসীম।

বিশ্বের সর্বাধিক বজ্রপাত প্রবণ দেশ হিসেবে ব্রাজিল পরিচিত। অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার লেক মারাকাইবো অঞ্চল পৃথিবীর সবচেয়ে বজ্রপাত-প্রবণ এলাকা হিসেবে স্বীকৃত। বাংলাদেশ আয়তনে ছোট হলেও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বজ্রপাত-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, এ দেশে প্রতি বছর গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ জনেরও বেশি মানুষ বজ্রপাতে প্রাণ হারান, সেই সঙ্গে আহত হন অনেকে। হতাহতদের একটি বড় অংশই কৃষক, জেলে এবং মাঠে কর্মরত শ্রমজীবী মানুষ। আর পশু পাখি তো অগুনিত।

বিজ্ঞানীদের মতে, বজ্রপাত সাধারণত ভূমির সবচেয়ে উঁচু ও বিদ্যুৎ পরিবাহী বস্তুকে আঘাত করে। এ কারণে তালগাছকে প্রাকৃতিক বজ্রনিরোধক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর দীর্ঘ, সোজা ও দৃঢ় কাঠামো বজ্রপাতকে আকর্ষণ করে এবং বিদ্যুৎকে দ্রুত মাটিতে পৌঁছে দিতে সহায়তা করে। ফলে উন্মুক্ত মাঠে মানুষ ও গবাদিপশুর ঝুঁকি অনেকটা কমে যায়। তাই পরিবেশ সংরক্ষণ ও দুর্যোগ প্রশমনে তালগাছ রোপণ একটি কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ হতে পারে।

বাংলাদেশ সরকার বজ্রপাতকে ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আগাম সতর্কবার্তা প্রদান, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও বিত্তবান ব্যক্তিরাও এ কাজে সম্পৃক্ত হচ্ছেন। গবেষণা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভবিষ্যতের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞানই আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। তাই বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আবহাওয়াবিজ্ঞান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে হবে।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, “আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে বিদ্যুতের ঝলক, যা তোমাদের ভয় ও আশার সঞ্চার করে” (সূরা আর-রূম: ২৪)। এই বাণী আমাদের সতর্কতা, জ্ঞানার্জন ও দায়িত্বশীল আচরণের শিক্ষা দেয়।

বজ্রপাত সম্পূর্ণরূপে রোধ করা সম্ভব না হলেও সচেতনতা, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ এবং সম্মিলিত সামাজিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে এ বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই।

 

 

Ads small one

কপিলমুনিতে হত্যা মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ
কপিলমুনিতে হত্যা মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

oplus_0

 

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: কপিলমুনির কাশিমনগর গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী ও হত্যা মামলার আসামি মহিদুল গাজীকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে কাশিমনগর বাজারের প্রধান সড়কে মানববন্ধন, পথসভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) বিকেল সাড়ে পাঁচটায় স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
সমাজসেবক এম বুলবুল আহমেদের সভাপতিত্বে পথসভায় বক্তব্য দেন পাইকগাছা উপজেলা মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি শেখ সেকেন্দার আলী, সাবেক ইউপি সদস্য মাজেদা পারভীন, মাওলানা আবু মুসা, গোলাম মোস্তফা গাজী ও তাসমিরা খাতুন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, মাদক ব্যবসায়ী ও নিজের ভাবিকে হত্যাকারী মহিদুল গাজীকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। নিহতের মেয়ে তাসমিরা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার চাচা মহিদুল গাজী আমার মাকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় পাইকগাছা থানায় মামলা হলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। কিন্তু গত ২১ এপ্রিল জামিনে বেরিয়ে আসার পর থেকে সে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আমাদের ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, আসামিরা উল্টো তাদের ও মামলার সাক্ষীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। এই পরিস্থিতিতে তারা প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও পরিবারের নিরাপত্তা দাবি করেন।

২৩ শতক জমি নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ
২৩ শতক জমি নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বল্লী ইউনিয়নের ঘরচালা মাঠপাড়া গ্রামে প্রায় ২৩ শতক জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। উভয় পক্ষই নিজেদের জমির বৈধ মালিক দাবি করে আসায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিষয়টি বর্তমানে আদালত ও ভূমি প্রশাসনের বিভিন্ন প্রক্রিয়ার অধীনে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বল্লী ইউনিয়নের রঘুনাথপুর মৌজার সাবেক ২৪৮, ২৮৪, ২৮৭ সহ কয়েকটি দাগের অন্তর্ভুক্ত ২৩ শতক জমি নিয়ে এই বিরোধের সূত্রপাত। বাদীপক্ষের মাসুরা খাতুন ও উজির আলী ফকির বিএস খতিয়ানে রেকর্ড সংশোধনের আবেদনসহ সায়েদ আলী মোড়লের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।
অন্যদিকে বিবাদী সায়েদ আলী মোড়ল দাবি করেন, বিরোধপূর্ণ জমির নামজারি (মিউটেশন) তার নামে সম্পন্ন হয়েছে এবং তিনি নিয়মিত সরকারি খাজনা পরিশোধ করছেন। আবেশ আলী সরদারের কাছ থেকে তিনি জমিটি বৈধভাবে ক্রয় করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ তাকে জমিতে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। তবে অন্য অংশীদার আবু তালেব ফকির এই দাবি অস্বীকার করে বলেন, সায়েদ আলীর কাগজপত্র জাল। জমিটি বর্তমানে তাদের দখলে রয়েছে এবং এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে তারা সহকারী জজ ভূমি আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে প্রশাসনের সুষ্ঠু তদন্ত প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মাসউকের তিন দিনব্যাপী ‘প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচির সমাপনী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
মাসউকের তিন দিনব্যাপী ‘প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচির সমাপনী

নিজস্ব প্রতিনিধি: মানব সম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্র (মাসউক) সাতক্ষীরার উদ্যোগে ‘ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট’ (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচির ২০২৫-২০ছঞ মেয়াদের প্রশিক্ষকদের তিন দিনব্যাপী ‘প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ’ (টিওটি) কোর্স সম্পন্ন হয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে লোহাগড়া উপজেলা অডিটোরিয়ামে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
এর আগে নড়াইল মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক মৌসুমী রানী মজুমদার প্রধান অতিথি হিসেবে এই প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন। লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী কায়সারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোছা. শিরিনা খাতুন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সালমা জামান, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির লোহাগড়া শাখা ব্যবস্থাপক মো. আলমগীর ফারুক এবং মানবাধিকার কর্মী সৈয়দ খায়রুল আলম।
তিন দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে জীবন দক্ষতামূলক ও আয়বৃদ্ধিমূলক বিভিন্ন মডিউলের ওপর বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুনমুন সাহা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শ্যামল চন্দ্র রায় এবং মাস্টার ট্রেইনার মো. গিয়াসউদ্দিন। প্রশিক্ষণে মোট ১০জন প্রশিক্ষক অংশ নেন। সমাপনী দিনে মাসউকের হলরুমে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদ বিতরণ করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোছা. শিরিনা খাতুন।