বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

তাড়াহুড়ো করে খাবার খাচ্ছেন? নীরবে ডেকে আনছেন বড় বিপদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ
তাড়াহুড়ো করে খাবার খাচ্ছেন? নীরবে ডেকে আনছেন বড় বিপদ

বিনোদন ডেস্ক: সকালের নাস্তা হোক বা রাতের খাবার—ব্যস্ততার চাপে অনেকেই কয়েক মিনিটেই প্লেট খালি করে ফেলেন। সময় বাঁচানোর এই অভ্যাসটাকেই আমরা স্বাভাবিক মনে করি। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাবারের গতি যদি খুব বেশি হয়, তাহলে অজান্তেই শরীরের ওপর চাপ তৈরি হয়—যার প্রভাব দেখা যেতে পারে হজম থেকে শুরু করে ওজন পর্যন্ত নানা ক্ষেত্রে।

“দ্রুত খাওয়া” বলতে কতটা দ্রুত?

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কেউ নিয়মিতভাবে ২০–৩০ মিনিটের কম সময়ে একটি মিল শেষ করেন, তাহলে সেটিকে দ্রুত খাবার খাওয়া বলা যায়।

কারণ, শরীরের ভেতরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া কাজ করে— “পেট ভরে গেছে”—এই সংকেত মস্তিষ্কে পৌঁছাতে প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগে। এই সময়ের আগেই যদি খাবার শেষ হয়ে যায়, তাহলে মস্তিষ্ক বুঝতেই পারে না কখন থামতে হবে।

তাড়াহুড়ো করে খেলে কী হয়?

বেশি খেয়ে ফেলার ঝুঁকি: দ্রুত খাওয়ার ফলে পেট ভরে যাওয়ার সংকেত আসার আগেই অনেক বেশি খাবার খেয়ে ফেলা হয়। এতে ধীরে ধীরে ওজন বাড়তে পারে।

হজমের সমস্যা: ঠিকভাবে চিবিয়ে না খেলে খাবার বড় টুকরায় পাকস্থলীতে যায়। এতে বদহজম, অস্বস্তি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে।

পেট ফাঁপা ও অস্বস্তি: দ্রুত খাওয়ার সময় অনেকেই অজান্তে বেশি বাতাস গিলে ফেলেন, যা পেট ফাঁপা বা ভারী লাগার কারণ হতে পারে। পেট ফাঁপা ও অস্বস্তি:

পুষ্টি শোষণে সমস্যা: খাবার ভালোভাবে চিবানো না হলে শরীর সব পুষ্টি ঠিকভাবে গ্রহণ করতে পারে না।

ওজন বাড়ার সঙ্গে সম্পর্ক

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দ্রুত খাবার খান, তাদের মধ্যে স্থূলতার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

অপরদিকে, ধীরে-সুস্থে খাওয়া মানুষরা সাধারণত কম ক্যালরি গ্রহণ করেন—ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।

অভ্যাসটাই আসল সমস্যা

দ্রুত খাওয়ার পেছনে বড় কারণ হলো মনোযোগের অভাব। টিভি দেখতে দেখতে খাওয়া; মোবাইল স্ক্রল করতে করতে খাওয়া; কাজের ফাঁকে তাড়াহুড়ো করে খাওয়া; এসব ক্ষেত্রে আমরা বুঝতেই পারি না কতটা খেয়ে ফেলছি।

খাওয়ার গতি কমাবেন কীভাবে?

মনোযোগ দিয়ে খাবার খান: খাওয়ার সময় টিভি বা মোবাইল থেকে দূরে থাকুন।

ধীরে চিবান: প্রতিটি খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খান—এতে স্বাভাবিকভাবেই গতি কমবে।

মাঝখানে বিরতি নিন: কয়েক চামচ খাওয়ার পর একটু থামুন। এতে মস্তিষ্ক সংকেত ধরতে সময় পায়।

অভ্যাসে পরিবর্তন আনুন: চামচ বদলানো বা ধীরে খেতে বাধ্য করে—এমন ছোট পরিবর্তনও কাজে দেয়।

ফাস্টফুড কমান: নরম ও প্রক্রিয়াজাত খাবার দ্রুত খাওয়া যায়। এর বদলে শাকসবজি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খেলে স্বাভাবিকভাবেই সময় বেশি লাগে।

খাবার শুধু পেট ভরানোর জন্য নয়

খাবার শুধু শরীরের জ্বালানি নয়, এটি উপভোগেরও একটি অংশ। দ্রুত খেলে সেই আনন্দটাও হারিয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সময় নিয়ে খেলে শুধু শরীরই ভালো থাকে না—খাবারের স্বাদও বেশি অনুভব করা যায়।

ব্যস্ত জীবনে সময়ের হিসাব গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু খাবারের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়োটা হতে পারে উল্টো ক্ষতির কারণ।

তাই একটু সময় নিয়ে, মনোযোগ দিয়ে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা সুস্থ থাকার সহজ কিন্তু কার্যকর একটি উপায়।

Ads small one

সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:২১ পূর্বাহ্ণ
সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সরকারি ও বেসরকারি সমমনা সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে সিসিআরসি ও আরবিএ বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৪ জুন দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিসিডিবি এই কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সিসিডিবি’র উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রূপন। সিসিডিবি’র রেজিলিয়েন্স বিল্ডিং ম্যানেজার সামিউল আলিম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও শামসুজ্জামান কনক। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারিদ বিন শফিক, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ
জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গাছপালা কেটে ফেলা এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বসন্তপুর গ্রামের বৈদ্যনাথ দাস বাদী হয়ে শংকর দাস ও দিপঙ্কর দাসসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা (নং-৪০৬/২০২৬) দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বসন্তপুর মৌজার ৫৮ শতক পৈতৃক সম্পত্তির একটি রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে, যা নিয়ে আগেও একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। বাদীর অভিযোগ, চলমান মামলার তোয়াক্কা না করে প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক তাঁর জমিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন গাছগাছালি কেটে সাবাড় করেছে এবং জমি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। বিবাদীদের আর্থিক ও সামাজিক প্রভাবের কারণে তাঁর পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানবেতর জীবনযাপন করছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আলিপুর থেকে কুলিয়া বাজার পর্যন্ত অংশে সরকারি খাস জমিতে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। সড়কের ‘অপ্রয়োজনীয় অংশ’ উচ্ছেদ না করে কেবল মূল কাজের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু জমি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে গত ২৪ জুন জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা। আগামী ৮ ও ৯ জুলাই সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পক্ষ থেকে মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর হাতে আবেদনপত্রটি তুলে দেন।
এ সময় কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীম, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাবলু, কুলিয়া বাজার কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক আবু হুরাইরা এবং সমাজসেবক মোজাম্মেল হোসেনসহ (মিনু ডাক্তার) এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদ প্রশাসক ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এলাকার অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়কের উন্নয়ন কাজকে স্থানীয়রা স্বাগত জানান। তবে সওজ-এর নকশা অনুযায়ী ঢালাওভাবে উচ্ছেদ করা হলে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাঁদের দোকান, পুঁজি ও জীবিকা হারিয়ে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। গ্রামীণ অর্থনীতি, মাছের শেড ও স্থানীয় বাজার ব্যবস্থা এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বহু ভূমিহীন পরিবার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। মানবিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে সড়ক উন্নয়নে যতটুকু জমি অপরিহার্য, ঠিক ততটুকু রেখে বাকি অংশ উচ্ছেদ না করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।