বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল, চড়া দামে নাভিশ্বাস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল, চড়া দামে নাভিশ্বাস

এম শফিকুল ইসলাম: ভরা মৌসুম শুরু হলেও নদ-নদীতে প্রত্যাশা অনুযায়ী ধরা পড়ছে না রূপালি ইলিশ। সাতক্ষীরার বাজারে সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় ইলিশের দাম বেড়েছে অনেকটাই। দাম বেশি হওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা ইলিশের বদলে অন্য মাছের দিকে ঝুঁকছেন।
বুধবার সকালে সাতক্ষীরার হাট-বাজারগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, গত কয়েক দিন ধরে ইলিশের আমদানি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। শহরের বড় বাজারে দিনে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ মন মাছ সরবরাহ হচ্ছে। এই সীমিত সরবরাহের সরাসরি প্রভাব পড়েছে খুচরা ও পাইকারি দামে।
পাইকারি বাজারে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায়। ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়। ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রায় ১ হাজার টাকা এবং ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে এই দাম আরও বেশি।
মাছের আড়তদারদের দাবি, এই সময়ে বাজারে ইলিশের যে পরিমাণ জোগান থাকার কথা, নদী ও সাগরে মাছ না পাওয়ায় তা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে চাহিদা থাকলেও দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, জুন থেকে মৌসুম শুরু হলেও প্রকৃতপক্ষে জুলাই থেকে ইলিশের ভরা মৌসুম ধরা হয়। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে সাগর থেকে নদীতে ইলিশের আগমন বাড়বে এবং তখন দামও কমবে বলে তিনি আশাবাদী।
সুলতানপুর বড় বাজারে মাছ কিনতে আসা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আজিজার রহমান আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, বাঙালির অতি প্রিয় এই মাছ কিনতে এসে দাম শুনেই পিছিয়ে যেতে হলো। ইচ্ছা থাকলেও হিসাব মেলাতে না পেরে ইলিশ না কিনেই ফিরতে হচ্ছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, জাটকা নিধন, ডিমওয়ালা ইলিশ শিকার, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং মানবসৃষ্ট নানা কারণে ইলিশের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তবে একক প্রজাতি হিসেবে ইলিশ দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ যোগান দেয় এবং প্রায় ৫ লাখ মানুষ সরাসরি এর সঙ্গে জড়িত। শ্রাবণের শেষে ও ভাদ্রের শুরুতে ইলিশের জোগান বাড়লে দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে চলে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

 

 

Ads small one

আশাশুনিতে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট, পাম্পে গ্রাহকদের দীর্ঘ সারি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট, পাম্পে গ্রাহকদের দীর্ঘ সারি

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার পেট্রোল পাম্প, ডিপো ও খুচরা দোকানগুলোতে হঠাৎ জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। এতে করে পাম্পগুলোতে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

আন্তর্জাতিক অস্থিরতার অজুহাতে উপজেলার মহেশ্বরকাটি পাম্পটি পেট্রোল ও ডিজেল সরবরাহ বন্ধ ঘোষণা করেছে। সেখানে মজুত নেই জানিয়ে কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। বুধহাটা পাম্প থেকে কিছু তেল সরবরাহ করা হলেও চালকদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

এ ছাড়া উপজেলার অধিকাংশ ডিপো ও খুচরা দোকান তেল বিক্রি বন্ধ রেখেছে। দু-একটি দোকানে জ্বালানি মিললেও লিটারপ্রতি অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন গ্রাহকেরা। হঠাৎ এমন কৃত্রিম সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও পরিবহন চালকেরা।

শ্যামনগরে চুনা নদীতে র‌্যাবের অভিযান: বিপুল পরিমাণ মাদকসহ আটক ২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে চুনা নদীতে র‌্যাবের অভিযান: বিপুল পরিমাণ মাদকসহ আটক ২

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের চুনা নদী এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, ভারতীয় ওষুধ ও প্রসাধনী সামগ্রীসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের চুনা নদীর চরে নোঙর করা একটি নৌকায় অভিযান চালায় র‌্যাব-৬-এর একটি দল। তল্লাশি চালিয়ে নৌকা থেকে এসব চোরাচালানি পণ্য ও মাদক জব্দ করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের রাশিদুল ইসলামের ছেলে ইসমাইল হোসেন (২৮) এবং বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের চুনা গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে মো. সুমন (২৫)।
র‌্যাব জানায়, নৌকায় অভিযানের পাশাপাশি চোরাচালান ও পাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের বাড়িসহ আশপাশের কয়েকটি বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছে।
সীমান্তবর্তী ও দুর্গম এই উপকূলে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা জানান, মাদকের প্রভাবে এলাকার যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছে। এ ধরনের নিয়মিত অভিযান চললে এলাকা থেকে মাদক নির্মূল করা সম্ভব হবে।

আশাশুনিতে জরাজীর্ণ ভবনে পাঠদান, দুশ্চিন্তায় অভিভাবকেরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে জরাজীর্ণ ভবনে পাঠদান, দুশ্চিন্তায় অভিভাবকেরা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার সদর ইউনিয়নের ১০৫ নম্বর নাটানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চলছে। প্রায় তিন দশকের পুরোনো এই ভবনটি যেকোনো মুহূর্তে ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে চার কক্ষবিশিষ্ট এই ভবনটি নির্মিত হয়। বর্তমানে ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ছে এবং রড বেরিয়ে গেছে। গত এক মাসের টানা বর্ষণে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ায় পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নতুন ভবনের জন্য গ্রামবাসী ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপঙ্কর মল্লিক, সহকারী শিক্ষক অমরনাথ ঢালী, রুম্পা সরকার, তাপসী সরকার, সাধনা মন্ডল ও চম্পা রানী সরকার বলেন, জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালাতে হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে অন্তত একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ বা বিকল্প ব্যবস্থা করা না হলে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার বর্মনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অতি দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।