কালিগঞ্জে শিশু ফারজানা হত্যার ঘটনায় একজন গ্রেপ্তার, জেলা প্রশাসকের ঘটনাস্থল পরিদর্শন
পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাজলা-কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ও কাশিবাটি গ্রামের এনামুল হকের মেয়ে ফারজানা সুলতানা হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের মা নাজমা খাতুন বাদি হয়ে একজনের নাম উল্লেখসহ অপ্সাতনামা তিন জনের বিরুদ্ধে বৃহষ্পতিবার রাতে এ মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আব্দুল্লাহ আল মামুন নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে।
বৃহষ্পতিবার বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ কাওছার আজিজ নিহত ফারজানা সুলতানার বাড়িতে যেয়ে তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। ন্যায় বিচারের আশ^াস দিয়ে তিনি আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল্লাহ আল মামুন কালিগঞ্জ উপজেলার কাশিবাটি গ্রামের ও বর্তমানে একই উপজেলার কলুরমেদে গ্রামের শেখ আব্দুল লতিফের ছেলে ও গনপিটুনিতে নিহত সুমাইয়া খাতুনের ভাই।
এদিকে গণপিটুনিতে নিহত সুমাইয়া খাতুনের লাশ বুধবার রাত ১২টার দিকে কলুরমেদে মসজিদে নামাজে জানাযা শেষে পাশর্^বর্তী কবরস্থনে দাফন করা হয়।
মামলা ও ঘটনার বিবরণে জানা যায়. ফারজানা সুলতানা ৬৯ নং কাজলা-কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী। তার রোল নং-১। সম্প্রতি জন্মদিনে তার মা নাজমা খাতুন ২২ হাজার টাকা দিয়ে দুই আনা ওজনের একজোড়া সোনার দুল বানিয়ে দেন। বিদ্যালয়ের সামনে নিজ বাড়ি সংলগ্ন দোকানে ভাজা মুড়ি বিক্রি করতেন আমিনুল ইসলামের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার। কয়েকদিন ধরে ফারজানাকে বিনা টাকায় ঝালমুড়ি খাওয়াতো সুমাইয়া। গত সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় শ্রেণীকক্ষের মধ্যে টেবিলের ড্রয়ারের মধ্যে ব্যাগ রেখে বাইরে চলে যায় ফারজানা। সে কোন ক্লাসে হাজির ছিল না। দুপুর একটায় ছুটির পর বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করে।
বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশকে অবহিত করে মাইকিং করা হয়। অন্যত্র অবস্থানকারি আব্দুল্লাহ আল মামুন ও তার বোন সুমাইয়া খাতুনকে মুঠোফোনে বাড়িতে ডেকে আনা হয় বিকেল পৌনে ছয়টার দিকে। এ সময় পুলিশ তালা খুলে ওয়ালসোকেসের ভিতরে হাত ও পা বাঁধা ফারজানার লাশ উদ্ধার করে। সোয়া ছয়টার দিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে সুমাইয়াকে উঠানে ফেলে ইট দিয়ে থেঁতলে ও পিটিয়ে হত্যা করে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ ফারজানা ও সুমাইয়ার লাশ উদ্ধার কওে পরদিন দুপুরে ময়না তদন্তের জন্য দুটি লাশ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে কাশিবাটি টাইগার ক্লাব মাঠে নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে ফারজানার লাশ দাফন করা হয়। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় বুধবার রাত ১২টার দিকে কুলির মেদে গ্রামের মসজিদে নামাজে জানাজা শেষে পিতা লতিফ শেখের বাড়ির পাশে সুমাইয়ার লাশ দাফন করা হয়। বুধবার মামলা রেকর্ড হওয়ার পর বৃহষ্পতিবার ভোওে দেবহাটা উপজেলার সুবর্ণাবাদ গ্রামের নানা জেহের আলীর বাড়ির সামনে থেকে গোয়েন্দা পুলিশ আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করে। তবে মামলায় কি কারণে ফারজানাকে হত্যা করার হলো তা উল্লেখ করা হয়নি।
গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তার ভগ্নিপতি আমিরুল ইসলাম একজন জুয়াড়ি ও মাদকাসক্ত। সম্প্রতি তার বাবার কাছ থেকে এক হাজার টাকা নিয়ে সে গোপালগঞ্জে চলে যায় কাজের জন্য। জুয়া খেলতে ও নেশার টাকা যোগাতে আমিরুল তার বোনকে দিয়ে অনেক টাকা ঋণ করিয়েছে। সোমবার সকালে সে বোন সুমাইয়ার বাড়িতে গিয়েছিল উল্লেখ করে বলেন, ফারজানা নিখোঁজ হওয়ার পর দুপুর সোয়া একটার দিকে একটি অচেনা মোবাইল নম্বার থেকে তার কাছে ফোন আসে। জানতে চাওয়া হয় সুমাইয়া ও ফারজানা তাদের বাড়িতে গেছে কিনা। তার বোনের কাছে কিছু জানার চেষ্টা না করে বা তাকে কিছু বলার সূযোগ না দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করায় অনেক কিছুই অজানা রয়ে গেলো। উপরন্তু তাকেও এ মামলায় জড়ানো হলো। সে তার বোন হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করে বলে, ফারজানা হত্যার আসল ঘটনা চাপা দিতে তার বোনকে নির্মমভাবে ইট দিয়ে থেঁতলে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আব্দুর রহিম জানান, প্রকৃতপক্ষে ফারজানা হত্যার ব্যাপারে তারা এখনো অন্ধকারে। গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল্লাহ আল মামুনকে জিজ্ঞাবাদের জন্য আদালতে সাত দিনের রিমা- আবেদন জানানো হবে।
কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শহীদুল ইসলাম জানান, সুমাইয়া খাতুনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় বৃহষ্পতিবার বিকেল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি। তবে ফারজানা হত্যার ঘটনায় তার মা নাজমা খাতুন বাদি হয়ে বুধবার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।






