বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

যেমন ছিল রাসুল (স.) এর যুগের ব্যবসা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৯ অপরাহ্ণ
যেমন ছিল রাসুল (স.) এর যুগের ব্যবসা

আখলাকুর রহমান

মরুভূমির বুক চিরে যে বাণিজ্য কাফেলা একদিন সিরিয়া থেকে ইয়েমেন পর্যন্ত ছুটে চলত, সেই কাফেলার প্রতিটি উটের পিঠে চাপানো ছিল কেবল পণ্য নয়, বরং একটি জাতির ভবিষ্যৎ অর্থনীতির বীজ। মক্কা তখন আরব উপদ্বীপের বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র। আর সেই মক্কার বুকেই বেড়ে উঠেছিলেন এমন একজন মানুষ, যাঁর সততা আর ন্যায়পরায়ণতা তাঁকে অল্প বয়সেই উপাধি এনে দিয়েছিল আল আমিন, অর্থাৎ বিশ্বস্ত। সেই মানুষটিই পরবর্তীতে হয়ে ওঠেন বিশ্বনবি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

নবুওয়াত লাভের আগে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। তিনি হযরত খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহার বাণিজ্যিক কাফেলা পরিচালনা করে সিরিয়া পর্যন্ত গিয়েছিলেন। তাঁর সততা, ওজনে কারচুপি না করা এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষার গুণে মুগ্ধ হয়ে খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এখান থেকেই বোঝা যায়, ইসলামি ব্যবসার ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল সততা এবং আমানতদারিতার উপর, লাভের অন্ধ প্রতিযোগিতার উপর নয়।

সাহাবিরা মূলত তিনটি পথে পণ্য সংগ্রহ করতেন। প্রথমত, নিজেরাই দূরদেশ থেকে কাফেলার মাধ্যমে পণ্য আমদানি করতেন, যেমন সিরিয়া থেকে কাপড়, ইয়েমেন থেকে চামড়া ও সুগন্ধি, ইরাক থেকে খেজুর ও শস্য। দ্বিতীয়ত, স্থানীয় কৃষক ও কারিগরদের কাছ থেকে পাইকারি দরে পণ্য কিনে পুনরায় বিক্রি করতেন। তৃতীয়ত, অনেকে যৌথ মূলধনে বাণিজ্য পরিচালনা করতেন, যাকে বলা হয় মুদারাবা। এই পদ্ধতিতে একজন মূলধন দিতেন, অন্যজন শ্রম ও দক্ষতা দিতেন, আর লাভ পূর্বনির্ধারিত অনুপাতে ভাগ হতো। এই মুদারাবা পদ্ধতিই আধুনিক যুগের অংশীদারি ব্যবসার প্রাচীন রূপ বলে বিবেচিত হয়।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাজার তদারকি করতেন এবং প্রতারণামূলক লেনদেন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছিলেন। একবার তিনি এক শস্য বিক্রেতার স্তূপে হাত ঢুকিয়ে দেখেন ভেতরে ভেজা শস্য লুকানো আছে, অথচ উপরের অংশ শুকনো দেখানো হয়েছে। তখন তিনি বলেছিলেন, যে প্রতারণা করে সে আমাদের দলভুক্ত নয়। এছাড়া তিনি নিষিদ্ধ করেছিলেন গারার অর্থাৎ অনিশ্চয়তাপূর্ণ লেনদেন, মজুতদারি করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা, এবং ক্রেতা শহরে প্রবেশের আগেই পণ্য কিনে নিয়ে দাম বাড়িয়ে দেওয়া। সুদভিত্তিক লেনদেনও সম্পূর্ণরূপে হারাম ঘোষণা করা হয়েছিল, যা তৎকালীন আরব বাণিজ্যে প্রচলিত একটি বড় প্রথা ছিল।

যাঁরা ব্যবসা করে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছিলেন সাহাবিদের মধ্যে হযরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহুর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মদিনায় হিজরতের পর তিনি খালি হাতে এসেছিলেন, কিন্তু বাজারের পথ চিনিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন আনসারি ভাইয়ের কাছে, উপহার নয়। এরপর ব্যবসা করে তিনি এমন সম্পদের মালিক হন যে, তাঁর একটি বাণিজ্য কাফেলা মদিনায় প্রবেশ করলে গোটা শহর কেঁপে উঠত শব্দে। তিনি জীবদ্দশায় বহুবার সমুদয় সম্পদ আল্লাহর পথে দান করে দিয়েছিলেন।

হযরত উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন কুরাইশদের অন্যতম শীর্ষ ধনী ব্যবসায়ী। মদিনায় পানির সংকটের সময় তিনি নিজের অর্থে রুমা কূপ কিনে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন। তাবুক যুদ্ধের প্রস্তুতির সময় তিনি একাই বিশাল অংকের অর্থ ও রসদ দান করেছিলেন, যা ইতিহাসে আজও স্মরণীয়।

হযরত খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা নিজেও ছিলেন মক্কার প্রথম সারির নারী ব্যবসায়ী। তাঁর নিজস্ব বাণিজ্য কাফেলা ছিল, কর্মচারী ছিল, এবং তিনি নিজের বুদ্ধিমত্তা ও দক্ষতায় বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছিলেন।

সেই যুগের ব্যবসার মূলমন্ত্র ছিল সততা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা, ওজনে নিখুঁততা এবং পারস্পরিক আস্থা। মুনাফা অর্জন নিষিদ্ধ ছিল না, বরং হালাল পথে ব্যবসা করে সম্পদশালী হওয়াকে উৎসাহিত করা হয়েছে। তবে সেই সম্পদের একটি বড় অংশ সমাজের কল্যাণে ব্যয় করার নজির স্থাপন করে গেছেন সাহাবিরা। আজকের বাণিজ্যিক জগতে যখন প্রতারণা, ভেজাল ও অতিরিক্ত মুনাফালোভের প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে, তখন রাসুলের যুগের এই ব্যবসায়িক আদর্শ আমাদের জন্য এক অমূল্য দিকনির্দেশনা হয়ে থাকতে পারে। লেখক: উদ্যোক্তা

Ads small one

কলারোয়ায় ইয়াবাসহ যুবক আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ
কলারোয়ায় ইয়াবাসহ যুবক আটক

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়া থানা পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে গোলাম মোস্তফা (২৮) নামের এক যুবক আটক হয়েছে। সে উপজেলার ব্রজবাকসা গ্রামের আজগর আলির ছেলে। বুধবার রাতে উপজেলার দামোদরকাটি প্রাইমারি স্কুলের সামনে ৩০ পিস ইয়াবাসহ পুলিশ ওই যুবককে আটক করে। কলারোয়া থানার অফিসার ইন সোর্স এইচএম শাহীন এ অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেন। এ বিষয়ে কলারোয়া থানায় মামলা হয়েছে (নং-২৬)।

কুলিয়ারচরে ভিডব্লিউবি কর্মসূচির তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ
কুলিয়ারচরে ভিডব্লিউবি কর্মসূচির তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ভালনারেবল উইমেন বেনেফিট (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচির আওতায় তিন দিনব্যাপী ট্রেইনারস অব ট্রেইনিং (টিওটি) সম্পন্ন হয়েছে। মানব সম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্র (মাসউক)-এর আয়োজনে ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ২১ থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকারের সভাপতিত্বে সমাপনী দিনে বক্তব্য দেন ও সনদ বিতরণ করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা সুলতানা। এর আগে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক আল আমিন ভূঞা।
তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে জীবন দক্ষতা উন্নয়ন ও আয় বৃদ্ধিমূলক আটটি মডিউলের ওপর বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়। এতে রিসোর্স পারসন হিসেবে সেশন পরিচালনা করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মর্জিনা আক্তার ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন। কর্মসূচি সমন্বয় করেন মো. গিয়াসউদ্দিন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

সুন্দরবন সংরক্ষণে শ্যামনগরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রশিক্ষণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ
সুন্দরবন সংরক্ষণে শ্যামনগরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রশিক্ষণ

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে শ্যামনগরে শিক্ষার্থী ও পরিবেশকর্মীদের নিয়ে দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ওয়াইল্ডটিমের আয়োজনে উপজেলার মুন্সিগঞ্জ টাইগার পয়েন্টে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। জিআইজেডের অর্থায়নে সুন্দরবনসংলগ্ন পাঁচটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার আর্থ স্কাউট, আর্থমেন্টর এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানেরা এতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বন বিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জের মুন্সিগঞ্জ বন টহল ফাঁড়ির ইনচার্জ ফরেস্টার মো. জাহিদ হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস হোসেন ও ওয়াইল্ডটিমের সমন্বয়কারী মো. আবু জাফর। প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন ওয়াইল্ডটিমের প্রোগ্রাম অফিসার বায়েজিদ হোসেন ও আলী হুসাইন মুহাম্মদ।
দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ মূল্যায়ন শেষে সুন্দরবন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী জাকিয়া জামান ও পোড়াকাটলা দ্বীপায়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী প্রিয়ংকা রানীকে ‘গোল্ডেন ব্যাজ’ প্রদান করা হয়। এ ছাড়া ১৪ জনকে ‘গোল্ড ব্যাজ’ এবং ২৬ জনকে ‘ব্রোঞ্জ ও সিলভার ব্যাজ’ দেওয়া হয়।