শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রসঙ্গ: উপকূলের বনজীবী ও টিকে থাকার সংগ্রাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ণ
প্রসঙ্গ: উপকূলের বনজীবী ও টিকে থাকার সংগ্রাম

সম্পাদকীয়

সুন্দরবন কেবল বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন বা প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষাবেষ্টনীই নয়; এটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন। অথচ এই বনের ওপর নির্ভর করে জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের দিন কাটে চরম অনিশ্চয়তা, অভাব আর প্রাণঘাতী ঝুঁকির মধ্যে। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে বাঘ, কুমিরসহ বন্যপ্রাণীর আক্রমণ আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে যাঁরা বনের সম্পদ আহরণ করেন, তাঁদের জীবনের চিত্রটি অত্যন্ত করুণ। সম্প্রতি গণমাধ্যমে উঠে আসা খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট অঞ্চলের উপকূলীয় জীবনের চিত্র আমাদের আবার স্মরণ করিয়ে দেয়Ñপ্রকৃতি ও ব্যবস্থার যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে বনজীবীরা আজ দিশেহারা।

দেশের উপকূলীয় খুলনা অঞ্চলের দাকোপ, কয়রা কিংবা সাতক্ষীরার আশাশুনি ও শ্যামনগরের মতো এলাকাগুলোর প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় সাত লাখ পরিবারের জীবন-জীবিকা এই ম্যানগ্রোভ বনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তবে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সীমা বৃদ্ধি ও নির্দিষ্ট প্রজনন মৌসুমে পাস-পারমিট বা বনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার কারণে গত এক দশকে এই জনগোষ্ঠীর আয় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। বন রক্ষার তাগিদে প্রজননকালে সম্পদ আহরণ বন্ধ রাখা পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত জরুরি একটি সিদ্ধান্ত, তবে ওই সময়ে এই বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্যানুসংস্থান বা বিকল্প আয়ের কোনো টেকসই ব্যবস্থা না থাকায় তাঁরা মানবিক সংকটে পড়ছেন।

বনজীবীদের চরম আর্থিক সংকটের সুযোগ নেয় অসাধু মহাজন ও দাদন ব্যবসায়ীরা। চড়া সুদে ঋণ নিয়ে বনে গিয়ে জলদস্যু, প্রগতির অভাব আর ন্যায্যমূল্য বঞ্চনার দরুন উপকূলীয় এই মানুষেরা দীর্ঘমেয়াদি ঋণের জালে বন্দি হয়ে পড়েন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংগ্রহ করা সম্পদ বিক্রি করে কিস্তির টাকাই শোধ হয় না, পরিবার চালানো তো দূরের কথা। ফলে বাধ্য হয়ে পেশা বদল কিংবা শহরে বাস্তুচ্যুত হওয়ার মতো ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে। অনেকে পেটের দায়ে অবৈধভাবে বনে প্রবেশ করে আইনের মুখোমুখি হচ্ছেন, যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর এই দীর্ঘদিনের নীরব দুর্ভোগ নিরসনে শুধু আশ্বাস বা সাময়িক ত্রাণ অপর্যাপ্ত। সুন্দরবন সংরক্ষণের স্বার্থেই বনজীবীদের বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা এখন সময়ের বড় দাবি। বন বিভাগের উদ্যোগে প্রশিক্ষণ ও সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় এনে বিকল্প জীবিকার প্রকল্প বাস্তবায়নের যে আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে, তা দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে মাঠপর্যায়ে পৌঁছাতে হবে। জেলেদের জন্য সরকারের বরাদ্দকৃত সহায়তা যেন প্রকৃত বনজীবীদের হাতে পৌঁছায় এবং দাদন ব্যবসায়ীদের শোষণ বন্ধে ঋণদান প্রক্রিয়া সহজ করা যায়, সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।

সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা যেমন জাতীয় দায়িত্ব, তেমনি বনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের টেকসই অর্থনৈতিক সুরক্ষাও সরকারের প্রাথমিক বাধ্যবাধকতা। উপকূলের পরিবেশবান্ধব বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সুপেয় পানির সংকট নিরসন এবং জলবায়ু সহনশীল জীবনমান নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। বন বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে—আর এই বন রক্ষা করতে হলে বনকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকা মানুষগুলোকেও বাঁচাতে হবে।

 

Ads small one

কপোতাক্ষ-বেতনা খনন হলেও জলজট: চরম দুর্ভোগে আশাশুনিবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৩ পূর্বাহ্ণ
কপোতাক্ষ-বেতনা খনন হলেও জলজট: চরম দুর্ভোগে আশাশুনিবাসী

বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি: আশাশুনি উপজেলার মরিচ্চাপ ও বেতনা নদী খনন করা হলেও তার সুফল পাচ্ছে না স্থানীয় বাসিন্দারা। পানি নিষ্কাশনের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় সপ্তাহকালের বৃষ্টিতে খাল-বিল, বসতবাড়ি, আমন বীজতলা ও মৎস্য ঘের তলিয়ে গেছে।

উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের বেশিরভাগ গ্রামেই এখন হাঁটু পানি। ড্রেনেজ ব্যবস্থা অপরিকল্পিত হওয়া এবং যত্রতত্র বাঁধ, ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো গড়ে তোলায় বৃষ্টির পানি সরতে পারছে না। ফলে আমন চাষের বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী দুটিতে জোয়ার-ভাটা সচল হলেও অভ্যন্তরীণ পয়ঃনিষ্কাশন বা পানি নামার খালগুলো অবরুদ্ধ থাকায় নদী খননের প্রকৃত সুফল তারা পাচ্ছেন না। ফলে বহু পরিবার এখন পানিবন্দী অবস্থায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

আশাশুনিতে চোরাই মোটরবাইকসহ গ্রেপ্তার ১, গাঁজাসহ আটক ১

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১:৩২ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে চোরাই মোটরবাইকসহ গ্রেপ্তার ১, গাঁজাসহ আটক ১

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে পৃথক অভিযান চালিয়ে একটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ এক চোর ও ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ১২ জুলাই খালিয়া এলাকার একটি মসজিদের সামনে থেকে একটি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানায় মামলা (নং-২৬, তারিখ: ২৩/০৭/২৬) দায়েরের পর আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহমদ খানের নেতৃত্বে এসআই নীতিশ বিশ্বাস দেবহাটা থানার পারুলিয়া বাজারে অভিযান চালিয়ে চোরাই মোটরসাইকেলসহ সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেফতার করেন।
অপরদিকে, এএসআই তারিক উর রহমান দরগাহপুর বাজারের একটি চায়ের দোকানের সামনে অভিযান চালিয়ে ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ শেখ জীবন ওরফে তবিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেন। তাঁর বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা (নং-২৭/১৪৪, তারিখ: ২৪-০৭-২৬) করা হয়েছে।

শ্যামনগরে ভাবগাম্ভীর্যে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের উল্টো রথযাত্রা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১:৩০ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে ভাবগাম্ভীর্যে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের উল্টো রথযাত্রা

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের উল্টো রথযাত্রা উদযাপিত হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে শ্যামনগর উপজেলার হরিতলা সার্বজনীন দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য উল্টো রথযাত্রা বের করা হয়।
রথটি উপজেলার চৌরাস্তা থেকে গোডাউন মোড় হয়ে গোপালপুর শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় হাজার হাজার ভক্ত-অনুরাগী ও সামাজিক-ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনিতে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।
উৎসব উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গণে বিশেষ পূজা-অর্চনা, গীতাপাঠ, কীর্তন, ধর্মীয় আলোচনা ও প্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছিল নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দির (ইসকন)-এর অধ্যক্ষ শ্রীপাদ কৃষ্ণ সখা দাস ব্রহ্মচারী জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বৈচিত্র্যময় আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উল্টো রথযাত্রা উদযাপিত হয়েছে। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত রূপ নেয়। অনুষ্ঠান শেষে বিশ্বশান্তি ও সকলের মঙ্গল কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয় এবং ভক্তদের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়।