বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রসঙ্গ: উপকূলের বনজীবী ও টিকে থাকার সংগ্রাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ণ
প্রসঙ্গ: উপকূলের বনজীবী ও টিকে থাকার সংগ্রাম

সম্পাদকীয়

সুন্দরবন কেবল বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন বা প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষাবেষ্টনীই নয়; এটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন। অথচ এই বনের ওপর নির্ভর করে জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের দিন কাটে চরম অনিশ্চয়তা, অভাব আর প্রাণঘাতী ঝুঁকির মধ্যে। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে বাঘ, কুমিরসহ বন্যপ্রাণীর আক্রমণ আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে যাঁরা বনের সম্পদ আহরণ করেন, তাঁদের জীবনের চিত্রটি অত্যন্ত করুণ। সম্প্রতি গণমাধ্যমে উঠে আসা খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট অঞ্চলের উপকূলীয় জীবনের চিত্র আমাদের আবার স্মরণ করিয়ে দেয়Ñপ্রকৃতি ও ব্যবস্থার যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে বনজীবীরা আজ দিশেহারা।

দেশের উপকূলীয় খুলনা অঞ্চলের দাকোপ, কয়রা কিংবা সাতক্ষীরার আশাশুনি ও শ্যামনগরের মতো এলাকাগুলোর প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় সাত লাখ পরিবারের জীবন-জীবিকা এই ম্যানগ্রোভ বনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তবে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সীমা বৃদ্ধি ও নির্দিষ্ট প্রজনন মৌসুমে পাস-পারমিট বা বনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার কারণে গত এক দশকে এই জনগোষ্ঠীর আয় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। বন রক্ষার তাগিদে প্রজননকালে সম্পদ আহরণ বন্ধ রাখা পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত জরুরি একটি সিদ্ধান্ত, তবে ওই সময়ে এই বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্যানুসংস্থান বা বিকল্প আয়ের কোনো টেকসই ব্যবস্থা না থাকায় তাঁরা মানবিক সংকটে পড়ছেন।

বনজীবীদের চরম আর্থিক সংকটের সুযোগ নেয় অসাধু মহাজন ও দাদন ব্যবসায়ীরা। চড়া সুদে ঋণ নিয়ে বনে গিয়ে জলদস্যু, প্রগতির অভাব আর ন্যায্যমূল্য বঞ্চনার দরুন উপকূলীয় এই মানুষেরা দীর্ঘমেয়াদি ঋণের জালে বন্দি হয়ে পড়েন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংগ্রহ করা সম্পদ বিক্রি করে কিস্তির টাকাই শোধ হয় না, পরিবার চালানো তো দূরের কথা। ফলে বাধ্য হয়ে পেশা বদল কিংবা শহরে বাস্তুচ্যুত হওয়ার মতো ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে। অনেকে পেটের দায়ে অবৈধভাবে বনে প্রবেশ করে আইনের মুখোমুখি হচ্ছেন, যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর এই দীর্ঘদিনের নীরব দুর্ভোগ নিরসনে শুধু আশ্বাস বা সাময়িক ত্রাণ অপর্যাপ্ত। সুন্দরবন সংরক্ষণের স্বার্থেই বনজীবীদের বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা এখন সময়ের বড় দাবি। বন বিভাগের উদ্যোগে প্রশিক্ষণ ও সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় এনে বিকল্প জীবিকার প্রকল্প বাস্তবায়নের যে আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে, তা দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে মাঠপর্যায়ে পৌঁছাতে হবে। জেলেদের জন্য সরকারের বরাদ্দকৃত সহায়তা যেন প্রকৃত বনজীবীদের হাতে পৌঁছায় এবং দাদন ব্যবসায়ীদের শোষণ বন্ধে ঋণদান প্রক্রিয়া সহজ করা যায়, সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।

সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা যেমন জাতীয় দায়িত্ব, তেমনি বনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের টেকসই অর্থনৈতিক সুরক্ষাও সরকারের প্রাথমিক বাধ্যবাধকতা। উপকূলের পরিবেশবান্ধব বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সুপেয় পানির সংকট নিরসন এবং জলবায়ু সহনশীল জীবনমান নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। বন বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে—আর এই বন রক্ষা করতে হলে বনকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকা মানুষগুলোকেও বাঁচাতে হবে।

 

Ads small one

আশাশুনিতে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট, পাম্পে গ্রাহকদের দীর্ঘ সারি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট, পাম্পে গ্রাহকদের দীর্ঘ সারি

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার পেট্রোল পাম্প, ডিপো ও খুচরা দোকানগুলোতে হঠাৎ জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। এতে করে পাম্পগুলোতে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

আন্তর্জাতিক অস্থিরতার অজুহাতে উপজেলার মহেশ্বরকাটি পাম্পটি পেট্রোল ও ডিজেল সরবরাহ বন্ধ ঘোষণা করেছে। সেখানে মজুত নেই জানিয়ে কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। বুধহাটা পাম্প থেকে কিছু তেল সরবরাহ করা হলেও চালকদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

এ ছাড়া উপজেলার অধিকাংশ ডিপো ও খুচরা দোকান তেল বিক্রি বন্ধ রেখেছে। দু-একটি দোকানে জ্বালানি মিললেও লিটারপ্রতি অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন গ্রাহকেরা। হঠাৎ এমন কৃত্রিম সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও পরিবহন চালকেরা।

শ্যামনগরে চুনা নদীতে র‌্যাবের অভিযান: বিপুল পরিমাণ মাদকসহ আটক ২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে চুনা নদীতে র‌্যাবের অভিযান: বিপুল পরিমাণ মাদকসহ আটক ২

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের চুনা নদী এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, ভারতীয় ওষুধ ও প্রসাধনী সামগ্রীসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের চুনা নদীর চরে নোঙর করা একটি নৌকায় অভিযান চালায় র‌্যাব-৬-এর একটি দল। তল্লাশি চালিয়ে নৌকা থেকে এসব চোরাচালানি পণ্য ও মাদক জব্দ করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের রাশিদুল ইসলামের ছেলে ইসমাইল হোসেন (২৮) এবং বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের চুনা গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে মো. সুমন (২৫)।
র‌্যাব জানায়, নৌকায় অভিযানের পাশাপাশি চোরাচালান ও পাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের বাড়িসহ আশপাশের কয়েকটি বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছে।
সীমান্তবর্তী ও দুর্গম এই উপকূলে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা জানান, মাদকের প্রভাবে এলাকার যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছে। এ ধরনের নিয়মিত অভিযান চললে এলাকা থেকে মাদক নির্মূল করা সম্ভব হবে।

আশাশুনিতে জরাজীর্ণ ভবনে পাঠদান, দুশ্চিন্তায় অভিভাবকেরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে জরাজীর্ণ ভবনে পাঠদান, দুশ্চিন্তায় অভিভাবকেরা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার সদর ইউনিয়নের ১০৫ নম্বর নাটানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চলছে। প্রায় তিন দশকের পুরোনো এই ভবনটি যেকোনো মুহূর্তে ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে চার কক্ষবিশিষ্ট এই ভবনটি নির্মিত হয়। বর্তমানে ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ছে এবং রড বেরিয়ে গেছে। গত এক মাসের টানা বর্ষণে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ায় পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নতুন ভবনের জন্য গ্রামবাসী ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপঙ্কর মল্লিক, সহকারী শিক্ষক অমরনাথ ঢালী, রুম্পা সরকার, তাপসী সরকার, সাধনা মন্ডল ও চম্পা রানী সরকার বলেন, জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালাতে হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে অন্তত একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ বা বিকল্প ব্যবস্থা করা না হলে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার বর্মনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অতি দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।