বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

ষষ্ঠ শ্রেণিতে উঠেও দিতে হচ্ছে পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা, চাপে শিক্ষার্থীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১:২৩ পূর্বাহ্ণ
ষষ্ঠ শ্রেণিতে উঠেও দিতে হচ্ছে পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা, চাপে শিক্ষার্থীরা

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: ষষ্ঠ শ্রেণির পড়াশোনা সামলাবেন, নাকি নতুন করে পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যবই খুলবেনÑএমনই এক দোটানায় পড়েছে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সহস্রাধিক শিক্ষার্থী। আইনি জটিলতায় গত বছর স্থগিত হওয়া ২০২৫ সালের পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। ফলে বর্তমান ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ওপর দ্বিমুখী পড়াশোনার চাপ তৈরি হয়েছে।
গত বছর যারা পঞ্চম শ্রেণিতে ছিল, তারা বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে। শিক্ষা বর্ষের মাঝামাঝি এসে হঠাৎ প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করায় বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে চার দিনব্যাপী এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে যারা ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে, তাদের অনেকের কাছেই এখন পঞ্চম শ্রেণির বই বা নোট খাতা সংরক্ষিত নেই। হঠাৎ এই পরীক্ষার ঘোষণায় নতুন করে পুরনো ক্লাসের বই জোগাড় করে প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে তাদের।
শ্যামনগরের নকিপুর সরকারি হরিচরণ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র আলিফ হোসেন ও ছাত্রী তিসা জানায়, তারা গত বছর হায়নাতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় বৃত্তির জন্য মনোনীত হয়েছিল। এখন তাদের একই সঙ্গে ষষ্ঠ শ্রেণির পড়াশোনা করতে হচ্ছে, আবার পঞ্চম শ্রেণির প্রস্তুতির জন্য পুরনো স্কুলেও যেতে হচ্ছে। সামনে ষষ্ঠ শ্রেণির অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা থাকায় চাপ আরও বেড়েছে।
অভিভাবকেরা বলছেন, শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে চরম চাপে রয়েছে। একদিকে মাধ্যমিকের নতুন কারিকুলাম ও পড়াশোনা, অন্যদিকে হুট করে আসা এই বৃত্তি পরীক্ষা তাদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবনে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থীকে এখন একই দিনে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক—উভয় স্কুলেই দৌড়ঝাঁপ করতে হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের বৃত্তি পরীক্ষা মোট ৪০০ নম্বরের ওপর অনুষ্ঠিত হবে। শ্যামনগর উপজেলায় মোট ১ হাজার ১৫৮ জন শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেবে। এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের ১ হাজার ১১৩ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৪৩ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এনামুল হক বলেন, “আইনি জটিলতার কারণে ২০২৫ সালের পরীক্ষাটি স্থগিত ছিল। অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। পরীক্ষার সময়সূচি ইতিমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। নকিপুর সরকারি হরিচরণ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও নকিপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়কে কেন্দ্র হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি চলছে।”
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরীক্ষার এই দীর্ঘসূত্রতা শিক্ষার্থীদের শিখন ফলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের পরীক্ষার ক্ষেত্রে আরও পরিকল্পিত সময়সূচির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Ads small one

সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:২১ পূর্বাহ্ণ
সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সরকারি ও বেসরকারি সমমনা সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে সিসিআরসি ও আরবিএ বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৪ জুন দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিসিডিবি এই কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সিসিডিবি’র উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রূপন। সিসিডিবি’র রেজিলিয়েন্স বিল্ডিং ম্যানেজার সামিউল আলিম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও শামসুজ্জামান কনক। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারিদ বিন শফিক, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ
জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গাছপালা কেটে ফেলা এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বসন্তপুর গ্রামের বৈদ্যনাথ দাস বাদী হয়ে শংকর দাস ও দিপঙ্কর দাসসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা (নং-৪০৬/২০২৬) দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বসন্তপুর মৌজার ৫৮ শতক পৈতৃক সম্পত্তির একটি রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে, যা নিয়ে আগেও একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। বাদীর অভিযোগ, চলমান মামলার তোয়াক্কা না করে প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক তাঁর জমিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন গাছগাছালি কেটে সাবাড় করেছে এবং জমি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। বিবাদীদের আর্থিক ও সামাজিক প্রভাবের কারণে তাঁর পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানবেতর জীবনযাপন করছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আলিপুর থেকে কুলিয়া বাজার পর্যন্ত অংশে সরকারি খাস জমিতে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। সড়কের ‘অপ্রয়োজনীয় অংশ’ উচ্ছেদ না করে কেবল মূল কাজের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু জমি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে গত ২৪ জুন জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা। আগামী ৮ ও ৯ জুলাই সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পক্ষ থেকে মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর হাতে আবেদনপত্রটি তুলে দেন।
এ সময় কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীম, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাবলু, কুলিয়া বাজার কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক আবু হুরাইরা এবং সমাজসেবক মোজাম্মেল হোসেনসহ (মিনু ডাক্তার) এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদ প্রশাসক ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এলাকার অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়কের উন্নয়ন কাজকে স্থানীয়রা স্বাগত জানান। তবে সওজ-এর নকশা অনুযায়ী ঢালাওভাবে উচ্ছেদ করা হলে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাঁদের দোকান, পুঁজি ও জীবিকা হারিয়ে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। গ্রামীণ অর্থনীতি, মাছের শেড ও স্থানীয় বাজার ব্যবস্থা এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বহু ভূমিহীন পরিবার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। মানবিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে সড়ক উন্নয়নে যতটুকু জমি অপরিহার্য, ঠিক ততটুকু রেখে বাকি অংশ উচ্ছেদ না করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।