মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

মুক্তমত: মাইকের ডাক পৌঁছায় না মনে : ‘বৃক্ষমেলা প্রসঙ্গ’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
মুক্তমত: মাইকের ডাক পৌঁছায় না মনে : ‘বৃক্ষমেলা প্রসঙ্গ’

আখলাকুর রহমান

একটা ইজিবাইক। ছাদে দুটো মাইক বাঁধা। ড্রাইভার ছেলেটার নাম হয়তো রহিম কিংবা করিম, নাম দিয়ে কিছু যায় আসে না। সে প্রতিদিন সকালবেলা গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘোষণা দিয়ে বেড়ায়, আসুন, আসুন, শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে চলছে বৃক্ষমেলা। নানা রকমের ফলদ, ঔষধি ও বনজ গাছের চারা পাওয়া যাচ্ছে।

মাইকের শব্দ মিলিয়ে যায় বাতাসে। মানুষজন ঘর থেকে উঁকি দিয়ে দেখে, তারপর আবার নিজের কাজে মন দেয়। কেউ কেউ ভাবে, ও, মেলা হচ্ছে বুঝি। ব্যস, এইটুকুই। এরপর আর কিছু নেই।

এই দৃশ্যটা আমার কাছে বড় করুণ লাগে। একটা সুন্দর উদ্যোগ, একটা মহৎ চিন্তা, অথচ তার পরিণতি একটা ইজিবাইকের মাইকের আওয়াজে আটকে গেছে। যেন কেউ একজন বিরাট এক প্রেমপত্র লিখেছে, তারপর সেই পত্র একটা কাগজের ঠোঙায় মুড়িয়ে ফেলে দিয়েছে ডাস্টবিনে।

আমরা বাঙালিরা বড় অদ্ভুত জাতি। আমরা গাছ ভালোবাসি বলে দাবি করি, অথচ গাছ কিনতে গেলে আমাদের হাত কাঁপে। আমরা বৃষ্টির গান গাই, নদীর গল্প লিখি, বটগাছের ছায়ায় বসে আড্ডা দিই, কিন্তু যখন একটা চারাগাছ কিনে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার প্রশ্ন আসে, তখন আমরা হিসেব করি, এটা দিয়ে কী হবে?
এই কী হবে প্রশ্নটাই আসলে আমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু।

শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে যে ছেলেমেয়েরা নার্সারি নিয়ে বসে আছে, তাদের মুখের দিকে তাকালে মনটা খারাপ হয়ে যায়। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বসে থাকে, রোদে পুড়ে, গাছের পাতায় পানি দেয়, যতœ করে সাজিয়ে রাখে টবগুলো। অথচ সন্ধ্যা নামলে দেখা যায়, বিক্রি হয়েছে দুই তিনটা মাত্র চারা।

একজন নার্সারি মালিক আমাকে বলছিলেন, স্যার, আমরা তো গাছ বিক্রি করি না, আমরা যেন ভিক্ষা চাই। কথাটা শুনে বুকের ভেতর কোথায় যেন একটা মোচড় দিয়ে উঠল।

অথচ ভাবুন তো, একটা আমগাছের চারা, দাম হয়তো পঞ্চাশ কি ষাট টাকা। এই টাকায় আজকাল একটা ভালো সিঙ্গাড়া চা ও হয় না ঠিকমতো। অথচ এই ছোট্ট চারাটা যদি বেঁচে থাকে দশ বছর, পনেরো বছর, তাহলে একদিন সে ছায়া দেবে, ফল দেবে, পাখিদের বাসা দেবে, বাতাস দেবে বিশুদ্ধ অক্সিজেন। এমন লাভজনক বিনিয়োগ পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই। কিন্তু আমরা এই হিসেবটা করি না। আমরা তাৎক্ষণিক লাভের হিসেব করি। আজকের বাজারে আলুর দাম কত, পেঁয়াজের দাম কত, এই নিয়ে আমাদের যত মাথাব্যথা। গাছের কথা মনে পড়ে শুধু তখনই, যখন রোদে হাঁটতে হাঁটতে ছায়ার খোঁজে আমরা কোনো এক অচেনা গাছের নিচে দাঁড়িয়ে পড়ি।

তাহলে প্রশ্ন হলো, এই মেলাকে বাঁচানো যায় কীভাবে। এই ইজিবাইকের মাইকের বাইরে গিয়ে মানুষের মনে গাছের প্রতি একটা টান তৈরি করা যায় কীভাবে!

আমার মনে হয়, এখানে সবচেয়ে বড় ভুলটা হচ্ছে, আমরা গাছ বিক্রি করার চেষ্টা করছি, কিন্তু গাছের সাথে একটা সম্পর্ক তৈরি করার চেষ্টা করছি না। মানুষ জিনিস কেনে যখন সেই জিনিসের সাথে তার একটা আবেগের যোগ তৈরি হয়। শুধু ঘোষণা দিয়ে জিনিস বিক্রি হয় না, গল্প দিয়ে জিনিস বিক্রি হয়। তাই প্রথম কাজ, গল্প তৈরি করা।

এক. গাছের নামকরণ উৎসব। প্রতিটি চারার সাথে একটা করে ছোট কার্ড ঝুলিয়ে দেওয়া যেতে পারে, যেখানে লেখা থাকবে, আমাকে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে একটা নাম দাও। আমি তোমার সন্তানের বয়সী হয়ে বড় হবো তোমার সাথে। এই ছোট্ট কথাটা একটা শিশুর মনে যে প্রভাব ফেলবে, তা হাজার বিজ্ঞাপনেও হবে না। বাচ্চারা বাবা মাকে জোর করে নিয়ে আসবে গাছ কিনতে, শুধু নিজের গাছটার নাম রাখার জন্য।

দুই. জন্মদিনের গাছ। কারো জন্মদিন হলে কেক কাটার পাশাপাশি একটা গাছ রোপণের প্রচলন শুরু করা যেতে পারে। মেলায় এসে ঘোষণা করা যায়, আপনার সন্তানের জন্মদিনে তার বয়সের সমান উচ্চতার একটা গাছ উপহার দিন। প্রতি জন্মদিনে গাছটাও বড় হবে, আপনার সন্তানও বড় হবে। এই ধারণাটা মানুষকে ছুঁয়ে যাবে, কারণ এখানে গাছ আর সন্তানের ভাগ্য একসূত্রে বাঁধা পড়ে যায়।

তিন. বিদ্যালয়ভিত্তিক প্রতিযোগিতা। স্কুলে স্কুলে প্রতিযোগিতা ঘোষণা করা যেতে পারে, কোন শ্রেণি সবচেয়ে বেশি গাছ রোপণ করে তার যতœ নিতে পারে। ছাত্রছাত্রীরা যখন প্রতিযোগিতায় নামবে, তখন তাদের পরিবারও এই আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয়ে যাবে। বিজয়ী শ্রেণিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া যেতে পারে।

চার. মাইকের বদলে মানুষের মুখ। ইজিবাইকের মাইক আর যান্ত্রিক ঘোষণার বদলে দরকার মানুষের মুখ। স্থানীয় কোনো শিক্ষক, কোনো প্রবীণ ব্যক্তি, কিংবা কোনো পরিচিত মুখ যদি ভিডিও বার্তা দেন, আমি চল্লিশ বছর আগে একটা কড়ই গাছ লাগিয়েছিলাম আমার বাড়ির উঠোনে, আজ সেই গাছের ছায়ায় আমার নাতি নাতনিরা খেলা করে, এই ধরনের সত্যিকারের গল্প মানুষের মনে দাগ কাটবে। এই ভিডিওগুলো ফেসবুকে, ইউটিউবে, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ছড়িয়ে দিতে হবে।

পাঁচ. হাটবাজারে উপস্থিতি। মানুষ মেলায় আসতে চায় না, কিন্তু হাটে তো আসেই। সপ্তাহের হাটবারে সাতক্ষীরার বিভিন্ন হাটে ছোট ছোট স্টল বসানো যেতে পারে। মানুষ যখন সবজি মাছ কিনতে আসবে, তখন পাশ দিয়ে যাওয়ার পথে একটা চারাগাছ তার চোখে পড়বে, হাতে নিয়ে দেখবে, দাম জিজ্ঞেস করবে। এটাই আসল প্রচার, মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরার পথে গাছকে নিয়ে যাওয়া।

ছয়. বিনিময়ের সংস্কৃতি। শুধু টাকার বিনিময়ে বিক্রি নয়, বিনিময়ের একটা মজার নিয়ম চালু করা যেতে পারে। পুরনো প্লাস্টিকের বোতল বা অব্যবহৃত জিনিস জমা দিলে একটা করে চারা ফ্রি। এতে পরিবেশ রক্ষার দুটো কাজ একসাথে হবে, প্লাস্টিক কমবে, গাছ বাড়বে। মানুষ বিনামূল্যের জিনিসের প্রতি সবসময় একটু বেশি আগ্রহী থাকে।

সাত. ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষঙ্গ। আমাদের সমাজে ধর্মীয় কথার একটা আলাদা শক্তি আছে। গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়ার সাথে যুক্ত করে প্রচার করা যেতে পারে। একটা গাছ যতদিন বাঁচবে, তার ছায়ায় যে বসবে, তার ফল যে খাবে, তার সওয়াব গাছ লাগানো মানুষটার আমলনামায় যোগ হতেই থাকবে। এই কথাটা ইমাম সাহেবরা জুমার নামাজের পরে বললে তার প্রভাব অন্যরকম হবে।

আট. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার। মেলার একটা দিন সরাসরি ফেসবুক লাইভ করা যেতে পারে, যেখানে দেখানো হবে কোন গাছের কী উপকারিতা, কীভাবে যতœ নিতে হয়, কোন গাছ কম জায়গায় লাগানো যায়। মানুষ তথ্য পেলে আগ্রহী হয়। শুধু গাছ কিনুন বললে মানুষ আগ্রহী হয় না, কিন্তু এই গাছটা আপনার ছাদবাগানের জন্য একদম উপযুক্ত, তিন বছরেই ফল দেবে, এই কথাটা শুনলে মানুষ এগিয়ে আসে।

আসলে সমস্যাটা গাছের নয়, সমস্যাটা আমাদের মনের। আমরা এমন একটা সময়ে বাস করছি, যেখানে সবকিছু তাৎক্ষণিক হতে হবে। আজ টাকা দিলে আজই ফল চাই। কিন্তু গাছ তো এমন জিনিস নয়। গাছ ধৈর্যের ফসল। গাছ ভালোবাসার প্রতিদান দেয় বছরের পর বছর ধরে, ধীরে ধীরে, নীরবে।

একটা গাছ কখনো অভিযোগ করে না। রোদ পড়ুক, ঝড় আসুক, অবহেলা হোক, গাছ শুধু বেড়ে ওঠে। আর একদিন হঠাৎ দেখা যায়, সেই ছোট্ট চারাগাছটা বিশাল হয়ে গেছে, তার নিচে বসে জিরিয়ে নিচ্ছে ক্লান্ত পথিক, তার ডালে বাসা বেঁধেছে কোনো এক অচেনা পাখি।

আমার মনে হয়, সাতক্ষীরার এই বৃক্ষমেলাকে বাঁচাতে হলে আমাদের প্রথমে এই গল্পগুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। মানুষকে বোঝাতে হবে, একটা গাছ কেনা মানে শুধু একটা চারা কেনা নয়, একটা ভবিষ্যৎ কেনা, একটা ছায়া কেনা, একটা প্রজন্মের জন্য একটা উপহার রেখে যাওয়া।

জেলা প্রশাসন, সামাজিক বন বিভাগ, স্কুল কলেজ, স্থানীয় সাংবাদিক, ইমাম সাহেব, শিক্ষক, সবাইকে একসাথে নেমে আসতে হবে এই কাজে। শুধু একটা ইজিবাইকের মাইক দিয়ে এই বিশাল কাজ হবে না। এর জন্য দরকার মানুষের হৃদয়ে পৌঁছানোর মতো ভাষা, গল্প বলার মতো ধৈর্য, আর ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়ার মতো আন্তরিকতা।

আমি জানি না এই লেখাটা পড়ে কজন মানুষ গাছ কিনতে যাবেন। কিন্তু যদি একজনও যান, যদি একটা শিশু তার বাবাকে ধরে বলে, বাবা, আমার একটা গাছ চাই, আমি তার নাম দেব, তাহলেই এই লেখা সার্থক।

শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের সেই নার্সারি মালিকদের চোখে যে হতাশা দেখেছি, সেই হতাশা কেটে গিয়ে যদি একটা হাসি ফোটে, তাহলে বুঝব, গাছেরাও এবার অভিমান ভুলে গেছে। আর অভিমান ভাঙানোর সবচেয়ে ভালো উপায় তো একটাই, ভালোবাসা দিয়ে কাছে টেনে নেওয়া।

গাছ যেমন নীরবে ভালোবাসে, আমাদেরও শেখা উচিত তেমন নীরবে ভালোবাসতে। একটা চারা হাতে নিয়ে মাটিতে পুঁতে দেওয়ার মুহূর্তটা যদি আমরা একবার অনুভব করি, তাহলে বুঝব, এই ছোট্ট কাজটার মধ্যেই লুকিয়ে আছে জীবনের সবচেয়ে বড় এক আনন্দ।

মেলা শেষ হয়ে যাবে কয়েকদিন পরে। কিন্তু গাছ লাগানোর কাজ তো শেষ হওয়ার নয়। এই মেলা শুধু একটা শুরু হোক, সাতক্ষীরার প্রতিটা বাড়ির উঠোনে, প্রতিটা স্কুলের মাঠে, প্রতিটা রাস্তার ধারে যেন একদিন সবুজের সমারোহ দেখা যায়। এই স্বপ্নটাই তো ছিল আয়োজকদের মনে। এখন প্রয়োজন শুধু সেই স্বপ্নটাকে মানুষের মনের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া।

লেখক: উদ্যোক্তা

 

Ads small one

চব্বিশের জুলাই বিপ্লব: একাত্তরের অসমাপ্ত আকাক্সক্ষার তাত্ত্বিক পুনরুত্থান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১:১১ পূর্বাহ্ণ
চব্বিশের জুলাই বিপ্লব: একাত্তরের অসমাপ্ত আকাক্সক্ষার তাত্ত্বিক পুনরুত্থান

এড. সৈয়দ ইফতেখার আলী
২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমাজতাত্ত্বিক ইতিহাসে একটি অভূতপূর্ব এবং কাঠামোগত রূপান্তরকারী ঘটনা। এই অভ্যুত্থান কেবল একটি সরকারের পতন ছিল না, বরং এটি ছিল দীর্ঘ দেড় দশক ধরে গড়ে ওঠা একটি হাইব্রিড মাফিয়া রেজিম এর বিরুদ্ধে জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও তৎকালীন শাসকদলের ক্যাডার বাহিনী কর্তৃক সাধারণ নাগরিকদের ওপর দীর্ঘদিনের নিপীড়ন, ভোটাধিকার হরণ এবং একাধিপত্যবাদী ‘হেজেমনি’ সমাজকে একটি গভীর রাজনৈতিক সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। জেনারেশন জেড শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া কোটা সংস্কার আন্দোলনটি দ্রুতই রাষ্ট্রের দমন যন্ত্রগুলোর সহিংসতার মুখে একটি পূর্ণাঙ্গ ফ্যাসিবাদের পতন আন্দোলনের রূপ নেয়। এই বিপ্লবের মূল চালিকাশক্তি ছিল মেধার অবমূল্যায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ এবং নাগরিক হিসেবে নিজেদের হারানো মানবিক মর্যাদা ও স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার পুনরুদ্ধার করা।
এই আন্দোলনের মাস মোবিলাইজেশন বা সামাজিক গতিশীলতার চরিত্রটি ছিল সম্পূর্ণ সর্বজনীন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক। তরুণ শিক্ষার্থীরা যখন রাজপথে নৈতিক প্রতিরোধের দেয়াল গড়ে তোলে, তখন তা সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে আলোড়িত করে। রিকশাচালক, তৈরি পোশাক শ্রমিক, মধ্যবিত্ত অভিভাবক, শিক্ষক থেকে শুরু করে আপামর জনতা দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এক কাতারে শামিল হয়, যা ‘ইনক্লুসিভ সোশ্যাল মুভমেন্ট থিওরি’ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক আন্দোলন তত্ত্বের একটি ক্ল্যাসিক্যাল উদাহরণ। রাষ্ট্রীয় হিংস্রতার মুখেও সাধারণ মানুষের এই অদম্য প্রতিরোধ মূলত রাষ্ট্রের সাথে নাগরিকের যে সামাজিক চুক্তি থাকার কথা, তার চরম লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে একটি স্বতঃস্ফূর্ত বিদ্রোহ ছিল। চব্বিশের এই তরুণ সমাজ প্রমাণ করেছে যে, বন্দুকের নল বা ভয়ের সংস্কৃতি দিয়ে একটি সচেতন জনসমষ্টির গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে চিরতরে দমন করে রাখা অসম্ভব।
চব্বিশের এই ঐতিহাসিক বিপ্লবের গভীর রাজনৈতিক ও আদর্শিক শিকড় সন্ধান করতে গেলে আমাদের অনিবার্যভাবে ফিরে যেতে হয় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল স্পিরিটের কাছে। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব কোনো বিচ্ছিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং এটি ১৯৭১ সালের অসমাপ্ত গণতান্ত্রিক ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেরই একটি ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে তিনটি মূল নীতি ঘোষণা করা হয়েছিল—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার। তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ওপর যে চরম অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও চাকরি ক্ষেত্রে বৈষম্য চাপিয়ে দিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে লড়াই করেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, স্বাধীনতার পরবর্তী দশকগুলোতে এবং বিশেষ করে বিগত ১৫ বছরে, সেই স্বাধীনতার চেতনাকেই রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে দেশে একটি নতুন ধরনের ফ্যাসিবাদের জন্ম দেওয়া হয়েছিল, যেখানে সাধারণ নাগরিকেরা আবার বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হয়।
ফলে, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের সাথে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষার মিলটি অত্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক ও তাত্ত্বিক। একাত্তরে বাঙালি জাতি যেভাবে একটি ঔপনিবেশিক মানসিকতাসম্পন্ন সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে নিজেদের ভোটাধিকার ও আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের জন্য লড়াই করেছিল, চব্বিশের ছাত্র-জনতাও ঠিক একইভাবে একটি স্বৈরাচারী ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে জনগণের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছে। উভয় আন্দোলনেই ছাত্র ও তরুণ সমাজ রাজনৈতিক ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করেছে এবং সাধারণ মানুষকে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসার নৈতিক শক্তি জুগিয়েছে। একাত্তরে যা ছিল ভৌগোলিক ও সার্বভৌম স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই, চব্বিশে এসে তা রূপ নিয়েছে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ফ্যাসিজম থেকে মুক্তি এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনের লড়াইয়ে। চব্বিশের জুলাই বিপ্লব একাত্তরের সেই মূল স্পিরিট—অর্থাৎ প্রকৃত সাম্য ও ন্যায়বিচারের আদর্শ দিয়েই একাত্তরের চেতনাকে অপব্যবহার করে প্রতিষ্ঠিত ফ্যাসিজমের পতন ঘটিয়েছে এবং রাষ্ট্রকে জনগণের সামগ্রিক কল্যাণের একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক কাঠামো হিসেবে পুনর্র্নিমাণের নতুন পথ দেখিয়েছে। এ সুযোগকে আর হারানো যাবে না। এখনই সময় তারেক রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বে মহান জুলাই ও স্বাধীনতার সাম্য, সামাজিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সকল ফ্যাসিস্ট, স্বাধীনতা বিরোধী ও মৌলবাদী শক্তির বিরুদ্ধে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার। লেখক: এড. সৈয়দ ইফতেখার আলী, সাবেক আহ্বায়ক, সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি

 

ঢাকায় নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে সাতক্ষীরার এক ব্যক্তির মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
ঢাকায় নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে সাতক্ষীরার এক ব্যক্তির মৃত্যু

 

পত্রদূত রিপোর্ট: রাজধানী ঢাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের তিনতলা থেকে নিচে পড়ে মো. মোজাফফর হোসেন (৪৮) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মোজাফফর হোসেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ি ইউনিয়নের গোবরদাড়ি গ্রামের আব্দুল ওয়াদুদের (ওয়াদুদ আমিন) ছেলে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরার গোবরদাড়ি গ্রামে নিহতের নিজ বাসভবনে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। মোজাফফর হোসেনের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

 

 

 

 

 

আশাশুনিতে জন্মাষ্টমী পালনে পূজা উদযাপন ফ্রন্টের প্রস্তুতি সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে জন্মাষ্টমী পালনে পূজা উদযাপন ফ্রন্টের প্রস্তুতি সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি: বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট আশাশুনি উপজেলা শাখার আয়োজনে ২০২৬ সালের শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) আশাশুনি বাজার কালীমন্দিরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পূজা উদযাপন ফ্রন্টের উপজেলা সভাপতি তুষার কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক প্রীতিষ রায়ের সঞ্চালনায় সভায় সংগঠনের বিভিন্ন ইউনিয়নের দায়িত্বশীল নেতারা অংশ নেন।
সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী জন্মাষ্টমীতে শোভাযাত্রা ও সদর পরিষদ প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন। পাশাপাশি আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপনের জন্য প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।