মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিজয় এসেছে, কিন্তু ফেরেনি আসিফ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ
বিজয় এসেছে, কিন্তু ফেরেনি আসিফ

এসএম বিপ্লব হোসেন
বাড়ির উঠানে এখনও বিকেলের রোদ পড়ে। সন্ধ্যা নামলেই আজও দরজার দিকে তাকিয়ে থাকেন একজন মা। কোনো শব্দ হলেই বুকের ভেতর কেঁপে ওঠে আশা। মনে হয়, এই বুঝি ছেলেটা ফিরে এল। কিন্তু পরমুহূর্তেই বাস্তবতা তাকে মনে করিয়ে দেয়, সেই অপেক্ষার আর কোনো শেষ নেই।
ধীরে ধীরে তিনি বলেন, “ও বাবা, তুমি যাইওনা… কত বলেছিলাম, বাবা যাস না। তাও গেলে। আমার আসিফ আর ফিরল না…” এরপর আর কথা বলতে পারেন না শিরীন সুলতানা। কান্নায় ভেঙে পড়েন। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ছেলেকে হারানোর সেই বিকেলটি যেন আজও থমকে আছে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার আস্কারপুর গ্রামের ছোট্ট সেই বাড়িতে।
দেশ বদলেছে। ইতিহাস বদলেছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। শহীদদের স্মরণে দেশের বিভিন্ন স্থানে হয়েছে নানা আয়োজন। কোথাও নির্মিত হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ, কোথাও পাঠাগার, কোথাও বা চত্বর। কিন্তু একজন মায়ের কাছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার সন্তানের খালি বিছানা, অপূর্ণ অপেক্ষা আর না-ফেরা একটি মুখ।
মাত্র ২১ বছর বয়সে আহত এক সহযোদ্ধাকে বাঁচাতে ছুটে যাওয়া সেই তরুণের নাম আজ শহীদ আসিফ হাসান। নর্দান ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এই শিক্ষার্থী নিজের জীবন নয়, অন্য একজনের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়েই প্রাণ হারিয়েছিলেন।
১৮ জুলাই ২০২৪: রাজধানীর উত্তরা তখন ধোঁয়া, আতঙ্ক আর গুলির শব্দে ভারী। আন্দোলনের মিছিল ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চলছে। ঠিক সেই সময় বড় বোনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন আসিফ।
“আপা, আমি ভালো আছি। ভয় পেয়ো না। পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়ছে। আমাদের এক ভাই গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ওকে পানি খাওয়াতে যাচ্ছি…”Ñএটাই ছিল তার শেষ কথা।
ফোনের অপর প্রান্তে বড় বোন বারবার ডাকছিলেন, “হ্যালো… হ্যালো… আসিফ…” কিন্তু আর কোনো উত্তর আসেনি। আহত সহযোদ্ধাকে পানি খাওয়ানোর আগেই গুলিতে লুটিয়ে পড়েছিলেন আসিফ। পরে সহযোদ্ধারা তাকে কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বাড়িতে তখনও কেউ জানত না, পরিবারের সবচেয়ে ছোট স্বপ্নবাজ ছেলেটি আর কোনোদিন ফিরবে না।
কয়েকদিন পর বাড়ি ফেরার জন্য বাসের টিকিট কাটা ছিল। মা ভেবেছিলেন, ছেলেটা এলে তার প্রিয় ভেটকি মাছ, চিংড়ি আর গরুর মাংস রান্না করবেন। কিন্তু বাস থেকে নামল না আসিফ। ফিরল সাদা কাফনে মোড়ানো নিথর দেহ হয়ে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবি দেখে পরিবার প্রথম নিশ্চিত হয়, তাদের আসিফ আর নেই। সেই থেকে এই বাড়ির সময় যেন থেমে আছে।
শিরীন সুলতানা আজও বলেন, “আমার মনে হয়, দরজায় কড়া নাড়বে। বলবে, মা খেতে দাও। এখনও রান্না করলে মনে হয়, আমার আসিফ এসে বলবে, মা গরম গরম দাও।”
পাশেই বসে থাকেন বাবা মাহমুদ আলম। খুব বেশি কথা বলেন না। শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। চোখের ভাষাতেই যেন লুকিয়ে থাকে সব বেদনা।
জমজ ভাই রাকিব হাসানের কাছে এই শূন্যতা আরও গভীর। একই দিনে জন্ম, একই সঙ্গে বড় হওয়া, একই স্বপ্নে পথচলা। ভাইকে হারানোর পর যেন নিজেরই একটি অংশ হারিয়ে ফেলেছেন তিনি।
রাকিব বলেন, “আমাদের মধ্যে কোনো কিছুই আলাদা ছিল না। যা করতাম, একসঙ্গে করতাম। এখন মনে হয়, আমার অর্ধেকটাই যেন হারিয়ে গেছে।”
দুই বছর পরও পরিবারের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই, বিচার কবে হবে?
মামলার তদন্ত চলছে বলে জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতির খবর পরিবার জানে না। দীর্ঘ এই অপেক্ষা তাদের বেদনা আরও গভীর করেছে।
তবে সাতক্ষীরা তার এই সন্তানকে ভুলে যায়নি। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের পাঠাগারের নামকরণ করা হয়েছে ‘শহীদ আসিফ পাঠাগার’। জেলার কেন্দ্রস্থল খুলনা রোড মোড় এখন পরিচিত ‘আসিফ চত্বর’ নামে। দেবহাটায় উদ্বোধন হয়েছে ‘শহীদ আসিফ হাসান মিনি স্টেডিয়াম’। এসব শুধু স্থাপনার নাম নয়, একটি প্রজন্মের আত্মত্যাগের নীরব সাক্ষী।
তবু দিনের শেষে যখন সন্ধ্যা নামে আস্কারপুরের সেই বাড়িতে, তখন একজন মা এখনও নিঃশব্দে ছেলের ঘরে ঢোকেন। বালিশে হাত রাখেন। আলমারি খুলে কাপড় গুছিয়ে রাখেন। কখনও আকাশের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলেন, “বাবা, আর একবার যদি ফিরে আসতে…”
হয়তো কোনোদিন সেই ডাকের উত্তর মিলবে না।
জুলাইয়ের সেই উত্তাল দিন পেরিয়ে সময় এগিয়েছে। বদলে গেছে রাষ্ট্র, বদলে গেছে রাজনীতির অনেক হিসাব। কিন্তু দেবহাটার আস্কারপুর গ্রামের একটি বাড়িতে সময় যেন এখনও আটকে আছে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাইয়ে। একজন মা এখনও সন্তানের জন্য অপেক্ষা করেন, একজন বাবা নীরবে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন, আর একজন যমজ ভাই প্রতিদিন নিজের অর্ধেক শূন্যতা বয়ে বেড়ান।
রাষ্ট্র আজ নানা আয়োজনে শহীদ আসিফ হাসানকে স্মরণ করছে। তার নামে হয়েছে পাঠাগার, চত্বর ও মিনি স্টেডিয়াম। কিন্তু পরিবারের কাছে সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা একটাই, যে আত্মত্যাগ নতুন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অনন্য অধ্যায় হয়ে আছে, সেই আত্মত্যাগের ন্যায়বিচার একদিন নিশ্চিত হবে।
ইতিহাসের পাতায়, জুলাইয়ের লাল-সবুজ স্মৃতিতে, আর লাখো মানুষের হৃদয়ে, আহত সহযোদ্ধাকে এক গ্লাস পানি খাওয়াতে ছুটে যাওয়া সেই তরুণের নাম চিরকাল লেখা থাকবে-শহীদ আসিফ হাসান। লেখক: সংবাদকর্মী

Ads small one

ঢাকায় নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে সাতক্ষীরার এক ব্যক্তির মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
ঢাকায় নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে সাতক্ষীরার এক ব্যক্তির মৃত্যু

 

পত্রদূত রিপোর্ট: রাজধানী ঢাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের তিনতলা থেকে নিচে পড়ে মো. মোজাফফর হোসেন (৪৮) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মোজাফফর হোসেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ি ইউনিয়নের গোবরদাড়ি গ্রামের আব্দুল ওয়াদুদের (ওয়াদুদ আমিন) ছেলে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরার গোবরদাড়ি গ্রামে নিহতের নিজ বাসভবনে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। মোজাফফর হোসেনের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

 

 

 

 

 

আশাশুনিতে জন্মাষ্টমী পালনে পূজা উদযাপন ফ্রন্টের প্রস্তুতি সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে জন্মাষ্টমী পালনে পূজা উদযাপন ফ্রন্টের প্রস্তুতি সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি: বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট আশাশুনি উপজেলা শাখার আয়োজনে ২০২৬ সালের শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) আশাশুনি বাজার কালীমন্দিরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পূজা উদযাপন ফ্রন্টের উপজেলা সভাপতি তুষার কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক প্রীতিষ রায়ের সঞ্চালনায় সভায় সংগঠনের বিভিন্ন ইউনিয়নের দায়িত্বশীল নেতারা অংশ নেন।
সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী জন্মাষ্টমীতে শোভাযাত্রা ও সদর পরিষদ প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন। পাশাপাশি আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপনের জন্য প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

শ্যামনগরে ৩২টি জব্দকৃত চায়না দুয়ারি জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে ৩২টি জব্দকৃত চায়না দুয়ারি জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন খাল ও বিলে অভিযান চালিয়ে ৩২টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করেছে উপজেলা মৎস্য দপ্তর। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে জব্দকৃত এসব জাল ধুমঘাট আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধূমঘাট শীলতলা বিল, মঠেরচক বিল ও সংলগ্ন খালে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

শ্যামনগর সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. তৌহিদ হাসানের নির্দেশনায় অভিযানে নেতৃত্ব দেন মৎস্য অফিসের ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট মো. মুজিবর রহমান, বিশ্বজিৎ ম-ল ও সুকুমার। এ সময় স্থানীয় ইউপির গ্রাম পুলিশ, গ্রীন কোয়ালিশন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযানে সার্বিক সহায়তা করেন।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. তৌহিদ হাসান জানান, চায়না দুয়ারি জাল সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। এ ধরনের অতিসূক্ষ্ম জাল ব্যবহারের ফলে দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য চরম ক্ষতির মুখে পড়ছে। দেশীয় মাছের বংশবৃদ্ধি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে শ্যামনগরের সব এলাকায় নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।