মনিরামপুরে বেড়িবাঁধ ভেঙে ৬ গ্রাম প্লাবিত, ভবদহে দুর্ভোগ চরমে
মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের মনিরামপুরে মুক্তেশ্বরী নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে নতুন করে ছয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে ভবদহ অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা আগে থেকেই পানির নিচে ছিল। এর মধ্যে বাঁধ ভেঙে নতুন করে লোকালয়ে পানি ঢোকায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।
উপজেলার লখাইডাঙ্গা গ্রামের কাছে মুক্তেশ্বরী নদী ও বিল কেদারিয়ার ৩ নম্বর বেড়িবাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়। এতে পাঁচাকড়ি, বালিদাহ, নেহালপুর, লখাইডাঙ্গা, দিঘলিয়া ও পোড়াডাঙ্গা গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভবদহ স্লুইসগেট দিয়ে পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হচ্ছে। ভবদহসংলগ্ন অর্ধশতাধিক গ্রামের সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয় পানিতে ডুবে গেছে। শত শত মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পানিবন্দী হয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন প্রায় এক লাখ মানুষ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নদী ও খালের ৮১.৫ কিলোমিটার খননকাজ চলমান রয়েছে। গত বছরের অক্টোবর থেকে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে হরিহর, হরি, তেলেগাতী, আপার ভদ্রা, টেকা ও শ্রী নদী খনন শুরু হয়। ইতোমধ্যে হরি ও তেলেগাতী নদীর ২০ কিলোমিটার এবং টেকা নদীর ৭ কিলোমিটার খনন সম্পন্ন হয়েছে। তবে নতুন করে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় প্রকল্পের কার্যকরিতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভবদহ স্লুইসগেটের কপাটগুলো সঠিকভাবে কাজ করছে না। চারটে পাম্পের সাহায্যে পানি সেচ দেওয়া হচ্ছে এবং আরও পাঁচটি পাম্প বসানোর কাজ চলছে।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জী জানান, পানি চলাচলের বাধা দূর করতে পলি অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। ডুমুরিয়ার খর্ণিয়া এলাকায় তেলেগাতী নদীতে বাঁধ দিয়ে খননকাজ চলায় পানির প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং ৫০০-৬০০ মিটার এলাকা জুড়ে পলি জমেছে। এর প্রভাবে মনিরামপুর, অভয়নগর, কেশবপুর ও ডুমুরিয়ার প্রায় ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
ভবদহ পানি সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবীর জাহিদ বলেন, খননের পরও পলি জমা প্রমাণ করে যে শুধু নদী খনন করে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। স্থায়ী সমাধানের জন্য অবিলম্বে টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) চালু করা প্রয়োজন।








