বেনাপোল স্থলবন্দরে নির্দেশনা বাস্তবায়ন পিছিয়ে, ২৪ ঘণ্টা সার্ভিস চালুর দাবি
এমএ রহিম, বেনাপোল (যশোর): আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য ত্বরান্বিত করা ও দেশের বন্দরগুলোকে আধুনিকায়নে সপ্তাহে সাত দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১ আগস্ট এই বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়, যার মূল লক্ষ্য হলো বাণিজ্য কার্যক্রমে গতি আনা ও বন্দরের জট কমানো। তবে নির্দেশনা জারির পর সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর তৎপরতা বাড়লেও বেনাপোল স্থলবন্দরে এর সুফল এখনো মেলেনি; কার্যক্রম চলছে আগের নিয়মেই।
এর আগে ২০১৭ সালের ১৯ জুলাই বেনাপোল স্থলবন্দর ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যা কার্যকর হয় ওই বছরের ১ আগস্ট থেকে। দীর্ঘ সময় পর পুনরায় সব বন্দর ও বিমানবন্দর ২৪ ঘণ্টা চালুর নির্দেশনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী ও বন্দর ব্যবহারকারীরা।
এফবিসিসিআইয়ের সদস্য ও বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান (সজন) বলেন, বন্দর ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার পাশাপাশি ছুটির দিনে ব্যাংক খোলা রাখার পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রাতে বা ছুটির দিনে পণ্য খালাসে কাস্টমস ও বন্দরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা নিরুৎসাহিত করেন এবং ওভারটাইমের নামে অতিরিক্ত সুবিধা দাবি করেন। এতে বাণিজ্য ব্যাহত হয়। অপরদিকে আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান বলেন, বেনাপোল বন্দরে আন্তর্জাতিক মানের পণ্য পরীক্ষাগার ও বিএসটিআইয়ের কার্যালয় স্থাপন করা হলে ব্যবসায়ী সম্প্রদায় প্রকৃত সুফল পাবে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান বনি মনে করেন, সপ্তাহে সাত দিন ২৪ ঘণ্টা ব্যাংক খোলা রাখা এবং কাজের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা গেলে বাণিজ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি রাজস্ব আয় বাড়বে।
এ বিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক মো. শামীম হোসেন জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কিংবা নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ থেকে নতুন নির্দেশনার চিঠি এখনো এসে পৌঁছায়নি। তবে নির্দেশনা বাস্তবায়নে পোর্ট কর্তৃপক্ষ আন্তরিক। এ জন্য কাস্টমস, ব্যবসায়ী ও বন্দর ব্যবহারকারীদের পূর্ণ সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।








