রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় একযোগে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৩০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় একযোগে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান

নিজস্ব প্রতিনিধি: সমগ্র দেশের সঙ্গে একযোগে সাতক্ষীরায় বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান অনুষ্ঠান হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে উৎসবমুখর পরিবেশে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এককালীন আর্থিক সুবিধার অর্থ হাতে পেয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে আনন্দ ও স্বস্তি দেখা যায়। অনুষ্ঠানের শুরুতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে যুক্ত হয়ে সারাদেশে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন। তিনি শিক্ষকদের জাতি গঠনের কারিগর হিসেবে উল্লেখ করে তাদের অবসরকালীন পাওনা যথাসময়ে পরিশোধের গুরুত্বের কথা বলেন।

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রিপন বিশ্বাস, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলমগীর কবির।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান হাদী, যুগ্ম আহ্বায়ক তাসকিন আহমেদ চিশতী, সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম মিনি, সুধী সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘ কর্মজীবনের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, শিক্ষক ও কর্মচারীরা সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। জীবনের শেষভাগে পাওয়া এ অর্থ তাদের চিকিৎসা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় সহায়তা করবে। তিনি সকলের সুস্থ, সুন্দর ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ কামনা করেন।

জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন উপজেলার কয়েকশ অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী এ কার্যক্রমের আওতায় অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ পেয়েছেন। তাঁদের অনেকের হাতে চেকের মাধ্যমে এবং কারও ক্ষেত্রে ডিজিটাল ট্রান্সফারের মাধ্যমে বকেয়া অর্থ প্রদান করা হয়।

দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর পাওনা অর্থ হাতে পেয়ে অনেক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁদের একজন বলেন, কর্মজীবন শেষ হওয়ার পর প্রাপ্য অর্থের জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে। একযোগে এই অর্থ পাওয়ায় তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত ও স্বস্তি বোধ করছেন।

Ads small one

শ্যামনগরে রাস্তা সংস্কার না হওয়ায় ধান রোপন করে প্রতিবাদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫০ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে রাস্তা সংস্কার না হওয়ায় ধান রোপন করে প্রতিবাদ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের পূর্ব কৈখালীর রাস্তা দীর্ঘ বছর ধরে সংস্কার না হওয়া এবং বর্ষা মৌসুমে চলাচলের অনুপোযোগী হওয়ায় ১৬ আগষ্ট (রবিবার) বেলা ১১ টায় রাস্তায় ধান লাগিয়ে প্রতিবাদ করেছে এলাকাবাসী।

 

জানা যায়, কৈখালী ইউনিয়নের পূর্ব কৈখালী গ্রামের মরহুম আলহাজ¦ আদম গাজীর কেয়ারের রাস্তা নামে পরিচিত রাস্তাটি দীর্ঘ বছর ধরে অবহেলিত। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে রাস্তার উপর পানি জমাট বাঁধে। সৃষ্টি হয় কাঁদা। যার ফলে সাধারণ পথচারীসহ কোন প্রকার যানবাহন চলাচল করতে পারে না। দীর্ঘ বছর ধরে রাস্তাটি সংস্কার না হওয়ায় অবশেষে স্থানীয় যুবকেরা এবং এলকাবাসীরা মিলে ব্যতিক্রম প্রতিবাদ হিসাবে রাস্তার কাঁদাযুক্ত স্থানে ধান রোপন করে প্রতিবাদ করে।

এ বিষয়ে স্থানীয় রফিকুল ইসলামের পুত্র মোঃ এবাদুল ইসলাম বলেন, আমরা উপকুলীয় এলাকায় বসবাস করি। আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই। আমি ছোট বেলা থেকে দেখছি আমাদের একমাত্র চলাচলের রাস্তাটি অবহেলিত। দীর্ঘ বছরে কোন প্রকার উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। বর্ষা মৌসুমে রাস্তায় হাটু সমান কাঁদা সৃষ্টি হয়। রাস্তাটি দিয়ে এলাকার কমলমতি ছাত্র ছাত্রী, সরকারী, বেসরকারী চাকুরীজিবিসহ বিভিন্ন পেশা মানুষের চলাচলে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে জরুরী রুগি নিয়ে রাস্তা দিয়ে যানবাহন যোগে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কোন সুযোগ নাই।

 

বিকল্প হিসাবে নদী পথে ট্রলার যোগে নিয়ে যেতে হয় দীর্ঘ সময় ধরে। তার মধ্যে বড় ধরনের দূর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে। বিষয়টি নিয়ে বার বার স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের সাথে বলেও কোন প্রকার সুরহ না পেয়ে অবশেষে রবিবার আমরা রাস্তায় ধান রোপন করে প্রতিবাদ করেছি। আমরা দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ আব্দুর রশিদ বলেন, আমি ফেসবুক হতে প্রতিবাদের বিষয়টি জানতে পেরেছি। উক্ত রাস্তাটি দ্রুত কার্পেটিং হবে।

এ বিষয়ে কৈখালী ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিমের বলেন, আমি চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত হওয়ার পরে বিজিবি সড়ক নামে রাস্তাটি কার্পেটিং করার জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে অনুমোদন করি। কিন্তু একটি পক্ষ রাস্তাটি কর্তন করে অন্য স্থানে নিয়ে যায়। বর্তমানে রাস্তাটি সীমান্ত সড়ক নামে কার্পেটিং এর জন্য অনুমোদন হয়েছে। খুব দ্রুত রাস্তাটির কাজ শুরু হবে।

তালায় যুবককে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪৩ অপরাহ্ণ
তালায় যুবককে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ

তালা প্রতিনিধি: ‎সাতক্ষীরার তালায় বসতবাড়িতে ঢুকে আবু মুছা নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। জমি ও ঘের সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জেরে হামলা চালিয়ে তাকে কুড়াল দিয়ে কোপানো হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। হামলার ঘটনায় আবু মুছার মা মাজেদা বেগম আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে তালা উপজেলার হরিহরনগর গ্রামে হামলার ঘটনাটি ঘটে। গুরুতর আহত আবু মুছা ওই গ্রামের মোহাব্বত আলী সরদারের ছেলে।

‎আবু মুছা জানান, জমি ও মাছের ঘের নিয়ে পাশ্ববর্তী মজিদ সরদারের সাথে তাদের দীর্ঘদিন বিরোধ রয়েছে। এনিয়ে আগেও মজিদ সরদার ও তার পরিবারের লোকজন হামলা এবং মিথ্যা মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় আমরা নির্দোষ প্রমানিত হওয়ায় মজিদ সরদার ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

 

শনিবার সকালে মজিদ সরদার, তার ছেলে তোফায়েল ইসলাম সৈকত, রাফায়েল ইসলাম সাগর ও স্ত্রী ফিরোজা বেগম বাড়িতে এসে অকথ্য গালিগালাজ এবং হুমকি দিতে থাকে। এনিয়ে তর্কের একপর্যায়ে তোফায়েল ইসলাম সৈকত কুড়াল দিয়ে আবু মুছাকে কোপ মারে। এসময় আবু আবু মুছার মা মাজেদা বেগম সন্তানকে উদ্ধারে এগিয়ে এলে তাকেও মারপিট করে আহত করা হয়। ঘটনায় গুরুতর আহত আবু মুছাসহ তার মাকে উদ্ধার করে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে প্রতিবেশিরা।

‎এঘটনায় আবু মুছা বাদী হয়ে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে তালা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
‎এ বিষয়ে তালা থানার ওসি আবু বক্কর ছিদ্দীক জানান, ঘটনায় লিখিত অভিযোগটি পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

চিকিৎসার আশ্বাসে তালায় এনে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় নারীসহ গ্রেপ্তার ২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩৬ অপরাহ্ণ
চিকিৎসার আশ্বাসে তালায় এনে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় নারীসহ গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিনিধি: চিকিৎসা করিয়ে দেওয়ার আশ্বাসে খুলনার কয়রা উপজেলা থেকে এক গৃহবধূকে (৪০) সাতক্ষীরার তালায় এনে চেতনানাশক মিশ্রিত খাবার খাইয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এক নারীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (১৬ আগস্ট) পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শিপ্রা ও অনুপ। তবে মামলায় আরও একজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে খুলনার কয়রা উপজেলার ঘুগরাকাঠি গ্রামের অসুস্থ ওই গৃহবধূকে উন্নত চিকিৎসার আশ্বাস দিয়ে সাতক্ষীরা সদরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়ার কথা বলা হয়। পরে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় সাতক্ষীরায় গিয়ে চিকিৎসক পাওয়া যাবে নাÑএমন কথা বলে তাকে কৌশলে তালা ব্রিজ মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।

স্বজনের অভিযোগ, রাজু নামে এক যুবক ওই গৃহবধূকে বাসাটিতে নিয়ে যান। তিনি সাতক্ষীরার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চাকরি করেন বলে পরিচয় দিয়েছিলেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, রাতে ওই বাসায় বসবাসকারী এক নারীর সহযোগিতায় গৃহবধূর খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মেশানো হয়। খাবার খেয়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে রাজু তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে জ্ঞান ফেরার পর গৃহবধূ বিষয়টি বুঝতে পেরে বাসায় থাকা ওই নারীকে জানান। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় ওই নারী তাকে গালিগালাজ করেন এবং মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখান। এরপর রাতে দফায় দফায় রাজুসহ আরও এক যুবক তাকে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। পরদিন শুক্রবার সকালে ওই গৃহবধূ কৌশলে বাসা থেকে বের হয়ে এক আত্মীয়কে সঙ্গে নিয়ে তালা থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন।

তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু বকর সিদ্দীক জানান, শুক্রবার প্রাথমিক তদন্ত শেষে অচেতন করে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে দুই যুবক ও এক নারীর বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করা হয়। তালা থানার মামলা নং-১০, তারিখ ১৪ আগস্ট ২০২৬। ভুক্তভোগীকে প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় রোববার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিপ্রা ও অনুপকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।