বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩

‎সোশ্যাল মিডিয়ার কোন্দল ও রাজনীতির ক্ষয়, আন্তর্জাতিক গবেষণার সতর্কবার্তা!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ণ
‎সোশ্যাল মিডিয়ার কোন্দল ও রাজনীতির ক্ষয়, আন্তর্জাতিক গবেষণার সতর্কবার্তা!

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ
‎রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা এবং প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালায় নির্ধারিত ‘রং ফোরাম’ উপেক্ষা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় কাদা ছোড়াছুড়ি বর্তমান রাজনীতির অন্যতম বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। কর্মীরা যখন দলের নীতি, নেতৃত্ব বা সহকর্মীদের বিরুদ্ধে ফেসবুক বা ইউটিউবে বিষোদ্গার করেন, তখন তা কেবল দলেরই ক্ষতি করে না, বরং সামগ্রিক রাজনীতিকে জনগণের সামনে হেয় প্রতিপন্ন করে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই প্রবণতা ভবিষ্যতের রাজনীতিকে একটি গভীর অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
‎সোশ্যাল মিডিয়াকে রাজনৈতিক কোন্দলের মঞ্চ বানানোর ফলে যে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হচ্ছে, তা বিভিন্ন স্বনামধন্য গণমাধ্যম ও গবেষণা সংস্থার গবেষণা ও প্রতিবেদনে স্পষ্ট। জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা র‌্যান্ড কর্পোরেশন তাদের গবেষণায় ‘ট্রুথ ডিকে’ বা সত্যের অপক্ষয় ধারণাটি তুলে ধরেছে। র‌্যান্ড কর্পোরেশন-এর গবেষণায় তথ্যব্যবস্থার পরিবর্তন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তার এবং রাজনৈতিক মেরুকরণকে ‘ট্রুথ ডিকে’-এর সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যখন রাজনৈতিক কর্মীরা প্রাতিষ্ঠানিক ফোরাম বাদ দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগতাড়িত পোস্ট দেন, তখন তথ্য বিকৃতি ও বিভ্রান্তির ঝুঁকি বাড়ে। দেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক প্রথম আলো-তে প্রকাশিত বিভিন্ন মতামতেও অনলাইন রাজনৈতিক চর্চা, বিভাজন ও অসহিষ্ণুতার প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পিউ রিসার্চ সেন্টার-এর গবেষণাতেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভুল তথ্য, রাজনৈতিক বিভাজন ও গণতন্ত্রের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। পিউ-এর গবেষণায় দেখা যায়, অনলাইনে ভুল তথ্যের বিস্তারকে মানুষ গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনের সঙ্গে এ বিষয়টির সম্পর্ক রয়েছে। নিজের দলের কোন্দল যখন ফেসবুকে প্রকাশ্যে আসে, তখন তা প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক প্রচারণার হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশের নির্বাচনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত হওয়ার বিষয়টিও দ্য ডিপ্লোম্যাটের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। ফলে দলের চেইন অব কমান্ড দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি জনগণের কাছে দলের বিশ্বাসযোগ্যতাও প্রশ্নের মুখে পড়ে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি স্টার-এর ২০২৬ সালের এক প্রতিবেদনে গবেষকদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে অনলাইনে ছড়ানো ভুল তথ্যের ৭৪ শতাংশের বেশি ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একই প্রতিবেদনে অনলাইনে ঘৃণাত্মক বক্তব্যের উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। কর্মীরা যখন নিজের দলের নেতাদের বিরুদ্ধে পোস্ট দেন, তখন সুযোগসন্ধানীরা ভুয়া আইডি, বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ও ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার সুযোগ পায়। এটি অনেক সময় মাঠপর্যায়ে উত্তেজনা ও সংঘাতের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। কর্মী ও কতিপয় নেতার এই আচরণের ফলে দল পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে। গঠনতান্ত্রিক নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো ক্ষোভ দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফোরামে (যেমন: কার্যনির্বাহী সংসদ, কর্মিসভা বা সাংগঠনিক ট্রাইব্যুনাল) প্রকাশ করার কথা। কিন্তু তাৎক্ষণিক সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে নেতৃত্বকে এক প্রকার ব্ল্যাকমেইল বা চাপ প্রয়োগ করার নোংরা সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে।
‎রাজনীতিকে এই ডিজিটাল বিশৃঙ্খলা থেকে রক্ষা করতে এবং এর মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে দলকে সাংগঠনিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
‎প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে তাদের গঠনতন্ত্রে কঠোর আচরণবিধি যুক্ত করতে হবে। কোনো কর্মী বা নেতা দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিলে বা নেতৃত্বকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করলে তাকে দলীয় গঠনতন্ত্র ও আচরণবিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি করতে হবে।
‎কর্মীদের ক্ষোভের প্রধান কারণ হলো-দলের ভেতরে কথা বলার সুযোগ না পাওয়া। দলগুলোকে নিয়মিত কর্মিসভা, বর্ধিত সভা এবং সাংগঠনিক বৈঠক করতে হবে, যেন কর্মীরা তাদের অভিযোগ সঠিক ফোরামে বুক ফুলিয়ে বলতে পারেন। রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব উদ্যোগে কর্মীদের জন্য ‘রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও ডিজিটাল লিটারেসি’ বিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করা উচিত। দল পরিচালনার নিয়ম ও অনুশাসন সম্পর্কে তরুণ কর্মীদের স্পষ্ট ধারণা দিতে হবে।
‎কর্মীদের ফেসবুক পোস্ট দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে, দলীয় নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠন করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে। চাটুকারিতা বা সস্তা ভাইরাল সংস্কৃতিকে দলে প্রশ্রয় দেওয়া বন্ধ করতে হবে। লেখক: সাবেক ছাত্রনেতা ও উদ্যোক্তা

Ads small one

কলকাতায় অগ্নিকান্ডে নিহতদের দু’জনার বাড়ি সাতক্ষীরায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
কলকাতায় অগ্নিকান্ডে নিহতদের দু’জনার বাড়ি সাতক্ষীরায়

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় নিহতদের ২ জন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। বুধবার (১৯ আগষ্ট) রাত ১০টার দিকে এলাকায় খবর পৌঁছানোর পর ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন নিহতদের একজনের পরিবারের সদস্যরা।

নিহত আলিমুজ্জামান সাজু (৪৫) কালিগঞ্জের তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের মৃত. ইউনুচ সরদারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ঘের ব্যবসায়ী এবং অপরজন একই উপজেলার তেতুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা রেবতী সরকার। তবে তার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

নিহত সাজুর নিকটাত্মীয় মোখলেছুর রহমান পল্টু জানান, কোমরে ব্যাথার জন্য চিকিৎসক দেখাতে ৫-৬ দিন আগে সাজু ভারতে যায়। বুধবার বাড়িতে ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু রাত ১০টার দিকে বাড়িতে খবর আসে হোটেলে অগ্নিকান্ডে সে নিহত হয়েছেন।

সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে জানানো হয়, ঘটনাটি জানার পর বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে হোটেলটিতে অগ্নিকান্ড ঘটে। এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ৭ জন বাংলাদেশী।

৫০ অসহায় পরিবারের হাতে মাসিক ত্রাণ তুলে দিল রুবিয়া রহমান ফাউন্ডেশন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ
৫০ অসহায় পরিবারের হাতে মাসিক ত্রাণ তুলে দিল রুবিয়া রহমান ফাউন্ডেশন

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের শার্শার উলাশীতে রুবিয়া রহমান ফাউন্ডেশনের নিজস্ব কার্যালয়ে ৫০টি অসহায় পরিবারের মাঝে মাসিক ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অসহায় পরিবারের হাতে চাল, ডাল, তেল, সাবানসহ এক মাসের প্রয়োজনীয় বাজারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি নির্বাচিত ৫০টি পরিবারের হাতে দেওয়া হয় মাসিক ত্রাণ কার্ড। এ কার্ডের মাধ্যমে এসব পরিবার নিয়মিত প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পাবেন।
একই অনুষ্ঠানে অসহায় মো. জাহাঙ্গীরের অপারেশনের জন্য নগদ ৫০ হাজার টাকা চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি তাঁর পরিবারের জন্যও মাসিক ত্রাণ কার্ডের মাধ্যমে এক মাসের প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। রুবিয়া রহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রুবিয়া রহমানের নিজস্ব অর্থায়নে এসব মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা কতদূর?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা কতদূর?

শ্যামল শীল
২০২৩ সালের ২ নভেম্বর জাতীয় সংসদে সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০২৩ পাশ হয়। ১৩ নভেম্বর সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৬২ নং আইন) গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।
বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে অগ্রসরমান বিশ্বের সাথে সংগতি রক্ষা ও সমতা অর্জন এবং জাতীয় পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা, বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আধুনিক জ্ঞানচর্চা পঠন-পাঠনের সুযোগ সৃষ্টি ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক সাতক্ষীরা জেলায় একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ এবং সম্প্রসারণ কার্যক্রমের অগ্রগতিকল্পে এবং এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ইনকিউবেটর-এর মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দেশকে উন্নত দেশে রূপান্তর করার লক্ষ্যে সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা অতীব প্রয়োজনীয় ও যুক্তিযুক্ত।
একইদিনে নারায়নগঞ্জে আরো একটি বিশ্ববিদ্যালয় এর আইন পাশ করা হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ও একাডেমিক কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। তবে, ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে ‘নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ নামকরণ করা হয়।
জাতীয় সংসদের গত বাজেট অধিবেশনে ১০৬ সাতক্ষীরা-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মুহাম্মাদ আব্দুল খালেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে “সাতক্ষীরা জেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা; এবং একই সাথে জেলা/উপজেলা পর্যায়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা; এবং থাকলে, তা কতদিনে বাস্তবায়ন হতে পাবে? প্রশ্ন করেন।
উত্তরে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “সাতক্ষীরা জেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়ে বর্তমানে সরকার কর্তৃক কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসার এবং আঞ্চলিক বৈষমা হ্রাসের লক্ষ্যে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়টি সরকার সময়ে সময়ে পর্যালোচনা করে থাকে। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার, উদ্ভাবনী চর্চা, গবেষণামনকতা বৃদ্ধি এবং তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমুখী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত, প্রয়োজনীয়তা নিরূপণ, সম্ভাবাতা যাচাই এবং অর্থায়নের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। যদি এ সংক্রান্ত কোনো প্রকল্প গ্রহণ ও অনুমোদিত হয়, তবে প্রকল্পের ধরন ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে।”
মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয় তাঁর প্রশ্নে সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৬২ নং আইন) সম্পর্কে যেমন সুনিদিষ্ঠ কিছু বলেননি, ঠিক একইভাবে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় এর উত্তরেও “চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি” উল্লেখ করে আইনের বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।
সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় যে আইনটি বিগত সময়ে প্রণয়ন হয়েছিল, সেটি বাতিল হয়েছে এমন কোন তথ্য আমরা খুজে পাইনি। যদি আইনটি থাকে, তবে চুড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আর কি কি প্রয়োজন সেটা সম্পর্কেও সুনিদিষ্ঠ কোন তথ্য কারো কাছ থেকে জানতে পারিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমের সাথে যুক্ত ছিলেন আমার এমন একজন শিক্ষকের সাথে কথা বললে তিনি জানিয়েছেন, আইন পাশের পর প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরুর জন্য ভিসিসহ অন্যান্য পদে নিয়োগ এবং একাডেমিক কার্যক্রম যে কোন সময় শুরু করা যেতে পারে।
সাতক্ষীরা জেলায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এটা এখন সময়ের দাবী। তবে, রাজনৈতিক গ্যাড়াকলে পড়ে আমাদের অনেক দাবীই বারবার উপেক্ষিত হয়েছে। বিশ্বাবদ্যালয় প্রতিষ্ঠার যে সম্ভাবনাটুকু অতিতে সৃষ্টি হয়েছিল তা আবার হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে। আমাদের প্রয়োজন থেকেই এই জনপদে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হোক-এই দাবীতে সাতক্ষীরাবাসীর দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হওয়াটা এখন জরুরি। এব্যাপারে সকলে এগিয়ে আসুন।