দেবহাটায় বৃদ্ধার ৫০ বছরের বসতভিটার ঘর ভাঙচুর করে উচ্ছেদের অভিযোগ
কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের টিকেট গ্রামে এক বৃদ্ধার ৫০ বছরের পুরোনো বসতভিটার ঘর ভাঙচুর করে উচ্ছেদ করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী এক মহলের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী অরবিন্দুর স্ত্রী সুভদ্রা বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সুভদ্রা জানান, বিয়ের পর থেকে প্রায় ৫০ বছর ধরে তিনি ওই ভিটায় বসবাস করছেন। তাঁর স্বামী অসুস্থ হয়ে ভারতে চিকিৎসাধীন থাকায় তাঁর দেখাশোনার জন্য তিনি কিছুদিন পর পর দেশে ও ভারতে যাতায়াত করেন। ২৮ জুলাই মেয়ের বাড়িতে অবস্থানকালে এলাকার তারক, দুঃখে, রাখাল বৌদ্দি, রঞ্জন বৌদ্দিসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন জোরপূর্বক তাঁর বসতভিটা ভাঙচুর করে নতুন ঘর নির্মাণ করেন।
এ ঘটনায় দেবহাটা থানায় অভিযোগ করা হলে ৩১ জুলাই পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) ঘটনাস্থল তদন্ত করেন। পরবর্তীতে ৭ আগস্ট থানায় উভয় পক্ষকে ডাকা হলে বিবাদীরা তাঁর কাছে ৫ হাজার টাকা পাওনা দাবি করেন এবং তিনি তা পরিশোধ করেন। পরবর্তীতে দেবহাটা থানা থেকে কুলিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রভাষ ম-লের ওপর বিষয়টি মীমাংসার দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং সুভদ্রার বসবাসের জন্য একটি ছোট ঘর নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ঘর নির্মাণ করতে গেলে বিবাদীরা তা পুনরায় ভাঙচুর করেন।
পরপর কুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব শেখ মোকাররম হোসেন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রভাষ ম-লকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁরা সমাধান করতে পারেননি। পরবর্তীতে সুভদ্রা দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিলন সাহার কাছে অভিযোগ দিলে তিনি নায়েবকে জমি মেপে বের করার নির্দেশ দেন। কিন্তু সুভদ্রার অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জমি বের না করার জন্য নায়েবকে নির্দেশনা দিয়ে ঘোরাচ্ছেন। তিনি দ্রুত নিজের জমি ফিরে পেয়ে পুনরায় বসবাসের ব্যবস্থা করার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার আকুল আবেদন জানিয়েছেন।










