রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩

ডিজিটাল অপচ্ছায়া: কিশোর মনস্তত্ত্ব, কুসংস্কার ও প্রতারণার বিস্তৃত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:০৮ অপরাহ্ণ
ডিজিটাল অপচ্ছায়া: কিশোর মনস্তত্ত্ব, কুসংস্কার ও প্রতারণার বিস্তৃত

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

জামালপুরের এক নিভৃত গ্রামে মাটির নিচে পুঁতে রাখা প্রায় ৬৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার উদ্ধারের ঘটনাটি নিছক একটি অপরাধের খবর নয়; এটি আমাদের সময়ের এক গভীর সামাজিক সংকটের নির্মম প্রতিফলন। ঘটনাটির কেন্দ্রে রয়েছে এক অষ্টম শ্রেণির কিশোরী-যে তার পরিবারে ভালোবাসার ঘাটতি অনুভব করে এক অদৃশ্য ভার্চুয়াল জগতের ফাঁদে পা দেয়। আর সেই ফাঁদের নাম-ডিজিটাল তান্ত্রিক প্রতারণা। এই ঘটনাটি আমাদের সামনে কয়েকটি অস্বস্তিকর কিন্তু জরুরি প্রশ্ন ছুড়ে দেয়: আমাদের কিশোররা কার কাছে নিরাপদ? পরিবার, সমাজ, না কি অ্যালগরিদম-নিয়ন্ত্রিত ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে? বয়ঃসন্ধিকাল এমন একটি সময়, যখন একটি শিশুর মন সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল, প্রশ্নমুখর এবং ভঙ্গুর থাকে।

 

মনোবিজ্ঞানে ‘অনুভূত অবহেলা’ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাস্তবে অবহেলা না থাকলেও কিশোর-কিশোরীরা অনেক সময় নিজেদের অবহেলিত মনে করে। জামালপুরের কিশোরীর ক্ষেত্রেও সেটিই ঘটেছে। সে ভেবেছে, তার মা-বাবা ছোট ভাইবোনদের বেশি ভালোবাসে। এই অনুভূতি থেকেই জন্ম নেয় এক ধরনের অভিমান, যা ধীরে ধীরে রূপ নেয় বিচ্ছিন্নতায়। কারণ-যখন পরিবারে কথা বলার জায়গা থাকে না, তখন কিশোররা কথা বলতে যায় অজানা মানুষের সাথে। যখন বাস্তব জগতে স্বীকৃতি মেলে না, তখন তারা খোঁজে ভার্চুয়াল প্রশংসা এবং ঠিক এই জায়গাতেই প্রবেশ করে প্রতারক চক্র। ভার্চুয়াল জগত: নিরাপদ আশ্রয় না ডিজিটাল ফাঁদ? স্মার্টফোন আজ বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে গেছে।

 

শহর থেকে গ্রাম-সবখানেই এখন কিশোরদের হাতে ইন্টারনেট। কিন্তু প্রশ্ন হলো: আমরা কি তাদের শিখিয়েছি-কাকে বিশ্বাস করতে হবে? ফেসবুক, টিকটক, ইমু-এসব প্ল্যাটফর্মে তৈরি হচ্ছে এক বিকল্প বাস্তবতা। এখানে পরিচয় যাচাই নেই, দায়িত্ব নেই, কিন্তু প্রভাব আছে বিশাল। এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে “তান্ত্রিক”, “হুজুর”, “জিনের বাদশাহ”, “আল্লাহর দান”-এসব পরিচয়ে অসংখ্য ভুয়া অ্যাকাউন্ট সক্রিয়। তারা মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস, ভয়, ভালোবাসা এবং দুর্বলতাকে ব্যবহার করে। জামালপুরের কিশোরীও এমনই এক “ডিজিটাল তান্ত্রিক”-এর শিকার।বাংলাদেশের সমাজে আধ্যাত্মিকতা ও ধর্মীয় বিশ্বাস গভীরভাবে প্রোথিত।

 

এই বিশ্বাস মানুষকে শক্তি দেয়, আবার কখনো কখনো দুর্বলতাও তৈরি করে। তারা বলে-“তোমার পরিবার তোমাকে ভালোবাসবে না, কারণ তোমার ওপর খারাপ প্রভাব আছে” “এই স্বর্ণ দান করলে সমস্যা দূর হবে” “গোপনে কাজ করতে হবে, না হলে বিপদ হবে” এগুলো এক ধরনের মানসিক নিয়ন্ত্রণ কৌশল-যাকে বলা হয় psychological manipulation। এই কৌশলে শিকারকে ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন করা হয়, ভয় দেখানো হয়, এবং শেষ পর্যন্ত তাকে নিজের সম্পদ হস্তান্তরে বাধ্য করা হয়। ডিজিটাল পেমেন্ট ও প্রতারণার নতুন অর্থনীতি এই ঘটনায় বিকাশের মাধ্যমে লেনদেনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস যেমন বিকাশ, নগদ-এসব আমাদের অর্থনীতিকে গতিশীল করেছে। কিন্তু এর সাথে যুক্ত হয়েছে নতুন ধরনের ঝুঁকি। বিশেষ করে-অপ্রাপ্তবয়স্কদের বড় অংকের লেনদেন, সন্দেহজনক একাধিক ট্রানজ্যাকশন, ভুয়া পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট ব্যবহার, এসব ক্ষেত্রে নজরদারি এখনো দুর্বল। যদি রিয়েল-টাইম মনিটরিং এবং অ্যালার্ট সিস্টেম আরও শক্তিশালী হতো, তাহলে হয়তো এই প্রতারণা আগেই ধরা পড়ত। এই ঘটনার অন্যতম ভয়াবহ দিক হলো-অভিযুক্ত ব্যক্তি একজন “কনটেন্ট ক্রিয়েটর”।

 

আজকের তরুণ প্রজন্মের কাছে “ভাইরাল হওয়া” একটি বড় লক্ষ্য। কিন্তু এই জনপ্রিয়তার প্রতিযোগিতা অনেককে নৈতিকতা থেকে বিচ্যুত করছে। কিছু মানুষ কনটেন্ট তৈরির আড়ালে-ভুয়া পরিচয় তৈরি করছে, অনুসারীদের আস্থা অর্জন করছে, এবং পরে সেই আস্থাকে ব্যবহার করছে প্রতারণার জন্য, এটি এক নতুন ধরনের “ডিজিটাল বিশ্বাসঘাতকতা”। এই ঘটনায় তদন্তকারী সংস্থার দ্রুত পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটি দেখায়-বাংলাদেশের আইনকৃঙ্খলা বাহিনী প্রযুক্তিগতভাবে এগোচ্ছে। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়: প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কতটা শক্তিশালী? সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং কতটা কার্যকর? শুধু অপরাধের পর ব্যবস্থা নিলেই হবে না, অপরাধ ঘটার আগেই তা ঠেকাতে হবে।

 

জাতীয় সংকট: বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বৃহত্তর প্রবণতা জামালপুরের ঘটনা একা নয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায়-লটারি প্রতারণা, বিদেশে চাকরির প্রলোভন, তান্ত্রিক চিকিৎসা,জিন-পরীর গল্প, এসবের মাধ্যমে প্রতারণার ঘটনা বাড়ছে।-যার শিকড় সমাজ, অর্থনীতি, শিক্ষা এবং প্রযুক্তির মধ্যে ছড়িয়ে আছে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। সন্তানের সাথে প্রতিদিন অন্তত ২০-৩০ মিনিট কথা বলা, বিচার না করে শোনা, ডিজিটাল ব্যবহারে নজর রাখা, ডিজিটাল লিটারেসি বাধ্যতামূলক করা, কিশোর মনস্তত্ত্ব বিষয়ে কাউন্সেলিং চালু করা, স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা সভা, সন্দেহজনক আচরণে প্রতিবেশীদের সক্রিয় ভূমিকা।

 

সাইবার ক্রাইম ইউনিট শক্তিশালী করা, ডিজিটাল লেনদেনে এআই-ভিত্তিক নজরদারি, ভুয়া কনটেন্ট নির্মাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, প্রযুক্তির সাথে মানবিকতার ভারসাম্য জামালপুরের সেই মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা সোনা উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু একটি কিশোর মনের ভাঙন-তা কি এত সহজে সারানো যাবে? আমরা আমাদের সন্তানদের হাতে স্মার্টফোন তুলে দিচ্ছি, কিন্তু তাদের হাতে কি তুলে দিচ্ছি-সচেতনতা? নৈতিকতা? নাকি নিঃসঙ্গতা? “স্মার্ট বাংলাদেশ” কেবল প্রযুক্তির উন্নয়ন নয়; এটি একটি মানবিক সমাজ গঠনের অঙ্গীকারও।

 

যেখানে-কোনো কিশোরী ভালোবাসার অভাবে অচেনা কারো কাছে আশ্রয় খুঁজবে না, কোনো প্রতারক ধর্মের নামে মানুষকে ঠকাতে পারবে না, এবং কোনো পরিবার সন্তানের অভিমান বুঝতে ব্যর্থ হবে না। মনির হোসেনদের শাস্তি নিশ্চিত হওয়া জরুরি। কিন্তু তার চেয়েও জরুরি-প্রতিটি ঘরে ভালোবাসা, সচেতনতা এবং সংলাপের পরিবেশ তৈরি করা। কারণ, ডিজিটাল অন্ধকারকে হারানোর সবচেয়ে শক্তিশালী আলো এখনো মানুষ-তার পরিবার, তার সমাজ, তার মানবিকতা।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট, আশাশুনি, সাতক্ষীরা

Ads small one

বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমলেও বাংলাদেশে কেন বাড়লো

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমলেও বাংলাদেশে কেন বাড়লো

অনলাইন ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের রেশ কাটতে না কাটতেই ইরান যুদ্ধ বাংলাদেশের জ্বালানি বাজারকে নতুন করে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। এই দুই যুদ্ধের সময় সরকার জ্বালানি তেলের দাম অনেকটা বৃদ্ধি করেছে। কিন্তু এবার বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দেশীয় মূল্যের সমন্বয়হীনতা নিয়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যখন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে, ঠিক সেই মুহূর্তে বাংলাদেশে দাম বাড়ানো হয়েছে। জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি পণ্য পরিবহন, কৃষি এবং শিল্প উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে।

বৈশ্বিক বাজার বনাম দেশীয় মূল্য

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারিত হয় ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দামের ওপর ভিত্তি করে। ফলে ব্রেন্ট ক্রুডের আন্তর্জাতিক বাজারে কখন কেমন দাম তার ওপর বিশ্বজুড়ে দেশগুলোর জ্বালানির দাম কত হতে পারে তার একটি ধারণা পাওয়া যায়। তবে কোনও কোনও দেশের নিজস্ব শুল্ক হার, তেল বিক্রির কমিশন এবং তেল পরিবহন ব্যবস্থা অভ্যন্তরীণ জ্বালানির বাজারের দামকে প্রভাবিত করে।

এর আগের দফায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৮০ থেকে ৯০ ডলার। বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধের শুরুতেই তেলের দাম বেড়ে ১০০ ডলারে দাঁড়ায়। মার্চে দাম বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১৩৯ ডলারে দাঁড়ায়। বছরের মাঝামাঝি সময়ে আবার তেলের দাম কমে ১১০ ডলারে দাঁড়ায় এবং একেবারে বছরের শেষে আবার দাম ৮৫ ডলারে নেমে আসে।

ওই বছর অর্থাৎ আগস্টে তেলের দাম একবারে অনেকটা বৃদ্ধি করা হয়। সরকারের যুক্তি ছিল—বিপিসির লোকসান কমানো এবং প্রতিবেশী দেশে তেল পাচার রোধ করা। ওই সময় ২০২২ সালে ডিজেল এবং কেরোসিনের দাম ৮০ টাকা থেকে ৪২ ভাগ বাড়িয়ে করা হয় ১১৪ টাকা। অকটেনের দাম ৫১ ভাগ বাড়িয়ে ৮৯ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা একই হারে অর্থাৎ ৫১ ভাগ বাড়িয়ে পেট্রোলের দাম ৮৬ টাকা থেকে ১৩০ টাকা করা হয়।

সে সময়ও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে যাচ্ছে এমন পরিস্থিতিতে সরকার দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করে। এরপর ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে সমালোচনার মধ্যে দাম কমানো হয়। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে যে হারে তেলের দাম কমেছে ঠিক ওই হারে কমানো হয়নি। সব ধরনের তেলের লিটারপ্রতি কমানো হয় মাত্র ৫ টাকা।

এরপর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর দীর্ঘদিনের সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধ্য হয় বাংলাদেশে। ২০২৪ সালের মার্চ মাস থেকে আন্তর্জাতিক বাজার দরের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশে তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়। এতে দেশের বাজারে তেলের দাম খানিকটা কমে যায়। বিপিসি লোকসানের কবল থেকে বের হয়ে আসে। এমনকি বিপুল পরিমাণ মুনাফাও করে।

দেখা যায়, ২০২৪ সালে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৫ থেকে ৯০ ডলারের মধ্যে ঘোরাফেরা করেছে। গত বছর ২০২৫ সালেও ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭৫ থেকে ৮৫ ডলারের মধ্যেই ছিল। এই সময়ে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়নি। এমনকি বিপিসির তরফ থেকে বলাও হয়নি যে তারা লোকসান করছে বা সরকারকে তেলে কোনও ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।

সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের পর দেখা যায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১২০ ডলারে উঠে যায়। কিন্তু তা খুব সীমিত সময়ের জন্যে। আজও ব্রেন্ট ক্রুড ৯০ ডলারে পাওয়া যাচ্ছে। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য বিশ্বনেতারা এক হতে শুরু করেছে। ফ্রান্স এই কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

কিন্তু বিশ্ববাজারের এই নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্যেই দেশে আজ থেকে তেলের নতুন বর্ধিত দাম কার্যকর হয়েছে। যা কার্যকর হয়েছে রবিবার থেকে। নতুন দাম অনুযায়ী ডিজেল ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা লিটার করা হয়েছে।

এতে প্রশ্ন উঠছে, এখনও যদি ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একই থাকে তাহলে কেন তেলের দাম বাড়ানো হলো। সরকার অবশ্য বলছে লোকসান কমানোর জন্যই এই কাজ করেছে।

তেলের পর এলপিজি, সামনে বিদ্যুৎ

জ্বালানি তেলের পাশাপাশি দ্বিতীয় দফায় বাড়ানো হয়েছে রান্নার গ্যাস এলপিজির দাম। নতুন সিদ্ধান্তে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা আগে ছিল ১ হাজার ৭২৮ টাকা।

একই সময়ে আলোচনার টেবিলে রয়েছে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবও। পিডিবি’র উৎপাদন খরচ ও আয়-ব্যয়ের প্রতিবেদন ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। গত ৯ এপ্রিল গঠিত কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সুপারিশ দিলেই বিদ্যুতের দামও বাড়তে পারে।

বাজার ও জনজীবনে প্রভাব

জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি পড়তে শুরু করেছে নিত্যপণ্যের বাজারে। ইতোমধ্যে বাস ও ট্রাক ভাড়া বাড়তে শুরু করেছে। কৃষি খাতে সেচ এবং শিল্প খাতে কাঁচামাল পরিবহনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই অতিরিক্ত খরচের চূড়ান্ত বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তার কাঁধেই চাপছে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল আলম এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, “তেলের দাম বাড়িয়ে সরকার জনগণের প্রতি সুবিচার করেনি। একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা থাকে তারা জনগণের দিক দেখবে। সরকার ক্ষমতায় এসে প্রথমে ঘোষণা দিয়েছিল কোনও পণ্যের দাম বাড়াবে না, ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেবে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে যখন দাম নিম্নমুখী, তখন দেশে দাম বাড়ানো হলো। এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের প্রতি জনআস্থার সংকট তৈরি হবে।” তিনি একে ‘লুণ্ঠনমূলক’ প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করে সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন।

অপরদিকে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেন মনে করেন, সরকার কতদিন ভর্তুকি দিয়ে যাবে সে প্রশ্নও রয়েছে। তিনি বলেন, “দাম কিছুটা বাড়ানো ভালো। অন্যান্য দেশও দাম কিছুটা বাড়িয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারবে—সংকট আছে, ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে। তবে সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যেন একশ্রেণির অসাধু চক্র একে পুঁজি করে পরিবহন ভাড়া বা পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বাড়িয়ে অতি মুনাফা করতে না পারে। এতে জনগণের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করবে।”

শ্যামনগরে এবার এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষার্থী ২৯৭৮ জন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে এবার এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষার্থী ২৯৭৮ জন

 

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলায় চলতি বছরে ৪২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩টি কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৭৩১ জন। দুটি কেন্দ্রে দাখিল পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১১০১জন ও দুটি কেন্দ্রে ভকেশনাল পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৪৬ জন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সুত্রে প্রকাশ, এসএসসি মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৯২২জন ও ছাত্রী ৮০৯জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষার্থী ৬২০জন, মানবিক বিভাগে পরীক্ষার্থী ৯৬৫জন ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পরীক্ষার্থী ১৩৬ জন।
কেন্দ্র অনুযায়ী নকিপুর সরকারি হরিচরণ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মোট পরীক্ষার্থী ৬৪১জন, নওয়াবেঁকী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ৪৪৯জন ও নকিপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ৬৪১ জন।
দাখিল পরীক্ষার কেন্দ্র অনুযায়ী শ্যামনগর কেন্দ্রিয় দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ৭০৬জন ও নওয়াবেঁকী বিড়ালাক্ষ্মী কাদেরিয়া ফাজিল(ডিগ্রী) মাদ্রাসা কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ৩৯৫জন।
ভকেশনাল পরীক্ষার্থী কেন্দ্র অনুযায়ী শ্যামনগর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে মোট পরীক্ষার্থী ৬৪জন ও নকিপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ৮২জন।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে কক্ষ পরিদর্শকদের প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আগামীকাল ২১ এপ্রিল থেকে এসএসসি, দাখিল ও ভকেশনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আ*প*ত্তি*ক*র মন্তব্য: সহকারী শিক্ষককে কৈফিয়ত তলব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আ*প*ত্তি*ক*র মন্তব্য: সহকারী শিক্ষককে কৈফিয়ত তলব

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (মেসেঞ্জার গ্রুপে) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর মন্তব্য করার অভিযোগে এক সহকারী শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে তাঁকে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আব্দুল খালেক উপজেলার ৭৪ নম্বর নলতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

তিনি ‘নলতা ক্লাস্টার, কালিগঞ্জ’ নামের একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে গত ১৭ ও ১৮ এপ্রিল একাধিক পোস্টে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ, অমর্যাদকর ও অপমানজনক মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই গ্রুপটি সরকারি তথ্য আদান-প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত ১৪ এপ্রিল প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ উপলক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনভিজিলেটরদের ব্রিফিংয়ে কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে ব্যঙ্গ ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করেন ওই শিক্ষক। পাশাপাশি কালিগঞ্জের একটি তেল পাম্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও অপ্রাসঙ্গিক ও অপমানজনক মন্তব্য করেন এবং তেল পাম্প ঘেরাওয়ের আহ্বান জানান, যা শিক্ষকদের ফৌজদারি অপরাধে প্ররোচিত করার শামিল বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, এসব কর্মকা- সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা-২০১৯ লঙ্ঘনের শামিল। পাশাপাশি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০২৩ অনুযায়ীও তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বিশ্বাস স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮ অনুযায়ী কেন তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না- সে বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব তিন কর্মদিবসের মধ্যে দাখিল করতে হবে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আব্দুল খালেকের বক্তব্য জানতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে পাওয়া যায়নি।