সংবাদদাতা: মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন আইনপ্রণেতা ও বিশেষজ্ঞরা। তারা মৎস্য অভয়াশ্রম ও প্রজননক্ষেত্রের সুরক্ষায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিবেশগত বিরুপ প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে মৎস্য খাতের বিভিন্ন পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছেন। সৌরবিদ্যুৎ জ্বালানী সংকট মোকাবেলার পাশাপাশি মৎস্যসম্পদ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তারা।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘মৎস্য সম্পদের সুরক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এ সকল মতামত তুলে ধরেন তারা। ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ প্রচারাভিযানের আওতায় ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ডিআরডিএফ) এবং সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনসহ ৪২টি নাগরিক ও সামাজিক সংগঠন আয়োজিত ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র।
সভায় বক্তৃতা করেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল, সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইন, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আনিসুর রহমান, বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মোস্তফা কামাল মজুমদার, সাবেক জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর সদস্য ইকবাল ফারুক, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আলম, রিভার বাংলার সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ, সচেতন সংস্থার সভাপতি সাকিলা পারভীন প্রমূখ।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত নির্ভরতা মৎস্য সম্পদের ওপরও ঝুঁকি তৈরি করছে। কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ফ্লাই অ্যাশ ও গরম পানি নদীদূষণ, অক্সিজেনের ঘাটতি ও মাছের ক্ষতি করছে। এ প্রেক্ষাপটে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর, কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র ফেজ-আউট এবং বিদ্যমান স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের আহ্বান জানানো হয়।
সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে জাতীয় বিদ্যুৎ চাহিদার অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ছাদের ওপর সোলার প্যানেল স্থাপন এবং সোলার ইরিগেশন বা সৌর সেচ কার্যক্রমকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের জন্য খাস জমি বরাদ্দ এবং ব্যাটারি স্টোরেজ উন্নয়নের কাজ চলছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, স্থানীয় সরকারগুলো কাজ শুরু করেছে। এ বিষয়ে মৎস্য খাতেও প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইন বলেন, শুধু নবায়নযোগ্য জ্বালানি নয়, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব কিভাবে মোকাবেলা করা যায়, তা নিয়ে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে এ সংক্রান্ত ৫ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে এ কাজে এগিয়ে আসতে হবে।
ড. মো. আনিসুর রহমান বলেন, পানিতে তাপমাত্রা, দূষণ, দ্রবীভূত অক্সিজেন (ডিও), পিএইচসহ বিভিন্ন প্যারামিটারের সামান্য পরিবর্তনও শুধু ইলিশ নয়, অন্যান্য মাছেরও ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে। এতে বাস্তুতন্ত্র ও মাছের খাদ্যকৃঙ্খল ভেঙে যেতে পারে। তাই নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে সাহসী পদক্ষেপের পাশাপাশি ইতোমধ্যে উঠে আসা সুপারিশগুলোর বাস্তবায়ন জরুরি।
প্রবীণ সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মজুমদার বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্তমান সরকার বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। সেই পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। প্রয়োজনে উন্নত দেশগুলোর ন্যায় সোলার এনার্জি কর্পোরেশন করার আহ্বান জানান তিনি।