কালিগঞ্জে শিক্ষকের ১৫৬টি পদ শূন্য, ব্যাহত প্রাথমিক শিক্ষার পাঠদান
নিয়াজ কওছার তুহিন: সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, দাপ্তরিক কর্মচারী ও বিপুলসংখ্যক শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এই জনবল সংকট নিরসন করা না হলে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কালিগঞ্জ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে মোট ১৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ৬টি ক্লাস্টারে বিভক্ত এসব বিদ্যালয়ের জন্য ৬ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ৪ জন। তাঁদেরকেই ১৩৮টি বিদ্যালয়ের পরিদর্শনের কাজ সামলাতে হচ্ছে।
একই সঙ্গে উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়েও তীব্র জনবল সংকট দেখা দিয়েছে। কার্যালয়টিতে ৫টি প্রশাসনিক পদের বিপরীতে মাত্র একজন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ও একজন অফিস সহায়কের মাধ্যমে দাপ্তরিক কাজ চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, ১৩৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৯৮টিতেই কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই; সহকারী শিক্ষকদের দিয়ে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে প্রশাসনিক কাজ চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ৮৩১ জন সহকারী শিক্ষকের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৭৭৩ জন, অর্থাৎ ৫৮টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। প্রধান ও সহকারী শিক্ষক মিলে মোট ১৫৬টি শিক্ষক পদ খালি পড়ে রয়েছে।
একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানান, দাপ্তরিক কাজের অতিরিক্ত চাপের কারণে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে ঠিকমতো মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না। শিক্ষকের অভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বিশ্বাস জনবল সংকটের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সমস্যাগুলোর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন জানান, শূন্যপদের তথ্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে সহকারী শিক্ষকের শূন্যপদে নিয়োগ সম্পন্ন হতে পারে। পর্যায়ক্রমে প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানো হবে।









