মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সাতক্ষীরার স্কুলে পরীক্ষার প্রস্তুতি, জীবনের প্রস্তুতি কোথায়?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরার স্কুলে পরীক্ষার প্রস্তুতি, জীবনের প্রস্তুতি কোথায়?

মো: মামুন হাসান

প্রতিদিন শ্রেণিকক্ষে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের দেখি। তাদের চোখে স্বপ্ন আছে, প্রশ্ন আছে, ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা কৌতূহল আছে। কেউ চিকিৎসক হতে চায়, কেউ প্রকৌশলী, কেউ শিক্ষক, কেউ সরকারি কর্মকর্তা, কেউ উদ্যোক্তা, আবার কেউ জানেই না ভবিষ্যতে সে কী হতে চায়। একজন শিক্ষক হিসেবে তখন একটি প্রশ্ন আমাকে ভাবায়, আমরা কি আমাদের শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করছি, নাকি জীবনের জন্যও প্রস্তুত করছি?

 

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় পরীক্ষার প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি নেই। পাঠ্যসূচি শেষ করা, গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন চিহ্নিত করা, মডেল টেস্ট নেওয়া, ভালো ফলের জন্য বাড়তি অনুশীলন, পরীক্ষার খাতায় কীভাবে উত্তর লিখতে হবে এসব নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের ব্যস্ততা থাকে সারা বছর। ভালো ফলাফল অবশ্যই শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। কিন্তু শিক্ষা যদি কেবল পরীক্ষার খাতায় ভালো নম্বর পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে একটি মৌলিক প্রশ্ন থেকেই যায়। পরীক্ষার হল থেকে বের হওয়ার পর শিক্ষার্থী যে বাস্তব জীবনের মুখোমুখি হবে, সেই জীবনের জন্য আমরা তাকে কতটা প্রস্তুত করছি?

 

জীবনের পরীক্ষার কোনো নির্দিষ্ট সিলেবাস নেই। সেখানে প্রশ্ন আগে থেকে জানা যায় না। সেখানে কোনো প্রশ্নের পাশে নম্বর বরাদ্দ থাকে না। সেখানে কখনো সিদ্ধান্ত নিতে হয়, কখনো ব্যর্থতা সামলাতে হয়, কখনো নতুন কাজ শিখতে হয়, কখনো মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়, কখনো প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হয়, আবার কখনো নিজের জন্য নিজেকেই কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করতে হয়। ফলে শিক্ষার প্রকৃত সাফল্য শুধু একজন শিক্ষার্থী কত নম্বর পেল, তার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। সে কতটা চিন্তা করতে পারে, সমস্যা বিশ্লেষণ করতে পারে, সিদ্ধান্ত নিতে পারে, নতুন কিছু শিখতে পারে এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে নিজের জ্ঞান প্রয়োগ করতে পারে, সেটিও শিক্ষার বড় পরিমাপক।

 

সাতক্ষীরার বাস্তবতা এই প্রশ্নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। এই জেলা শুধু একটি প্রশাসনিক অঞ্চল নয়। এটি কৃষি, মৎস্য, চিংড়ি, ক্ষুদ্র ব্যবসা, সীমান্ত অর্থনীতি, সুন্দরবন, পর্যটন এবং উপকূলীয় জীবনের একটি বৈচিত্র্যময় ভূখণ্ড। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, দুর্যোগ ও কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা এই জেলার মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে। তাই সাতক্ষীরার শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা যদি জেলার বাস্তব জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে, তাহলে সেই শিক্ষা পূর্ণাঙ্গ হবে না।

 

শ্যামনগরের একজন শিক্ষার্থী সুন্দরবনকে শুধু ভূগোলের একটি অধ্যায় হিসেবে পড়বে কেন? সুন্দরবন তার জন্য জীবন্ত শিক্ষাগার হতে পারে। সে জানতে পারে বন কীভাবে স্থানীয় মানুষের জীবিকা, পরিবেশ, পর্যটন ও অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত। সে পর্যটন ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্থানীয় সংস্কৃতি, নৌপরিবহন কিংবা উদ্যোক্তা হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করতে পারে। একইভাবে উপকূলের একজন শিক্ষার্থী জলবায়ু পরিবর্তনকে শুধু বইয়ের সংজ্ঞা হিসেবে না পড়ে নিজের এলাকার বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে বুঝতে পারে।

 

একজন শিক্ষক হিসেবে আমি মনে করি, আমাদের বিদ্যালয়গুলোতে স্থানীয় বাস্তবতাভিত্তিক শিক্ষা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা যদি নিজেদের এলাকার সমস্যা নিয়ে গবেষণা করতে শেখে, তাহলে তাদের মধ্যে একই সঙ্গে জ্ঞান, পর্যবেক্ষণশক্তি ও দায়িত্ববোধ তৈরি হবে। কেন একটি এলাকায় জলাবদ্ধতা বাড়ছে, কেন তরুণরা কর্মসংস্থানের জন্য বাইরে যাচ্ছে, কীভাবে স্থানীয় কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর করা যায়, কীভাবে চিংড়ি শিল্পে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায়, কীভাবে সুন্দরবনকে রক্ষা করে পর্যটনের বিকাশ ঘটানো যায় এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে একজন শিক্ষার্থী বইয়ের বাইরে গিয়ে বাস্তব জ্ঞান অর্জন করতে পারে।

 

শিক্ষার অন্যতম বড় উদ্দেশ্য হওয়া উচিত প্রশ্ন করতে শেখানো। আমরা অনেক সময় শিক্ষার্থীর সঠিক উত্তর দেওয়ার ক্ষমতাকে যতটা গুরুত্ব দিই, তার প্রশ্ন করার ক্ষমতাকে ততটা গুরুত্ব দিই না। অথচ বিজ্ঞান, গবেষণা, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা হওয়ার শুরুই হয় প্রশ্ন থেকে। যে শিক্ষার্থী প্রশ্ন করতে শেখে, সে একসময় সমস্যার ভেতরে সম্ভাবনাও খুঁজে নিতে শেখে।

 

বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন শিক্ষার এই প্রয়োজনীয়তাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন তথ্য খোঁজা, লেখা, বিশ্লেষণ, অনুবাদ, নকশা, ব্যবসা ও গবেষণার বহু ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনছে। আগামী দিনের শিক্ষার্থী এমন একটি পৃথিবীতে প্রবেশ করবে যেখানে তথ্যের অভাব থাকবে না। বরং বড় চ্যালেঞ্জ হবে কোন তথ্য সত্য, কোন তথ্য গুরুত্বপূর্ণ এবং সেই তথ্য কীভাবে সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়। তাই মুখস্থ জ্ঞানের পাশাপাশি তথ্য যাচাই, বিশ্লেষণ, যুক্তি, সৃজনশীলতা এবং প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহার শেখানো জরুরি।

 

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেন শিক্ষার্থীর চিন্তাশক্তির বিকল্প না হয়। বরং এটি যেন তার চিন্তার সহায়ক হয়। একজন শিক্ষার্থী যদি নিজের চিন্তা না করে প্রযুক্তির তৈরি উত্তর শুধু মুখস্থ করে, তাহলে প্রযুক্তি তার দক্ষতা বাড়াবে না। কিন্তু সে যদি প্রযুক্তির সাহায্যে তথ্য সংগ্রহ করে, তথ্য যাচাই করে, নিজের যুক্তি দিয়ে বিশ্লেষণ করে এবং নতুন কিছু তৈরি করে, তখন প্রযুক্তি সত্যিকার অর্থে তার শিক্ষার শক্তি হয়ে উঠবে।

 

আমাদের শিক্ষার্থীদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা শেখানো প্রয়োজন, সেটি হলো কাজ শেখার মানসিকতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি কিংবা পরীক্ষার ভালো ফল ভবিষ্যতের একটি পথ খুলে দিতে পারে, কিন্তু পরিবর্তনশীল অর্থনীতিতে শুধু চাকরির অপেক্ষায় থাকা যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থীকে জানতে হবে কীভাবে নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আয় করা যায়, কীভাবে ছোট উদ্যোগ শুরু করা যায়, কীভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন সেবা তৈরি করা যায়। সাতক্ষীরার বাস্তবতায় কৃষি, মৎস্য, পর্যটন, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, তথ্যপ্রযুক্তি, ই কমার্স এবং বিভিন্ন কারিগরি সেবায় তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।

 

এই জায়গায় সাধারণ শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষার মধ্যে দূরত্ব কমানো দরকার। একটি শিক্ষাব্যবস্থা তখনই শক্তিশালী হয়, যখন সেখানে জ্ঞান ও দক্ষতার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি হয়। একজন সাধারণ শিক্ষার্থীও প্রযুক্তি সম্পর্কে জানবে, একজন কারিগরি শিক্ষার্থীও ভাষা, যোগাযোগ, নেতৃত্ব ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা পাবে। কারণ ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে একজন মানুষকে শুধু একটি যন্ত্র চালাতে জানলেই হবে না, তাকে মানুষের সঙ্গে কাজ করতে হবে, সমস্যা বুঝতে হবে এবং পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে।

 

অভিভাবকদের দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন প্রয়োজন। সন্তান কত নম্বর পেল, কোন স্কুলে প্রথম হলো, কার সন্তানের চেয়ে বেশি নম্বর পেল এসব প্রশ্নের বাইরে আরও কিছু প্রশ্ন করা দরকার। সন্তান কী শিখছে, কী করতে ভালোবাসে, কোন কাজে তার দক্ষতা বেশি, সে ভবিষ্যতে কী করতে চায়, বাস্তব জীবনের কোনো সমস্যা নিয়ে সে কখনো ভেবেছে কি না এসব প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি শিশুর মেধা একই পথে বিকশিত হয় না। কেউ একাডেমিক শিক্ষায় এগিয়ে যাবে, কেউ কারিগরি দক্ষতায়, কেউ সৃজনশীল কাজে, কেউ উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে। শিক্ষার দায়িত্ব হলো এই বৈচিত্র্যকে স্বীকৃতি দেওয়া।

 

শিক্ষকদের ভূমিকাও এখানে নতুন করে ভাবতে হবে। শিক্ষক শুধু পাঠ্যবই শেষ করার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি নন। একজন শিক্ষক একজন শিক্ষার্থীর সম্ভাবনা আবিষ্কার করতে পারেন, তাকে প্রশ্ন করতে শেখাতে পারেন, ব্যর্থতার পর আবার দাঁড়াতে উৎসাহ দিতে পারেন এবং তার সামনে নতুন পথের দরজা খুলে দিতে পারেন। শ্রেণিকক্ষ তাই শুধু পাঠদানের জায়গা নয়, এটি ভবিষ্যৎ নির্মাণের জায়গা।

 

আমাদের বিদ্যালয়ে যদি নিয়মিত ছোট গবেষণা, স্থানীয় সমস্যা নিয়ে প্রকল্প, হাতে কলমে কাজ, প্রযুক্তি ব্যবহার, বিতর্ক, উপস্থাপনা, উদ্যোক্তা কার্যক্রম এবং দলগত সমস্যা সমাধানের সুযোগ তৈরি করা যায়, তাহলে শিক্ষার্থীদের শেখার ধরন বদলে যাবে। তারা শুধু পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তর খুঁজবে না, বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধানও খুঁজবে।

 

সাতক্ষীরার জন্য এমন শিক্ষা আরও জরুরি, কারণ এই জেলার ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে তার তরুণ জনগোষ্ঠীর ওপর। জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারের পরিবর্তনের সময়ে আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ হতে পারে দক্ষ ও সৃজনশীল মানবসম্পদ। সেই মানবসম্পদ তৈরি হবে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ থেকেই।

 

একজন শিক্ষক হিসেবে আমার বিশ্বাস, পরীক্ষার ফলাফল একটি শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের একটি মাইলফলক মাত্র। এটি তার পুরো ভবিষ্যতের পরিচয় নয়। জীবনের পরীক্ষায় সফল হতে হলে তাকে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন করতে হবে, মানুষের সঙ্গে কাজ করতে হবে, প্রযুক্তি বুঝতে হবে, নিজের সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে।

 

আজ সাতক্ষীরার যে শিশু শ্রেণিকক্ষে বসে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছে, আগামী দিনের সাতক্ষীরা তার হাতেই তৈরি হবে। সে কেমন সাতক্ষীরা তৈরি করবে, তার একটি বড় অংশ নির্ধারিত হচ্ছে আজকের শ্রেণিকক্ষে। তাই এখন সময় এসেছে শিক্ষার উদ্দেশ্য নিয়ে নতুন করে ভাবার।

 

আমরা কি এমন শিক্ষার্থী তৈরি করতে চাই, যে পরীক্ষার খাতায় সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে, কিন্তু বাস্তব জীবনের একটি সমস্যার সমাধান করতে পারে না? নাকি এমন মানুষ তৈরি করতে চাই, যে বইয়ের জ্ঞানকে জীবনের কাজে ব্যবহার করতে পারে, নিজের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে এবং সমাজের জন্যও মূল্য সৃষ্টি করতে পারে?

 

এই প্রশ্নের উত্তরেই লুকিয়ে আছে সাতক্ষীরার শিক্ষার আগামী দিনের পথ।পরীক্ষার প্রস্তুতি অবশ্যই থাকবে। কিন্তু তার পাশাপাশি থাকতে হবে জীবনের প্রস্তুতি। কারণ একটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া একজন শিক্ষার্থীর সাফল্য হতে পারে, কিন্তু জীবনের পরীক্ষায় নিজের জ্ঞান, দক্ষতা, সততা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে দাঁড়িয়ে যেতে পারাই হবে প্রকৃত শিক্ষার সার্থকতা।

লেখক: মো: মামুন হাসান,বিভাগীয় প্রধান,ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ,সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, সাতক্ষীরা।

Ads small one

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে নাইট শর্টপিচ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে নাইট শর্টপিচ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

0-4480x2016-0-0-{}-0-12#bokehtype:0#;ts:109764540046000;appts:1790604739072;uid:0;qlty:1;illum:7 scene:50 humanIn:4;

মাসুদ রানা: ‎বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ থানা শাখার উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে এক উৎসবমুখর পরিবেশে নাইট শর্টপিচ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‎​২৮ সেপ্টেম্বর (সোমবার) রাত ৮টায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ মাঠে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও সাতক্ষীরা শহর শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাব্বির আহমেদ সাকিবের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়।

‎
‎অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা শহর ছাত্রশিবিরের সাবেক বিজ্ঞান সম্পাদক ও মেডিকেল কলেজের সাবেক সভাপতি ড. মনিরুল ইসলাম এবং শহর ছাত্রশিবিরের কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক মো. মাসুদ রানা।

‎
‎এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মেডিকেল কলেজ সেক্রেটারি শাহজালাল সাকিব সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

‎
‎​প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেহেদী হাসান বলেন, “মেডিকেল শিক্ষার্থীরা মানবসেবার মতো এক মহান ব্রতে নিয়োজিত। তবে একজন আদর্শ চিকিৎসক ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হলে পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতা ও মানসিকভাবে চাঙ্গা থাকা আবশ্যক। খেলাধুলা কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং এটি তরুণ সমাজের মাঝে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত করে। সৎ, দক্ষ ও শারীরিকভাবে সুস্থ নাগরিক গড়ে তুলতে ইসলামী ছাত্রশিবির সর্বদাই ইতিবাচক ও গঠনমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। তরুণদের মাদকমুক্ত রাখা এবং সুস্থ বিনোদনের সুযোগ তৈরি করতেই আমাদের আজকের এই আয়োজন।”
‎
‎​
‎​উক্ত টুর্নামেন্টে মোট ৬টি দল অংশগ্রহণ করে। টুর্নামেন্টজুড়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা শেষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে ‘শহীদ আমিনুর রহমান টিম’ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে এবং চমৎকার লড়াই করে ‘শহীদ ওসমান হাদী টিম’ রানার্সআপ হয়।

‎​খেলা শেষে বিজয়ী ও বিজিত দলের খেলোয়াড়দের মাঝে রাজহাঁস ও পাতিহাঁস তুলে দেওয়া হয়। টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ করা গেছে।

কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি অবসান হোক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ
কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি অবসান হোক

প্রকাশ ঘোষ বিধান

আজকের কন্যা শিশু আগামী দিনের একজন মহিয়সী রানী। কন্যা একটি জাতির অর্ধৈক জনগোষ্ঠী। তাই কন্যা শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সুষ্ঠ বিকাশের লক্ষে প্রতিবছর ৩০ সেপ্টেম্বর জাতীয় কন্যা শিশু দিবস। ২০০০ সাল থেকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রানলয়ের উদ্যোগে প্রতিবছর ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয় কন্যা শিশু দিবস পালিত হচ্ছে। দিবসটি পালনেরমুখ্য উদ্দেশ্য হলো কন্যা শিশুদের প্রতি সব ধরনের বৈষম্যমুলক আচারন দুর করে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে তাদের সব ধরনের সম অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।

 

কন্যা শিশু বলতে সাধারণত ১৮ বছর বয়সের কম বয়সী নারী বা মেয়েদের বোঝায়। একটি সুস্থ ও সাম্যভিত্তিক সমাজ গঠনে কন্যা শিশুদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিশ্বজুড়ে এবং আমাদের সমাজে কন্যা শিশুরা নানা ধরনের সামাজিক চ্যালেঞ্জ, লিঙ্গ বৈষম্য ও অধিকার সচেতনতার অভাবের মুখোমুখি হয়। সাধারণত ১৮ বছরের কম বয়সী বালিকা বা মেয়ে শিশুকে বোঝায়, যাদের বেঁচে থাকা, সুরক্ষা, শিক্ষা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করা সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

 

আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর ১১ অক্টোবর তারিখে পালন করা হয়. তবে প্রেক্ষাপট অনুযায়ী বাংলাদেশে পৃথকভাবে ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালন করা হয়ে থাকে। কন্যা শিশুদের শিক্ষা, পরিপুষ্টি, আইনি সহায়তা, চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা। এছাড়া লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে জনসচেতনতা তৈরি করা এর অন্যতম লক্ষ্য।

 

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। সৃষ্টিকর্তাই নারী ও পুরুষ সৃষ্টি করেছেন। আর নারী-পুরুষ একে অপরের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মা-বাবার কাছে সন্তান সব চেয়ে বড় সম্পদ। সে সন্তান ছেলে হোক বা মেয়ে হোক। এখনও অনেক অভিভাবক কন্যা শিশু জন্ম গ্রহন করলে খুশি হন না। পুত্র সন্তানকে যে যতেœ লালন পালন করে কন্যা সন্তানকে সেভাবে লালন পালন করে না। পরিবার থেকে কন্যা শিশুর প্রতি বৈষম্যমূলক আচারণ শুরু হয়। আর সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কন্যা শিশুর প্রতি বৈষম্য মুলক আচারনের চিত্র একই রকম। অনেক পরিবার কন্যা শিশুদের পুষ্টি, শিক্ষা এবং স্বাধীনতার বিষয়টি ভাবেনই না। নারী তথা কন্যা শিশুরা সমাজে বিভিন্নভাবে নিগৃহত হচ্ছে। প্রতিদিন বোখাটেরা পথে পথে কিশোরী মেয়েদের বিভিন্নভাবে বিরক্ত ও উত্তক্ত করছে। ঘটনাটি জানাজানি হলে বেশিরভাগ অভিভাবক ও সমাজ এর দায়ভার মেয়েটির উপর চাপায়। আর এই অপমান, লাঞ্ছনা ও বিরক্তিকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে কিশোরীরা আতœহননের পথ বেছে নেয়। কন্যা শিশু নির্যাতন ও যৌন রহয়রানীর শিকার হচ্ছে। গৃহ পরিচারিকার কাজে, নিয়োজিত শিশুরা গৃহকর্তির হাতে অমানবিক নির্যাতন, আবার গৃহকর্তা কর্তৃক ধর্ষন ও যৌন হয়রানীর শিকার হচ্ছে। অনেক অভিভাবক এসব কারনে কন্যা শিশু নিরাপত্তার কথা ভেবে বাল্য বিয়ে দিচেছ। অনেক পরিবার পুত্র সন্তানের আশায় অধিক সন্তান নিচ্ছে, এমনকি অন্যকেও উৎসাহিত করছে।

 

সমাজে আমরা নিজেদের আধুনিক মানুষ ভাবলেও কন্যা শিশুর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন খুব বেশি ঘটেনি। আজকের কন্যা শিশুই আগামী দিনের একজন নারী ও মা। অনেক কন্যা শিশু সমাজে অবহেলা-অনাদরে প্রতিকুল পরিবেশ পাড়ি দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। পুত্র সন্তানটির মত কন্যা সন্তানটিকে শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে পারলে সে মেয়েটি পরিবার ও সমাজে সর্বতোভাবে গ্রহনযোগ্য হয়ে উঠতে পারবে।

 

আজ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীরা ক্ষমতাসীন। নারীর গ্রহনযোগ্যতা সর্বজন স্বীকৃত। সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এই সত্য উপলদ্ধি করতে হবে। সমাজের কু-সংস্কার আর কু-শিক্ষার বেড়াজাল ছিড়ে সভ্যতার আলোয় বিকশিত হতে হবে। তাই কন্যা শিশু ভেবে নয় সন্তান হিসাবে তাদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। আর এখনই কন্যা শিশুর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য, অবহেলা, নির্যাতন বদ্ধ করতে হবে। সকল ক্ষেত্রে সাধারণ জনগনকে সম্পৃক্ত করে প্রচার প্রচারনা বাড়াতে হবে। কন্যাশিশু নয়, মানুষ হিসাবে সব কিছুতে সমান অধিকার, ভোগের অধিকার তার সমান। সবাইকে এই বাস্তবতা মানার মানষিকতা তৈরী করতে হবে।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

জেলা প্রশাসকের নির্দেশে রাতে কুড়িকাহুনিয়া ভাঙন পরিদর্শনে এসিল্যান্ড মিঠুন মৈত্র

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ
জেলা প্রশাসকের নির্দেশে রাতে কুড়িকাহুনিয়া ভাঙন পরিদর্শনে এসিল্যান্ড মিঠুন মৈত্র
বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি: আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাহুনিয়া লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ওয়াপদা বেড়িবাঁধের প্রায় ১০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঘটনায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজের নির্দেশে রাত ৮টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন আশাশুনি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিঠুন মৈত্র।
সোমবার রাতে তিনি সরেজমিনে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় নদীর তীব্র স্রোতে বাঁধের ভাঙন ও ঝুঁকিপূর্ণ অংশের অবস্থা দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
পরিদর্শনকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিঠুন মৈত্র বলেন, “সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ভাঙন সরেজমিনে পরিদর্শন করতে এসেছি। বাঁধের যে অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে, সেটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”
স্থানীয়রা জানান, বাঁধের ভাঙন ঠেকাতে দিনভর প্রায় চার শতাধিক মানুষ কাজ করেন এবং অতিরিক্ত মাটি ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে সংস্কারের চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সংস্কার করা অংশের একটি বড় অংশ ফের নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
ভাঙন পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় মসজিদগুলোতে মাইকিং করে এলাকাবাসীকে সতর্ক করা হয়। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় রাতে হ্যালোজেন বাতি স্থাপন করে ভাঙনকবলিত এলাকায় কাজ চালানো হয়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত স্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধ ও বাঁধ সংস্কার করা না হলে জোয়ারের পানিতে মাছের ঘের, ফসলি জমি ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
স্থানীয়রা জরুরি ভিত্তিতে বাঁধের ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
পরিদর্শনকালে প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান হাজী আবু দাউদ, সার্ভেয়ার মোস্তাফিজুর রহমান, সাংবাদিক বিএম আলাউদ্দীনসহ স্থানীয় জামায়াতের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।