শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস: সহিংসতার পৃথিবীতে শান্তির প্রতীক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৭ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস: সহিংসতার পৃথিবীতে শান্তির প্রতীক

সাকিবুর রহমান বাবলা

বিশ্বজুড়ে শান্তি, সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মানবিক সহাবস্থানের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান নিয়ে প্রতি বছর ২ অক্টোবর পালিত হয় আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস। দিনটি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা এবং অহিংস দর্শনের প্রবক্তা মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন। ২০০৭ সালের ১৫ জুন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৬১/২৭১ নম্বর রেজুলেশনের মাধ্যমে ২ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস ঘোষণা করে। রেজুলেশনটি ভোট ছাড়াই গৃহীত হয় এবং ভারতসহ ১৪০টি দেশ এর সহপৃষ্ঠপোষক ছিল।

জাতিসংঘের ঘোষণার মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষা ও জনসচেতনতার মাধ্যমে অহিংসার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি, সহনশীলতা, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও অহিংসার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার আকাক্সক্ষাকে এগিয়ে নেওয়া। অর্থাৎ অহিংসা কেবল যুদ্ধ না করার নাম নয়; বরং অন্যায়, বৈষম্য ও বিরোধের মোকাবিলায় সহিংসতার পরিবর্তে সংলাপ, নৈতিক দৃঢ়তা, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও পারস্পরিক সম্মানের পথ অনুসরণ করা।

মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী ১৮৬৯ সালের ২ অক্টোবর ভারতের গুজরাটের পোরবন্দরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা করমচাঁদ গান্ধী ছিলেন পোরবন্দরের দেওয়ান এবং মা পুতলিবাঈ ছিলেন ধর্মপ্রাণ ও নীতিবোধসম্পন্ন নারী। ১৮৮৮ সালে আইন পড়তে তিনি লন্ডনে যান এবং ১৮৯১ সালে ব্যারিস্টারি সম্পন্ন করে ভারতে ফিরে আসেন। ১৮৯৩ সালে আইনগত কাজের সূত্রে দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার পর বর্ণবৈষম্যের নানা অভিজ্ঞতা তাঁর চিন্তা ও রাজনৈতিক দর্শনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। সেখানে ভারতীয়দের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে তিনি সত্যাগ্রহ ও অহিংস প্রতিরোধের ধারণাকে বিকশিত করেন।

১৯১৫ সালে ভারতে ফিরে তিনা ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসে যোগ দেন এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতায় পরিণত হন। ১৯৩০ সালের লবণ সত্যাগ্রহ ও ডান্ডি অভিযান এবং ১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে গণসম্পৃক্ততা ও অহিংস প্রতিরোধের শক্তিকে সামনে আনেন। তাঁর দর্শনের কেন্দ্রে ছিল সত্য, আত্মসংযম, নৈতিক সাহস, অসহযোগ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান।
গান্ধীর কাছে অহিংসা দুর্বলতার প্রতীক ছিল না; বরং এটি ছিল মানুষের নৈতিক শক্তির প্রকাশ। জাতিসংঘে আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবসের প্রস্তাব উপস্থাপনের সময় তৎকালীন ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আনন্দ শর্মাও গান্ধীর অহিংসাকে মানবজাতির এক অসাধারণ শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।

অহিংস আন্দোলনের বিভিন্ন কৌশলের মধ্যে শান্তিপূর্ণ মিছিল, গণসমাবেশ, জনমত গঠন, বয়কট, অসহযোগ, অবস্থান ও নাগরিক অবাধ্যতার মতো পদ্ধতি ইতিহাসে ব্যবহৃত হয়েছে। এসব কৌশলের লক্ষ্য সহিংস সংঘাত সৃষ্টি করা নয়; বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগঠিত, দৃঢ় ও শান্তিপূর্ণ সামাজিক চাপ তৈরি করা। তবে অহিংসা মানে অন্যায়ের কাছে আত্মসমর্পণ নয়, বরং অন্যায়ের প্রতিবাদ করেও প্রতিহিংসা ও অপ্রয়োজনীয় ক্ষতির পথ পরিহার করা। তাই ব্যক্তিগত আচরণ থেকে শুরু করে ‘সামাজিক আন্দোলন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক’ সব ক্ষেত্রেই অহিংসার প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে।

গান্ধীর অহিংস দর্শন ভারতের সীমানা অতিক্রম করে বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক ও মানবাধিকার আন্দোলনের আলোচনায় স্থান করে নেয়। মার্কিন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র অহিংস প্রতিরোধের ধারণা থেকে গভীরভাবে প্রভাবিত হন। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী সংগ্রামের ইতিহাসেও গান্ধীর প্রভাব নিয়ে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে। নেলসন ম্যান্ডেলা ও দালাই লামাসহ বিভিন্ন বিশ্বনেতা ও চিন্তাবিদের সঙ্গে গান্ধীর অহিংস দর্শনের সম্পর্কও আলোচিত হয়েছে।

তবে বিশ্বের প্রতিটি গণআন্দোলনের ইতিহাস ও রাজনৈতিক বাস্তবতা আলাদা। তাই পরবর্তী সব অহিংস আন্দোলনকে সরাসরি গান্ধীর আন্দোলনের অনুকরণ বলা যথার্থ নয়। বরং বলা যায়, সত্যাগ্রহ, নাগরিক অবাধ্যতা ও অহিংস প্রতিরোধের ধারণা পরবর্তী অনেক আন্দোলনের চিন্তাজগতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।

অহিংসা বর্তমানে শুধু নৈতিক বা রাজনৈতিক দর্শনের বিষয় নয়; এটি পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজ, কনফ্লিক্ট রেজোলিউশন, হিউম্যান রাইটস এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মতো একাডেমিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ শান্তি, যুদ্ধ ও বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার কারণ নিয়ে আন্তঃবিষয়ক শিক্ষা ও গবেষণা পরিচালনা করে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ‘ইউনিভার্সিটি অব পিস’ শান্তি ও সংঘর্ষ বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান।

অহিংসার প্রকৃত চর্চা শুরু হতে পারে আমাদের নিজেদের জীবন থেকেই। পরিবারে মতবিরোধ, বন্ধুত্বে ভুল বোঝাবুঝি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দ্বন্দ্ব কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতের পার্থক্যÑএসব ক্ষেত্রে রাগ, অপমান ও প্রতিশোধের পরিবর্তে যুক্তি, ধৈর্য, শ্রবণ ও সংলাপ বেছে নেওয়া অহিংস সংস্কৃতির অংশ। অহিংস আচরণ পারস্পরিক আস্থা ও সম্মান তৈরিতে সহায়তা করে, সংঘাতের বিস্তার রোধ করতে পারে এবং মানুষকে সহনশীল ও সহানুভূতিশীল হতে শেখায়। তবে অহিংসা মানে নিজের অধিকার বিসর্জন নয়; বরং অধিকার ও ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি অন্যের মানবিক মর্যাদাকেও সম্মান করা।

আজকের পৃথিবীতে যুদ্ধ, সংঘাত, অসহিষ্ণুতা, ঘৃণা, সামাজিক বিভাজন ও নানা ধরনের সহিংসতার বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবসের তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর। ২ অক্টোবর আমাদের মনে করিয়ে দেয়Ñশান্তি শুধু অস্ত্রের অনুপস্থিতি নয়; শান্তি হলো ন্যায়, মানবিক মর্যাদা, সহনশীলতা, সংলাপ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার প্রতিষ্ঠা। এটি নিজেদের চিন্তা, ভাষা ও আচরণকে নতুন করে মূল্যায়নের দিন। ঘৃণার পরিবর্তে সহমর্মিতা, প্রতিহিংসার পরিবর্তে ন্যায়, সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ এবং সহিংসতার পরিবর্তে মানবিকতার পথ বেছে নেওয়াই হতে পারে এই দিবসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার।

 

Ads small one

দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার অভিনেতা দিনো মোরিয়া

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ
দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার অভিনেতা দিনো মোরিয়া

মুম্বাইয়ের মিঠী নদীর পলি অপসারণ প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন বলিউড অভিনেতা দিনো মোরিয়া। এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, মুম্বাই পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধ শাখা (ইকোনমিক অফেন্সেস উইং) অভিনেতাকে গ্রেফতার করেছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বান্দ্রার বাসভবনে প্রায় আট ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর অভিনেতাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

মামলাটি মুম্বাইয়ের মিঠি নদীর পলি অপসারণ ও পুনরুজ্জীবন প্রকল্পের বিভিন্ন চুক্তিতে কথিত আর্থিক অনিয়মকে কেন্দ্র করে। তদন্তকারীরা ঠিকাদার, মধ্যস্থতাকারী ও পৌরসভার কর্মকর্তাদের কথিত ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন। এ ঘটনায় বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের (BMC) প্রায় ৬৫ দশমিক ৫৪ কোটি রুপি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে এই মামলায় মোরিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের মে মাসে অভিনেতা ও তার ভাই স্যান্টিনো মোরিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

মোরিয়াকে গ্রেফতারের পর বলিপাড়ায় জোর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং মিঠি নদী কাণ্ডে আর কোন কোন প্রভাবশালী নাম জড়িয়ে রয়েছে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।

২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘রাজ’ সিনেমা দিয়ে পরিচিতি পান দিনো মোরিয়া। বিপাসা বসুর সঙ্গে তার রসায়ন দর্শক মনে জায়গা করে নিয়েছিল। এরপর এই অভিনেতাকে দেখা যায় ‘আকসার’, ‘পেয়ার মে কাভি কাভি’, ‘গুনাহ’, ‘নিউ ইয়ার’সহ বেশ কিছু সিনেমায়।

শাহজালাল বিমানবন্দরে আকস্মিক পরিদর্শনে বিমানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১১ পূর্বাহ্ণ
শাহজালাল বিমানবন্দরে আকস্মিক পরিদর্শনে বিমানমন্ত্রী

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেন। শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টায় তিনি পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বিমানবন্দর পরিদর্শনে যান।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বিমানবন্দরের লাগেজ বেল্ট এলাকা ঘুরে দেখেন এবং সেখানে লাগেজের জন্য অপেক্ষারত যাত্রীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি যাত্রীদের কাছে বিমান থেকে নামার পর লাগেজ গ্রহণে কত সময় লাগছে এবং লাগেজ ডেলিভারি কার্যক্রম সম্পর্কে তাদের অভিজ্ঞতা জানতে চান।

যাত্রীরা মন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময়কালে বিমানবন্দরের ব্যাগেজ ডেলিভারি ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাগেজ পাওয়ার বিষয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী যাত্রীসেবার মান আরও উন্নত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বিমানবন্দরের সার্বিক কার্যক্রমে যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দেন। এছাড়া দ্রুত ট্রলির সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কেন সমঝোতায় পৌঁছাতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ
কেন সমঝোতায় পৌঁছাতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধান চান যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন ও ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র উভয়পক্ষই এমন দাবি করছে। তবে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানোর পথ ক্রমশ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। আলোচনায় অচলাবস্থার পেছনে রয়েছে সময়ের ভিন্ন ধারণা, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পার্থক্য এবং গভীর অবিশ্বাস।

গত ১৮ মাসে দুই দফা ব্যর্থ আলোচনা যুদ্ধের দিকে গড়িয়েছে। জুনের সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ কয়েক দিনের মধ্যেই ভেঙে পড়ে এবং আবারও উত্তেজনা বাড়ে। বর্তমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও যদি অচলাবস্থায় শেষ হয় তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আবার সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার ব্যর্থতার একটি কারণ হলো, দুইপক্ষ আলোচনার সময়সীমাকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে দেখে।

কার্নেগি এনডাওমেন্টের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক করিম সাজাদপুরের মতে, ট্রাম্প দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চান। আলোচনা ধীরগতির হলে তিনি অধৈর্য ও হতাশ হয়ে পড়েন। অন্যদিকে ইরানের আলোচনার ধরন অনেক ধীর এবং তারা সময়ক্ষেপণকে কৌশল হিসেবে দেখে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে ট্রাম্প আলোচনার জন্য ৬০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। ইরান এটিকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও অবাস্তব সময়সীমা হিসেবে দেখেছিল। ইরানি কর্মকর্তারা মনে করেছিলেন, ট্রাম্প ৬০ দিনের সময়সীমা নিয়ে বাস্তবে এতটা কঠোর ছিলেন না।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির আলোচনাও প্রায় তিন সপ্তাহ স্থায়ী হয়েছিল। এত অল্প সময়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা প্রায় শূন্য ছিল বলে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাম্প রাজনৈতিকভাবে আলোচিত বড় ধরনের চুক্তি পছন্দ করেন। তার লক্ষ্য এমন একটি চুক্তি, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনবে।

অন্যদিকে ইরান অপেক্ষাকৃত সীমিত ও লেনদেনভিত্তিক চুক্তি চায়। তারা সরাসরি আলোচনার বদলে পরোক্ষ আলোচনা কিংবা যতটা সম্ভব কম প্রচারের মধ্যে সমঝোতা করতে আগ্রহী। করিম সাজাদপুর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন নিজেদের চুক্তি সম্পাদনকারী হিসেবে দেখে। বিপরীতে ইরানের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে আপসকারীর ধারণাটিকে নেতিবাচকভাবে দেখা হয়।

তার মতে, ইরানের নেতারা ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসতে কখনোই আগ্রহী ছিলেন না। সরাসরি আলোচনা হলে পরিস্থিতির ফল ভিন্ন হতে পারত বলেও তিনি মনে করেন। দুই দেশের আলোচনায় সবচেয়ে মৌলিক বাধা হলো পারস্পরিক অবিশ্বাস। ইরানের দাবি, আলোচনার মাঝখানে দুইবার তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অনেক কর্মকর্তা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা আসলে আকস্মিক হামলার প্রস্তুতি আড়াল করার একটি কৌশল হতে পারে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, জুন ২০২৬-এর সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কয়েক দিন পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা চালিয়ে ইরানই চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি এবং সরকারের ভেতরের কট্টরপন্থিরা কোনও চুক্তি মেনে চলবে কিনা, তা নিশ্চিত করা কঠিন।

আলোচনাকে ঘিরে দুই দেশেই রয়েছে তীব্র অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ। ইরানের আলোচনাকারী দল এবং সরকারের ভেতরের চুক্তি-সমর্থকরা দেশে নিয়মিত সমালোচনার মুখে পড়ছেন। এতে আলোচনার টেবিলে তাদের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে।

অন্যদিকে ট্রাম্প ও তার আলোচনাকারীরাও ডানপন্থীদের কাছ থেকে চুক্তি না করার চাপ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে বামপন্থীদের সমালোচনার মুখে পড়ছেন। বিশেষ করে এমন কোনও চুক্তি হলে, যা যুদ্ধের আগের পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনে অথবা সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির মতো হয়। এই রাজনৈতিক সমালোচনার কারণে গত ১৮ মাসে ট্রাম্প কয়েকবার তুলনামূলক নমনীয় অবস্থান থেকে সরে এসেছেন।

হোয়াইট হাউসের দূত স্টিভ উইটকফ, জ্যারেড কুশনার ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এখনও কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে রয়েছেন। তবে ট্রাম্প নিজে এ বিষয়ে আগের তুলনায় বেশি সংশয়ী বলে তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ‘টাইম’ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান যে পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত, তা তার কাছে যথেষ্ট নয়। তিনি আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে কখনোই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়ে তিনি সন্দিহান। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবার শুরু করার বিষয়টিও তিনি বিবেচনা করছেন বলে জানান।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ইরান কখনও সংলাপ থেকে পালায়নি এবং ভবিষ্যতেও পালাবে না। তবে জুনের সমঝোতা স্বাক্ষরের পরও যুক্তরাষ্ট্র তিনবার ইরানে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষায়, সন্ত্রাসের মাধ্যমে ইরানকে নতজানু করার ধারণা যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিতে হবে।

টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটির বুশ স্কুল অব গভর্নমেন্ট অ্যান্ড পাবলিক সার্ভিসের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আয়াতুল্লাহি তাবার ‘ফরেন অ্যাফেয়ার্স’ সাময়িকীতে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরান ক্রমাগত উত্তেজনা বৃদ্ধি ও আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণ করছে।

সূত্র: অ্যাক্সিওস