বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

সংরক্ষিত নারী আসনে সাতক্ষীরার ৫ নেত্রীর কেউ পেলেন না বিএনপির মনোনয়ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ২:২৪ পূর্বাহ্ণ
সংরক্ষিত নারী আসনে সাতক্ষীরার ৫ নেত্রীর কেউ পেলেন না বিএনপির মনোনয়ন

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে সাতক্ষীরা থেকে আবেদন করা পাঁচ নারী নেত্রীর কেউ শেষ পর্যন্ত মনোনীত হননি। এই পাঁচ নেত্রীই জেলার রাজনীতিতে অত্যন্ত পরিচিত মুখ এবং তাদের প্রত্যেকেরই রয়েছে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও পারিবারিক ঐতিহ্য। তবে শেষ মুহূর্তে কেন্দ্রের তালিকায় জেলার কারও নাম না থাকায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে কিছুটা হতাশা বিরাজ করছে।
মনোনয়ন বঞ্চিত পাঁচ নেত্রীর রাজনৈতিক প্রোফাইল ও সংক্ষিপ্ত পরিচয় নিচে তুলে ধরা হলো।
অ্যাডভোকেট শাহানারা পারভীন বকুল: সাতক্ষীরা বিএনপির ‘আশার বাতিঘর’ হিসেবে পরিচিত অ্যাডভোকেট বকুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক মেধাবী শিক্ষার্থী এবং সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচিত সদস্য। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ছিলেন। তার স্বামী সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব দীর্ঘ সময় কারাবন্দী থাকলেও তিনি রাজপথ ও আদালতÑউভয় মাঠেই নেতাকর্মীদের আইনি ও মানসিক সাহস জুগিয়েছেন। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলন এবং বিগত দিনের প্রতিকূল সময়ে তৃণমূল কর্মীদের পাশে থেকে তিনি ‘অভিভাবক’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
ফরিদা আক্তার বিউটি: সাতক্ষীরা জেলা মহিলা দলের সভাপতি ফরিদা আক্তার বিউটি কোনো পারিবারিক উত্তরাধিকার সূত্রে নয়, বরং নিজস্ব শ্রম ও ত্যাগের বিনিময়ে রাজনীতিতে স্থান করে নিয়েছেন। বিগত ১৭ বছর হামলা-মামলা উপেক্ষা করে সাতক্ষীরার রাজপথে নারীদের সংগঠিত করতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে তিনি একজন সাহসী ও নিষ্ঠাবান লড়াকু সৈনিক হিসেবে পরিচিত।
অ্যাডভোকেট ফেরদৌসা আরা লুসি: জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি এবং সাবেক জেলা বিএনপি সদস্য অ্যাডভোকেট লুসি একজন নিবেদিতপ্রাণ নেত্রী। তার স্বামী অ্যাডভোকেট. সৈয়দ ইফতেখার আলী ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক। পেশাগতভাবে আইনজীবী হওয়ায় বিগত ১৭ বছরে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীকে বিপদে-আপদে আইনি সহায়তা প্রদান করেছেন তিনি। দলের জন্য তার ত্যাগ ও রাজপথের সক্রিয় উপস্থিতি জেলা রাজনীতিতে তাকে বিশেষ অবস্থান দিয়েছে।
সেতারা নাসরিন নিশি: পারিবারিক ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ সেতারা নাসরিন নিশি সাবেক বস্ত্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট এম মনসুর আলীর পুত্রবধূ এবং সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এইচ এম রহমতউল্লাহ পলাশের স্ত্রী। ইডেন কলেজ ছাত্রদলের সাবেক এই নেত্রী বাংলাদেশ বিমানের ম্যানেজার হিসেবে দীর্ঘ পেশাদার জীবনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। এবারের নির্বাচনে তারেক রহমানের ‘৩১ দফা’ বাস্তবায়নে তিনি মাঠ পর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন।
নুরজাহান পারভীন ঝরনা: উপকূলীয় জনপদ শ্যামনগরের পরিচিত মুখ নুরজাহান পারভীন ঝরনা। তিনি শ্যামনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক সফল ভাইস চেয়ারম্যান এবং জেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি। তার স্বামী অ্যাডভোকেট এম এম আশেক ইলাহি মুন্না জেলা বিএনপির সদস্য এবং সাবেক ছাত্রনেতা, যিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন। ঝরনা নিজে পেশায় শিক্ষক হলেও ফ্যাসিবাদের সময় জেল-জুলুম উপেক্ষা করে রাজপথে আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিলেন।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু জাহিদ ডাবলু বলেন, সাতক্ষীরা থেকে ৫জন নেত্রী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। দুঃখজনকভাবে এবার সাতক্ষীরা, খুলনা বা বাগেরহাটের কাউকেই সরাসরি মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তবে দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। বিগত ১৭ বছর আমাদের জেলা অবহেলার শিকার হয়েছে। সেই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ভবিষ্যতে স্থানীয় নেতৃত্বের প্রতি হাইকমান্ড নজর দেবেন বলে আশা করি।

Ads small one

সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:২১ পূর্বাহ্ণ
সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সরকারি ও বেসরকারি সমমনা সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে সিসিআরসি ও আরবিএ বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৪ জুন দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিসিডিবি এই কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সিসিডিবি’র উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রূপন। সিসিডিবি’র রেজিলিয়েন্স বিল্ডিং ম্যানেজার সামিউল আলিম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও শামসুজ্জামান কনক। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারিদ বিন শফিক, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ
জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গাছপালা কেটে ফেলা এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বসন্তপুর গ্রামের বৈদ্যনাথ দাস বাদী হয়ে শংকর দাস ও দিপঙ্কর দাসসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা (নং-৪০৬/২০২৬) দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বসন্তপুর মৌজার ৫৮ শতক পৈতৃক সম্পত্তির একটি রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে, যা নিয়ে আগেও একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। বাদীর অভিযোগ, চলমান মামলার তোয়াক্কা না করে প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক তাঁর জমিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন গাছগাছালি কেটে সাবাড় করেছে এবং জমি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। বিবাদীদের আর্থিক ও সামাজিক প্রভাবের কারণে তাঁর পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানবেতর জীবনযাপন করছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আলিপুর থেকে কুলিয়া বাজার পর্যন্ত অংশে সরকারি খাস জমিতে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। সড়কের ‘অপ্রয়োজনীয় অংশ’ উচ্ছেদ না করে কেবল মূল কাজের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু জমি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে গত ২৪ জুন জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা। আগামী ৮ ও ৯ জুলাই সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পক্ষ থেকে মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর হাতে আবেদনপত্রটি তুলে দেন।
এ সময় কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীম, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাবলু, কুলিয়া বাজার কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক আবু হুরাইরা এবং সমাজসেবক মোজাম্মেল হোসেনসহ (মিনু ডাক্তার) এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদ প্রশাসক ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এলাকার অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়কের উন্নয়ন কাজকে স্থানীয়রা স্বাগত জানান। তবে সওজ-এর নকশা অনুযায়ী ঢালাওভাবে উচ্ছেদ করা হলে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাঁদের দোকান, পুঁজি ও জীবিকা হারিয়ে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। গ্রামীণ অর্থনীতি, মাছের শেড ও স্থানীয় বাজার ব্যবস্থা এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বহু ভূমিহীন পরিবার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। মানবিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে সড়ক উন্নয়নে যতটুকু জমি অপরিহার্য, ঠিক ততটুকু রেখে বাকি অংশ উচ্ছেদ না করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।