বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

শিশু অধিকার দিবসে শিশুদের ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪৮ অপরাহ্ণ
শিশু অধিকার দিবসে শিশুদের ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত

এম. এম হায়দার আলী

একটি শিশুর হাসির চেয়ে নির্মল দৃশ্য পৃথিবীতে খুব কমই আছে। সেই হাসির মধ্যে থাকে একটি পরিবারের স্বপ্ন, একটি সমাজের সম্ভাবনা এবং একটি দেশের আগামী দিনের প্রতিচ্ছবি। আজকের শিশু আগামী দিনের নাগরিক-কেউ হবে শিক্ষক, কেউ চিকিৎসক, কেউ প্রকৌশলী, কেউ সাংবাদিক, কেউ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবে। তাই শিশুদের নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্মাণেরও অন্যতম প্রধান শর্ত।

শিশু অধিকার দিবস-২০২৬ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি সেই জায়গা থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত হলে ১৫০ জন শিশু ফুল দিয়ে তাকে বরণ করে নেয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য-‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি নিঃসন্দেহে এমন একটি আয়োজনে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বের প্রতিফলন ঘটায়। তবে এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই আয়োজন থেকে শিশুদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে রাষ্ট্র কী ধরনের বাস্তব অঙ্গীকার গ্রহণ করে এবং সেই অঙ্গীকার কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়। কারণ শিশুদের ভবিষ্যৎ কেবল একটি দিনের অনুষ্ঠান, বক্তব্য কিংবা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি প্রতিদিনের রাষ্ট্রীয় নীতি ও সামাজিক দায়িত্বের সঙ্গে জড়িত। শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’Ñপ্রতিপাদ্যটি তাই অত্যন্ত সময়োপযোগী। কারণ শিশুর ভবিষ্যৎ বলতে শুধু তার হাতে বই তুলে দেওয়া বোঝায় না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার নিরাপদ ঘুম, পুষ্টিকর খাবার, মানসম্মত শিক্ষা, চিকিৎসার অধিকার, খেলাধুলার সুযোগ, নির্মল পরিবেশ, নিরাপদ চলাচল, সাইবার নিরাপত্তা, মানসিক সুস্থতা এবং ভয়মুক্তভাবে বেড়ে ওঠার অধিকার।

 

আমরা প্রায়ই বলি-‘শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ। কিন্তু নিজেদের কাছে প্রশ্ন রাখতে হবে, সেই ভবিষ্যৎকে আমরা কতটা নিরাপদ করে তুলতে পেরেছি ? একদিকে রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত শিশুদের নিয়ে নানা আয়োজন হচ্ছে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে, ছবি আঁকা হচ্ছে, স্মারক উপহার দেওয়া হচ্ছে, স্মরণিকা প্রকাশিত হচ্ছে। অন্যদিকে দেশের কোনো কোনো প্রান্তে এখনো এমন শিশু আছে, যার কাছে বিদ্যালয়ে যাওয়ার চেয়ে দুবেলা খাবারের ব্যবস্থা করাই বড় চ্যালেঞ্জ। কেউ শ্রমে যুক্ত হচ্ছে, কেউ বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ছে, কেউ বাল্যবিবাহের শিকার হচ্ছে, কেউ নির্যাতনের ভয় নিয়ে বেড়ে উঠছে। আবার কেউ মাদক, সহিংসতা, সাইবার অপরাধ কিংবা মানব পাচারের ঝুঁকিতে পড়ছে। এই বৈপরীত্য আমাদের ভাবায়। একটি রাষ্ট্র তখনই সত্যিকার অর্থে উন্নত হয়, যখন উন্নয়নের সুফল সমাজের সবচেয়ে অসহায় শিশুটির কাছেও পৌঁছে যায়। শহরের নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিশু যেমন সুযোগ পাবে, প্রত্যন্ত চর, উপকূল, নদীভাঙন কিংবা দুর্গম এলাকার শিশুটিও তেমন সুযোগ পাবে,এটাই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের লক্ষ্য।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তিও এই আলোচনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। অর্ধশতাব্দী ধরে প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের সৃজনশীলতা, সংস্কৃতি ও মানসিক বিকাশে ভূমিকা রেখে আসছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে শিশুর পৃথিবীও বদলে গেছে। একসময় শিশুর বিনোদনের প্রধান মাধ্যম ছিল মাঠ, গল্পের বই, রেডিও কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এখন শিশুর হাতে স্মার্টফোন, সামনে ইন্টারনেট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন পৃথিবী। তাই শিশু অধিকার রক্ষার সংজ্ঞাটিও এখন আরও বিস্তৃত।
একটি শিশুকে শুধু শারীরিক নির্যাতন থেকে রক্ষা করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; তাকে অনলাইন হয়রানি, সাইবার বুলিং, প্রতারণা, অনলাইন আসক্তি ও ডিজিটাল অপরাধ থেকেও সুরক্ষা দিতে হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তির সুফল ব্যবহারের সুযোগও দিতে হবে।

 

প্রযুক্তিকে ভয় দেখিয়ে দূরে রাখা নয়, বরং নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের শিক্ষা দেওয়া এখন সময়ের দাবি। শিশুর অধিকার মানে তার কথা বলার অধিকারও। শিশুকে শুধু নির্দেশ পালনকারী হিসেবে দেখলে চলবে না। তার স্বপ্ন কী, সে কী হতে চায়, কোন সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে,সেসব কথাও শুনতে হবে। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিশুদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়ের যে কর্মসূচি রয়েছে, তার গুরুত্ব এখানেই। রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারকেরা যদি শিশুদের সরাসরি কথা শোনেন, তাহলে বাস্তব সমস্যাগুলো বোঝার সুযোগ আরও বাড়ে। তবে সেই মতবিনিময়ের সবচেয়ে বড় সার্থকতা হবে তখনই, যখন শিশুদের উত্থাপিত বিষয়গুলো নীতি ও বাস্তব কর্মসূচিতে প্রতিফলিত হবে।

শিশুর জন্য নিরাপদ পরিবেশও জরুরি। স্কুলে যাওয়া-আসার নিরাপত্তা, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো, নিরাপদ খেলার মাঠ, সড়কে নিরাপদ চলাচল,এসবও শিশু অধিকারের অংশ। শহরের অনেক এলাকায় খেলার মাঠ সংকুচিত হচ্ছে। গ্রামের অনেক শিশুরও নিরাপদ খেলাধুলার জায়গা নেই। অথচ খেলাধুলা কোনো বিলাসিতা নয়; শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের অপরিহার্য অংশ। শিক্ষার ক্ষেত্রেও আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করানোই শিক্ষার উদ্দেশ্য হতে পারে না।

 

একজন শিশুকে মানবিক, সৎ, দায়িত্বশীল, বিজ্ঞানমনস্ক ও সহনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই শিক্ষার বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত। তার প্রশ্ন করার অধিকার থাকতে হবে, ভুল থেকে শেখার সুযোগ থাকতে হবে এবং ভিন্নমতকে সম্মান করার শিক্ষা থাকতে হবে। অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের শিশুদের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব দাবি করে। একটি শিশু কোন পরিবারে জন্মেছে, সেটি তার নিজের পছন্দ নয়। তাই পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কোনো শিশু যেন শিক্ষা, চিকিৎসা, পুষ্টি কিংবা নিরাপদ শৈশব থেকে বঞ্চিত না হয়,এ দায়িত্ব রাষ্ট্র ও সমাজ উভয়ের।

বিশেষ করে পথশিশু, প্রতিবন্ধী শিশু, এতিম, সুবিধাবঞ্চিত শিশু, শ্রমে নিয়োজিত শিশু এবং দুর্যোগপ্রবণ এলাকার শিশুদের জন্য আরও কার্যকর ও লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসূচি প্রয়োজন। শুধু নীতিমালা তৈরি করলেই হবে না; সেই নীতিমালার বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
শিশু অধিকার দিবস তাই শুধু ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর দিন নয়। এটি নিজেদের কাছে একটি প্রশ্ন করার দিনÑআমরা কি সত্যিই আমাদের শিশুদের প্রাপ্য অধিকার দিতে
পারছি ? একটি শিশু যখন ক্ষুধার্ত থাকে, তখন তার কাছে সুন্দর বক্তৃতার মূল্য কম। একটি শিশু যখন বিদ্যালয়ে যেতে পারে না, তখন তার হাতে স্মারক তুলে দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। একটি শিশু যখন নির্যাতনের শিকার হয়, তখন তার জন্য শুধু সহানুভূতি নয়,দ্রুত বিচার, মানসিক সহায়তা ও কার্যকর সুরক্ষা প্রয়োজন। একটি শিশু যখন বাল্য বিবাহের মুখে পড়ে, তখন পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে একসঙ্গে দাঁড়াতে হবে। শিশুর অধিকার বাস্তবায়নে তাই প্রয়োজন রাষ্ট্র, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ববোধ। প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকদের কাছে এই দিবসের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হতে পারে, শিশুদের নিয়ে ঘোষিত প্রতিটি অঙ্গীকার যেন বাস্তব কর্মসূচিতে রূপ নেয়। কারণ একটি শিশুর ভবিষ্যৎ নিরাপদ করার কাজ কোনো একক ব্যক্তি বা সরকারের একার দায়িত্ব নয়; তবে রাষ্ট্রের নীতি ও নেতৃত্ব এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আজকের শিশু আগামী দিনের বাংলাদেশ। তাদের চোখে যে স্বপ্ন, সেই স্বপ্নের ওপরই দাঁড়িয়ে থাকবে আগামী দিনের রাষ্ট্র। তাই শিশুর হাতে বই তুলে দেওয়ার পাশাপাশি তার পাশে নিরাপদ পরিবার তৈরি করতে হবে, মানসম্মত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে, খেলাধুলার মাঠ দিতে হবে এবং তাকে ভয়মুক্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ দিতে হবে।

শিশু একাডেমির ৫০ বছরের পথচলা আমাদের অতীতের কথা মনে করিয়ে দেয়। আর শিশু অধিকার দিবস আমাদের ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে শেখায়। সেই ভবিষ্যৎ যেন কেবল অনুষ্ঠানের মঞ্চে উচ্চারিত সুন্দর শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে; তা যেন প্রতিটি শিশুর জীবনে বাস্তব অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

আমাদের প্রত্যাশা একটাই, শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সত্যিই সুরক্ষিত। শিশুর অধিকার হোক কাগজের অঙ্গীকার নয়, বাস্তব জীবনের নিশ্চয়তা। কারণ আজকের শিশুকে আমরা যেমন বাংলাদেশ দেব, আগামীকাল সেই শিশুই আমাদের তেমন বাংলাদেশ ফিরিয়ে দেবে। শিশুর হাসি বাঁচুক, শৈশব বাঁচুক,সুরক্ষিত হোক বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Ads small one

বেক্সিমকোর আরও দুই কোম্পানির পর্ষদ থেকে বাদ সালমান এফ রহমান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০৬ পূর্বাহ্ণ
বেক্সিমকোর আরও দুই কোম্পানির পর্ষদ থেকে বাদ সালমান এফ রহমান

 

বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের পর এবার বেক্সিমকো গ্রুপের তালিকাভুক্ত আরও দুই প্রতিষ্ঠান শাইনপুকুর সিরামিকস ও বেক্সিমকো লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ থেকেও বাদ পড়েছেন সালমান এফ রহমান। এর ফলে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো গ্রুপের তিন কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদেই আর থাকছেন না তিনি।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সভায় শাইনপুকুর সিরামিকস ও বেক্সিমকো লিমিটেডের পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন দেওয়া হয়।

বিএসইসি সূত্র জানায়, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কোম্পানি দুটির পর্ষদ পুনর্গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দুই কোম্পানির পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। পুনর্গঠিত দুই পর্ষদ থেকেই সালমান এফ রহমানকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের অনুমোদন দেয় বিএসইসি। ওই পর্ষদ থেকেও সালমান এফ রহমানকে বাদ দেওয়া হয়। ফলে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো গ্রুপের তিন প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, শাইনপুকুর সিরামিকস ও বেক্সিমকো লিমিটেড; কোনোটির পরিচালনা পর্ষদেই এখন আর তিনি নেই।

দুই কোম্পানির চেয়ারম্যান এ এস এফ রহমান

বিএসইসির অনুমোদিত পুনর্গঠিত পর্ষদ অনুযায়ী, শাইনপুকুর সিরামিকসের চেয়ারম্যান করা হয়েছে সালমান এফ রহমানের ভাই আহমেদ সোহেল ফসিহুর রহমানকে (এ এস এফ রহমান)। কোম্পানিটির উদ্যোক্তা পরিচালক হিসেবে রয়েছেন ওসমান কায়সার চৌধুরী, ইকবাল আহমেদ, আজমল কবির ও কামরুন নাহার আহমেদ।

এ ছাড়া শাইনপুকুর সিরামিকসের পর্ষদে দুজন স্বতন্ত্র পরিচালক যুক্ত করার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে বিএসইসি। তবে তাদের একজনেরও নাম এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

অন্যদিকে বেক্সিমকো লিমিটেডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পেয়েছেন এ এস এফ রহমান। কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে পর্ষদে রয়েছেন ওসমান কায়সার চৌধুরী।

বেক্সিমকো লিমিটেডের পুনর্গঠিত পর্ষদে উদ্যোক্তা পরিচালক হিসেবে ইকবাল আহমেদ, আজমল কবির ও কামরুন নাহার আহমেদকে রাখা হয়েছে। স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে শাহ মঞ্জুরুল হকসহ আরও একজনকে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে দ্বিতীয় স্বতন্ত্র পরিচালকের নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

পর্ষদে থাকছেন সালমান-ঘনিষ্ঠরা

বেক্সিমকো গ্রুপের তালিকাভুক্ত তিন কোম্পানির পর্ষদ থেকে সালমান এফ রহমান বাদ পড়লেও পুনর্গঠিত পর্ষদে তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের অনেকেই রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বেক্সিমকো গ্রুপ যে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে সালমান এফ রহমান পর্ষদ থেকে সরে দাঁড়াতে সম্মত হন। তার কারণে কোম্পানির ব্যবসা ও শেয়ারধারীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই পর্ষদ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় তালিকাভুক্ত তিন কোম্পানির পর্ষদ পুনর্গঠন করা হচ্ছে।

গত বছর শেয়ারবাজারে আজীবন অবাঞ্ছিত ঘোষণা

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বেক্সিমকো গ্রুপের ব্যবসা ও আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়। একই সময়ে সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

এর আগে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সালমান এফ রহমানকে শেয়ারবাজারে ‘আজীবন অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে বিএসইসি। এরপর ধাপে ধাপে বেক্সিমকো গ্রুপের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

প্রথমে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের পর্ষদ থেকে তাকে সরানো হয়। এবার একই প্রক্রিয়ায় শাইনপুকুর সিরামিকস ও বেক্সিমকো লিমিটেডের পর্ষদ থেকেও তার নাম বাদ পড়লো।ফলে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো গ্রুপের তিন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে সালমান এফ রহমানের সরাসরি কোনো পদ থাকলো না।

২৭০০ বিড়াল চুরি করে মাংস বিক্রি, ভিয়েতনামে মূলহোতাসহ চক্রের ১২ সদস্য গ্রেফতার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ
২৭০০ বিড়াল চুরি করে মাংস বিক্রি, ভিয়েতনামে মূলহোতাসহ চক্রের ১২ সদস্য গ্রেফতার

ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটিতে প্রায় ২ হাজার ৭০০টি বিড়াল চুরি ও মাংসের জন্য বিক্রির অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় পুলিশ। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ বিড়াল ধরার ফাঁদ, পশম তোলার মেশিন ও ডিজিটাল স্কেল জব্দ করেছে।

অনলাইন পোর্টাল ভিএনএক্সপ্রেস ইন্টারন্যাশনাল-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৯ বছর বয়সী লু থান বিনকে এই নেটওয়ার্কের মূলহোতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। সম্পত্তি চুরির অভিযোগে বিন ও তার ১১ সহযোগীর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, চক্রটির সদস্যরা রাতের বেলা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে মোটরসাইকেলে করে বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় ঘুরে বেড়াত। যেসব বাড়িতে বিড়াল পোষা হতো, সেগুলোর বাইরে ছোপ ছোপ মাছ দিয়ে ফাঁদ পেতে রাখা হতো। প্রতিটি দল প্রতি রাতে চার থেকে ১০টি করে বিড়াল চুরি করতো।

গত ৮ জুলাই ডং থান কম্যুনে চালানো এক অভিযানে এই নেটওয়ার্কের সন্ধান মেলে। সেখানে ৫০টি বিড়াল, ৫৫টি ফাঁদ ও দুটি স্কেল উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ১২ আসামি স্বীকার করেছেন, তারা প্রায় ২ হাজার ৭০০টি বিড়াল চুরি করে বিক্রি করেছেন। তবে এই চক্র কত দিন ধরে সক্রিয় ছিল, তা পুলিশ এখনও নির্ধারণ করতে পারেনি।

বিড়াল চুরির পাশাপাশি বিন অন্যান্য স্বাধীন বিক্রেতাদের কাছ থেকেও বিড়াল কিনতেন। জুলাইয়ে উদ্ধার হওয়া ৫০টি বিড়ালের মধ্যে ১৩টিকে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ভিয়েতনামে, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের বয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়া বৈধ। বৈজ্ঞানিক প্রমাণ না থাকলেও অনেকে মনে করেন, বিড়ালের মাংস খেলে ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়। দেশটির বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় প্রকাশ্যেই এ ধরনের মাংসের খাবার বিক্রি করা হয়; তবে বিক্রেতাদের কাছে প্রাণীর উৎসের সঠিক অনুমোদনপত্র থাকতে হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ভিয়েতনামে কুকুর ও বিড়ালের মাংসের ব্যবসা বন্ধের দাবিতে আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ এক পিটিশনে স্বাক্ষর করেন। এছাড়া ২০২১ সালে দেশটির হোই আন শহর কুকুর ও বিড়ালের মাংস বিক্রি ও গ্রহণ বন্ধের অঙ্গীকার করে।

সূত্র: এনডিটিভি

সাফের আগে ধাক্কা, জায়ান হাকিমকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ
সাফের আগে ধাক্কা, জায়ান হাকিমকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ

 

নভেম্বরে ঢাকায় হতে যাচ্ছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। তার আগে বাংলাদেশ দলে আরও প্রবাসী ফুটবলার অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে সেই উদ্যোগের শুরুতেই ধাক্কা খেতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া জায়ান হাকিমকে আপাতত পাচ্ছে না বাংলাদেশ দল। ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডকে নিয়ে বাংলাদেশ দলের কোচ থমাস ডুলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘বাফুফে জায়ান হাকিম-সম্পর্কিত সব বিষয়ে কাজ করছে। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে সবকিছু আমাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে না। ফিফার নিয়মাবলীর অধীনে জায়ান হাকিমের মতো একজন খেলোয়াড় বাংলাদেশের হয়ে খেলার যোগ্য নন। তিনি এর আগে একাধিকবার অ্যান্টিগার হয়ে খেলেছেন। সম্ভবত এ কারণেই তিনি বাংলাদেশের হয়ে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন না।’