সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

‎সুন্দরবনে জলদস্যুর আতঙ্ক: নিরাপত্তাহীনতায় জেলে-বাওয়ালিরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৬ অপরাহ্ণ
‎সুন্দরবনে জলদস্যুর আতঙ্ক: নিরাপত্তাহীনতায় জেলে-বাওয়ালিরা

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎সুন্দরবন শুধু বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন নয়, সাতক্ষীরার উপকূলীয় জনপদের হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকারও অন্যতম অবলম্বন। কিন্তু সেই সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে জলদস্যুদের তৎপরতা, জেলেদের অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মাছ, কাঁকড়া ও মধু সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করা বনজীবীদের কাছে এখন বনে যাওয়ার অর্থ শুধু পরিশ্রম ও অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তার ঝুঁকি।

‎সস্থানীয় দের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া যায় ৬ মে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের বিভিন্ন নদী ও খাল থেকে মুক্তিপণের দাবিতে ২২ জেলেকে অপহরণ করা হয় । চুনকুড়ি, মালঞ্চ নদীর আগা, চালতেবেড়ে, মাইটভাঙা ও পশুরতলা খাল এলাকায় এসব অপহরণের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়দের দাবি। ১ জুন ৬ জেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করেন। এছাড়াও স্থানীয়রা বলেন অনেক কথা আমাদেরকে গোপন রাখতে হয় গোপন না রাখলে পরবর্তীতে আমাদেরকে এর খেসারত দিতে হয় এইজন্য সব কথা আমরা সাংবাদিকদের সাথে বলতে আগ্রহী নয়। এসব ঘটনা সুন্দরবনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

 

জেলে বাওয়ালিরা বলেন মাছ ধরার সরঞ্জাম, নৌকা, জ্বালানি, খাবার ও বনের পাসসহ বিভিন্ন খাতে আমাদের আগে থেকেই অনেক অর্থ ব্যয় করতে হয়। এর মধ্যে দস্যুদের হাতে জিম্মি হওয়ার আশঙ্কা যুক্ত হলে আমাদের আর্থিক ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। ঋণ করে বনে যাওয়া কোনো জেলে অপহৃত হলে তাঁর পরিবারকে একদিকে উপার্জন বন্ধ হওয়ার চাপ, অন্যদিকে স্বজনকে মুক্ত করার দুশ্চিন্তা সামলাতে হয়।

‎মধু সংগ্রহকারী বাওয়ালি, কাঁকড়া শিকারি এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জীবনেও এই আতঙ্কের প্রভাব পড়ে। নিরাপত্তার অভাবে বনে যাওয়া কমে গেলে আয় কমে যায়, আবার জীবিকার তাগিদে বনে না গেলেও সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে সুন্দরবনের নিরাপত্তা সংকট শেষ পর্যন্ত উপকূলের দরিদ্র মানুষের খাদ্য, ঋণ ও পারিবারিক জীবনের সংকটে রূপ পড়ছে।

‎জেলে বাওয়ালিদের বাদি গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা। একই সঙ্গে বনজীবীদের কাছ থেকে গোপনীয়তা রক্ষা করে তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা এবং বিপদে পড়লে দ্রুত যোগাযোগের নির্ভরযোগ্য মাধ্যম নিশ্চিত করা। মুক্তিপণ আদায়ের অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক, অপরাধীদের আশ্রয়দাতা এবং সহযোগীদের শনাক্ত করাও দস্যুতা নির্মূলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা।
‎কোনো জেলে বা বনজীবী অপহৃত হলে তাঁর পরিবার যাতে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে না হয়, সে জন্য নির্দিষ্ট যোগাযোগকেন্দ্র ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের নিরাপত্তা, আইনি সহায়তা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া।
‎আত্মসমর্পণ হচ্ছে, তবু কেন ফিরছে না আতঙ্ক?

‎সুন্দরবনে জলদস্যুতা দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান ও আত্মসমর্পণের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। ৩১ আগস্ট ৪টি জলদস্যু বাহিনীর ৫২ সদস্য র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। ৯ অক্টোবর আলিফ বাহিনীর আবদুল্লাহ ও মজিদ গ্রুপের আরও ১৫ সদস্য সুন্দরবন রিজিয়নাল বোটের (এসআরবি-৬) কাছে আত্মসমর্পণ করেন। কিছু গ্রুপ বা জলদস্য আত্মসমর্পণ করলেও থামছে না জেলে বাওয়ালিদের আতঙ্ক, প্রয়োজনে প্রশাসনকে

‎ব্যবস্থা নিতে হবে। সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ নদীপথ, খাল ও দুর্গম বনাঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, এ ক্ষেত্রে কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ ও বন বিভাগের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে। তবে পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং অপহরণের অভিযোগ দ্রুত তদন্তের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

 

জেলেদের নৌযান চলাচল, বনে প্রবেশ ও মাছ-কাঁকড়া আহরণের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে বনজীবীদের কাছ থেকে গোপনীয়তা রক্ষা করে তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা এবং বিপদে পড়লে দ্রুত যোগাযোগের নির্ভরযোগ্য মাধ্যম নিশ্চিত করতে হবে। মুক্তিপণ আদায়ের অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক, অপরাধীদের আশ্রয়দাতা এবং সহযোগীদের শনাক্ত করা ও দস্যুতা নির্মূলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। কোনো জেলে বা বনজীবী অপহৃত হলে তাঁর পরিবার যাতে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে না হয়, সে জন্য নির্দিষ্ট যোগাযোগকেন্দ্র ও দ্রুত সাড়াদানের ব্যবস্থা করতে হবে।

 

পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের নিরাপত্তা, আইনি সহায়তা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। সর্বশেষ কথা: সুন্দরবন রক্ষায় জেলে-বাওয়ালিদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। বন বিভাগের বৈধ পাস ও অনুমতি ছাড়া বনে প্রবেশ করা যাবে না। নির্ধারিত এলাকার বাইরে মাছ ধরা, নিষিদ্ধ সময়ে বনে নামা কিংবা মাছ ও কাঁকড়া আহরণ করা যাবে না। কোনো বন্যপ্রাণী শিকার বা হত্যা করা যাবে না। দস্যুদের তৎপরতা বা অবৈধ শিকার চোখে পড়লে বন বিভাগকে জানাতে হবে।

লেখক: গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা, সমাজকর্মী ও উদ্যোক্তা।

 

Ads small one

পাটকেলঘাটার সমাজসেবক আনন্দ মোহন সাধুর পরলোকগমন: সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোকের ছায়া

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ
পাটকেলঘাটার সমাজসেবক আনন্দ মোহন সাধুর পরলোকগমন: সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোকের ছায়া

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: পাটকেলঘাটার টাটা গ্রুপ কেয়ার কোম্পানির স্বত্বাধিকারী কেশব কুমার সাধুর শ্রদ্ধেয় বাবা ও বিশিষ্ট সমাজসেবক আনন্দ মোহন সাধু বার্ধক্যজনিত কারণে পরলোকগমন করেছেন। সোমবার সকাল সাড়ে সাতটায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আনন্দ মোহন সাধু দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। রবিবার রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে প্রথমে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে তিনি পরলোকগমন করেন। মৃত্যুকালে ৯২ বছর বয়স হলেও তিনি অত্যন্ত সজাগ স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন ও একজন শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি হিসেবে সর্বজনবিদিত ছিলেন। তিনি পাঁচ ছেলে ও পাঁচ মেয়ে রেখে গেছেন।

সোমবার দুপুর ১২টায় পাটকেলঘাটার কেশব লাল মহাশ্মশানে সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে তাঁর শেষকৃত্যানুষ্ঠান ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এদিকে আনন্দ মোহন সাধুর প্রয়াণে তাঁর পরিবার, আত্মীয়স্বজন, ব্যবসায়ী সমাজ ও স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে পাটকেলঘাটা বাজারে মাইকিং করা হয়।

তাঁর প্রয়াণে তালা উপজেলা ক্লাব, পাটকেলঘাটা বাজার বণিক সমিতি এবং স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে মরহুমের বিদেহী আত্মার পরম শান্তি কামনা করা হয়েছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।
শেষকৃত্যানুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তালা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মৃণাল কান্তি রায়, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক কুমিরা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ গোলাম মোস্তফা, তালা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক গোলাম রব্বানী, সরুলিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান হাফিজ, আব্দুল রকিব সরদার, চিকিৎসক মামুনুর রহমান, মোহাম্মদ মুজিবর সরদার, আইনজীবী হুমায়ুনসহ স্থানীয় ইউনিয়ন, থানা ও জেলাসহ বিভিন্ন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ।

জেলায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ শুরু, উপকারভোগী হবেন ৪০ লাখ নারী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
জেলায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ শুরু, উপকারভোগী হবেন ৪০ লাখ নারী

Oplus_131072

পত্রদূত ডেস্ক: নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারগুলোর তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমের মাধ্যমে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে অনলাইন ডেটাবেইস তৈরি করা হবে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন করে ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

সোমবার সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন বিষয়ে এক প্রেস কনফারেন্সে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমাতুল্লাহ পলাশ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্তসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Oplus_131072

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা সরাসরি ভাতা বাবদ ব্যয় করা হবে। ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী আর্থসামাজিক অবস্থা বিবেচনায় পিএমটি (প্রক্সি মিন্স টেস্ট) স্কোরের ভিত্তিতে উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। তথ্য সংগ্রহের জন্য দেশব্যাপী ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা বিশেষায়িত ট্যাবলেট ব্যবহার করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করবেন এবং সরাসরি অনলাইন ডেটাবেইসে যুক্ত করবেন। ডুয়াল চিপ, কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তি সংবলিত এই কার্ডের মাধ্যমে কার্ডধারীরা ব্যাংকের এটিএম বুথ, পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) মাধ্যমে ভাতার টাকা তুলতে পারবেন।

 


জেলা সদর ছাড়াও সাতক্ষীরার বিভিন্ন উপজেলায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম ঘিরে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তালা: তালা উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা। এ সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃণাল কান্তি রায়, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ হাজিরা খাতুন, ইউপি চেয়ারম্যান এম মফিদুল হক লিটু, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, কামরুল ইসলাম লাল্টু, সমাজসেবা কার্যালয়ের তৌফিক ইমরান, তালা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জোয়ার্দার ফারুক হোসেন, তালা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার রায়হান, তালা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আকবর হোসেন, সাবেক ছাত্রদল নেতা মারুফ উল ইসলাম ও সাংবাদিক মিজানুর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আশাশুনি: আশাশুনিতে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্সে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু। তিনি জানান, আশাশুনি উপজেলার মোট ৭৬ হাজার ৮৯২টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এ কাজে ১১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ১১ জন সুপারভাইজার নিয়োজিত থাকবেন। ফ্যামিলি কার্ড প্রাপ্তিতে কোনো অনৈতিক লেনদেন বা প্রতারণার ফাঁদে পা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি জানান, কমপক্ষে পাঁচটি ধাপে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত উপযুক্ত পরিবারকে কার্ড দেওয়া হবে। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক স. ম. হেদায়েতুল ইসলাম, সদস্যসচিব মশিউল হুদা তুহিন, জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা নুরুল আবছার মুর্তজা, জেলা ও স্থানীয় প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে ১১ জন সুপারভাইজারের হাতে তথ্য সংগ্রহের ট্যাব তুলে দেওয়া হয়।

 


কলারোয়া: কলারোয়া উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সঠিক ডেটাবেইস তৈরির গুরুত্ব তুলে ধরেন। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নূরে আলম নাহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রইছ উদ্দিন। এতে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

oplus_0

দেবহাটা: দেবহাটা উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিলন সাহার সভাপতিত্বে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেবহাটা থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আল আমিন, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শেখ সিরাজুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবুল আলম, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা অলিউল ইসলাম, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাস, সমাজসেবা কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসরিন জাহান, হাজী কেয়ামুদ্দিন কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম ও স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতার সাথে তথ্য সংগ্রহের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে সারা দেশে প্রায় ১০ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ
দুর্গাপূজা উপলক্ষে সারা দেশে প্রায় ১০ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সারা দেশে প্রায় ১০ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে। বিজিবি সদর দফতরের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে প্রায় ১০ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে।

দুর্গাপূজা যেন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়, সে লক্ষ্যে বিজিবি একটি সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান বলেন, ‘এর মূল অংশ হলো নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়। সম্ভাব্য ঝুঁকি আগেই চিহ্নিত করা, গুজব ও সাম্প্রদায়িক উসকানির বিষয়ে সতর্ক নজর রাখা এবং যেকোনও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দ্রুত সাড়া দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে এবং ব্যাটালিয়ন সদরের নিকটবর্তী এলাকাসহ মোট ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপে বিজিবি নিরাপত্তা সহায়তা দেবে। দূরবর্তী ও দুর্গম এলাকায় দ্রুত টহল ও সহায়তা পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ঢাকায় বিজিবি মোতায়েন ও দায়িত্বের পরিধি সরকারের নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাহিদার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে টহল, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা সহায়তা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য বিজিবি প্রস্তুত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, দুর্গাপূজা আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার দীর্ঘ ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রকাশ। সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাইবোনেরা যেন নিরাপদে, নির্বিঘ্নে ও আনন্দের সঙ্গে তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিতে বিজিবি সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুত থাকবে।