বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রতিমাশিল্পের নানা চমমে সেজেছে সাতক্ষীরার ৬১২টি পূজামন্ডপ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
প্রতিমাশিল্পের নানা চমমে সেজেছে সাতক্ষীরার ৬১২টি পূজামন্ডপ

মিলন বিশ্বাস: শরতের নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, মাঠে-ঘাটে কাশফুলের দোলা প্রকৃতিতে বেজে উঠেছে দেবী দুর্গার আগমনী সুর। মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হয়েছে। আর কয়েক দিন পরই ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠবে সাতক্ষীরার পূজামন্ডপগুলো। এবার ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি প্রতিমা নির্মাণে ব্যতিক্রমী উপকরণ, পৌরাণিক কাহিনির দৃশ্যায়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মন্ডপসজ্জায় থাকছে নানা চমক। কোথাও মুগ ডাল, কোথাও মুক্তা ও দেশলাই কাঠির কারুকাজ, কোথাও ঝরনার পানির মধ্যেও অক্ষত থাকছে ফাইবারের প্রতিমা। আবার কোথাও কর্ণফুলী টানেলের আদলে তৈরি পথ দিয়ে দেবী দর্শনের আয়োজন।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এবার সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলায় ৬১২টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদরে ১১১টি, তালায় ২০২টি, কলারোয়ায় ৪৬টি, দেবহাটায় ২১টি, আশাশুনিতে ১০৬টি, কালীগঞ্জে ৫৫টি এবং শ্যামনগরে ৭১টি মন্ডপ রয়েছে। ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমীতে শেষ হবে। মহালয়া পালিত হয়েছে ১০ অক্টোবর।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ব্রহ্মরাজপুর সার্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা মন্দিরে দেড় লাখের বেশি দেশলাই কাঠি ও ১০ কেজির বেশি রেশমি সুতা দিয়ে প্রতিমায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ব্যতিক্রমী কারুকাজ। প্রতিমার সাজসজ্জায় দেশলাই কাঠি ও সুতার সূক্ষ্ম ব্যবহারে এসেছে ভিন্নমাত্রা। গত বছর চিন্নিগুঁড়া চাল দিয়ে প্রতিমা তৈরির পর এবার নতুন উপকরণে শিল্পকর্ম গড়েছেন আয়োজকেরা। তাঁদের এ উদ্যোগ দেখতে দর্শনার্থীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা কাছারিপাড়া পূজামন্ডপে প্রায় ৪০-৪৫ কেজি মুগ ডাল ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমা। প্রতিটি মুগ ডাল যতœসহকারে বসিয়ে দেবদেবীর অবয়ব ফুটিয়ে তুলতে শিল্পীদের প্রায় ১৫ দিন সময় লেগেছে। প্রচলিত উপকরণের বাইরে গিয়ে খাদ্যশস্য দিয়ে প্রতিমা তৈরির এ উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে।

আশাশুনির বড়দল ইউনিয়নের বুড়িয়া সার্বজনীন দুর্গামন্দিরে প্রায় ৩৫ হাজার মুক্তার কারুকাজে সাজানো হয়েছে ১৩টি প্রতিমা। শিল্পী প্রকাশ মন্ডল ও তাঁর সহযোগীদের কয়েক মাসের পরিশ্রমে তৈরি হয়েছে এই নান্দনিক সাজ। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় চার লাখ টাকার বেশি। মুক্তার ব্যবহার প্রতিমাগুলোকে দিয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।

এদিকে সাতক্ষীরা শহরের কেন্দ্রীয় মন্দির ‘মায়ের বাড়ি’তে শতাধিক প্রতিমার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পৌরাণিক যুগের বিভিন্ন দেব-দেবীর লীলা ও কাহিনি। দেবদেবীর নানা রূপ ও পৌরাণিক ঘটনাবলির শৈল্পিক উপস্থাপনায় মন্দির প্রাঙ্গণে তৈরি হয়েছে ভিন্নধর্মী আবহ। ধর্মীয় আখ্যান ও প্রতিমাশিল্পের সমন্বয়ে এই আয়োজন দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা পূজা মন্ডপে বাংলার ঐতিহ্য তুলে ধরতে পাট ও পাটজাত উপকরণ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে পাটের আঁশ দিয়ে মন্ডপসজ্জায় ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে বাংলার সোনালি আঁশের ঐতিহ্য। পাশাপাশি প্রতিমার সাজে ব্যবহার করা হচ্ছে রেশমি সুতা ও অন্যান্য উপকরণ।

কলারোয়ার মুরারীকাটি পালপাড়ার মন্ডপে ১৬টি প্রতিমা সাদা তিল দিয়ে সাজানো হয়েছে। প্রায় ২৫ কেজি তিল ব্যবহার করে চার শিল্পী ১৫ দিনে এ কাজ সম্পন্ন করেছেন। একই এলাকায় অন্য একটি মন্ডপে চুমকি দিয়ে প্রতিমার পোশাক ও অলংকারে আনা হয়েছে ঝলমলে নকশা। সেখানে প্রায় ১২ কেজি চুমকি ব্যবহার করা হয়েছে বলে আয়োজকদের দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়।

কালীগঞ্জ উপজেলার অমিয়ান বাথুয়াডাঙ্গা সার্বজনীন দুর্গাপূজা মন্ডপে ককশিট বা সৌর ফোমশিট দিয়ে তৈরি প্রতিমার পাশাপাশি থাকছে ভাসমান সেতু ও বিশেষ আলোকসজ্জা। অষ্টমী, নবমী ও দশমীর রাতে ডিজিটাল আলোক প্রদর্শনীর পরিকল্পনাও রয়েছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, পুরো আয়োজনের বাজেট প্রায় আট থেকে দশ লাখ টাকা।

শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের আরপাঙ্গাশিয়া রাসমন্দির প্রাঙ্গণে কর্ণফুলী টানেলের আদলে তৈরি করা হয়েছে একটি পথ। সেই পথ দিয়ে দর্শনার্থীরা প্রতিমা দর্শন করতে পারবেন। প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে এমন অভিজ্ঞতা দিতে আয়োজকেরা বিশেষভাবে প্রস্তুতি নিয়েছেন।

অন্যদিকে, আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের ঘুঘুমারি শুরেরাবাদ সার্বজনীন মন্দিরে ফাইবার দিয়ে তৈরি করা হয়েছে প্রতিমা। প্রতিমাগুলোর গায়ের ওপর দিয়ে ঝরনার পানি পড়ছে, অথচ সেগুলো অক্ষত থাকছে। পানি ও প্রতিমার এই ব্যতিক্রমী সমন্বয় মন্ডপের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। আধুনিক উপকরণ ও শৈল্পিক পরিকল্পনায় তৈরি এ আয়োজন দর্শনার্থীদের নজর কাড়বে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।

শ্যামনগর উপজেলার দক্ষিণ বড়কুপট নদীরপাড় দুর্গামন্দিরে নির্মাণ করা হচ্ছে প্রায় ২৫ ফুট উচ্চতার বিশাল দুর্গাপ্রতিমা। মাটি ও ফাইবারের সমন্বয়ে তৈরি প্রতিমার পাশাপাশি পৌরাণিক কাহিনিনির্ভর দৃশ্যপটে তুলে ধরা হচ্ছে দক্ষযজ্ঞে সতীর দেহত্যাগ, সতীর নিথর দেহ কাঁধে নিয়ে শিবের তান্ডব, বীরভদ্রের আবির্ভাব এবং দক্ষযজ্ঞ ধ্বংসের ঘটনা। গত বছর এই মন্দিরে প্রায় ২৫ ফুট উচ্চতার শ্রীবিষ্ণুর বিশ্বরূপ তৈরি করে দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছিল কর্তৃপক্ষ। এবারও ভিন্নধর্মী আয়োজন দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসবেন বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।

সাতক্ষীরা সদরের মাগুরা কর্মকারপাড়ার কালীমন্দিরে ‘কৈলাস অনাদি মহাদেব’ ভাবনায় সাজানো হচ্ছে মন্ডপ। সেখানে কৈলাস পর্বতের আবহ, প্রায় ২০ ফুট উচ্চতার শিবলিঙ্গ এবং পঞ্চনাগের প্রতিকৃতি রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে জেলার বিভিন্ন মন্ডপে প্রতিমা নির্মাণ, আলোকসজ্জা ও দৃশ্যপট তৈরিতে স্থানীয় শিল্পীদের সৃজনশীলতা এবার বিশেষভাবে চোখে পড়ছে।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ ঘোষ বলেন, পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এবার সাতক্ষীরায় ৬১২টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি সব মন্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পবিত্রতা ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে যথাযথ নিয়মে পূজা আয়োজনের অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে জেলাবাসীকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, কয়েক দিনব্যাপী এ উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন। এ জন্য তিনি পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান এবং সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

অন্যদিকে, সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম জানিয়েছেন, জেলা পুলিশের কাছে প্রাথমিকভাবে ৬০৯টি মন্ডপের তথ্য রয়েছে; যাচাই-বাছাই শেষে এ সংখ্যা বাড়তে পারে। পূজা নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ প্রস্তুতি নিয়েছে। মন্ডপগুলোতে টহল, সিসিটিভি নজরদারি, সাদা পোশাকে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের উপস্থিতি এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকবে। উৎসব শান্তিপূর্ণ রাখতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।

ধর্মীয় ঐতিহ্য, প্রতিমাশিল্পের বৈচিত্র্য ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর আয়োজন সব মিলিয়ে সাতক্ষীরায় এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। আয়োজক ও সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, পারস্পরিক সম্প্রীতি, প্রশাসনের সহযোগিতা এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে এবারের দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর হবে।

 

Ads small one

সম্পাদকীয়/ এলপিজি গ্যাসের বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১১ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ এলপিজি গ্যাসের বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আধুনিক জনজীবনে রান্নার অপরিহার্য জ্বালানি। কিন্তু দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মতো খুলনার পাইকগাছায় এই জ্বালানির সিলিন্ডার কিনতে গিয়ে সাধারণ ভোক্তাদের যে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বাজারে চাহিদামতো গ্যাস না থাকা এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করার যে চিত্র সামনে এসেছে, তা অবিলম্বে দূর করা প্রয়োজন।

পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, চলতি মাসে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতি সিলিন্ডার এলপিজিতে চার শতাধিক টাকা পর্যন্ত বেশি আদায় করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও নতুন সিলিন্ডারসহ গ্যাস কিনতে সাধারণ মানুষকে তিন থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। নি¤œ ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য এই অতিরিক্ত ব্যয় বহন করা অত্যন্ত কঠিন। সংসারের অন্যান্য নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে গ্যাসের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।

সংকট সৃষ্টির পেছনে মূলত সরবরাহ ঘাটতির কথা বলছেন পরিবেশক ও ব্যবসায়ীরা। কোম্পানির পক্ষ থেকে চাহিদার তুলনায় অনেক কম সিলিন্ডার সরবরাহ করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে সরবরাহ ঘাটতির সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা লুফে নিচ্ছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। প্রশাসন ও ডিলারদের মধ্যে সভা বা নির্দেশনা জারির খবর মিললেও মাঠপর্যায়ে তার সুফল সাধারণ মানুষ পাচ্ছে না। কেবল নির্দেশ দিয়েই দায় সারলে চলবে না; বাজারে তার বাস্তবায়ন কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

এলপিজির বাজার স্থিতিশীল রাখতে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ জরুরি। প্রথমত, কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক করতে হবে এবং নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী প্রতিটি এলাকায় পর্যাপ্ত সিলিন্ডার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, পাইকগাছা সহ উপকূলীয় জনপদে বিইআরসি নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস বিক্রি হচ্ছে কি না, তা তদারকি করতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে। অসাধু সিন্ডিকেট ও কৃত্রিম সংকট তৈরিকারকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলে বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

জ্বালানির মতো একটি জরুরি খাতের নৈরাজ্য কোনোভাবেই চলতে পারে না। সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে স্থানীয় প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে, যাতে নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস প্রাপ্তি এবং এর নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত হয়।

সৌদি আরবের ১০০ ফ্লাইট বাতিল, আটকা পড়লেন ১৫৩৯৩ যাত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৪ অপরাহ্ণ
সৌদি আরবের ১০০ ফ্লাইট বাতিল, আটকা পড়লেন ১৫৩৯৩ যাত্রী

হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক আক্রমণের ফলে সৌদি আরবে ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা পর্যন্ত ১০০ ফ্লাইট বাতিলের তথ্য জানালো বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। বাতিল করা ফ্লাইটের যাত্রীর সংখ্যা ১৫ হাজার ৩৯৩ জন।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক কাওছার মাহমুদ জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ফ্লাইট বাতিলের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

তিনি জানান, বাতিল হওয়া ফ্লাইটের মধ্যে সরাসরি ৪১ টি। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৭। ইউএস-বাংলার ১০, সৌদিয়ার ৭ ও রিয়াদ এয়ারের ৭টি।

এই কর্মকর্তা আরও জানান, বাতিল করা ট্রানজিট ফ্লাইটের সংখ্যা ৫৯টি। এর মধ্যে ইন্ডিগোর ২২, সালাম এয়ারের ৭, ইজিপ্ট এয়ারের ১, এমিরেটস এয়ারের ১৪, কাতার এয়ারওয়েজের ৭, ফ্লাই দুবাইয়ের ৬ ও এয়ার ইন্ডিয়ার ২টি ফ্লাইট রয়েছে।

ভিডিএফের খুলনা বিভাগীয় সভাপতি বাগেরহাটের শুভ্র, সম্পাদক সাতক্ষীরার হোসেন আলী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ণ
ভিডিএফের খুলনা বিভাগীয় সভাপতি বাগেরহাটের শুভ্র, সম্পাদক সাতক্ষীরার হোসেন আলী

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম যুব-নেতৃত্বাধীন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভলান্টিয়ার ডেভেলপমেন্ট ফোরামের (ভিডিএফ) খুলনা বিভাগীয় নির্বাহী কমিটি নির্বাচন-২০২৬-এ সভাপতি পদে ২০৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বাগেরহাটের যুব সংগঠক অমিত দাস শুভ্র। একই সংখ্যক ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন সাতক্ষীরার তরুণ সাংবাদিক ও যুব সংগঠক মো. হোসেন আলী।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব ড. আবুল হোসেনের আদেশক্রমে নির্বাচন কমিশনার নাজিয়া তারান্নুম স্বাক্ষরিত পত্রে এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এর আগে দেশের আটটি বিভাগে একযোগে ভিডিএফের বিভাগীয় নির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অনলাইনে ভোট গ্রহণ করা হয়।

ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, খুলনা বিভাগীয় নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি-১ (কৌশল ও পরিকল্পনা) পদে যশোরের রাহিয়া ভূঁইয়া ইরা, সহসভাপতি-২ (কার্যক্রম ও পরিচালনা) পদে মাগুরার মো. ইব্রাহীম শেখ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে নড়াইলের শেখ নাজমুস সাকিব সিয়াম এবং কোষাধ্যক্ষ পদে বাগেরহাটের প্রিতম ম-ল নির্বাচিত হয়েছেন।

এ ছাড়া মানবসম্পদ, প্রশাসন ও লজিস্টিকস বিষয়ক সম্পাদক পদে মাগুরার মো. আরাফাত হাসান, মিডিয়া ও জনসংযোগ বিষয়ক সম্পাদক পদে চুয়াডাঙ্গার মো. সাইফুল্লাহ আল সাদিক, পর্যবেক্ষণ, গবেষণা ও উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক পদে কুষ্টিয়ার রায়ানা তাবাসসুম এবং নারী ও শিশু কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক পদে বাগেরহাটের ইরানি বিশ্বাস নির্বাচিত হয়েছেন। কার্যনির্বাহী সদস্য পদে বিজয়ী হয়েছেন সাতক্ষীরার রিংকী চৌধুরী।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ভলান্টারি সার্ভিসেস ওভারসিজের (ভিএসও) সহযোগিতায় পরিচালিত ভিডিএফ বাংলাদেশের তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের একটি জাতীয় নেটওয়ার্ক। দেশের ৬৪টি জেলায় কার্যক্রম পরিচালনাকারী এ সংগঠন যুব নেতৃত্বের বিকাশ, স্বেচ্ছাসেবকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, জলবায়ু সচেতনতা তৈরি এবং তৃণমূল পর্যায়ে টেকসই সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ নির্বাচনে দেশের আট বিভাগের মোট ৩ হাজার ৩১৯ জন নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে ১ হাজার ১৬০ জন ভোট দিয়েছেন। সে হিসাবে ভোটদানের হার ৩৪.৯৫ শতাংশ। নির্বাচনে বিভিন্ন পদে মোট ১১৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং তাদের মধ্যে ৮৮ জন নির্বাচিত হয়েছেন।