বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস: স্বীকৃতি, সমতা ও টেকসই উন্নয়নে নারীর অগ্রযাত্রা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস: স্বীকৃতি, সমতা ও টেকসই উন্নয়নে নারীর অগ্রযাত্রা

সাকিবুর রহমান বাবলা

বিশ্বের প্রতিটি জনপদের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে গ্রামীণ নারীদের শ্রম, মেধা ও স্বপ্ন গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে কৃষিকাজে ব্যস্ত হয়ে পড়া, পরিবারের জন্য খাদ্য উৎপাদন, গবাদিপশু পালন, সন্তানদের লালন-পালন কিংবা লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ-সব ক্ষেত্রেই তাঁদের অবদান অনস্বীকার্য। অথচ সমাজ ও অর্থনীতির ভিত গড়ে তোলা এই নারীদের অনেকের শ্রমই যথাযথ স্বীকৃতি পায় না। তাঁদের অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়নের প্রশ্নকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতেই প্রতিবছর ১৫ অক্টোবর পালিত হয় আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস।

১৯৯৫ সালে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের চতুর্থ বিশ্ব নারী সম্মেলনের প্রেক্ষাপটে গ্রামীণ নারীদের অবদানকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি আরও জোরালো হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত ৬২/১৩৬ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে ১৫ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো দিবসটি আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত হয়। এর মূল লক্ষ্য কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে নারীদের ভূমিকার স্বীকৃতি, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দারিদ্র্য বিমোচন এবং গ্রামীণ নারীদের আর্থসামাজিক ক্ষমতায়ন।

দিবসটি কেবল আনুষ্ঠানিক উদ্যাপনের উপলক্ষ নয়; বরং গ্রামীণ নারীদের অধিকার, সুযোগ ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র, সমাজ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২২ শতাংশ গ্রামীণ নারী। ২০২৩ সালের বৈশ্বিক পরিসংখ্যান অনুসারে, কৃষিশ্রমশক্তির প্রায় ৪০ শতাংশই নারী; আফ্রিকা ও এশিয়ার কিছু অঞ্চলে এই হার আরও বেশি। বীজ সংরক্ষণ, চারা রোপণ, ফসলের পরিচর্যা, ফসল কাটা, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বাজারজাতকরণ-কৃষির প্রায় প্রতিটি পর্যায়েই তাঁদের অংশগ্রহণ রয়েছে।

কৃষির বাইরেও হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু পালন, মৎস্যচাষ, হস্তশিল্প, কুটিরশিল্প এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার মাধ্যমে তাঁরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পারিবারিক আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখেন। উৎপাদিত খাদ্য পরিবারের পুষ্টি নিশ্চিত করে; আর উদ্বৃত্ত পণ্য বিক্রি থেকে অর্জিত অর্থ সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে সহায়তা করে। এভাবেই গ্রামীণ নারীদের শ্রম স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল রাখার পাশাপাশি দারিদ্র্য হ্রাস ও টেকসই উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করে।

গ্রামীণ নারীরা শুধু অর্থনীতির কর্মী নন, তাঁরা ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারকও। লোকগান, লোকশিল্প, নকশিকাঁথা, ঐতিহ্যবাহী খাদ্য প্রস্তুত, বীজ সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় তাঁদের অভিজ্ঞতা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রবাহিত হয়। বিশেষত আদিবাসী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারীরা নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও প্রথাগত জ্ঞান সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

পরিবারের শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ সদস্যদের পরিচর্যা, স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও তাঁদের অবদান অপরিসীম। কিন্তু রান্না, পানি ও জ্বালানি সংগ্রহ, সন্তান লালন-পালন এবং পরিবারের সদস্যদের সেবার মতো অবৈতনিক কাজ অর্থনৈতিক হিসাবের বাইরে থেকে যায়। ফলে তাঁদের প্রকৃত শ্রম ও অবদান অনেক সময় অদৃশ্যই থেকে যায়।

অবদানের তুলনায় গ্রামীণ নারীরা এখনো ভূমির মালিকানা, ঋণ, আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও বাজারসুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছেন। জাতিসংঘের তথ্যমতে, বিশ্বে কৃষিজমির মালিকদের মধ্যে নারীর অংশ প্রায় ১৫ শতাংশ। কৃষি খাতে মজুরিভিত্তিক কাজে নিয়োজিত নারীরা পুরুষদের প্রতি এক ডলারের বিপরীতে গড়ে প্রায় ৮২ সেন্ট আয় করেন। অর্থাৎ সমান সুযোগ ও ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনো উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে।

এ ছাড়া বাল্যবিবাহ, শিক্ষার সীমিত সুযোগ, স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে কম অংশগ্রহণ এবং সামাজিক কুসংস্কার তাঁদের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে কৃষি, জীবিকা ও পারিবারিক খাদ্যনিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক গ্রামীণ নারীদের জন্য এই সংকট মোকাবিলা আরও কঠিন হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধান ও সবজি চাষ, বীজ সংরক্ষণ, ফসল-পরবর্তী প্রক্রিয়াজাতকরণ, হাঁস-মুরগি পালন, মৎস্যচাষ এবং কুটিরশিল্পে তাঁদের অংশগ্রহণ গ্রামীণ পরিবারের জীবিকা ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করে। উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা ও ঘূর্ণিঝড়, হাওরাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা এবং নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় বসতভিটা ও জীবিকা হারানোর ঝুঁকি তাঁদের জীবনকে আরও কঠিন করে তোলে।

তাই গ্রামীণ নারীদের উন্নয়নে জমি ও সম্পত্তির অধিকার কার্যকর করা, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা, সহজ শর্তে ঋণ ও কৃষি উপকরণ সরবরাহ, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা, মাতৃস্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা এবং স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা, গণমাধ্যম ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও এ ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, গ্রামীণ নারীদের উন্নয়ন কোনো বিচ্ছিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি নয়; এটি ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব, দারিদ্র্য বিমোচন, লিঙ্গসমতা এবং পরিবেশগত স্থিতিশীলতা অর্জনের অপরিহার্য শর্ত। ২০২৬ সাল জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক নারী কৃষক বর্ষ হওয়ায় কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থায় নারীদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

গ্রামীণ নারীদের কেবল পরিশ্রমী কর্মী হিসেবে নয়, অধিকারসম্পন্ন নাগরিক, উদ্যোক্তা, উদ্ভাবক ও নেতৃত্বদাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তাঁদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য, সম্পদের ওপর অধিকার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—সবাই উপকৃত হবে। যে সমাজ তার গ্রামীণ নারীদের মর্যাদা দেয়, সেই সমাজই সমতা, মানবিকতা ও টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারে।

গ্রামীণ নারীর ক্ষমতায়ন মানে শুধু নারীর অগ্রগতি নয়; এটি সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণের অঙ্গীকার।

Ads small one

নির্বাচিত হই বা না হই, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ছেড়ে যাইনি: কাজী আলাউদ্দীন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪৪ অপরাহ্ণ
নির্বাচিত হই বা না হই, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ছেড়ে যাইনি: কাজী আলাউদ্দীন

মিলন বিশ্বাস: “আমি নির্বাচিত হই বা না হই, কখনো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ছেড়ে যাইনি, ভবিষ্যতেও যাব না।” আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সাতক্ষীরার আশাশুনি ও কালিগঞ্জ উপজেলার পূজাম-পে সরকারি বরাদ্দের চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাতক্ষীরা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ কাজী আলাউদ্দীন।

বুধবার আশাশুনি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে এবং কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে পৃথক অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। দুই উপজেলায় মোট ১৬১টি পূজাম-পে প্রতিটিতে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
কাজী আলাউদ্দীন বলেন, বর্তমান সরকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভোট ও সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেছে। তিনি নির্বাচনে বিজয়ী হতে না পারলেও এলাকার মানুষের পাশ থেকে সরে যাননি।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। নিজের নির্বাচনে পরাজয়ের প্রসঙ্গ তুলে কাজী আলাউদ্দীন বলেন, দলের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি ও বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে তিনি পরাজিত হয়েছেন। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উভয় প্রার্থীকে ডেকে তাঁকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন এবং অন্য প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে সেই আহ্বান উপেক্ষা করায় তাঁকে পরাজয় বরণ করতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কাজী আলাউদ্দীন আরও বলেন, “হিন্দু-মুসলমান আমরা সবাই ভাই ভাই।” সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার পর্যায়ক্রমে তৃণমূলের মানুষের কল্যাণে কাজ করছে। সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সবার দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেন তিনি। কালিগঞ্জ উপজেলার মন্দিরগুলোর উন্নয়ন প্রসঙ্গে কাজী আলাউদ্দীন জানান, বর্তমান সরকারের মাধ্যমে ইতোমধ্যে উপজেলার ৪৬টি মন্দিরের উন্নয়নে বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাকি মন্দিরগুলোর উন্নয়নেও পর্যায়ক্রমে বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আগে প্রতিটি পূজাম-পে ৫০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হতো। এবার প্রধানমন্ত্রী আরও ১০০ কেজি বাড়িয়ে প্রতিটি ম-পে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দিয়েছেন। এ ছাড়া হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের বরাদ্দের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও পাঁচ কোটি টাকা বাড়িয়েছেন বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। আশাশুনি উপজেলায় ১০৬টি এবং কালিগঞ্জ উপজেলায় ৫৫টি পূজাম-পে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সে হিসাবে দুই উপজেলায় মোট ১৬১টি পূজাম-পের জন্য ৯৬ হাজার ৬০০ কেজি বা ৯৬.৬ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ রয়েছে। অনুষ্ঠানে পূজাম-পগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হাতে চালের ডিও (বরাদ্দপত্র) তুলে দেওয়া হয়।

বুধবার দুপুর ৩টায় আশাশুনি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু। এতে উপস্থিত ছিলেন আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীদুর ইসলাম, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নীলকণ্ঠ সোম, সাধারণ সম্পাদক রনজিত বৈদ্য ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আবু জাহিদ সোহাগ।

 

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম। অন্যদিকে, কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মফিজুর রহমান, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মাহাদি হাসান শিহাব, উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রনজিত সরকার ও সাধারণ সম্পাদক মিলন কুমার ঘোষ। এ ছাড়া দুই উপজেলার পূজাম-পগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

লাইলুন নাহার লিপির মৃত্যুতে জেলা সাংবাদিক ফোরামের শোক প্রকাশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪০ অপরাহ্ণ
লাইলুন নাহার লিপির মৃত্যুতে জেলা সাংবাদিক ফোরামের শোক প্রকাশ

সাংবাদিক আমিরুজ্জামান বাবুর একমাত্র বোন লাইলুন নাহার লিপি (৫৭) মারা গেছেন। বুধবার দিবাগত রাতে সাতক্ষীরা শহরের কাঠিয়া এলাকার নিজ বাসভবনে স্ট্রোকজনিত কারণে তাঁর মৃত্যু হয় (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মরহুমা লাইলুন নাহার লিপি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোদ্দাসেরুল হক হুদার স্ত্রী।

 

মৃত্যুকালে তিনি দুই কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভাকাক্সক্ষী রেখে গেছেন।
বুধবার বাদ জোহর সাতক্ষীরার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামে মরহুমার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়।

এদিকে লাইলুন নাহার লিপির মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে সাতক্ষীরা জেলা সাংবাদিক ফোরাম (রেজিঃ নং ৫৮৩/০৪)। সংগঠনের পক্ষ থেকে মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। শোক প্রকাশকারী ব্যক্তিরা হলেন সাতক্ষীরা জেলা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র সহসভাপতি মোশাররফ হোসেন আব্বাস, যুগ্ম সম্পাদক শেখ বেলাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হেলাল উদ্দীন, অর্থ সম্পাদক মোতাহার নেওয়াজ মিনাল, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাহফিজুল ইসলাম আক্কাজ এবং কার্যনির্বাহী সদস্য আনিছুর রহমান তাজু, আরীফ মাহমুদ, মো. আব্দুল মতিন, মো. জিয়াউর রহমান জিয়া ও এএইচএম তুমু। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

দেবহাটায় সখিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্কুল ও ক্লাবে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩৫ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় সখিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্কুল ও ক্লাবে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

Oplus_131072

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্লাবে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার সাড়ে ১১টায় সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলন সাহা।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব উদ্বৃত্তের আওতায় গৃহীত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সখিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্লাবে এসব ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নূর মোহাম্মদ গাজী, ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম, ইউপি সদস্য মোখলেছুর রহমান মোখলেস, ইউপি সদস্য আবুল হোসেন, ইউপি সদস্যা সাজু পারভিন ও ইউপি সদস্যা রেহেনা পারভিনসহ ইউনিয়ন পরিষদের সকল সদস্য-সদস্যা।

অনুষ্ঠানে ইউনিয়নের তিনটি ক্লাব, সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং নয়টি ওয়ার্ডে পৃথকভাবে চারটি করে বল বিতরণ করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মিলন সাহা বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শরীর ও মন সুস্থ রাখতে হবে। খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি দেশের সুনামও বৃদ্ধি করা সম্ভব। তিনি মাদকসহ সব ধরনের অনৈতিক কর্মকা- থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে খেলাধুলার চর্চা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।