বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

গাবুরার মেগা প্রকল্প পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক, জলদস্যু দমনের দাবী এলাকাবাসীর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৭ অপরাহ্ণ
গাবুরার মেগা প্রকল্প পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক, জলদস্যু দমনের দাবী এলাকাবাসীর

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯নং সোরার দৃষ্টিনন্দন এলাকায় চলমান মেগা প্রকল্পের কাজ ও গুণগত মান পরিদর্শন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক জনাব কওসার আজিজ। এ সময় সুন্দরবনে জলদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা, সুপেয় পানি ও শিক্ষাব্যবস্থাসহ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১১টায় ১৭৩ নং সোরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টারে এ মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জামান কনক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর শরীফ ফাহাদ, গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাছুদুল আলমসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাছুদুল আলম, মাস্টার আবু তালেব সাগর, আমজিয়াদ হোসেন ও ইকবাল হোসেন মন্টু। তাঁরা সুন্দরবনে জলদস্যুদের বেপরোয়া তৎপরতা, আত্মসমর্পণের পরও পুনরায় ডাকাতিতে জড়িয়ে পড়া এবং জলদস্যু দমনে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সুন্দরবন ও উপকূলীয় জনপদের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তাঁরা।

এ ছাড়া গাবুরার চলমান মেগা প্রকল্পের রাস্তার সঙ্গে সংযোগ সড়ক নির্মাণ, সড়কের স্থায়িত্ব ও গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং প্রকল্পের নকশা ও ডিজাইন জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানান বক্তারা। প্রকল্পের কাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন, নিয়মিত তদারকি এবং নির্মাণকাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।

সভায় সুপেয় পানি সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, চিকিৎসাসুবিধা বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ, খেলার মাঠ সংরক্ষণ, ভূমিহীনদের বসতির ব্যবস্থা এবং দৃষ্টিনন্দন এলাকার উন্নয়ন ও সংরক্ষণের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি অসমাপ্ত খাল খনন এবং মেগা প্রকল্পের বিভিন্ন কাজের গুণগত মান নিয়েও আলোচনা হয়।

স্থানীয়দের বক্তব্য শোনার পর জেলা প্রশাসক কওসার আজিজ সুন্দরবনে জলদস্যু দমনে সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে গাবুরার সুপেয় পানির সংকট নিরসন, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং এলাকায় পর্যাপ্ত স্কুল না থাকায় নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

চলমান মেগা প্রকল্পের সড়ক নির্মাণকাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন ও গুণগত মান বজায় রাখার বিষয়েও আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক।

 

 

Ads small one

সবুজে সাজবে কলারোয়া, ৪০০ কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণের উদ্যোগ তরুণ প্রকৌশলী চয়নের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫১ অপরাহ্ণ
সবুজে সাজবে কলারোয়া, ৪০০ কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণের উদ্যোগ তরুণ প্রকৌশলী চয়নের
কলারোয়া প্রতিনিধি:  বজ্রপাত প্রতিরোধ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও আগামীর প্রজন্মের জন্য সবুজ ও বাসযোগ্য কলারোয়া গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১০০ কিলোমিটার সড়কে তালবীজ রোপণের পর এবার ৪০০ কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণের উদ্যোগ নিয়েছেন তরুণ সিভিল প্রকৌশলী আসিফ ইকবাল চয়ন। সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে স্থানীয় তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় তিনি এ পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন।
বৃহস্পতিবার কলারোয়া উপজেলা পরিষদ চত্বর ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় প্রাঙ্গণে ৫০টি কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচির সূচনা হয়। উপজেলা পরিষদ চত্বরে নিজ হাতে কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণ করে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, কলারোয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরসহ উপজেলার ১ নম্বর জয়নগর, ২ নম্বর জালালাবাদ, ৩ নম্বর কয়লা, ১০ নম্বর কুশোডাঙ্গা, ১১ নম্বর দেয়াড়া ও ১২ নম্বর যুগিখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রধান বাজারে পর্যায়ক্রমে এসব কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণ করা হবে। আগামী চার দিন এ কর্মসূচি চলার কথা রয়েছে।
রোপণ করা চারাগুলো যাতে গরু-ছাগলসহ গবাদিপশুর কারণে নষ্ট না হয়, সে জন্য প্রতিটি চারার চারপাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে চারাগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেগুলোকে বেড়ে ওঠার উপযোগী পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে কলারোয়া উপজেলার ১২ নম্বর যুগিখালী ইউনিয়নের প্রায় ১৪ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে তালবীজ রোপণ করেন আসিফ ইকবাল চয়ন। তাঁর রোপণ করা তালবীজের প্রায় ৭০ শতাংশ থেকে চারা গজিয়েছে। ওই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় আগামী ছয় বছরের মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন প্রধান ও আঞ্চলিক সড়কের প্রায় ১০০ কিলোমিটারজুড়ে তালবীজ রোপণের পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।
পরিবেশবান্ধব এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সড়কের পাশে সবুজায়ন বৃদ্ধি, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ-শ্যামল উপজেলা গড়ে তোলাই তাঁর লক্ষ্য।
আসিফ ইকবাল চয়ন বলেন, “একটি সবুজ ও সুন্দর কলারোয়া উপজেলা গড়ে তুলতে আসুন, আমরা সবাই একসঙ্গে হাত বাড়াই।”

আন্তর্জাতিক তুষার চিতাবাঘ দিবস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৩ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক তুষার চিতাবাঘ দিবস

সাকিবুর রহমান বাবলা

২৩ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী পালিত হয় আন্তর্জাতিক তুষার চিতাবাঘ দিবস। এ দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো বিরল এই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, এর প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা এবং পাহাড়ি বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। তুষার চিতাবাঘ শুধু প্রকৃতির অপূর্ব সৃষ্টি নয়, এশিয়ার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের পরিবেশ সুস্থ রাখারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এদের অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়া মানে শুধু একটি প্রাণী হারিয়ে যাওয়া নয়, বরং প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও বড় বিপদের সংকেত।

দিবসটির ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকের নাম। ২০১৩ সালের ২৩ অক্টোবর সেখানে প্রথম বৈশ্বিক তুষার চিতাবাঘ ফোরাম অনুষ্ঠিত হয়। তুষার চিতাবাঘের আবাসভুক্ত ১২টি দেশের প্রতিনিধিরা এ প্রাণী সংরক্ষণে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিশকেক ঘোষণা গ্রহণ করেন। এর প্রথম বার্ষিকী স্মরণে ২০১৪ সালের ২৩ অক্টোবর প্রথম আন্তর্জাতিক তুষার চিতাবাঘ দিবস পালিত হয়। পরে ২০২৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২৩ অক্টোবরকে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক তুষার চিতাবাঘ দিবস ঘোষণা করে।

বৈজ্ঞানিকভাবে তুষার চিতাবাঘের নাম প্যানথেরা আনসিয়া। সহজে দেখা যায় না বলে একে ‘পাহাড়ের ভূত’ বলা হয়। এরা মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের খাড়া, পাথুরে ও দুর্গম পরিবেশে বসবাস করে। সাধারণত সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার মিটার উচ্চতার এলাকায় এদের বিচরণ দেখা যায়। আফগানিস্তান, ভুটান, চীন, ভারত, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, পাকিস্তান, রাশিয়া, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তান-এই ১২টি দেশে এদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল বিস্তৃত। এর মধ্যে চীনে এদের আবাসস্থলের উল্লেখযোগ্য অংশ রয়েছে।

বিশ্বে বন্য পরিবেশে তুষার চিতাবাঘের সংখ্যা আনুমানিক ৪ হাজার থেকে ৭ হাজারের মধ্যে বলে বিভিন্ন সংস্থা ধারণা করে। তবে দুর্গম আবাসস্থল, বিচরণক্ষেত্রের বিশালতা এবং সঠিক গণনার সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ কঠিন। এ প্রজাতির কোনো স্বীকৃত পৃথক উপপ্রজাতি বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত নয়। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা আইইউসিএনের লাল তালিকায় তুষার চিতাবাঘ ‘সংবেদনশীল’ শ্রেণিতে রয়েছে। অর্থাৎ প্রজাতিটি বন্য পরিবেশে বিলুপ্তির উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। ১৯৭৫ সাল থেকে এটি বন্য প্রাণী ও উদ্ভিদের বিপন্ন প্রজাতির আন্তর্জাতিক বাণিজ্যবিষয়ক কনভেনশন-সাইটিসের পরিশিষ্ট-১ এবং ১৯৮৬ সাল থেকে পরিযায়ী বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবিষয়ক কনভেনশনের পরিশিষ্ট-১-এ অন্তর্ভুক্ত।

তুষার চিতাবাঘ পাহাড়ি খাদ্যশৃঙ্খলের শীর্ষ শিকারি প্রাণী। এরা মূলত আইবেক্স, নীল ভেড়া ও অন্যান্য বুনো তৃণভোজী প্রাণী শিকার করে। এর মাধ্যমে শিকারযোগ্য প্রাণীর সংখ্যা ও চারণের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভূমিকা রাখে। তুষার চিতাবাঘকে আমব্রেলা স্পিসিস বা ছাতাপ্রজাতি বলা হয়, কারণ এদের সংরক্ষণের জন্য বিস্তৃত প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা করতে হয়। ফলে একই সঙ্গে অসংখ্য উদ্ভিদ ও প্রাণীর বাসস্থানও সুরক্ষিত হয়। এরা কীস্টোন স্পিসিস হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। তবে এদের উপস্থিতি একাই কোনো অঞ্চলের পানির উৎস বা পরিবেশের সুস্থতার নিশ্চয়তা দেয় না; বরং অন্যান্য পরিবেশগত তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে এদের অবস্থা মূল্যায়ন করা হয়।

তুষার চিতাবাঘের অস্তিত্ব আজ নানা সংকটে বিপন্ন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমালয় ও আলতাইসহ বিভিন্ন পর্বতাঞ্চলের তাপমাত্রা বাড়ছে এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল বদলে যাচ্ছে। বনসীমা উঁচুতে উঠে যাওয়া, মানুষের বসতি বৃদ্ধি, খনি খনন ও সড়ক নির্মাণের কারণে তাদের বিচরণক্ষেত্র সংকুচিত ও খন্ডিত হচ্ছে। অতিরিক্ত পশুচারণ এবং বন্য প্রাণী শিকারের ফলে আইবেক্স ও নীল ভেড়ার মতো প্রধান খাদ্যের প্রাপ্যতাও কমছে। পাশাপাশি চামড়া, হাড় ও অন্যান্য অঙ্গের অবৈধ বাণিজ্যের জন্য চোরাশিকার এদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

মানুষ ও বন্যপ্রাণীর দ্বন্দ্বও একটি বড় সমস্যা। প্রাকৃতিক শিকার কমে গেলে তুষার চিতাবাঘ কখনো কখনো লোকালয়ে এসে ছাগল, ভেড়া কিংবা ইয়াক শিকার করে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত খামারি ও রাখালেরা প্রতিশোধ নিতে এদের হত্যা করতে পারেন। এ সমস্যা কমাতে গৃহপালিত পশুর নিরাপদ খোঁয়াড় নির্মাণ, ক্ষতিপূরণব্যবস্থা, বিকল্প জীবিকার সুযোগ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সংরক্ষণ কার্যক্রমে যুক্ত করা জরুরি। শুধু আইন করে নয়, পাহাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকা ও নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তুষার চিতাবাঘ রক্ষার উদ্যোগ নিতে হবে।

তুষার চিতাবাঘের আবাসভুক্ত দেশগুলো প্রজনন কর্মসূচি, জাতীয় কর্মপরিকল্পনা এবং আন্তসীমান্ত সহযোগিতার মাধ্যমে এ প্রজাতি রক্ষায় কাজ করছে। উল্লেখযোগ্য উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে বৈশ্বিক তুষার চিতাবাঘ ও বাস্তুতন্ত্র সুরক্ষা কর্মসূচি, রাশিয়ার তুষার চিতাবাঘ সংরক্ষণ কৌশল, নেপালের ২০২৪-২০৩০ সালের সংরক্ষণ কর্মপরিকল্পনা, ভুটানের ২০২৪–২০৩৪ সালের কর্মপরিকল্পনা এবং পাকিস্তানের তুষার চিতাবাঘ ও বাস্তুতন্ত্র সুরক্ষা কর্মসূচি। পশ্চিম তিয়েন শান ও পামির-আলাই অঞ্চলে কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তানের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের সমরখন্দ প্রস্তাব জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন ও সংরক্ষণ কার্যক্রমকে আরও জোরদার করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ।

তুষার চিতাবাঘ সংরক্ষণ জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গেও সম্পর্কিত। বিশেষ করে লক্ষ্যমাত্রা-৬ বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন, লক্ষ্যমাত্রা-১৩ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং লক্ষ্যমাত্রা-১৫ স্থলজ বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ অর্জনে পাহাড়ি পরিবেশ রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। পাহাড়কে এশিয়ার বহু মানুষের পানির ভান্ডার বলা হয়। এসব অঞ্চলের বন, তৃণভূমি, হিমবাহ ও নদীর স্বাভাবিক কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে সুস্থ বাস্তুতন্ত্র অপরিহার্য।

আন্তর্জাতিক তুষার চিতাবাঘ দিবসে ডব্লিউডব্লিউএফ, স্নো লেপার্ড ট্রাস্টসহ বিভিন্ন সংস্থা সচেতনতামূলক প্রচার, গবেষণা, সংরক্ষণ তহবিল সংগ্রহ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেও সচেতনতা ছড়ানো যায়। তবে দিবসটি পালনের সার্থকতা শুধু প্রচারে সীমাবদ্ধ নয়; অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্য বন্ধ, আবাসস্থল সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং পাহাড়ের মানুষের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর মধ্যেই এর প্রকৃত তাৎপর্য। তুষার চিতাবাঘ বাঁচলে পাহাড়ি প্রকৃতির অসংখ্য প্রাণ ও উদ্ভিদ রক্ষার সুযোগ বাড়বে। তাই আসুন, তুষার চিতাবাঘের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল হই।

 

 

 

 

দ্রুত বিচার, দুর্নীতিমুক্ত আদালত: সাতক্ষীরার মানুষের প্রত্যাশা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ণ
দ্রুত বিচার, দুর্নীতিমুক্ত আদালত: সাতক্ষীরার মানুষের প্রত্যাশা

‎গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎সাতক্ষীরা জেলা জজ কোর্ট ও ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সাম্প্রতিক মামলার পরিসংখ্যান যেকোনো সচেতন নাগরিককে ভাবিয়ে তোলার জন্য যথেষ্ট। জেলাজুড়ে বর্তমানে মোট বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ৭৫ হাজার থেকে ৭৭ হাজার। একটি সীমান্তবর্তী জেলায় মামলার এই বিশাল সংখ্যা শুধু বিচারব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপই তৈরি করছে না, বরং হাজার হাজার সাধারণ মানুষের জীবনকে করে তুলছে স্থবির।

‎মামলার এই বিভাজন বিশ্লেষণ করলে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়। জেলা জজের আওতাধীন আদালতে (দেওয়ানি ও ফৌজদারি) বিচারাধীন রয়েছে প্রায় ৬৩ হাজার-এর বেশি মামলা। এর মধ্যে দেওয়ানি মোকদ্দমার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি-প্রায় ২৪ হাজার ৮৯৩টি। বছরের পর বছর ধরে চলা ভূমিসংক্রান্ত বিরোধ এবং পারিবারিক ও সম্পত্তিসংক্রান্ত জটিলতাও এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। এর বাইরে ফৌজদারি মামলা রয়েছে ১৩ হাজার ২৮৭টি এবং ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে আটকে আছে ৭ হাজার ২৩৬টি মামলা। অন্যদিকে, ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (আমলি ও বিচারিক) মামলার সংখ্যা প্রায় ১৩ হাজার ৮১০টি।

‎এই পরিসংখ্যানের পেছনের গল্পটি বেশ বেদনাদায়ক। একটি মামলার পেছনে বছরের পর বছর ঘুরতে গিয়ে সাতক্ষীরার প্রত্যন্ত অঞ্চলের বহু মানুষ আজ নিঃস্ব। জমিজমার বিরোধ কিংবা ফৌজদারি অপরাধের সুরাহা পেতে দিনের পর দিন আদালতের বারান্দায় জুতো ক্ষয় করছেন বিচারপ্রার্থীরা। মামলা পরিচালনার খরচ, যাতায়াত ব্যয় এবং বারবার আদালতে হাজির হওয়ার কারণে অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ছে।

‎এর মধ্যে আদালতকেন্দ্রিক ঘুষ-বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলছে। বিশেষ করে নিঃস্ব, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য এ ধরনের অনিয়ম ন্যায়বিচার পাওয়ার পথকে আরও কঠিন করে তুলেছে। ঘুষ-বাণিজ্য ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। ‎সময়মতো বিচার না পাওয়া বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্তা হারাচ্ছে।

‎এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে মামলাজট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। বিচারকের শূন্য পদ পূরণ, প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি, আদালতের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন মামলাগুলো অগ্রাধিকারভিত্তিতে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি সাক্ষীদের সময়মতো হাজির করা, তদন্তে অযথা বিলম্ব কমানো এবং অপ্রয়োজনীয় মুলতবি এড়ানোর বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। দেওয়ানি বিরোধের ক্ষেত্রে আইনসম্মত মধ্যস্থতার সুযোগ কাজে লাগানো গেলে কিছু মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিও সম্ভব।

‎সাতক্ষীরার মামলাজট শুধু আদালতের সমস্যা নয়; এটি হাজারো বিচারপ্রার্থীর জীবন, সময় ও অর্থের সঙ্গে জড়িত। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত, স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত করা। আদালতের দীর্ঘ বারান্দায় বছরের পর বছর অপেক্ষা করা মানুষের দীর্ঘশ্বাস যেন ন্যায়বিচার পাওয়ার স্বস্তিতে রূপ নেয় এটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।
লেখক: গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা সমাজকর্মী ও উদ্যোক্তা।