রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সাতক্ষীরার বাদাবন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৯ অপরাহ্ণ
প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সাতক্ষীরার বাদাবন

শ্যামল শীল

সাতক্ষীরার উপকূলীয় জনপদ, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে বাদাবন বা ম্যানগ্রোভ বন। পৃথিবীর বৃহত্তম একক প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সাতক্ষীরা জেলায় অবস্থিত। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব কমানো এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এই বন।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরসহ সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকার মানুষের জন্য বাদাবন প্রাকৃতিক সুরক্ষাবলয় হিসেবে কাজ করে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও প্রবল ঢেউয়ের শক্তি কমাতে ম্যানগ্রোভ গাছপালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গাছের শিকড় মাটি আঁকড়ে ধরে উপকূলীয় ভূমিক্ষয় কমাতে সহায়তা করে। তবে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে বাদাবনের পাশাপাশি টেকসই বেড়িবাঁধ, আগাম সতর্কতা, আশ্রয়কেন্দ্র ও কার্যকর দুর্যোগ প্রস্তুতিও জরুরি।

সুন্দরবন জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। সুন্দরী, গেওয়া, গরান, কেওড়া, পশুর ও বাইনসহ নানা প্রজাতির ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ এখানে জন্মে। এ বনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, বানর, বন্য শূকর, কুমির, ডলফিন, অজগর ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আবাস রয়েছে। বনের নদী, খাল ও জলাভূমি মাছ, চিংড়ি ও কাঁকড়ার গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল ও প্রজননক্ষেত্র। এই জীববৈচিত্র্য পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে।

সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরার বহু মানুষের জীবিকা গড়ে উঠেছে। বনসংলগ্ন এলাকার মানুষ মাছ ও কাঁকড়া আহরণ, অনুমতি সাপেক্ষে মধু ও গোলপাতা সংগ্রহ এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট কাজে যুক্ত। তবে অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত সম্পদ আহরণ বনের স্বাভাবিক পুনরুৎপাদন ব্যাহত করতে পারে। তাই সরকারি বিধিনিষেধ মেনে সম্পদ আহরণ এবং বননির্ভর মানুষের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায়ও বাদাবনের গুরুত্ব অপরিসীম। ম্যানগ্রোভ বন বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ধারণ করে গাছপালা ও মাটিতে সঞ্চয় করে। তবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততার পরিবর্তন, নদীভাঙন ও ঘূর্ণিঝড় সুন্দরবনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় বনভূমি সংরক্ষণ, বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশগত পরিবর্তন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।

সুন্দরবনের অসাধারণ জীববৈচিত্র্য ও বৈশ্বিক গুরুত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশের সুন্দরবন ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। এই স্বীকৃতি বনটির আন্তর্জাতিক গুরুত্ব তুলে ধরে। তাই সুন্দরবন রক্ষা করা বাংলাদেশের জাতীয় দায়িত্বের পাশাপাশি বিশ্ব প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণেরও অংশ।

সুন্দরবন রক্ষায় অবৈধভাবে বনজ সম্পদ আহরণ, বন্য প্রাণী শিকার ও নদী-খাল দূষণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি বন বিভাগের নজরদারি বাড়ানো, স্থানীয় জনগণকে সংরক্ষণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটনের প্রসার ঘটানো প্রয়োজন। বননির্ভর মানুষের জীবিকা ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করাই হতে পারে টেকসই ব্যবস্থাপনার ভিত্তি।

সাতক্ষীরার বাদাবন শুধু উপকূলের প্রাকৃতিক ঢাল নয়, এটি জীববৈচিত্র্যের আশ্রয়স্থল এবং হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকার অবলম্বন। এই বন ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরিবেশের ভারসাম্য, স্থানীয় অর্থনীতি ও উপকূলীয় মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। তাই সুন্দরবন সংরক্ষণে সরকার, বন বিভাগ, স্থানীয় জনগণ, গবেষক ও পরিবেশকর্মীদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বাদাবন রক্ষাকে পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি সাতক্ষীরার টেকসই উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

লেখক: সাবেক শিক্ষার্থী, ইতিহাস বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

Ads small one

তৃণমূলের প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনতে ‘নতুন কুঁড়ি’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪২ অপরাহ্ণ
তৃণমূলের প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনতে ‘নতুন কুঁড়ি’

খুলনা প্রতিনিধি: তৃণমূলে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি জানান, আগামী ৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭’-এর দ্বিতীয় আসর উদ্বোধন করবেন। এ আসরে অংশ নিতে ইতোমধ্যে প্রায় ১৬ লাখ ২৩ হাজার অনলাইন নিবন্ধন হয়েছে। প্রথম আসরে নিবন্ধনের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার। নিবন্ধিত খেলোয়াড়দের মধ্য থেকে ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে দল গঠন করা হবে। এতে প্রায় ১৪ লাখ ক্রীড়াবিদ অংশ নেবেন। আগামী বছরের মে বা জুনে প্রতিযোগিতার ফাইনাল রাউন্ড শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথম আসরে বিজয়ী অনেক খেলোয়াড় বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। তাঁদের প্রশিক্ষণ ও পড়াশোনার দায়িত্ব সরকার বহন করবে। খেলাধুলার প্রসারের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখা এবং সুস্থ সমাজ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

খুলনা জেলা স্টেডিয়ামকে পূর্ণাঙ্গ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, আগামী জানুয়ারি থেকে নির্ধারিত ক্রীড়া সূচি অনুযায়ী খুলনা জেলা স্টেডিয়াম, বিভাগীয় স্টেডিয়াম ও বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে সারা বছর খেলাধুলা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পরিদর্শনকালে জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খান, খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মোল্লা খায়রুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়াম, বিকেএসপির আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। পরে বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলনকক্ষে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসর উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।

কপিলমুনিতে ইয়াবাসহ কিশোর আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
কপিলমুনিতে ইয়াবাসহ কিশোর আটক

কপিলমুনি (পাইকগাছা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছার কপিলমুনিতে ৯ পিস ইয়াবাসহ লিটন মীর (১৬) নামে এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. হাসানুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশ নাছিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। লিটন মীর রেজাকপুর গ্রামের হাসান মীরের ছেলে। পরে তাকে পাইকগাছা থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

বল্লী ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিদারুল আলমের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩০ অপরাহ্ণ
বল্লী ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিদারুল আলমের

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১২ নম্বর বল্লী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক সেনাসদস্য ও ব্যবসায়ী মো. দিদারুল আলম দিদার। তিনি ইউনিয়নের শীবনগর গ্রামের বাসিন্দা।

দিদারুল আলম জানান, নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করতে চান। পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন তিনি।

দিদারুল আলমের পিতা আলহাজ রেজাউল করিম সরদার। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনি জ্যেষ্ঠ। তিনি কলারোয়া সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর মৎস্য চাষ এবং গবাদিপশু ও মাছের খাদ্যের ব্যবসায় যুক্ত হন। তাঁর সরদার এন্টারপ্রাইজের শাখা রয়েছে লাবসা পলিটেকনিক মোড় ও ঝাউডাঙ্গা বাজারে। এ ছাড়া বিনেরপোতায় তাঁর একটি মৎস্য আড়ৎ রয়েছে।

দিদারুল আলমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি এলাকার বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন। তাঁর নিজস্ব অর্থায়নে ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির, ঈদগাহ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সহযোগিতা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে বল্লী ইউনিয়নের ১২টি ওয়ার্ডে গণসংযোগ করছেন দিদারুল আলম। এ সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন এবং নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরছেন।

তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের অংশগ্রহণে ইউনিয়নের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেবেন।