বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

কাজী ইমদাদুল হকের জীবনদর্শন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৮ অপরাহ্ণ
কাজী ইমদাদুল হকের জীবনদর্শন

প্রকাশ ঘোষ বিধান

বিংশ শতাব্দীর বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও প্রগতিশীল চিন্তাবিদ কাজী ইমদাদুল হকের জীবনদর্শন মূলত মানবতা, আধুনিক শিক্ষা, যুক্তিবাদ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার ওপর প্রতিষ্ঠিত। তৎকালীন অনগ্রসর ও রক্ষণশীল মুসলিম সমাজকে কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস এবং বংশগত আভিজাত্যের অহংকার থেকে মুক্ত করে একটি শিক্ষিত, প্রগতিশীল ও বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গড়ে তোলাই ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম লক্ষ্য। সাহিত্য ও সমাজসংস্কারমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি বাঙালি মুসলমান সমাজকে আধুনিকতার পথে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

কাজী ইমদাদুল হকের জীবনদর্শনে প্রগতিশীলতা, মানবতাবাদ, সমাজসংস্কার ও যুক্তিনির্ভর আধুনিকতার এক অনন্য সমন্বয় লক্ষ করা যায়। তিনি এমন এক সময়ে সাহিত্যচর্চা ও সমাজসংস্কারে আত্মনিয়োগ করেছিলেন, যখন বাঙালি মুসলমান সমাজের একটি বড় অংশ শিক্ষায় পিছিয়ে ছিল এবং নানা কুসংস্কার ও গোঁড়ামির প্রভাব থেকে মুক্ত হতে পারেনি। তাঁর কালজয়ী উপন্যাস ‘আবদুল্লাহ’য় তৎকালীন সমাজের নানা অসংগতি তুলে ধরার পাশাপাশি মানবিক ও প্রগতিশীল সমাজ গঠনের প্রত্যাশা প্রকাশ পেয়েছে।

তাঁর জীবনদর্শনের মূল কেন্দ্রে ছিল মানুষ। ধর্মীয় পরিচয় কিংবা সম্প্রদায়গত বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে প্রকৃত মানুষ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ‘আবদুল্লাহ’ উপন্যাসে বরিহাটী স্কুলের বিদায়লগ্নে শিক্ষক আবদুল্লাহর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে লেখকের এই মানবতাবাদী দর্শন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—“আশীর্বাদ করি, তোমরা মানুষ হও, প্রকৃত মানুষ হও—যে মানুষ হলে পরস্পর পরস্পরকে ঘৃণা করতে ভুলে যায়, হিন্দু মুসলমানকে, মুসলমান হিন্দুকে…”। এই বক্তব্যে মানুষের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির যে আহ্বান রয়েছে, তা তাঁর জীবনদর্শনের অন্যতম ভিত্তি।

তৎকালীন মুসলিম সমাজে প্রচলিত আশরাফ-আতরাফ বিভাজন, বংশগত আভিজাত্যের অহংকার এবং উচ্চ-নিম্ন শ্রেণির কৃত্রিম ভেদাভেদের কঠোর সমালোচনা করেছেন তিনি। তাঁর দৃষ্টিতে মানুষের প্রকৃত মর্যাদা নির্ধারিত হওয়া উচিত তার কর্ম, সততা ও মানবিক গুণাবলির ভিত্তিতে; বংশপরিচয়ের ভিত্তিতে নয়। সমাজে শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের মধ্যে কৃত্রিম বিভাজন দূর করার প্রত্যয় তাঁর সাহিত্যকর্মে বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

পীরপূজা, ছোঁয়াছুঁয়ি, অন্ধ ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং মনগড়া ধর্মীয় ব্যাখ্যার বিরুদ্ধেও তিনি সোচ্চার ছিলেন। তাঁর লেখায় ধর্মের নামে প্রচলিত অন্ধবিশ্বাস ও সামাজিক কুসংস্কারের সমালোচনা উঠে এসেছে। তিনি যুক্তি, বিবেক ও বিচারবুদ্ধির সাহায্যে সমাজের অসংগতিগুলো দূর করার পক্ষে ছিলেন। তাঁর সাহিত্য কেবল সামাজিক ব্যাধির চিত্র তুলে ধরেনি; বরং সেসব থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতেও মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছে।

নারীর অধিকার ও শিক্ষার প্রসারেও কাজী ইমদাদুল হকের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল প্রগতিশীল। তৎকালীন সমাজে অবরোধপ্রথার কারণে নারীদের শিক্ষার সুযোগ ও সামাজিক অংশগ্রহণ সীমিত হয়ে পড়েছিল। নারীদের অন্ধকারে আবদ্ধ রেখে একটি সমাজের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়—এ উপলব্ধি তাঁর চিন্তায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছিল। তিনি নারীশিক্ষা ও নারীর মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, সমাজের সামগ্রিক অগ্রগতির জন্য নারীকে শিক্ষিত ও সচেতন করে তোলা অপরিহার্য।

পেশাগত জীবনে শিক্ষাবিদ হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে গভীরভাবে সচেতন করেছিল। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, শিক্ষার প্রসার ছাড়া কোনো সমাজের প্রকৃত মুক্তি সম্ভব নয়। তবে তাঁর শিক্ষাভাবনা কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান, যুক্তিবাদী চিন্তা, আত্মমর্যাদা এবং সৎ উপায়ে স্বাবলম্বী হওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলাকেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করতেন। বাঙালি মুসলমান সমাজের অগ্রগতির জন্য আধুনিক শিক্ষার প্রসার এবং প্রচলিত চিন্তাধারার ইতিবাচক পরিবর্তন প্রয়োজন বলে তিনি বিশ্বাস করতেন।

কাজী ইমদাদুল হক ঐতিহ্যকে সম্পূর্ণ অস্বীকার না করেও আধুনিক ও প্রগতিশীল হওয়ার পথ দেখিয়েছেন। তাঁর চিন্তায় ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে যুক্তিবাদ ও মানবতার কোনো মৌলিক বিরোধ ছিল না। বরং ধর্মের নামে গড়ে ওঠা কুসংস্কার ও সংকীর্ণতার পরিবর্তে বিবেক, সহমর্মিতা এবং নৈতিকতার চর্চাকে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। এ কারণে তাঁর সাহিত্যকর্ম একদিকে যেমন তৎকালীন মুসলিম সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে, অন্যদিকে তেমনি সমাজ পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকেও ধারণ করেছে।

তাঁর সাহিত্যপ্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও ‘আবদুল্লাহ’ উপন্যাসের প্রশংসা করেছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়। এই উপন্যাসে মুসলিম সমাজের অভ্যন্তরীণ সংকট, ধর্মীয় গোঁড়ামি, সামাজিক বৈষম্য এবং আধুনিকতার আকাঙ্ক্ষা যে বাস্তবতার সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে, তা বাংলা সাহিত্যে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

কাজী ইমদাদুল হকের জীবনদর্শনের মূল বাণী—‘মানুষ হও, প্রকৃত মানুষ হও’। এই আহ্বানের মধ্য দিয়ে তিনি মানুষের অন্তর্নিহিত সংকীর্ণতা, কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস দূর করে নৈতিকতা, পরমতসহিষ্ণুতা এবং সহানুভূতিশীলতার ভিত্তিতে সমাজ গঠনের কথা বলেছেন। ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে মানুষের সর্বজনীন পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়ার যে শিক্ষা তিনি দিয়েছেন, তা আজও সমান প্রাসঙ্গিক।

কাজী ইমদাদুল হক তাঁর সাহিত্য ও কর্মের মধ্য দিয়ে বাঙালি মুসলমান সমাজে মুক্তবুদ্ধি, আধুনিক শিক্ষা, যুক্তিবাদ ও মানবতাবাদী চেতনার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁর জীবনদর্শন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, সমাজের প্রকৃত অগ্রগতি কেবল অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বিস্তারে সীমাবদ্ধ নয়; এর জন্য প্রয়োজন মানুষের চিন্তা, বিবেক ও মূল্যবোধের পরিবর্তন। সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতা, সামাজিক বৈষম্য ও কুসংস্কারমুক্ত মানবিক সমাজ গঠনে তাঁর চিন্তা ও সাহিত্য আজও প্রেরণার উৎস।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Ads small one

মোংলা বন্দর হবে নতুন অর্থনৈতিক হাব: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
মোংলা বন্দর হবে নতুন অর্থনৈতিক হাব: প্রধানমন্ত্রী

পত্রদূত ডেস্ক: মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ করা হলে এটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, মোংলা বন্দরকে ঘিরে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও যশোরসহ এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে মোংলায় ‘মোংলা বন্দর সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ জোরদার এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ সম্ভব হবে। একই সঙ্গে পঞ্চগড় থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ, পণ্য পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থা উন্নয়নে সরকার উদ্যোগ নিতে চায়। খানজাহান আলী বিমানবন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রম চালু করাও সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে।

তিনি বলেন, জ্বালানি, সার, খাদ্যশস্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানি এবং দেশীয় পণ্য রপ্তানিতে মোংলা বন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল, ইয়ার্ড ও পণ্য ওঠানামার সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের সাফল্য শুধু নির্মাণকাজ শেষ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বন্দরসেবার মান বৃদ্ধি, পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় হ্রাস, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশ সুরক্ষার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর কাছে মোংলা বন্দরকে আকর্ষণীয় করে তুলতে বন্দরের নাব্যতা, নৌপথের নির্ভরযোগ্যতা ও জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি মোংলা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার এ অঞ্চলের হারিয়ে যাওয়া শিল্পঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে চায়।

প্রধানমন্ত্রী বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক অংশীজন, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন দেশের শিল্প-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং আঞ্চলিক সুষম উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি থেকে কনটেইনারবাহী ট্রেন সরাসরি মোংলা বন্দরে চলাচল করতে পারবে। এতে বন্দরের পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বাড়বে এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে।

অনুষ্ঠানে যোগাযোগমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা এবং চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের চেয়ারম্যান দাই হেগেন বক্তব্য দেন। এ সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডুমুরিয়ায় চায়ের দোকানে গুলি করে যুবককে হত্যা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:০৬ অপরাহ্ণ
ডুমুরিয়ায় চায়ের দোকানে গুলি করে যুবককে হত্যা

Oplus_16908288

পত্রদূত ডেস্ক: খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আমভিটা-রামকৃষ্ণপুর জোড়া বটতলা এলাকায় একটি চায়ের দোকানে গুলি করে তরিকুল ইসলাম শেখ (৩৫) নামে এক যুবককে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটের দিকে গফফারের চায়ের দোকানের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তরিকুল ইসলাম শেখ ১২ নম্বর রংপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম শেখের ছেলে।

তবে কী কারণে এবং কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা: যুবদল নেতা ভদুর তিন দিনের রিমান্ড 

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২:৫৬ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা: যুবদল নেতা ভদুর তিন দিনের রিমান্ড 

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের বড় শান্তা গ্রামের শামছুর রহমান সানার ছেলে ওয়াহেদুজ্জামান সানা ওরফে শামীমকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় আদালতে আত্মসমর্পণকারী যুবদল নেতা সাদিকুল ইসলাম ভদুর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দেবহাটা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমিনের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরার আমলি তৃতীয় আদালতের বিচারক নুসরাত জাহান এ আদেশ দেন।

সাদিকুল ইসলাম ভদু দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া শেখপাড়ার শওকত আলীর ছেলে। তিনি পারুলিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আল আমিন জানান, ওয়াহেদুজ্জামানকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার ২ নম্বর আসামি সাদিকুল ইসলাম ভদু গত ২৮ অক্টোবর আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১ নভেম্বর আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালতের আদেশ পাওয়ার পর তাঁকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আগামী ৮ নভেম্বর দুপুর ১২টার মধ্যে তাঁকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন সাতক্ষীরা জজ কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আসাদুজ্জামান দিলু। রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন উপপরিদর্শক (সিএসআই) বিশ্বনাথ রায় ও আইনজীবী আবু সাঈদ।

বৃহস্পতিবার আদালত চত্বরে সাদিকুল ইসলাম ভদু সাংবাদিকদের জানান, তিনি মিছিলকারীদের সঙ্গে থাকলেও শামীমকে মারধর করেননি। তিনি যুবদলের নেতা বলেও নিশ্চিত করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী আবুল কাশেমের মেয়ে মোসলেমা, ছেলে হোসেন আলী ও একই এলাকার মাসুদের মোবাইল ফোনে ধারণ করা কল রেকর্ডের সূত্র ধরে ওয়াহেদুজ্জামানের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত ১২ অক্টোবর সন্ধ্যায় স্থানীয় জামায়াত কার্যালয়ের সামনে থেকে একদল লোক তাঁর বাড়িতে হামলা চালায়। পরদিন ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় কুলিয়ার ডা. এমএ সবুরের ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর ওপর হামলা করা হয়। একই দিন পারুলিয়া থেকে মিছিল নিয়ে একদল লোক সখীপুর হাসপাতালের পেছনের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পুলিশ, আনসার ও কর্তব্যরত চিকিৎসকের উপস্থিতিতে চিকিৎসাধীন ওয়াহেদুজ্জামানের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই আব্দুল জলিল বাদী হয়ে ১৫ অক্টোবর ফজলুল হক আমিনী, যুবদল নেতা সাদিকুল ইসলাম ভদু, মোক্তার খান ও আসাদুল মোল্লাসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ২৫০ জনকে আসামি করে দেবহাটা থানায় হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় ১৫ অক্টোবর রাতে মোক্তার খান, ১৬ অক্টোবর সকালে আসাদুল মোল্লা এবং ১৭ অক্টোবর ফজলুল হক আমিনী গ্রেপ্তার হন।