শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: প্রতিশ্রুতির আলোয় শঙ্কার ছায়া

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ
জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: প্রতিশ্রুতির আলোয় শঙ্কার ছায়া

তারিক ইসলাম

বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের সংকট ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। এই সংকট মোকাবিলায় নতুন হাতিয়ার হিসেবে সামনে আনা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিকে। আগামী কপ৩১ (সিওপি৩১) সম্মেলনের আয়োজক কর্তৃপক্ষ বিশ্ব পরিবেশ রক্ষায় এআইয়ের কার্যকর ব্যবহারের লক্ষ্যে একটি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে ‘আনতালিয়া এআই অঙ্গীকার’। এতে পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং দায়িত্বশীল ও টেকসই উপায়ে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এআই খাতের লাগামহীন সম্প্রসারণের মুখে পরিবেশ সুরক্ষার ভারসাম্য রক্ষা করা কতটা বাস্তবসম্মত? নাকি এই উদ্যোগও কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে?

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিপুল পরিমাণ পরিবেশগত তথ্য বিশ্লেষণ, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার পূর্বাভাস, স্মার্ট বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে জ্বালানি সাশ্রয় এবং কৃষি খাতে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার কৌশল নির্ধারণে এ প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখছে। সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবহারের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় এআই নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।

তবে এর বিপরীত দিকটিও উদ্বেগজনক। উন্নত এআই মডেল প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার জন্য প্রয়োজন হয় বিশাল তথ্যকেন্দ্র বা ডেটা সেন্টার। এসব কেন্দ্র পরিচালনায় বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ লাগে, যার একটি অংশ জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে আসে। একই সঙ্গে সার্ভার ঠান্ডা রাখতে প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়। ফলে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রমবর্ধমান কার্বন নিঃসরণ ও জ্বালানি ব্যবহার জলবায়ু সুরক্ষার লক্ষ্য অর্জনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

কপ৩১ সম্মেলনকে সামনে রেখে ঘোষিত আনতালিয়া এআই অঙ্গীকারে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারকদের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—তথ্যকেন্দ্রে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, কম শক্তি খরচ করে কাজ করতে সক্ষম এআই মডেল তৈরি এবং এআই প্রযুক্তির কারণে সৃষ্ট কার্বন নিঃসরণের হিসাব প্রকাশের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

উদ্যোগটি কাগজে-কলমে ইতিবাচক মনে হলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শিল্প খাতের বিশেষজ্ঞদের অন্যতম উদ্বেগ হলো, এ ধরনের অঙ্গীকার মূলত স্বেচ্ছামূলক। নীতিমালা অনুসরণ না করলে বাধ্যতামূলক আইনি ব্যবস্থা বা অর্থনৈতিক জরিমানার বিধান না থাকলে এর বাস্তবায়ন কতটা নিশ্চিত হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তীব্র বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতার বাজারে পরিবেশের স্বার্থে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের সম্প্রসারণের গতি কমাবে—এমন প্রত্যাশাও বাস্তবতার নিরিখে প্রশ্নবিদ্ধ।

এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধির তুলনায় এআই শিল্পের সম্প্রসারণ দ্রুত হলে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়তে পারে। সবুজ জ্বালানির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে নতুন তথ্যকেন্দ্রগুলো বিদ্যুৎ খাতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। ফলে এআইয়ের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার স্বল্প মেয়াদে কার্বন নিঃসরণ বাড়িয়ে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন মোকাবিলার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ও পরিবেশ সুরক্ষা—কোনোটিকেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তবে এআই যেন সবুজ পৃথিবীর স্বপ্নকে ম্লান করে না দেয়, সে জন্য প্রয়োজন কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ।

প্রথমত, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তথ্যকেন্দ্রের কার্বন নিঃসরণ পরিমাপ ও নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। প্রয়োজনে তা বাস্তবায়নে বাধ্যতামূলক আইনি কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

দ্বিতীয়ত, তথ্যকেন্দ্রে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট লক্ষ্যমাত্রা ও সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যুতের পাশাপাশি পানির ব্যবহার কমানো এবং সম্পদের দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাও জরুরি।

তৃতীয়ত, কম শক্তি খরচে কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম পরিবেশবান্ধব এআই বা ‘গ্রিন এআই’ প্রযুক্তির গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে এআই ব্যবহারের পরিবেশগত প্রভাব নিয়মিত মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশের ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে সহজ করার পাশাপাশি যেন পৃথিবীর অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। আনতালিয়া এআই অঙ্গীকার যদি কেবল আলোচনার বিষয় হয়ে থাকে এবং বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে তা জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারবে না। প্রযুক্তিকে পৃথিবীর ধ্বংসের কারণ নয়, বরং মানবজাতি ও প্রকৃতির টিকে থাকার অন্যতম সহায়ক শক্তি হিসেবে গড়ে তোলাই হোক কপ৩১ সম্মেলনের মূল অঙ্গীকার।

লেখক: তারিক ইসলাম, সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি

Ads small one

টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে গুলি বিনিময়ে সেনাসদস্য নিহত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১:০৩ পূর্বাহ্ণ
টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে গুলি বিনিময়ে সেনাসদস্য নিহত

কক্সবাজার টেকনাফে মানবকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রতিবাদে প্রশ্নে বাংলাদেশ পাচারের এক সদস্য যোগদান করেছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকালে রঙ্গীখা ঘূর্ণিঝড় পাহাড়ে এ প্রচারণা।

চতুষ্পদসদস্যের নাম মো. তাতাস শেখ (২৭)। তিনি একপর্যায়ে বাম কাঁধে গুলিবিদ্ধ হন। নিখুঁত রক্তক্ষরণে কার্যকরী তাকে উদ্ধার করে পরীক্ষা প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সম্মিলিত প্রতিষ্ঠান (সিএমএইচ), রাতে নেওয়া হলে ধর্মীয় তাকে মর্যাদা দেন।

আন্তঃ বৃহৎ জনসংযোগ পরিদফের (আইএসপিআর) তথ্যের তথ্য অনুযায়ী, গো মানবা খবরে খবর পাওয়া যায়, রাণীখালী গভীর পাহাড়ে ১৫ থেকে ১৬ এর একটি সশস্ত্রী দল প্রায় ১২০ জন ও বাংলাকে জিম্মি করে তুলেছে। এ তথ্যের প্রকাশক বাংলাদেশভির ১০ পদাতিক ডিশন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিটী) ও স্থানীয় পুলিশ সদস্য গঠিত দল আভিযান বিজানা বিক্রেতা বিক্রেতা আকালানুক্রমিক প্রকাশ্য।

এ সময় পাওয়ার সদস্য সস্ত্রীক উপস্থিতি টেরটি মানবপাচারকারী এপাতাড়ি চালায়। ব্যাঙ্গ পার্টির মধ্যে ব্যবহার করা হয়।

যুদ্ধে সেনা বার থেকে একটি পিস্তল, একটি দেশীয় বন্দুক ও চার রাউন্ড গোলাকে উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া এ ছাড়া পাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যের দল এবং জিম্মিকে ৫৭ পরিস্থিতি উদ্ধার করা হয়।

ধর্মরত সেনাসদস্যের আত্মত্যাগের কথা বলা বাংলাদেশকে গভীর শ্রদ্ধা জানাতে। একই সাথে তার বিহীর আত্মার মাগফিরাত কামনা গভীর এবং শোকসন্তান সদস্যদের প্রতি সমবেদনা।

ট্রাম্প-ভ্যান্স দূরত্ব বাড়ছে, হারের পর রিপাবলিকানদের মধ্যে চরম কোন্দল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ
ট্রাম্প-ভ্যান্স দূরত্ব বাড়ছে, হারের পর রিপাবলিকানদের মধ্যে চরম কোন্দল

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বিশাল পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ বিভেদ প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদ, সিনেট, গভর্নর ও অঙ্গরাজ্য আইনসভাগুলোতে শোচনীয় হারের প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে এই দুই শীর্ষ নেতা পরোক্ষভাবে একে অপরকে দোষারোপ করছেন।

সোশ্যাল মিডিয়া এক্স-এ দেওয়া এক দীর্ঘ ও সতর্ক বার্তায় জেডি ভ্যান্স মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলের হারের পেছনে ইরান যুদ্ধ, জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়, আমেরিকা ফার্স্ট নীতির অনুপস্থিতি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ট্রাম্প যেখানে টানা কয়েক মাস ধরে ইরান যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন, সেখানে ভ্যান্সের প্রকাশ্যে এই স্বীকারোক্তি মার্কিন সামরিক অভিযানের দেশীয় নেতিবাচক প্রভাবকেই স্পষ্ট করে তুলেছে।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে ইরান যুদ্ধ নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে, তবে এ নিয়ে কোনও আক্ষেপ নেই জানিয়ে বলেন, সুযোগ পেলে তিনি আবারও একই কাজ করবেন।

ভ্যান্সের বিশ্লেষণ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প অস্পষ্ট উত্তর দিয়ে বলেন, আমি জানি ও কীভাবে দেখে। আমার মনে হয় এটি ঠিকই ছিল। আমরা জানতাম পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ওদের থামানো গেছে এবং তারা আর কখনও তা পারবে না।

এর পরেই তিনি মন্তব্য করেন, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভ্যান্স ‘হয়তো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না।’ সাংবাদিকদের তিনি বলেন, হয়তো সে লড়বে না, আমি জানি না কে লড়বে। তবে যুদ্ধের বিষয়ে আমি বলতে পারি, আমি আলাদা কিছু করতাম না।

ভ্যান্সের এই বক্তব্যকে ট্রাম্পের নীতি থেকে নিজেকে খানিকটা আলাদা করার চেষ্টা হিসেবে দেখা হলেও প্রশাসন থেকে তিনি পুরোপুরি মুক্ত হতে পারছেন না। অপর দিকে ভ্যান্স ২০২৮ সালে ট্রাম্পের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হতে পারেন বলে যে গুঞ্জন ছিল, ট্রাম্পের এই মন্তব্য তাতে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

এদিকে কেবল শীর্ষ দুই নেতার মধ্যে নয়, নির্বাচনের এই ভরাডুবির পর পুরো রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেই নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা নিয়ে তীব্র তর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডেসান্টিস সতর্ক করে বলেছেন, দল যদি তার দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্মূল্যায়ন না করে তবে দীর্ঘমেয়াদি নির্বাচনি ধাক্কার মুখোমুখি হতে হবে। টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ এক পডকাস্টে শ্রমজীবী মানুষের অর্থনৈতিক সমস্যা শোনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের শুনতে হবে এবং সাড়া দিতে হবে। টেক্সাস এখন নীল হয়ে যাচ্ছে। শুল্কনীতি, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ এবং ডাটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে ট্রাম্পের সমালোচনার মধ্যেও ক্রুজ সুর মিলিয়েছেন।

সাবেক রিপাবলিকান সিনেটর মিট রমনি এক্স-এ ট্রাম্পের শুল্কনীতি, ‘আবেগপ্রবণ’ যুদ্ধ এবং দৃশ্যমান দুর্নীতির সমালোচনা করে লিখেছেন, বাজে নীতি এবং বাজে চরিত্র কখনও ভালো রাজনীতি তৈরি করে না। দেশ এবং আমার দলের সঠিক পথে ফেরার আশায় রইলাম।

সব মিলিয়ে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর রিপাবলিকান পার্টি এখন বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশলেই দল সামনে এগোবে, নাকি নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে, সেই লড়াই ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে এখনই শুরু হয়ে গেছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

দালাল স্ট্রিটে উৎসব, এক ঘণ্টায় লাভ ৭ লাখ কোটি রুপি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
দালাল স্ট্রিটে উৎসব, এক ঘণ্টায় লাভ ৭ লাখ কোটি রুপি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর বিশ্বজুড়ে সৃষ্ট ইতিবাচক পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে ভারতের শেয়ারবাজারে। অপরিশোধিত তেলের তীব্র দরপতন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কেনাকাটার জোয়ার এবং মার্কিন শেয়ারবাজার ওয়াল স্ট্রিটের চাঙ্গা ভাবের ওপর ভর করে বৃহস্পতিবার ভারতীয় শেয়ারবাজারে বিশাল উত্থান ঘটেছে। লেনদেন শুরুর মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই দালাল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের সম্পদ প্রায় ৭ লাখ কোটি রুপি বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক সেনসেক্স ১,৩০০ পয়েন্টের বেশি বেড়ে ৭৮,৬৩০ পয়েন্টে এবং নিফটি ৫০ সূচক ২৪,৩৫০ পয়েন্ট অতিক্রম করে। এটি ভারতের শেয়ারবাজারে টানা ষষ্ঠ কার্যদিবসের মতো দরবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখলো। সকাল ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ সেনসেক্স ১,৪০০ পয়েন্ট বেড়ে ৭৮,৭৩৫.৭৯ এবং নিফটি ৪৩১ পয়েন্ট বেড়ে ২৪,৩৮৯.৫৫ পয়েন্টে পৌঁছায়।

লেনদেন শুরুর সময় সেনসেক্স তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মোট বাজারমূল্য ছিল ৪৯৩.৪৪ লাখ কোটি রুপি, যা এক ঘণ্টার মধ্যেই বেড়ে দাঁড়ায় ৫০০.৯১ লাখ কোটি রুপি, অর্থাৎ প্রায় ৭ লাখ কোটি রুপির নিট বৃদ্ধি। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ওভারনাইট লেনদেনে মার্কিন শেয়ারবাজার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানোর পর এই প্রভাব দেখা গেলো।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে শেয়ারবাজার বাড়ার প্রধান ৩ কারণ তুলে ধরা হয়েছে।

তেলের দামে ৮ শতাংশ ধস: ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরান সংঘাত কমানোর দিকে হাঁটবে, বিনিয়োগকারীদের এমন প্রত্যাশায় ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৮.৭ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি প্রায় ৯৪ ডলারে নেমে আসে। তেল আমদানিনির্ভর ভারতের জন্য তেলের এই মূল্যহ্রাস আমদানি খরচ ও মূল্যস্ফীতি কমাবে এবং রুপিকে শক্তিশালী করবে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাবর্তন: বুধবার বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতে ৭,২৮৪ কোটি রুপির শেয়ার কেনেন, যা বিগত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে প্রায় ৯০,০০০ কোটি রুপির শেয়ার বিক্রির পর নভেম্বরে এ পর্যন্ত তারা ১৭,০০০ কোটি রুপির বেশি বিনিয়োগ করেছেন।

ওয়াল স্ট্রিটের চাঙ্গা ভাব: রাজনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা কমার পর এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ১.৬ শতাংশ এবং ডাউ জোন্স প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে ঝুঁকির মাত্রা কমে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

আয়নিক অ্যাসেটের গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট প্রধান অঙ্কিতা পাঠক বলেন, নির্বাচনি ফলাফলে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি কিছুটা কমবে। তবে জানুয়ারিতে নতুন আইনপ্রণেতারা শপথ নেওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট হবে।

তিনি উল্লেখ করেন যে, মার্কিন বন্ডের সুদ ও ডলার দুর্বল হলে উদীয়মান বাজার ও স্বর্ণ উপকৃত হতে পারে। তা সত্ত্বেও তিনি সতর্ক করে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের ডেটা সেন্টার ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর নতুন কংগ্রেসে নজরদারি বাড়তে পারে।

সূত্র: এনডিটিভি