শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

জ্বরে আক্রান্ত দেশ- মরছে মানুষ-সমাধান কোথায় ?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ
জ্বরে আক্রান্ত দেশ- মরছে মানুষ-সমাধান কোথায় ?

এম. এম হায়দার আলী

একটি জ্বর, একটি অসুস্থ শরীর, হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা একজন রোগী, উদ্বিগ্ন স্বজনদের ছোটাছুটি আর চিকিৎসকের দরজায় অসহায় অপেক্ষা,এ যেন আজ বহু পরিবারের চেনা দৃশ্য। ঘরে ঘরে জ্বর, হাসপাতালে রোগীর ভিড়, অভিভাবকদের চোখেমুখে আতঙ্ক। কখনো হামের সংক্রমণ, কখনো ডেঙ্গুর ভয়, আবার কখনো মৌসুমি ভাইরাসজনিত জ্বর। অসুস্থতার ধরন আলাদা, সংক্রমণের পথ আলাদা, চিকিৎসাপদ্ধতিও এক নয়; কিন্তু সাধারণ মানুষের উৎকণ্ঠা যেন একই সুতোয় বাঁধা। প্রশ্ন জাগে, জ্বরের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে মানুষকে আর কতটা অসহায় হতে হবে? প্রতিরোধযোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে মানুষ অসুস্থ হবে, চিকিৎসার অভাবে কিংবা সময়মতো সঠিক ব্যবস্থা না পাওয়ায় প্রাণ হারাবে—এ বাস্তবতা কি মেনে নেওয়ার মতো ?

 

বাংলাদেশের মানুষের কাছে জ্বর নতুন কোনো অভিজ্ঞতা নয়। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সর্দি-কাশি, গলাব্যথা কিংবা সাধারণ ভাইরাসজনিত জ্বরের প্রকোপ দেখা যায়। বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গুর ঝুঁকিও বাড়তে পারে। অন্যদিকে হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা বিশেষ করে টিকাবিহীন শিশুদের জন্য মারাত্মক বিপদের কারণ হতে পারে। কিন্তু যখন এসব রোগ নিয়ে মানুষের উদ্বেগ বাড়ে, হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ তৈরি হয় এবং মৃত্যুর খবর পরিবারগুলোকে শোকাহত করে, তখন বিষয়টিকে শুধু ঋতুর পরিবর্তন কিংবা প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

 

তখন প্রয়োজন রোগের প্রকৃতি বুঝে প্রতিরোধ, দ্রুত শনাক্তকরণ, মানসম্মত চিকিৎসা এবং কার্যকর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা। হাম শুধু সাধারণ জ্বর বা কয়েকটি লালচে দাগের নাম নয়। এটি অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি ও শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। প্রথমে জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। পরে শরীরে ফুসকুড়ি ওঠে। কিছু ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, তীব্র ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা কিংবা মস্তিষ্কের জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে অপুষ্ট শিশু, অল্পবয়সী শিশু এবং যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, তাদের ঝুঁকি বেশি। সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো, হামের বিরুদ্ধে কার্যকর টিকা রয়েছে। নিয়মিত টিকাদান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে সংক্রমণ ও গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

 

তারপরও কোনো শিশু হামে আক্রান্ত হলে আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো খতিয়ে দেখা জরুরি। কোথাও কি টিকাদানের আওতার বাইরে শিশু রয়ে গেছে? কোনো এলাকায় কি টিকাদানের হার কমেছে? দুর্গম অঞ্চলে কি টিকা পৌঁছাচ্ছে না ? অভিভাবকদের মধ্যে কি ভুল তথ্য কিংবা অসচেতনতা রয়েছে? টিকাদান কর্মসূচিতে কোনো ঘাটতি থাকলে তা দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধান করতে হবে। হামের সংক্রমণ দেখা দিলে আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে যথাযথভাবে আলাদা রাখা, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, পুষ্টি ও পানিশূন্যতার দিকে নজর দেওয়া এবং জটিলতার লক্ষণ দেখা দিলে হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। হামের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয় না, চিকিৎসা মূলত উপসর্গ ও জটিলতা সামলানোর ওপর নির্ভর করে। চিকিৎসকের নির্দেশে ভিটামিন এ দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

 

তবে নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ বা উচ্চমাত্রার ভিটামিন দেওয়া উচিত নয়। স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে জোরালো দাবি—নিয়মিত টিকাদানের আওতা যাচাই করতে হবে, বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করতে হবে এবং প্রয়োজনে দ্রুত বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম নিতে হবে। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসায় হাসপাতালগুলো প্রস্তুত কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। একটি শিশুর মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি নয়; এটি আমাদের প্রতিরোধব্যবস্থা ও চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা পর্যালোচনারও তাগিদ। ডেঙ্গু এখন বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের অন্যতম বড় উদ্বেগ। এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ানো এই ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি প্রথম দিকে সাধারণ জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা কিংবা বমিভাব অনুভব করতে পারেন। অনেকেই একে মৌসুমি জ্বর ভেবে ঘরে বসে থাকেন। কেউ কেউ নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ খেয়ে জ্বর কমানোর চেষ্টা করেন।

 

কিন্তু ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে এ ধরনের অবহেলা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। ডেঙ্গুর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হলো, জ্বর কমে গেলেই রোগী বিপদমুক্ত,এমন ধারণা সঠিক নয়। অনেক ক্ষেত্রে জ্বর কমার সময় বা পরবর্তী সময়ে রোগীর অবস্থা গুরুতর হতে পারে। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক-মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, অস্থিরতা, শ্বাসকষ্ট কিংবা হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং আগে থেকে অন্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

 

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু মশার ওষুধ ছিটিয়ে দায়িত্ব শেষ করা যায় না। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা, পানির পাত্র, নির্মাণাধীন ভবন এবং আশপাশের যেসব স্থানে পানি জমে থাকে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। পানির পাত্র ঢেকে রাখতে হবে, জমে থাকা পানি অপসারণ করতে হবে এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, মশা নিধনের কার্যক্রম অনেক সময় লোকদেখানো কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকে বলে অভিযোগ ওঠে। কোথাও অভিযান হয়, কোথাও হয় না; কোথাও ওষুধ ছিটানো হয়, কিন্তু তার কার্যকারিতা যাচাই করা হয় না। শুধু কর্মসূচির ছবি তুলে প্রচার করলেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ হবে না।

 

কোন এলাকায় মশার প্রজনন বেশি, কোথায় রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, কোন পদক্ষেপে ফল পাওয়া যাচ্ছে—এসব তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতাও যাচাই করা জরুরি। এখানে নাগরিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে। বাড়ির সামনে পানি জমিয়ে রেখে, ছাদে পরিত্যক্ত পাত্র ফেলে রেখে কিংবা পাশের জমিতে আবর্জনা জমতে দিয়ে শুধু প্রশাসনকে দোষারোপ করলে চলবে না। তবে নাগরিকদের দায়িত্বের কথা বলে প্রশাসনের জবাবদিহি এড়ানোরও সুযোগ নেই। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা, বর্জ্য অপসারণ, নালা পরিষ্কার এবং নিয়মিত মশা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকরভাবে পালন করতে হবে। ঋতু পরিবর্তনের সময় বিভিন্ন ভাইরাসের সংক্রমণে জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যথা ও শরীরব্যথা দেখা দিতে পারে। অধিকাংশ সাধারণ ভাইরাসজনিত জ্বর সময়ের সঙ্গে সেরে উঠলেও সব জ্বরকে এক ধরনের ধরে নেওয়া বিপজ্জনক।

 

ডেঙ্গু, হাম, ইনফ্লুয়েঞ্জা, অন্যান্য ভাইরাসজনিত সংক্রমণ কিংবা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ,সব রোগের চিকিৎসা এক নয়। জ্বর হলেই অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া কোনো সমাধান নয়। অ্যান্টিবায়োটিক ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে না; অপ্রয়োজনীয় ব্যবহারে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণুর ঝুঁকি বাড়ে। আবার ডেঙ্গুর সম্ভাবনা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেনজাতীয় ওষুধ খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে, কারণ রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে। জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামলও বয়স, ওজন ও শারীরিক অবস্থার উপযোগী মাত্রায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করা উচিত। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, নিরাপদ পানি পান এবং শরীরে পানিশূন্যতা প্রতিরোধ করা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শ্বাসকষ্ট, অচেতনতা, খিঁচুনি, তীব্র দুর্বলতা, অবিরাম বমি, প্রস্রাব কমে যাওয়া কিংবা রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে ঘরে বসে অপেক্ষা করা যাবে না।

 

শিশু, বিশেষ করে অল্পবয়সী শিশুর জ্বরের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এখানে আরেকটি বড় সমস্যা হলো, অনেক মানুষ জ্বর হলে প্রথমে ফার্মেসিতে যান, নিজেরাই ওষুধ কিনে খান কিংবা পরিচিত কারও পরামর্শে চিকিৎসা শুরু করেন। এর পেছনে সচেতনতার অভাব যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার খরচ, দূরত্ব এবং সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবার সীমাবদ্ধতা। ফলে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সহজলভ্য ও নির্ভরযোগ্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাও জরুরি। রোগীর চাপ বাড়লে হাসপাতালের প্রকৃত সক্ষমতা পরীক্ষা হয়। তখন শুধু ভবন, সাইনবোর্ড কিংবা শয্যার সংখ্যা দিয়ে চিকিৎসাব্যবস্থার সাফল্য বিচার করা যায় না।

 

প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী, পরীক্ষাগার, অক্সিজেন, জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ এবং রোগী পর্যবেক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকতে হবে। জেলা সদর হাসপাতাল থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,সব পর্যায়ে জ্বরের রোগীদের প্রাথমিক মূল্যায়ন ও জরুরি ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। ডেঙ্গু ও হামের মতো রোগের সম্ভাব্য জটিলতা শনাক্ত করার প্রশিক্ষণ স্বাস্থ্যকর্মীদের দিতে হবে। কোন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে, কাকে পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে এবং কাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠাতে হবে,এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা ও কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা থাকা জরুরি।

 

অনেক সময় রোগীর স্বজনেরা এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটে বেড়ান। কোথাও পরীক্ষা করাতে দেরি হয়, কোথাও শয্যা পাওয়া যায় না, কোথাও আবার রোগের প্রকৃতি বুঝতে সময় লেগে যায়। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে তা পর্যালোচনা করতে হবে। জরুরি রোগীর চিকিৎসা যেন অর্থ, পরিচয় কিংবা প্রভাবের ওপর নির্ভর না করে। সরকারি হাসপাতালের সেবার মান বাড়াতে হবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষার খরচ যেন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না যায়, সে ব্যবস্থাও করতে হবে। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত রোগীর চাপ, স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট এবং সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতাও বিবেচনায় নিতে হবে। চিকিৎসকদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের কাজের উপযোগী পরিবেশ, জনবল ও সরঞ্জাম সরবরাহ করতে হবে। স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতা শুধু ব্যক্তিকে দোষারোপ করে দূর করা সম্ভব নয়; এর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার দরকার।

 

জ্বরের প্রকোপ মোকাবিলায় প্রথম কাজ হলো তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ। কোন জেলায় কতজন হামে আক্রান্ত হচ্ছেন, কোথায় ডেঙ্গু বাড়ছে, মৌসুমি জ্বরে হাসপাতালে রোগীর চাপ কতটা,এসব তথ্য দ্রুত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করতে হবে। রোগের প্রকোপ বাড়লে সেই অনুযায়ী চিকিৎসক, ওষুধ, পরীক্ষার সরঞ্জাম এবং জরুরি সেবা প্রস্তুত রাখতে হবে। রোগের তথ্য শুধু দপ্তরের ফাইলে আটকে থাকলে চলবে না; জনসাধারণকে নির্ভরযোগ্য তথ্যও জানাতে হবে।

 

দ্বিতীয়ত, টিকাদান কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে হামের ক্ষেত্রে শিশুদের নিয়মিত টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো শিশু টিকা থেকে বাদ পড়েছে কি না, টিকাদান কেন্দ্রে টিকার সরবরাহ ঠিক আছে কি না এবং দুর্গম এলাকায় কর্মসূচি পৌঁছাচ্ছে কি না,নিয়মিত তদারকি করতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। তৃতীয়ত, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বছরজুড়ে কার্যক্রম চালাতে হবে। শুধু বর্ষা শুরু হলে তৎপরতা দেখিয়ে লাভ নেই। মশার প্রজননস্থল শনাক্তকরণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নালা পরিষ্কার, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং কার্যকর মশা নিয়ন্ত্রণকে নিয়মিত নাগরিক সেবার অংশ করতে হবে।

 

প্রতিটি এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ও কর্মকর্তাদের কাজের মূল্যায়ন করতে হবে। চতুর্থত, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। জরুরি ওষুধ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, প্রশিক্ষিত জনবল এবং গুরুতর রোগীর দ্রুত স্থানান্তরের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ার পর চিকিৎসা শুরু করলে ঝুঁকি বেড়ে যায়; তাই প্রাথমিক পর্যায়েই সঠিক মূল্যায়ন ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। পঞ্চমত, জনসচেতনতা কার্যক্রমকে বাস্তবমুখী করতে হবে। শুধু পোস্টার, মাইকিং কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা প্রকাশ যথেষ্ট নয়। বিদ্যালয়, মসজিদ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং গণমাধ্যমকে যুক্ত করে মানুষকে জানাতে হবে—কীভাবে হাম প্রতিরোধ করা যায়, ডেঙ্গুর বিপদসংকেত কী, কখন হাসপাতালে যেতে হবে এবং কোন ওষুধ নিজের সিদ্ধান্তে খাওয়া উচিত নয়। ষষ্ঠত, গুজব ও ভুল চিকিৎসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো প্রতিটি স্বাস্থ্যপরামর্শ সত্য নয়। রোগের লক্ষণ দেখে নিজেরাই নিশ্চিত রোগ নির্ণয় করা কিংবা প্রমাণহীন চিকিৎসায় নির্ভর করা বিপদ ডেকে আনতে পারে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের উচিত সহজ ভাষায় নিয়মিত নির্ভরযোগ্য নির্দেশনা প্রকাশ করা। সপ্তমত, প্রতিটি মৃত্যুর তথ্য যথাযথভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। সব জ্বরজনিত মৃত্যু একই কারণে ঘটে না। কোথায় দেরিতে চিকিৎসা নেওয়া হয়েছে, কোথায় রোগ শনাক্ত করতে সমস্যা হয়েছে, কোথায় চিকিৎসার সক্ষমতা অপর্যাপ্ত ছিল এবং কোথায় প্রতিরোধের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও রোগ ছড়িয়েছে,এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে। মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে অনুমাননির্ভর বক্তব্য নয়, প্রমাণভিত্তিক তদন্ত ও বিশ্লেষণ দরকার। রাষ্ট্রের দায়িত্বের পাশাপাশি প্রত্যেক পরিবারকেও সচেতন হতে হবে।

 

শিশুদের টিকাদান সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। জ্বর হলে রোগের ধরন না জেনে নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক কিংবা ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া যাবে না। ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং বিপদসংকেত দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। বাড়ির আশপাশে পানি জমতে দেওয়া যাবে না। অসুস্থ ব্যক্তির পরিচর্যায় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে এবং সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী অন্যদের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা নিতে হবে। অভিভাবকদের বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে, শিশুর জ্বরকে অবহেলা করা যেমন বিপজ্জনক, তেমনি অযথা আতঙ্কিত হয়ে ভুল চিকিৎসা করাও ক্ষতিকর। শিশুর শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, অস্বাভাবিক নিস্তেজতা, পানি পান করতে না পারা কিংবা অন্য কোনো গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দেরি করা যাবে না। দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই হতে পারে জীবন রক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। একটি দেশের উন্নয়ন শুধু সড়ক, সেতু, ভবন কিংবা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ নয়।

 

উন্নয়নের প্রকৃত মানদণ্ড হলো—সেই দেশের একজন সাধারণ মানুষ অসুস্থ হলে কত দ্রুত চিকিৎসা পান, একটি শিশু প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে কতটা সুরক্ষিত থাকে এবং দরিদ্র পরিবারের কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে চিকিৎসার অভাবে তাকে মৃত্যুর মুখে পড়তে হয় কি না। হাম প্রতিরোধে টিকা, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং মৌসুমি জ্বরের ক্ষেত্রে সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা, এসবই কার্যকর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু পরিকল্পনা কাগজে থাকলে হবে না; তার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি হাসপাতালকে প্রস্তুত রাখতে হবে, স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে, টিকাদানের ঘাটতি দূর করতে হবে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। দেশের মানুষ অসুস্থ হলে শুধু তাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হতে পারে না।

 

মানুষকে সচেতন হতে হবে, কিন্তু সেই সচেতনতার সঙ্গে রাষ্ট্রকে দিতে হবে কার্যকর চিকিৎসা, প্রতিরোধের সুযোগ এবং নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যসেবা। কারণ প্রতিটি মৃত্যুর পেছনে রয়েছে একটি পরিবারের কান্না, একটি শিশুর অসমাপ্ত শৈশব, একজন মায়ের বুকভাঙা আর্তনাদ কিংবা প্রিয়জন হারানো মানুষের দীর্ঘশ্বাস। জ্বরের কাছে মানুষ পরাজিত হবে, নাকি বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসা, সচেতনতা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে,তার উত্তর নির্ভর করছে আমাদের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর। এখনই সময় আতঙ্ক নয়, কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার,দোষারোপ নয়, জবাবদিহি নিশ্চিত করার, আর প্রতিশ্রুতি নয়, মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার। সর্বোপরি, মানুষ বাঁচুক, শিশু নিরাপদ থাকুক, চিকিৎসা হোক সবার অধিকার,জ্বরের প্রকোপ মোকাবিলায় এটাই হোক রাষ্ট্র ও সমাজের অঙ্গীকার।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

Ads small one

টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে গুলি বিনিময়ে সেনাসদস্য নিহত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১:০৩ পূর্বাহ্ণ
টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে গুলি বিনিময়ে সেনাসদস্য নিহত

কক্সবাজার টেকনাফে মানবকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রতিবাদে প্রশ্নে বাংলাদেশ পাচারের এক সদস্য যোগদান করেছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকালে রঙ্গীখা ঘূর্ণিঝড় পাহাড়ে এ প্রচারণা।

চতুষ্পদসদস্যের নাম মো. তাতাস শেখ (২৭)। তিনি একপর্যায়ে বাম কাঁধে গুলিবিদ্ধ হন। নিখুঁত রক্তক্ষরণে কার্যকরী তাকে উদ্ধার করে পরীক্ষা প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সম্মিলিত প্রতিষ্ঠান (সিএমএইচ), রাতে নেওয়া হলে ধর্মীয় তাকে মর্যাদা দেন।

আন্তঃ বৃহৎ জনসংযোগ পরিদফের (আইএসপিআর) তথ্যের তথ্য অনুযায়ী, গো মানবা খবরে খবর পাওয়া যায়, রাণীখালী গভীর পাহাড়ে ১৫ থেকে ১৬ এর একটি সশস্ত্রী দল প্রায় ১২০ জন ও বাংলাকে জিম্মি করে তুলেছে। এ তথ্যের প্রকাশক বাংলাদেশভির ১০ পদাতিক ডিশন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিটী) ও স্থানীয় পুলিশ সদস্য গঠিত দল আভিযান বিজানা বিক্রেতা বিক্রেতা আকালানুক্রমিক প্রকাশ্য।

এ সময় পাওয়ার সদস্য সস্ত্রীক উপস্থিতি টেরটি মানবপাচারকারী এপাতাড়ি চালায়। ব্যাঙ্গ পার্টির মধ্যে ব্যবহার করা হয়।

যুদ্ধে সেনা বার থেকে একটি পিস্তল, একটি দেশীয় বন্দুক ও চার রাউন্ড গোলাকে উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া এ ছাড়া পাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যের দল এবং জিম্মিকে ৫৭ পরিস্থিতি উদ্ধার করা হয়।

ধর্মরত সেনাসদস্যের আত্মত্যাগের কথা বলা বাংলাদেশকে গভীর শ্রদ্ধা জানাতে। একই সাথে তার বিহীর আত্মার মাগফিরাত কামনা গভীর এবং শোকসন্তান সদস্যদের প্রতি সমবেদনা।

ট্রাম্প-ভ্যান্স দূরত্ব বাড়ছে, হারের পর রিপাবলিকানদের মধ্যে চরম কোন্দল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ
ট্রাম্প-ভ্যান্স দূরত্ব বাড়ছে, হারের পর রিপাবলিকানদের মধ্যে চরম কোন্দল

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বিশাল পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ বিভেদ প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদ, সিনেট, গভর্নর ও অঙ্গরাজ্য আইনসভাগুলোতে শোচনীয় হারের প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে এই দুই শীর্ষ নেতা পরোক্ষভাবে একে অপরকে দোষারোপ করছেন।

সোশ্যাল মিডিয়া এক্স-এ দেওয়া এক দীর্ঘ ও সতর্ক বার্তায় জেডি ভ্যান্স মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলের হারের পেছনে ইরান যুদ্ধ, জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়, আমেরিকা ফার্স্ট নীতির অনুপস্থিতি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ট্রাম্প যেখানে টানা কয়েক মাস ধরে ইরান যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন, সেখানে ভ্যান্সের প্রকাশ্যে এই স্বীকারোক্তি মার্কিন সামরিক অভিযানের দেশীয় নেতিবাচক প্রভাবকেই স্পষ্ট করে তুলেছে।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে ইরান যুদ্ধ নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে, তবে এ নিয়ে কোনও আক্ষেপ নেই জানিয়ে বলেন, সুযোগ পেলে তিনি আবারও একই কাজ করবেন।

ভ্যান্সের বিশ্লেষণ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প অস্পষ্ট উত্তর দিয়ে বলেন, আমি জানি ও কীভাবে দেখে। আমার মনে হয় এটি ঠিকই ছিল। আমরা জানতাম পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ওদের থামানো গেছে এবং তারা আর কখনও তা পারবে না।

এর পরেই তিনি মন্তব্য করেন, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভ্যান্স ‘হয়তো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না।’ সাংবাদিকদের তিনি বলেন, হয়তো সে লড়বে না, আমি জানি না কে লড়বে। তবে যুদ্ধের বিষয়ে আমি বলতে পারি, আমি আলাদা কিছু করতাম না।

ভ্যান্সের এই বক্তব্যকে ট্রাম্পের নীতি থেকে নিজেকে খানিকটা আলাদা করার চেষ্টা হিসেবে দেখা হলেও প্রশাসন থেকে তিনি পুরোপুরি মুক্ত হতে পারছেন না। অপর দিকে ভ্যান্স ২০২৮ সালে ট্রাম্পের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হতে পারেন বলে যে গুঞ্জন ছিল, ট্রাম্পের এই মন্তব্য তাতে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

এদিকে কেবল শীর্ষ দুই নেতার মধ্যে নয়, নির্বাচনের এই ভরাডুবির পর পুরো রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেই নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা নিয়ে তীব্র তর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডেসান্টিস সতর্ক করে বলেছেন, দল যদি তার দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্মূল্যায়ন না করে তবে দীর্ঘমেয়াদি নির্বাচনি ধাক্কার মুখোমুখি হতে হবে। টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ এক পডকাস্টে শ্রমজীবী মানুষের অর্থনৈতিক সমস্যা শোনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের শুনতে হবে এবং সাড়া দিতে হবে। টেক্সাস এখন নীল হয়ে যাচ্ছে। শুল্কনীতি, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ এবং ডাটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে ট্রাম্পের সমালোচনার মধ্যেও ক্রুজ সুর মিলিয়েছেন।

সাবেক রিপাবলিকান সিনেটর মিট রমনি এক্স-এ ট্রাম্পের শুল্কনীতি, ‘আবেগপ্রবণ’ যুদ্ধ এবং দৃশ্যমান দুর্নীতির সমালোচনা করে লিখেছেন, বাজে নীতি এবং বাজে চরিত্র কখনও ভালো রাজনীতি তৈরি করে না। দেশ এবং আমার দলের সঠিক পথে ফেরার আশায় রইলাম।

সব মিলিয়ে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর রিপাবলিকান পার্টি এখন বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশলেই দল সামনে এগোবে, নাকি নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে, সেই লড়াই ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে এখনই শুরু হয়ে গেছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

দালাল স্ট্রিটে উৎসব, এক ঘণ্টায় লাভ ৭ লাখ কোটি রুপি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
দালাল স্ট্রিটে উৎসব, এক ঘণ্টায় লাভ ৭ লাখ কোটি রুপি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর বিশ্বজুড়ে সৃষ্ট ইতিবাচক পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে ভারতের শেয়ারবাজারে। অপরিশোধিত তেলের তীব্র দরপতন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কেনাকাটার জোয়ার এবং মার্কিন শেয়ারবাজার ওয়াল স্ট্রিটের চাঙ্গা ভাবের ওপর ভর করে বৃহস্পতিবার ভারতীয় শেয়ারবাজারে বিশাল উত্থান ঘটেছে। লেনদেন শুরুর মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই দালাল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের সম্পদ প্রায় ৭ লাখ কোটি রুপি বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক সেনসেক্স ১,৩০০ পয়েন্টের বেশি বেড়ে ৭৮,৬৩০ পয়েন্টে এবং নিফটি ৫০ সূচক ২৪,৩৫০ পয়েন্ট অতিক্রম করে। এটি ভারতের শেয়ারবাজারে টানা ষষ্ঠ কার্যদিবসের মতো দরবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখলো। সকাল ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ সেনসেক্স ১,৪০০ পয়েন্ট বেড়ে ৭৮,৭৩৫.৭৯ এবং নিফটি ৪৩১ পয়েন্ট বেড়ে ২৪,৩৮৯.৫৫ পয়েন্টে পৌঁছায়।

লেনদেন শুরুর সময় সেনসেক্স তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মোট বাজারমূল্য ছিল ৪৯৩.৪৪ লাখ কোটি রুপি, যা এক ঘণ্টার মধ্যেই বেড়ে দাঁড়ায় ৫০০.৯১ লাখ কোটি রুপি, অর্থাৎ প্রায় ৭ লাখ কোটি রুপির নিট বৃদ্ধি। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ওভারনাইট লেনদেনে মার্কিন শেয়ারবাজার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানোর পর এই প্রভাব দেখা গেলো।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে শেয়ারবাজার বাড়ার প্রধান ৩ কারণ তুলে ধরা হয়েছে।

তেলের দামে ৮ শতাংশ ধস: ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরান সংঘাত কমানোর দিকে হাঁটবে, বিনিয়োগকারীদের এমন প্রত্যাশায় ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৮.৭ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি প্রায় ৯৪ ডলারে নেমে আসে। তেল আমদানিনির্ভর ভারতের জন্য তেলের এই মূল্যহ্রাস আমদানি খরচ ও মূল্যস্ফীতি কমাবে এবং রুপিকে শক্তিশালী করবে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাবর্তন: বুধবার বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতে ৭,২৮৪ কোটি রুপির শেয়ার কেনেন, যা বিগত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে প্রায় ৯০,০০০ কোটি রুপির শেয়ার বিক্রির পর নভেম্বরে এ পর্যন্ত তারা ১৭,০০০ কোটি রুপির বেশি বিনিয়োগ করেছেন।

ওয়াল স্ট্রিটের চাঙ্গা ভাব: রাজনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা কমার পর এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ১.৬ শতাংশ এবং ডাউ জোন্স প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে ঝুঁকির মাত্রা কমে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

আয়নিক অ্যাসেটের গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট প্রধান অঙ্কিতা পাঠক বলেন, নির্বাচনি ফলাফলে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি কিছুটা কমবে। তবে জানুয়ারিতে নতুন আইনপ্রণেতারা শপথ নেওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট হবে।

তিনি উল্লেখ করেন যে, মার্কিন বন্ডের সুদ ও ডলার দুর্বল হলে উদীয়মান বাজার ও স্বর্ণ উপকৃত হতে পারে। তা সত্ত্বেও তিনি সতর্ক করে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের ডেটা সেন্টার ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর নতুন কংগ্রেসে নজরদারি বাড়তে পারে।

সূত্র: এনডিটিভি