আশাশুনিতে নদী খননের মাটি কেটে বিক্রি, হুমকিতে বাঁধ ও সড়ক
আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে বেতনা ও মরিচ্চাপ নদী খননের পর দুই পাশে স্তূপ করে রাখা মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। নওয়াপাড়া ও নৈকাটিসহ বিভিন্ন স্থানে ড্রেজার, ভলগেট ও ট্রলির মাধ্যমে মাটি কেটে অন্যত্র নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে নদীর পাড় ও বাঁধের নিরাপত্তা এবং সরকারি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদী খননের পর উত্তোলিত মাটি দুই পাশে স্তূপ করে রাখা হয়। এসব মাটি নদীর পাড়কে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি বাঁধের মতো কাজ করছে। সম্প্রতি নওয়াপাড়া এলাকায় কয়েকজন ট্রলিচালক এসব মাটি কেটে বিভিন্ন এলাকার ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। একইভাবে নৈকাটি সেতুর পূর্ব পাশে শ্মশানঘাটসংলগ্ন প্রায় পাঁচ বিঘা জমি থেকে ড্রেজার দিয়ে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সেখানে রবিউল ইসলাম ও তাঁর ভাইয়ের নেতৃত্বে মাটি কাটা হচ্ছে। প্রতি গাড়ি মাটি ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে এসব মাটি কাটার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে মাটি কাটা অব্যাহত থাকলে নদীর পাড় দুর্বল হয়ে বর্ষা মৌসুমে ভাঙন ও লোকালয়ে পানি প্রবেশের ঝুঁকি বাড়তে পারে। অন্যদিকে ভারী যানবাহনে মাটি পরিবহনের কারণে ওয়াপদার রাস্তা, নওয়াপাড়া পুরাতন খেয়াঘাটের ইটের রাস্তা এবং মহেশ্বরকাটি-চাপড়া গ্রামীণ সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাঁর উপস্থিতির খবর পেয়ে মাটি কাটার কাজে জড়িত ব্যক্তিরা সরে যান বলে স্থানীয়রা জানান। পরে ইউএনও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং মাটি কাটার প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদারকির নির্দেশ দেন। কেউ মাটি কাটলে তাঁকে জানানোর জন্যও বলেন।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এক দিন বিরতির পর শুক্রবার সরকারি ছুটির দিনে নওয়াপাড়া থেকে আবারও চার ট্রলি মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, নদীর মাটি যাতে কেউ কেটে নিতে না পারে এবং সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পুনরায় মাটি কাটা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সচেতন এলাকাবাসী মাটি কাটা ও বিক্রির বৈধতা যাচাই, নদীর পাড় ও বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সরকারি সড়ক রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করেছেন।









