শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

আশাশুনিতে নদী খননের মাটি কেটে বিক্রি, হুমকিতে বাঁধ ও সড়ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে নদী খননের মাটি কেটে বিক্রি, হুমকিতে বাঁধ ও সড়ক

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে বেতনা ও মরিচ্চাপ নদী খননের পর দুই পাশে স্তূপ করে রাখা মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। নওয়াপাড়া ও নৈকাটিসহ বিভিন্ন স্থানে ড্রেজার, ভলগেট ও ট্রলির মাধ্যমে মাটি কেটে অন্যত্র নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে নদীর পাড় ও বাঁধের নিরাপত্তা এবং সরকারি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদী খননের পর উত্তোলিত মাটি দুই পাশে স্তূপ করে রাখা হয়। এসব মাটি নদীর পাড়কে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি বাঁধের মতো কাজ করছে। সম্প্রতি নওয়াপাড়া এলাকায় কয়েকজন ট্রলিচালক এসব মাটি কেটে বিভিন্ন এলাকার ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। একইভাবে নৈকাটি সেতুর পূর্ব পাশে শ্মশানঘাটসংলগ্ন প্রায় পাঁচ বিঘা জমি থেকে ড্রেজার দিয়ে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সেখানে রবিউল ইসলাম ও তাঁর ভাইয়ের নেতৃত্বে মাটি কাটা হচ্ছে। প্রতি গাড়ি মাটি ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে এসব মাটি কাটার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে মাটি কাটা অব্যাহত থাকলে নদীর পাড় দুর্বল হয়ে বর্ষা মৌসুমে ভাঙন ও লোকালয়ে পানি প্রবেশের ঝুঁকি বাড়তে পারে। অন্যদিকে ভারী যানবাহনে মাটি পরিবহনের কারণে ওয়াপদার রাস্তা, নওয়াপাড়া পুরাতন খেয়াঘাটের ইটের রাস্তা এবং মহেশ্বরকাটি-চাপড়া গ্রামীণ সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাঁর উপস্থিতির খবর পেয়ে মাটি কাটার কাজে জড়িত ব্যক্তিরা সরে যান বলে স্থানীয়রা জানান। পরে ইউএনও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং মাটি কাটার প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদারকির নির্দেশ দেন। কেউ মাটি কাটলে তাঁকে জানানোর জন্যও বলেন।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এক দিন বিরতির পর শুক্রবার সরকারি ছুটির দিনে নওয়াপাড়া থেকে আবারও চার ট্রলি মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, নদীর মাটি যাতে কেউ কেটে নিতে না পারে এবং সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পুনরায় মাটি কাটা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সচেতন এলাকাবাসী মাটি কাটা ও বিক্রির বৈধতা যাচাই, নদীর পাড় ও বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সরকারি সড়ক রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করেছেন।

Ads small one

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ

আজ ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহী-জনতার বিপ্লবে দেশের তৎকালীন রাজনীতির গতিধারা পাল্টে গিয়েছিল। দেশ ও জাতি পেয়েছিল নতুন দিশা।

১৯৭৫ সালের এ দিনে জেনারেল জিয়াউর রহমান দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। এরপর সেনাবাহিনীর ভেতর ও বাইরে অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানের মধ্যেও জিয়াউর রহমান দেশকে স্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যান।

ইতিহাস পর্যালোচনা করে জানা যায়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড এবং ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার ঘটনার ধারাবাহিকতায় সেনাবাহিনীর তৎকালীন উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফ তার অনুসারী সেনা সদস্যদের নিয়ে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি করেন। নিজেকে সেনাপ্রধান হিসেবে ঘোষণা দিয়ে ৬ নভেম্বর বঙ্গভবনে গিয়ে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাক আহমেদকে গ্রেফতার করে মন্ত্রিসভা বাতিল ও জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেন খালেদ। প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে দেশের প্রেসিডেন্টের পদে বসান। ওই রাতেই সেনাবাহিনীর সাধারণ সিপাহিরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

সেই অভ্যুত্থানে স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন দিয়ে সর্বস্তরের জনতা রাজপথে নেমে আসে। সিপাহি-জনতার মিলিত সেই বিপ্লবে বন্দি অবস্থায় থেকে মুক্ত হন জিয়াউর রহমান। পাল্টা অভ্যুত্থান ঠেকাতে গিয়ে ৭ নভেম্বর সকালে কয়েকজন অনুসারীসহ প্রাণ হারান খালেদ মোশাররফ। অভূতপূর্ব এক সংহতির নজির সৃষ্টি হয় দেশের রাজনীতিতে। জিয়াউর রহমান চলে আসেন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে।

বিএনপির কর্মসূচি

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সাত দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। প্রথম দিন শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় শেরে বাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।

এরপর নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয়ের সামনে শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

শোভাযাত্রাটি নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের কাছে গিয়ে ডান দিকে মোড় নেবে। এরপর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে দিয়ে বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গিয়ে শেষ হবে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

 

 

মন খারাপের দিন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ
মন খারাপের দিন

ফারুক আহম্মেদ জীবন
তুমি কি জানো সখি…
সেদিন কোন কষ্টে গগন বক্ষ বিদীর্ণ হয়ে
করুণ রোদন করেছিল?
অঝোর ধারায় সারাটাদিন নেমেছিল প্রবল বৃষ্টি?
গগন জুড়ে জমেছিল খ- মেঘ
উঠেছিল দমকা হাওয়ার কালবৈশাখী ঝড়ের বেগ?
বিকট শব্দে বিদ্যুৎ চমকায়
ঝলকে ঝলকে হয়েছিল বজ্রপাত?
জানো..সেদিন সমস্ত সৃষ্টি কুলও নিরবে কেঁদেছিল
ঝাপসা হয়ে গিয়েছিল তাদের দৃষ্টি।
তুমি জানো নাতো?
সেদিনটা ছিল আমার ভীষণ মন খারাপের দিন,
তোমার অবজ্ঞা অবহেলা
আর তোমার তাচ্ছিল্য ভরা আঘাত
আমার বুকের পাঁজর ভেঙ্গে চৌচির করে দিয়েছিল
কষ্টের মেঘে ভরেছিল মন গগন
বুকে চিনচিনে প্রচ- ব্যথা উঠেছিল সেদিন।

তুমি জানো সখি…..
সেদিন তুমি যে বিকট বজ্রের ধ্বনি শুনেছিলে
সেটি ছিল আমার মনের আর্তনাদ
আর আমার বুকের পাঁজর ভাঙ্গার শব্দ
সেদিন তুমি আকাশের বৃষ্টি ঝরা যে কান্না দেখেছিলে
সেটা ছিল আমার কলিজার রক্ত ক্ষরণ
যা- আঁখি থেকে গড়িয়ে পড়েছিল
অথচ সেটা ছিল জল সাদৃশ্য বুকের রক্তপাত।

অন্তরের হাকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ
অন্তরের হাকার

 

বাপী নাগকে
খুঁজে পাওয়া যায় না আপন,
প্রার্থনা মেলে না সর্বদা হৃদয়ের স্বপন।
যে সম্পর্কে অধিকার ভিক্ষা করতে হয়,
সে সম্পর্কে অন্তরালে জমে অভিকুল আঁধার।
যে সময়টুকু পেতে গুনেতে হয় প্রতীক্ষার প্রহর,
সে সময়ে মায়ার প্রদীপ নিভে যায় নির্ণয়।

যে বিশ্ব তার নিজের গুরুত্বের ভাষা,
সান্নিধ্য মলন হয়ে যায় হৃদয়ের দুরাশা।
মায়ার বন্ধন সত্য হলে দূরত্ব থাকে না ব্যাধান
নীরবতার অন্তরা, পুলিশের জেগে থাকে আত্মিক তান।
একতরফা অনুরাগে ক্ষয় হয় অন্তরাত্মা,
হাসির অন্তরালে নীরবে ঝরে বেদনার বার্তা।
তাই চাই এমন কেউ, যার স্বতঃস্ফূর্ত,
সন্নিধ্যে কিছুক্ষণ হবে অনির্বচ মধুর।
যার কাছে টাকা হবে না গুরুত্বের অধিকার,
মায়ার টানে আগলে রাখবে, বুঝবে হৃদয়ের হাকার।