শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

৭ নভেম্বর-বিপ্লব ও সংহতির অমর চেতনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৬ অপরাহ্ণ
৭ নভেম্বর-বিপ্লব ও সংহতির অমর চেতনা

অসীম কুমার সরকার
৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই দিনটি শুধু একটি তারিখ নয়, এটি একটি জাতির ঘুরে দাঁড়ানোর দিন, একটি জাতির আত্মপরিচয় ফিরে পাওয়ার দিন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতার হত্যার পর যখন দেশ এক গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত, যখন স্বাধীনতার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হওয়ার পথে, ঠিক তখনই সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অস্থিরতার মধ্যে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নেতৃত্ব দেন।

জিয়াউর রহমান শুধু একজন সেনাপতি ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন বীর, একজন দেশপ্রেমিক, একজন রাষ্ট্রনায়ক। জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে তিনি যুদ্ধ করেছেন বুক চিতিয়ে। তাঁর বীরত্বের জন্য জাতি তাঁকে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত করেছে। একজন সৈনিক থেকে রাষ্ট্রনায়ক হওয়ার এই যাত্রা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল।

১৫ আগস্ট থেকে ৩ নভেম্বর দেশ চলছিল চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে। চলছিল একের পর এক অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থান। শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছিল সেনাবাহিনীতে। ৩ নভেম্বর ভোরে ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে আরেকটি অভ্যুত্থান হয়। সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনরত মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে গৃহবন্দি করা হয়। দেশ তখন চরম অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছিল। চারদিকে গুজব, আতঙ্ক আর ক্ষমতা দখলের লড়াই। সাধারণ সৈনিকদের মধ্যে জমে উঠেছিল প্রচ- ক্ষোভ। তারা দেখছিল, মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনাপতি, যিনি তাঁদের কাছে সবচেয়ে বিশ্বস্ত এবং জনপ্রিয়, তাঁকে অন্যায়ভাবে বন্দি করে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে দেশ চলে যাচ্ছিল একদলীয় শাসনের দিকে। এই ক্ষোভ থেকে সেনাবাহিনীর সাধারণ সৈনিক এবং জনগণের মধ্যে এক ঐক্য তৈরি হয়। সবার একটাই দাবি ছিলÑজিয়াকে মুক্ত করতে হবে, দেশকে বাঁচাতে হবে।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ভোররাত থেকেই ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে সিপাহিরা রাস্তায় নেমে আসেন। ‘সিপাহী-জনতা ভাই ভাই’Ñএই স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে ঢাকা। জনগণও রাস্তায় নেমে সৈনিকদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে। এই বিপ্লব কোনো সাধারণ ক্ষমতা দখলের চেষ্টা ছিল না, এটি ছিল জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত বিপ্লব। সেই রাতেই সিপাহিরা জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করেন। ৭ নভেম্বর তিনি বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে দেশে শৃঙ্খলা ও স্থিতি ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

তাঁর নেতৃত্বে দেশে ফিরে এসেছিল বহুদলীয় গণতন্ত্র, ফিরে এসেছিল সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, ফিরে এসেছিল মানুষের বাক্স্বাধীনতা। তিনি বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে একটি স্বনির্ভর, আত্মমর্যাদাশীল জাতিতে পরিণত করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা বাংলাদেশি’Ñএই পরিচয়ই ছিল জাতীয় ঐক্যের মূলমন্ত্র। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষকে এক পতাকার নিচে এনে তিনি জাতীয় সংহতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর ১৯ দফা কর্মসূচি ছিল গ্রামের মানুষের উন্নয়নের কর্মসূচি, ছিল কৃষকের হাসি ফোটানোর কর্মসূচি। খাল খনন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তিনি গ্রামবাংলার চেহারা বদলে দিয়েছিলেন।

আজ ৭ নভেম্বর আমাদের মনে করিয়ে দেয়, জাতি যখনই সংকটে পড়বে, তখনই একজন জিয়াউর রহমানের আদর্শ আমাদের পথ দেখাবে। তাঁর সততা, দেশপ্রেম, সাহসিকতা আজকের প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। শহীদ জিয়া নেই, কিন্তু তাঁর আদর্শ মরে যায়নি। যত দিন বাংলাদেশ থাকবে, যত দিন লাল-সবুজের পতাকা উড়বে, তত দিন ৭ নভেম্বর আর জিয়াউর রহমানের বীরত্বগাথা বাঙালির হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবে। লেখক: অসীম কুমার সরকার, ইউপিইও, শ্যামনগর, সাতক্ষীরা

Ads small one

কালিগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
কালিগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

Oplus_16908288

বিশেষ প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বেলা ১১টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার।
সভায় বক্তব্য দেন কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ শাহিনুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ওয়াসিম উদ্দীন, জেলা বিএনপির সদস্য শেখ নুরুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব শেখ শফিকুল ইসলাম বাবু এবং উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রউফ।
এ সময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শংকর কুমার দে, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার আব্দুর রউফ, উপজেলা জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান পাড়, কুশুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাসানুর রহমান ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেদওয়ান ফেরদৌস রনিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া কালিগঞ্জ রোকেয়া মনসুর মহিলা কলেজ, কালিগঞ্জ সরকারি কলেজ, সরকারি কালিগঞ্জ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও দিবসটি পালিত হয়েছে।

আশাশুনিতে নানা আয়োজনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে নানা আয়োজনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে উপজেলা প্রশাসন, আশাশুনি সরকারি কলেজ ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে পৃথকভাবে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রচনা প্রতিযোগিতা ও দোয়ার আয়োজন করা হয়।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কু-ুর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিদুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক স ম হেদায়েতুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের আমির আবু মুছা তারিকুজ্জামান তুষার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মশিউল হুদা তুহিন ও জাকির হোসেন বাবু, যুবদলের সদস্যসচিব আবু জাহিদ সোহাগ, প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জি এম মুজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আকাশ হোসেন এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক উপজেলা কমান্ডার আবদুল হান্নান। পরে স্থানীয় শিল্পীরা দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন।
এদিকে, সকাল ১১টায় আশাশুনি সরকারি কলেজে আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. রবিউল ইসলাম।
প্রভাষক শিরিন বাহার যুথির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তিলাওয়াত ও গীতা পাঠ করা হয়। পরে দিবসের ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সভায় বক্তব্য দেন জাকির হোসেন, রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সজল কুমার আঢ্য, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আবদুল মালেক, ইসলামী শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক খাদিজা খাতুন, দর্শন বিভাগের প্রভাষক মাসুদুর রহমান এবং শিক্ষার্থী তোয়া ও নেহা। এ ছাড়া প্রভাষক শিরিন বাহার যুথি ও শিক্ষার্থী অর্মিতা সোম সংগীত পরিবেশন করেন।
রচনা প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রচনা সরকার, দ্বিতীয় সুমনা খাতুন এবং তৃতীয় অর্মিতা সোম। পরে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। বাদ জোহর কলেজ জামে মসজিদে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
অন্যদিকে, বিকেল ৪টায় উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী। অফিস সেক্রেটারি মাওলানা রুহুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি ডা. রোকনুজ্জামান। বিশেষ আলোচক ছিলেন বায়তুল মাল সেক্রেটারি মাওলানা শহিদুল ইসলাম, সদর ইউনিয়ন আমির হাফেজ আবদুল্লাহ, বুধহাটা ইউনিয়ন আমির মাওলানা আবদুল ওয়াদুদ, নায়েবে আমির হাফেজ বেলাল ও আবদুল হাই। বক্তারা ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, তাৎপর্য ও জাতীয় জীবনে এর গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।

শ্যামনগর সরকারি মহসীন কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগর সরকারি মহসীন কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

শ্যামনগর প্রতিনিধি: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতাসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) শ্যামনগর সরকারি মহসীন ডিগ্রি কলেজে রচনা প্রতিযোগিতা শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এ কে এম আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যসচিব ড. প্রতাপ কুমার রায়, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক মুহাম্মাদ আল মোকাররম বিল্লাহ, অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক সৈয়দ রাফসান জানিসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
এ ছাড়া বনশ্রী শিক্ষা নিকেতনে প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যালয়ের সভাপতি অমেদ আলী। সুন্দরবন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জি এম মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন সাবেক সভাপতি শহিদুল ইসলাম, শিক্ষক রণজিৎ কুমার বর্মন ও সঞ্জয় কুমার থান্দার।
দিবসটি উপলক্ষে শ্যামনগর আতরজান মহিলা মহাবিদ্যালয়, ত্রিপানি বিদ্যাপীঠ, জহিরনগর সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসা, ইসলামাবাদ দাখিল মাদ্রাসা ও নওয়াবেঁকী মহাবিদ্যালয়সহ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নানা কর্মসূচি পালিত হয়।