রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩

শ্যামনগরে অসহায় হত-দরিদ্রদের মাঝে জাতীয় নাগরিক পার্টির বস্ত্র বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৩ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে অসহায় হত-দরিদ্রদের মাঝে জাতীয় নাগরিক পার্টির বস্ত্র বিতরণ

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা’র শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ি ইউনিয়নে ১০০জন হত দরিদ্রদের মাঝে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) ৬নং শংকরকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর আয়োজনে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্র শক্তির উদ্যোগে শ্যামনগর উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক আলহাজ্ব মোঃ মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য ও বস্ত্র বিতরণ করেন সাতক্ষীরা জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক মোঃ কামরুজ্জামান (বুলু)।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরা জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব মো. নাজমুল ইসলাম, সদস্য শেখ আব্দুল্লাহ, জেলা শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক আল ইমরান, সদস্য সচিব আব্দুস সবুর, জেলা ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক হাসিবুল হাসান রুমন, সদস্য সচিব বক্তিয়ার হোসেন, যুগ্ম সদস্য সচিব আবু সুফিয়ান।
আরও বক্তব্য রাখেন, শ্যামনগর উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব মো. ফারুক হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক প্রভাষক মেহেদী হাসান, কাশিমাড়ি ইউনিয়ন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক মো. আব্দুল জব্বার পিয়াদা প্রমুখ।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব জিএম মোখলেছুর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক সহ উপজেলা এনসিপি ও ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন, সাতক্ষীরা জেলা ছাত্র শক্তির মুখ্য সংগঠক মুজাহিদুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির তার বক্তব্যে বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি একটি ইনসাফের দল। এদল সবসময় দেশের কল্যাণ কাজ করার জন্য সৃষ্টি হয়েছে। তাই দেশের স্বার্থে কোন আন্দোলন হলে সকলকে এনসিপি পাশে থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দলকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগ দেওয়ার জন্য আহবান করেন।

Ads small one

পালকির দোলায় অমলিন প্রেম: শিকড়ে ফেরার এক অনন্য উপাখ্যান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
পালকির দোলায় অমলিন প্রেম: শিকড়ে ফেরার এক অনন্য উপাখ্যান

মো. সিরাজুল ইসলাম: আকাশের কোণে রোদের ঝিলিক আর বাতাসে বসন্তের শেষ বিকেলের মাতাল হওয়াÑসব মিলিয়েই দিনটি ছিল যেন কোনো ধ্রুপদী গল্পের ফ্রেম। সাতক্ষীরা শহরের পিচঢালা রাজপথ আজ সাক্ষী হলো এক বিস্মৃত ইতিহাসের প্রত্যাবর্তনের। আধুনিক যান্ত্রিকতার এই যুগে যখন দামী গাড়ির গর্জন আর আলোকসজ্জার চাকচিক্যই বিয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন এক তরুণ আইনজীবী বেছে নিলেন ইতিহাসের ধূলোবালি মাখা সেই ধ্রুপদী বাহনÑপালকি।
রোববার বিকেলে শহরের সুলতানপুর সদ্দারপাড়া এলাকায় সৃষ্টি হয় এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের। সুসজ্জিত পঙ্খীরাজ পালকিতে চড়ে কনের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন অ্যাডভোকেট শিমুল ইসলাম। আটজন বেহারার কাঁধে তাল মিলিয়ে চলা পালকির সেই ছন্দময় দুলুনি যেন অনেক কাল আগের কোনো গ্রাম্য উপন্যাসের পাতা থেকে উঠে আসা দৃশ্য।
দেবহাটা উপজেলার পূর্বকুলিয়া বাঁধের মুখ এলাকার লামিয়া আরেফিন শোভার সঙ্গে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হতে যাওয়ার এই যাত্রায় ছিল না কোনো গাড়ির হর্ন, বরং ছিল শেকড়ের টান। বিয়ে শেষে একইভাবে পালকির ওড়না টেনে নববধূকে নিয়ে যখন শিমুল নিজের আঙিনায় ফেরেন, তখন চারপাশের বাতাসে যেন ফিরে এসেছিল হারিয়ে যাওয়া সেই ম ম গন্ধ।
রাস্তার দু’পাশে ভিড় জমিয়েছিলেন উৎসুক জনতা। ছোটদের চোখে কৌতূহল আর প্রবীণদের চোখে ছিল ফেলে আসা যৌবনের দীর্ঘশ্বাস। কেউ সেলফি তুলছিলেন, কেউ বা ভিড়ের মাঝে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন বেহারাদের সেই মাপা কদম।
উল্লসিত এলাকাবাসী বলেনÑ“পালকি তো কেবল কাঠের একটা কাঠামো নয়; এ তো আমাদের সংস্কৃতির স্পন্দন। আজ এই দৃশ্য দেখে মনে হলো আমরা আবারও আমাদের সত্তাকে খুঁজে পেলাম।”
সময়ের বিবর্তনে পালকি আজ কেবল যাদুঘরের জড় বস্তু। কিন্তু অ্যাডভোকেট শিমুল ইসলামের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে এক নীরব বার্তা পৌঁছে দিয়েছেÑসভ্যতা এগিয়ে চললেও শিকড়কে ভুলে যাওয়া মানেই শূন্যতা। স্থানীয়দের মতে, এই ধরনের শৌখিন ও ঐতিহ্যবাহী উদ্যোগ আমাদের হাজার বছরের কৃষ্টিকে নতুন করে জীবন দান করবে।
সাতক্ষীরার এই বিয়ে কেবল দুটি হৃদয়ের মিলন হয়ে থাকল না, এটি হয়ে উঠল হারিয়ে যাওয়া বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্যের এক পপ-আপ আর্ট, যা আগামী অনেক দিন এলাকাবাসীর মনে এক টুকরো অমলিন স্মৃতি হয়ে বেঁচে থাকবে।

জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ
জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা

বদিউজ্জামান: জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে এক প্রস্তুতিমূলক সভা ২৬ এপ্রিল বিকাল ৩টায় জেলা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।সভায় সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। সভায় বিচার বিভাগের কর্মকর্তা বৃন্দ, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি, জেলা তথ্য অফিসার, প্যানেল আইনজীবীবৃন্দ, বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।সভাপতির বক্তব্যে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, “জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ জনগণের দোরগোড়ায় ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়া। দরিদ্র ও অসহায় মানুষ যাতে বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা পায়, সে বিষয়ে সকলকে সচেতন ও আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। এ দিবস পালনের মাধ্যমে আইনগত সহায়তা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও কার্যকর হবে।”সভায় আগামী ২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে উদযাপনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। গৃহীত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—সকাল ৭:৩০ টায় জজ কোর্ট চত্বর হতে বর্ণাঢ্য র‌্যালি;সকাল ৮:৩০ টায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্তদান কর্মসূচি ও লিগ্যাল এইড মেলা;সকাল ৯:৩০ টায় দিবসের তাৎপর্য বিষয়ক আলোচনা সভা;এবং বিকাল ৫:৩০ টায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।সভায় উপস্থিত বক্তারা দিবসটি সফলভাবে উদযাপনের জন্য সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা কামনা করেন।সভাটি পরিচালনা করেন চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার ও যুগ্ম জেলা জজ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিভিল জজ লিটন দাস।

সম্পাদকীয়:প্রসঙ্গ: প্রাণসায়ের খাল ও নাগরিক স্বাস্থ্য রক্ষা হোক সর্বাগ্রে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়:প্রসঙ্গ: প্রাণসায়ের খাল ও নাগরিক স্বাস্থ্য রক্ষা হোক সর্বাগ্রে

সাতক্ষীরা শহরের ফুসফুস হিসেবে পরিচিত প্রাণসায়ের খাল। এক সময়ের খরস্রোতা এই খালটি আজ মৃতপ্রায়, যার অন্যতম কারণ দখল আর দূষণ। সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব রোধে জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতারের নেতৃত্বে শহরে যে পরিচ্ছন্নতা ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে, তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। বিশেষ করে সুলতানপুর বড় বাজার এলাকার বর্জ্য অপসারণ এবং খালের পানি প্রবাহ সচল রাখার যে দৃঢ় অঙ্গীকার জেলা প্রশাসক ব্যক্ত করেছেন, তা সাতক্ষীরাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি।
তবে এই অভিযানের মাঝেই একটি উদ্বেগের বিষয় সামনে এসেছে। সুলতানপুর বড় বাজারের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেছেন যে, সাতক্ষীরা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ খালের ধারেই কসাইখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। যেখানে খালের পানি প্রবাহ ঠিক রাখা এবং দূষণমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রশাসনের মূল লক্ষ্য, সেখানে খালের পাড়ে কসাইখানা স্থাপন করা হবে চরম আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। কসাইখানার বর্জ্য সরাসরি খালে পড়লে তা কেবল পানিকেই বিষাক্ত করবে না, বরং ডেঙ্গু ও মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়ে জনস্বাস্থ্যকে ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই জায়গার মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান এবং স্থিতিবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ রয়েছে। আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে পৌরসভার টেন্ডার প্রক্রিয়া কেবল আইনি জটিলতাই বাড়াবে না, বরং খালের অস্তিত্বকেও সংকটে ফেলবে। জেলা প্রশাসক স্পষ্ট করে বলেছেন যে, খালের পাড়ে কোনো ময়লার ভাগাড় হতে দেওয়া হবে না।
আমরা মনে করি, সাতক্ষীরাকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে হলে খালের পাড়ে কসাইখানা নির্মাণের মতো হটকারী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা প্রয়োজন।
শহরের জনচলাচল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা জরুরি। জেলা প্রশাসকের এই অভিযান কেবল এক দিনের লোকদেখানো কার্যক্রম না হয়ে একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় রূপ নিতে হবে। আগামী শনিবার তিনি পুনরায় পরিদর্শনে আসার যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
আমরা মনে করি, সাতক্ষীরার প্রাণসায়ের খালকে বাঁচাতে এবং নাগরিকদের মশাবাহিত রোগ থেকে রক্ষা করতে প্রশাসন ও পৌরসভাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। খালের পাড়ে কসাইখানা নয়, বরং সেখানে বৃক্ষরোপণ ও হাঁটার পথ (ওয়াকওয়ে) তৈরি করে পরিবেশবান্ধব সাতক্ষীরা গড়ার কাজ এগিয়ে নেওয়া হোক। জনস্বার্থই হোক সকল উন্নয়ন কর্মকা-ের মূল লক্ষ্য।