জলবায়ু উদ্বাস্তু ও বাস্তুচ্যুতদের সামাজিক সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ
পত্রদূত ডেস্ক: জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বাস্তুচ্যুত ও অভিবাসী জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের নীতিগত সমন্বয় ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বুধবার খুলনার কারিতাস আঞ্চলিক কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘কারিতাস’ আয়োজিত এই বৈঠকের মূল বিষয় ছিল ‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিবাসী ও অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি শক্তিশালীকরণ’।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, “খুলনাকে একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও ধুলামুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। এ কাজে নগরবাসীর সহযোগিতা একান্ত কাম্য। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে যেমন কাজ চলছে, তেমনি বস্তিবাসীদের জীবনযাত্রার উন্নয়নেও বিশেষ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে শুধু সভা-সেমিনার করলেই চলবে না, মাঠপর্যায়ে কার্যকর কাজ করতে হবে। বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড় ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য জোরালো পরিকল্পনা প্রয়োজন। শহরের ক্রমবর্ধমান ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ ও যানজট নিরসনেও কেসিসি কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন। প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে বিভিন্ন নীতিমালায় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও জলবায়ু অভিযোজন গুরুত্ব পেলেও বাস্তুচ্যুতদের সুরক্ষায় সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গির অভাব রয়েছে।
বক্তারা বলেন, বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে টেকসই সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনতে সরকার, উন্নয়ন সংস্থা ও গবেষকদের মধ্যে কার্যকর সংলাপ জরুরি। একই সঙ্গে জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং জলবায়ু-সহনশীল সুরক্ষা বলয় তৈরি করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহম্মেদ। স্বাগত বক্তব্য দেন কারিতাস খুলনার আঞ্চলিক পরিচালক আলবিনো নাথ। আলোচনায় অংশ নেন কারিতাসের টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞ ইম্মানুয়েল চয়ন বিশ্বাসসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। বৈঠক থেকে জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা তৈরি করে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।












